বাঙালি হওয়া মানে

পারভীন হাসান
০৪ নভেম্বর ২০২০, ১৭:৫৭আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ১৮:০১

পারভীন হাসান কে বাঙালি?
সহজ উত্তরটা হতে পারে—যে কিনা বাংলা বলে ও নিজেকে কোনও না কোনোভাবে বাংলার অংশী বলে মেনে নেয়। এখানে প্রথমটা ভাষা ও দ্বিতীয় বাংলা বলতে এমন এক বড়সড় অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে, যা কিনা এখন বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভাগ হয়ে আছে। অবশ্য এখন যে দিন এসেছে, তাতে কাজকর্মের জন্য অনেককেই নিজ দেশের বাইরে থাকতে হচ্ছে। সেই হিসেবে কোনও ব্যক্তি এই মুহূর্তে কোথায় আছে, সেটা ধর্তব্যে না আনলেও চলে।
একটি সাধারণ সীমানা তো আছেই, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ ভাগ করেছে নিজেদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এর অপরিহার্য একটি অংশ হলো বাংলা ভাষা। মানচিত্রে ১৯৪৭ সালের পর থেকে এই অঞ্চল তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্রে এখনও একই আছে। যা সুনিপুণভাবে ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ থেকে আলাদা করে কেটে নেওয়া হয়েছিল। ঔপনিবেশিক সরকারের পূর্ববঙ্গে আসাম রাজ্যটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯০৩ সালেই ব্রিটিশ ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ইস্ট বেঙ্গলকে আলাদাভাবে কল্পনা করেছিলেন। 

প্রথমদিকে, বঙ্গভঙ্গ ছিল কেবল প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে। কারণ আসাম ছিল পশ্চাৎপদ একটি এলাকা, যার উন্নয়নই ছিল এই বিভাজনের লক্ষ্য। কিন্তু দ্রুত সিদ্ধান্তটা রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয় এবং বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী বিরোধিতা মাথাচাড়া দেয়। ওই সময় কার্জন বলেছিলেন, ‘বাঙালিরা নিজেদের যারা একটি জাতি বলে ভাবতে পছন্দ করে এবং যারা স্বপ্ন দেখে ইংরেজদের বিদায় করে কলকাতার গভর্নমেন্ট হাউসে একজন বাঙালি বাবুকে বসাবে, অবশ্যই তারা তাদের ওই স্বপ্নপূরণে ঝামেলা পাকাতে পারে এমন যেকোনও বাধাবিপত্তি নিয়ে জোরাল আপত্তি জানাবে। আমরা যদি তাদের এসব হইচইয়ের কাছে নতি স্বীকার করার মতো দুর্বলতা দেখাই, তবে আগামীতে বাংলাকে কখনোই আর সংকুচিত করতে পারবো না। ভারতের পূর্ব পার্শ্বে আপনি এমন একটি শক্তিকে সংযুক্ত ও দৃঢ় করবেন যেটি ইতিমধ্যেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বাড়ন্ত গোলযোগের নিশ্চিত কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’

দেশভাগের বিষয়টিতে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল, কারণ পশ্চিমবঙ্গ যেসব জেলাকে নিয়ে গঠিত হবে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা ছিল হিন্দু, যারা উচ্চশিক্ষিত এবং বেশিরভাগ জমির মালিক  ছিলেন, এবং কলকাতার সঙ্গে ভালো যোগাযোগ ছিল। অপরদিকে পূর্ববঙ্গের জেলাগুলোতে ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং তাদের বেশিরভাগই কৃষক। যদিও বাংলার দুই ভাগই তাদের বইপত্রের জন্য একটি আদর্শ ভাষা ব্যবহার করতে লাগলো, তবুও কথা বলার পার্থক্যটা এখনও তীব্র। পূর্বের একজন ‘বাঙাল’ (কখনও তাচ্ছিল্য অর্থে ব্যবহৃত) যখনই কথা বলা শুরু করবে, তখনই তার পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠবে। দেশ ভাগটাকে মনে হচ্ছিল ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক বিভাজনের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, যা বাংলাকে দুটো ভাগে আলাদা করেছিল। এর ফলে, ব্রিটিশরাজের ঝলমলে শহর কলকাতাকে তার খ্যাতির ছটা ঢাকার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হবে। ঢাকা ছিল তখন প্রায় ভুলে যাওয়া এক শহর, যার একসময় সুদিন ছিল এবং যেটাকে বাঙলা ভাগের সময় পূর্ব বাঙলার প্রাদেশিক রাজধানী করা হয়।

দুই ভাগ

যারা দেশভাগের বিরোধিতা করেছিলেন তারা বেশিরভাগই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের। তারা হায় হায় করে উঠছিলেন এই বলে যে বাঙালিকে দুভাগ করে ফেললো। এই স্লোগানটাই পরে ধীরে ধীরে ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সূচনা করে। ক্রোধ ও আন্দোলন এতটাই ব্যাপক ছিল যে, ১৯১১ সালে ব্রিটিশ শাসকরা বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।

