প্রতিহিংসা নয়, ঐক্যের রাজনীতি: নেতৃত্বের পরিপক্বতা 

ড. খালিদুর রহমান
১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১৪:০৩

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের ভাষা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার ব্যবহারের ধরন সব সময়ই জনআলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক, মতপার্থক্যও অনিবার্য। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা কী ধরনের ভাষা, আচরণ এবং মানসিকতার মাধ্যমে পরিচালিত হবে—সেটিই শেষ পর্যন্ত একটি জাতির রাজনৈতিক পরিপক্বতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি বক্তব্য সেই পুরোনো প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

তিনি অতীতে নিজের ওপর চালানো শারীরিক নির্যাতনের কথা স্মরণ করে বলেন, নির্যাতনের পর তাকে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং এখনও এক্স-রে করলে দেখা যাবে যে তার পিঠের একটি হাড় বাঁকা অবস্থায় জোড়া লেগে আছে। তবে এই ব্যক্তিগত কষ্টের প্রসঙ্গ তুলে ধরার পরও তিনি প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতির আহ্বান জানাননি। বরং তিনি বলেছেন, দেশবাসীর উচিত অতীতের বিভাজনমূলক রাজনীতি ও নির্যাতনের স্মৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশ ও জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনীতি বহুবার সংঘাত, প্রতিহিংসা, সামরিক হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং তীব্র দলীয় বিভাজনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ ইতিহাসে এমন অনেক নেতা ছিলেন—যারা ব্যক্তিগতভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে সামনে রাখার চেষ্টা করেছেন। আবার এমন সময়ও এসেছে, যখন রাজনৈতিক বক্তব্য ও আচরণ সমাজে বিভাজনকে আরও গভীর করেছে।

তারেক রহমানের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বললেও সেই অভিজ্ঞতাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেননি। বরং তিনি ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই অবস্থান অনেক পর্যবেক্ষকের কাছে বিএনপির রাজনৈতিক ভাষার একটি নতুন দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষত এমন এক সময়ে, যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায়ই ব্যক্তিগত আক্রমণ ও তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কয়েকটি সুপরিচিত উদাহরণ স্মরণ করা যেতে পারে। স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্বীকৃত। কিন্তু রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়া। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেন। সে সময় দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল অত্যন্ত অস্থির। স্বাধীনতার পরবর্তী কয়েক বছরে সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছিল। জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারণাকে সামনে এনে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করেন। তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জাতীয় সংহতি, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভাষণগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, তিনি প্রায়ই দলীয় সংকীর্ণতার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থের কথা বলতেন। গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর তার জোর ছিল স্পষ্ট। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তিনি প্রায়ই জাতীয় পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করতেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ধারণার মাধ্যমে তিনি বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

একইভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের কিছু দিকও এখানে প্রাসঙ্গিক। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্বামীর হত্যাকাণ্ড এবং নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিনি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তার রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল নির্বাচনি রাজনীতির প্রতি ধারাবাহিক অঙ্গীকার। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের সময় তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একযোগে কাজ করেন এবং সামরিক শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সে সময় ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল—তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

খালেদা জিয়ার বিভিন্ন বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের আহ্বানও বহুবার উঠে এসেছে। বিশেষ করে জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের সময়ে তিনি বহুবার দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন।

রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও তিনি বহু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। সমালোচকেরা অবশ্য তার শাসনামলের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তবে এটিও সত্য যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একাধিক ধারার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক না কেন, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা সব পক্ষের নেতৃত্বই বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করেছেন।

