নির্বাচন স্থগিত ও আদালত বন্ধের আহ্বান বিএনপির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:২২, মার্চ ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৫, মার্চ ১৯, ২০২০

বিএনপির সংবাদ সম্মেলনউপনির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪ ও গাইবান্ধা-৩ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত ও আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, জনগণের প্রত্যাশা অন্তত এই দুর্যোগের সময় নির্বাচন কমিশন মানবিক আচরণ করবে। কিন্তু ইসি অমানবিক আচরণ করছে। আমরা আাশা করবো ইসি তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনগুলো স্থগিত করবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘করোনাভাইরাসের আতঙ্কের কারণে বিভিন্ন জায়গা থেকে ইতোমধ্যে নির্বাচন বন্ধ করার কথা এসেছে। কিছুক্ষণ আগে নির্বাচন কমিশন বলছে যে, ২১ তারিখে যে নির্বাচনগুলো আছে তা হবেই এবং ২৯ তারিখের নির্বাচনের বিষয়ে ২১ তারিখ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা এটাকে একেবারেই একটা একপেশে সিদ্ধান্ত মনে করি। জনগণের স্বার্থে, মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থে নির্বাচনগুলোকে আপাতত স্থগিত রাখবেন। পরবর্তীতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা যেতে পারে।’

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, এমনিতে ভোটারের পারসেন্টেজ যেটা গত নির্বাচনে দেখেছি ৮-৯ শতাংশের বেশি আসবে না। সেক্ষেত্রে এই করোনাভাইরাসের কারণে ভোটাররা কত শতাংশ আসবে, ভোটের টার্নআউট কী হবে, সেটা আমরা সবাই অনুমান করতে পারি।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ মার্চ ঢাকা-১০, গাইবান্ধ-৩ এবং বাগেরহাট-৪ আসনের উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রামসহ বগুড়া ও যশোরের উপনির্বাচনের ২৯ মার্চ ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবি, গাইবান্ধা-৩ আসনে ডা. সৈয়দ মাইনুল হাসান সাদিক, বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খাইরুজ্জামান শিপন, বগুড়া- ১ আসনে একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং যশোর-৬ আসনে আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান। তবে বাগেরহাট উপনির্বাচনে শিপনের মনোনয়ন পরে বাতিল হয়ে যায়।

এসময় মির্জা ফখরুল আদালতের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের আদালতগুলোতে অনেক বেশি ভিড় থাকে। কারণ মিথ্যা মামলায় যারা আসামি তাদেরকে হাজিরা দিতে সেখানে আসতে হয়। প্রায় প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। এছাড়া আমরা দেখলাম যে, ইতোমধ্যে কয়েকজন বিচারক কোয়ারান্টিনে গেছেন। এ অবস্থায় এটি পরিষ্কার যে, আদালতগুলোতে বেশি সংক্রমণ হচ্ছিলো। তাই আমরা আহ্বান জানাচ্ছি পরিস্থিতি বিবেচনায় ও জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আদালতগুলো কিছুদিন বন্ধ রাখা হোক।

তিনি আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা আশা করবো সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রথম থেকেই সরকার করোনা ভাইরাসের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়নি দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম যে, এখানে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে সরকার। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। তারা বন্ধ করেননি। পরে ১৬ তারিখে তারা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

প্রয়োজন হলে সব শাটডাউন করা হবে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন শাটডাউন করার জায়গা অলরেডি এসে গেছে। কারণ শাটডাউন না করলে যেভাবে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করছে, তা ভয়াবহ মহামারির আকার ধারণ করবে। বাংলাদেশ এমনিতেই একটা ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এদেশে এই ধরনের একটা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, এখন এটা বাইরের থেকে আসার দরকার হবে না। দেশের অভ্যন্তরে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের দ্বারা সব জায়গায় ছড়াবে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভাইরাস সংক্রামকদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্ধারণ, সংক্রামক শনাক্তকরণসহ চিকিৎসক-নার্সদের প্রয়োজনীয় পোশাক (পিপিই) ও যন্ত্রপাতি কোনও কিছুরই ব্যবস্থা করতে পারছে না সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ।

 

/এএইচআর/টিটি/

লাইভ

টপ