ঠিক সেই সময়, অর্থাৎ বিশ শতকের গোড়ার দিকে বাঙালিরা কি নিজেদেরকে জাতি হিসেবে ভেবেছিল? বাঙালি জাতি মানে কী ছিল? কারা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, আর কারাই বা বাদ ছিল? সে সময়কার জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় ‘বাঙালি ভদ্রলোকে’রা কাদের বাঙালি বলে বিবেচনা করেছিলেন সে সম্পর্কে আমরা কিছুটা ধারণা পেতে পারি। শ্রীকান্তকে (প্রথম পর্ব) লেখকের জীবনীমূলক উপন্যাস হিসেবে ধরা হয়। তরুণ শ্রীকান্ত তার প্রিয় বন্ধু ইন্দ্রনাথের সঙ্গে সাক্ষাতের বর্ণনা করেছেন এভাবে—

‘ইস্কুলের মাঠে বাঙ্গালী ও মুসলমান ছাত্রদের ‘ফুটবল ম্যাচ’। সন্ধ্যা হয় হয়। মগ্ন হইয়া দেখিতেছি। আনন্দের সীমা নাই। হঠাৎ—ওরে বাবা—এ কি রে! চটাপট্ শব্দ এবং মারো শালাকে, ধরো শালাকে। কি একরকম যেন বিহ্বল হইয়া গেলাম। মিনিট দুই-তিন! ইতিমধ্যে কে যে কোথায় অন্তর্ধান হইয়া গেল, ঠাহর পাইলাম না। ঠাহর পাইলাম ভাল করিয়া তখন, যখন পিঠের উপর একটা আস্ত-ছাতির বাঁট পটাশ করিয়া ভাঙ্গিল এবং আরো গোটা দুই-তিন মাথার উপর, পিঠের উপর উদ্যত দেখিলাম। পাঁচসাতজন মুসলমান-ছোক্‌রা তখন চারিদিকে ব্যূহ রচনা করিয়াছে—পলাইবার এতটুকু পথ নাই।

আরও একটা ছাতির বাঁট—আরও একটা। ঠিক সেই মুহূর্ত্তে যে মানুষটি বাহির হইতে বিদ্যুদ্‌গতিতে ব্যূহভেদ করিয়া আমাকে আগলাইয়া দাঁড়াইল—সেই ইন্দ্রনাথ।’

সাম্প্রদায়িক রেখা বরাবর

ওই শহুরে ফুটবল ম্যাচে দল গঠন করা হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতার রেখাকে মাথায় রেখে এবং একই ভাষায় কথা বলা ও পড়ালেখা করলেও একজন মুসলিম স্পষ্টতই বাঙালি হতে পারেনি।

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এখনও এই বাঙালি-মুসলিম বিভাজন চোখে পড়বে। শহুরে অভিজাতদের মধ্যে খুব বেশি না হলেও ছোট শহর ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে এই ধারণা প্রবল। মুসলিম মানে এখনও অবাঙালি এবং বাঙালি মানে কেবল হিন্দু।

কয়েক বছর আগের আমার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারি। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ত্রিবেণীর একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান (জাফর খান গাজীর মসজিদ এবং সমাধি) পরিদর্শন করার সময় আমি কিছু পুরুষকে দেখলাম, যাদের বেশভূষা (পরনে লুঙ্গি) ও আচরণ অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা।

আমাদের রিকশাচালক ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, এই লোকেরা অবাঙালি, বিহার থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিক। কাছের কোনও একটি পাটকলে কাজ করে। এরা বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে পড়ে না। পরে বাসস্ট্যান্ডে ফেরার সময় আমরা রাস্তার পাশের একটি গ্রাম পার হচ্ছিলাম। তখন লাউড স্পিকারের শব্দ শুনে বুঝলাম সেখানে পূজার উৎসব হচ্ছে। ওই চালক তখন গ্রামের দিকে আঙুল তুলে বললেন, এই গ্রামের সবাই বাঙালি। তার কাছে সমীকরণটা ছিল সহজ—পুজোয় যারা অংশ নেয় কেবল তারাই বাঙালি।

‘বাঙালি’ শব্দটি প্রথম আসে ১৪ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। দিল্লির ইতিহাসবিদ শামস-ই সিরাজ আফিফ (জন্ম ১৩৪২), দিল্লির সুলতান ফিরুজ শাহ তুঘলক (১৩৫১-১৩৮৮) এবং বাংলার সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের (১৩৪২-৫৭) মধ্যে যুদ্ধের বর্ণনা দিতে গিয়ে শব্দটি উল্লেখ করেছিলেন। সেখানে ইলিয়াস শাহকে ‘বাঙালির সুলতান’ এবং ‘বাংলার রাজা’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়। ওই সময় বঙ্গ অঞ্চলটি ছিল মূলত নিজস্ব জাতিসত্তার পরিচয় নিয়ে বাস করা কয়েকটি রাজ্যের সমন্বয়।

