হিমবাহ ধসজনিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
নিউ ইয়র্কে শাহ বলেন, চার সপ্তাহ আগে পাহাড়ি জনপদে আঘাত হানা ওই বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন। দুর্যোগের পর নেপালের পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ।
জলবায়ুজনিত বিপর্যয়ের পর ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে পুনর্গঠনের জন্য অতিরিক্ত ঋণের বোঝা নেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে কোনও দরিদ্র দেশের অবকাঠামো ধ্বংস হলে এর উত্তর কেবল আরেকটি বড় ঋণ বা ছোট ছোট অনুদানের সমন্বয় হতে পারে না। বিশ্বের কাছ থেকে আমাদের পর্যাপ্ত অনুদানভিত্তিক সহায়তা প্রয়োজন।
জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে নেপাল, ভারত ও চীনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বানও জানান নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি হিমালয় অঞ্চলের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন, যার মাধ্যমে স্যাটেলাইট তথ্য আদান-প্রদান, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার এবং সীমান্তজুড়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয় করা যাবে।
শাহ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির সতর্কবার্তা এই বন্যা। এতে সড়ক, সেতু, স্কুল, ঘরবাড়ি ও মানুষের জীবিকা ভেসে গেছে। ফলে নেপালের উন্নয়ন অগ্রগতিও ব্যাহত হয়েছে।
আগস্টের শেষ দিকে নেপাল ও চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহ ধসে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে নিচের উপত্যকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কয়েক সপ্তাহ পরও সেখানে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছিল। ওই এলাকায় ৬ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শাহ বলেন, তাদের অনেককেই হয়তো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বব্যাংক নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরুর জন্য জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৭ কোটি ডলার অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে।
গাজায় গণহত্যার অভিযোগ ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’: জাতিসংঘে নেতানিয়াহু