অপরদিকে, নিকট অতীতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রকাশ দেখা গেছে। তার সমর্থকেরা এসব বক্তব্যকে দৃঢ় অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এটাই সত্য যে এমন ভাষা রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করেছে। বাস্তবতা হলো—ক্ষমতাসীন নেতার প্রতিটি বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং তা সামাজিক আচরণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপরও প্রভাব ফেলে।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভাষার গুরুত্ব এখানেই। একজন প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রনায়ক যা বলেন, তার প্রতিফলন প্রায়ই মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে দেখা যায়। নেতৃত্ব যদি প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে কর্মী-সমর্থকরাও তুলনামূলকভাবে সংযত আচরণে উৎসাহিত হন। কিন্তু নেতৃত্বের বক্তব্য যদি প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ বা চরম আক্রমণাত্মক মনোভাবকে উৎসাহিত করে, তাহলে সেই প্রভাব নিচের স্তরেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসেও দেখা যায়, যারা দীর্ঘমেয়াদে সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশ প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের অবসানের পর নেলসন ম্যান্ডেলা প্রতিশোধের পরিবর্তে পুনর্মিলনের রাজনীতি বেছে নিয়েছিলেন। একইভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশও দীর্ঘ সংঘাতের স্মৃতি পেছনে ফেলে সহযোগিতা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়। এসব উদাহরণ দেখায় যে একটি জাতি তখনই এগিয়ে যায়, যখন নেতৃত্ব অতীতের ক্ষতকে স্বীকার করেও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দেয়।

তারেক রহমানের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই যে তিনি নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেও প্রতিশোধের আহ্বান জানাননি। তিনি দেশ ও জাতির উন্নয়নের প্রশ্নকে সামনে এনেছেন। বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে রয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐকমত্য।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মও ক্রমশ এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা করছে, যেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রতিহিংসার পরিবর্তে নীতি, কর্মসূচি এবং উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। তারা এমন নেতৃত্ব দেখতে চায়, যারা অতীতের তিক্ততা নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলবে। এই প্রজন্মের কাছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে তাদের দায়িত্বশীলতা, শালীনতা এবং বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

ক্ষমতার আসনে বসলে ভাষার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ তখন একজন নেতা শুধু একটি দলের প্রতিনিধি নন, বরং পুরো জাতির প্রতিনিধিত্ব করেন। তার বক্তব্যে এমন একটি ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করবে, কিন্তু একই সঙ্গে ভিন্নমতের নাগরিকদের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করবে। গণতন্ত্রের শক্তি বিরোধী মতের অস্তিত্বে, আর সেই মতকে সম্মান করার মধ্যেই রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় নিহিত।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া কিংবা বর্তমানে তারেক রহমান—প্রত্যেকেই নিজ নিজ সময়ে জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছেন। তাদের রাজনৈতিক দর্শন, ভাষা ও নেতৃত্বের ধরন নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয়ে অধিকাংশ বিশ্লেষক একমত যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভাষা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই কারণে যখন কোনও জাতীয় নেতা অতীতের নির্যাতনের স্মৃতি স্মরণ করেও প্রতিশোধ নয়, বরং উন্নয়ন ও ঐক্যের কথা বলেন, তখন তা অবশ্যই জনপরিসরে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দেয়।

শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বক্তব্যের মূল্যায়ন শুধু শব্দ দিয়ে নয়, বরং বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হয়। তবু ভাষা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভাষাই রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রথম প্রকাশ। যদি বাংলাদেশের রাজনীতি ক্রমশ এমন এক ধারার দিকে অগ্রসর হয়, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কিন্তু শত্রুতা থাকবে না, মতভেদ থাকবে কিন্তু বিদ্বেষ থাকবে না, এবং অতীতের ক্ষত স্বীকার করেও ভবিষ্যতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তাহলে সেটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, সংযত ভাষা এবং জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার রাজনৈতিক সংস্কৃতিই হতে পারে বাংলাদেশের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

লেখক: অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

/এপিএইচ/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ঢাকার আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া কেমন যাবে 
ঢাকার আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া কেমন যাবে 
৩-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে ব্রাজিল 
৩-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে ব্রাজিল 
যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে মুসল্লিদের জন্য খেজুর, বিস্কুট আর পানিও আছে
যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে মুসল্লিদের জন্য খেজুর, বিস্কুট আর পানিও আছে
কুনহার জোড়া গোলে এগিয়ে ব্রাজিল
কুনহার জোড়া গোলে এগিয়ে ব্রাজিল
সর্বশেষসর্বাধিক