তুর্কি মুসলিমরা দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকেই দিল্লি সুলতানের গভর্নর হিসেবে শাসন করছিল। চতুর্দশ শতাব্দীর শুরুর দিকে তারা দিল্লি শাসন থেকে বিছিন্ন হয়ে স্বাধীন বাংলা সালতানাত প্রতিষ্ঠা করে, যা ওই ছোট রাজ্যগুলোকে একত্র করেছিল। তার মধ্যে বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ অংশই অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও এর সীমানা ছিল কিছুটা পরিবর্তনশীল। ওই সময় কখনও আসাম, কখনও বিহারের কিছু অংশও এর মধ্যে পড়তো।

কৌশলগত, রাজনৈতিক এবং ব্যবহারিক কারণে সুলতানরা ওই সময় এমন কিছু সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন যা বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একটি ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করেছিল। ওই সময় এ অঞ্চলের বেশিরভাগ লোকই ছিল হিন্দু, বৌদ্ধ বা লোকধর্মের অনুসারী যারা কোনও না কোনোভাবে বাংলায় কথা বলতো। ১৪৩৩ সালে এক চীনা পর্যটক বঙ্গ সফরে এসে দেখেছিলেন যে, ‘যদিও দরবারে কিছু কিছু মুসলিম ফারসি ভাষায় কথা বলে, তথাপি সার্বজনীন ভাষা হলো বাংলা।’

সাহিত্যের বিকাশ

সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য প্রস্ফুটিত হতে শুরু করে। তখন মহাভারত এর কিছু অংশ সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনূদিত হয়েছিল। একই সময় মনসা মঙ্গল, মনসা বিজয়, কৃষ্ণ-মঙ্গল  এবং শ্রী- কৃষ্ণ  বিজয় ও রচিত হয়।

পঞ্চদশ থেকে আঠারো শতকের মুসলিম বাঙালি কবিরা প্রেম, মহাকাব্য এবং ভক্তিমূলক কবিতা লিখেছিলেন। সেখানে সাধারণ মানুষদের কাছে ইসলামকে তুলে ধরা হতো তাদের কাছে পরিচিত কিছু রূপকের আশ্রয় করে। এগুলি কেবল আরবি বা ফারসি ভাষায় সুপরিচিত ইসলামি সাহিত্যের বাংলা অনুবাদই ছিল না; বরং একটি বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিবেশে ধর্মীয় প্রতীক ও মূল্যবোধের একটি অভিযোজনও ছিল।

ঐ আমলের স্থাপত্যকলার ইতিহাস নিয়ে আমার নিজস্ব কিছু কাজ আছে। তাতে দেখা গেছে ওই সময় মসজিদ এবং মন্দির উভয়ের জন্যই কীভাবে একটি অনন্য আঞ্চলিক রূপ তৈরি হয়েছিল। তারা স্থাপত্যের বেশিরভাগ জিনিসই উভয়ের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল। এই অঞ্চলের তিনটি ধর্ম তথা—হিন্দু, বৌদ্ধ এবং ইসলামের উপাসনালয়গুলোর নকশায় ছিল স্থানীয় চালাঘরের দারুণ প্রভাব।

রিচার্ড ইটন, তাঁর The Rise of Islam and the Bengal Frontier বইয়ে ১৫ ও ১৬ শতাব্দীতে বাংলায় ধর্মান্তরের ব্যাখ্যা দেন। যা বোঝায় যে, ব-দ্বীপের পূর্ব অংশে বসবাসকারী বেশিরভাগ কৃষক জনগোষ্ঠী কীভাবে মুসলমান হয়েছিল। এখানে এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, এই জনগণের ভাষা বাংলাই থেকে গিয়েছিল।

সপ্তদশ শতাব্দীর মুঘল বিজয়ের পর অভিজাত মুসলিম ও গ্রামীণ জনগণের মধ্যে পার্থক্যটা বাড়তে থাকে। মুঘল শাসক, যারা বেশিরভাগই উত্তর ভারত কিংবা এর বাইরে থেকে এসেছিলেন; তাদের প্রথম ভাষা ছিল ফার্সি ও পরে ছিল উর্দু। অভিজাত মুসলমানদের মধ্যে যারা মুঘল শাসক ও তাদের গৌরবময় অতীত চর্চা করে আসতেন তারাই ধরে রেখেছিলেন সেই ধারাটি। আর সেটা গত শতকের ৫০ ও ৬০-এর দশক পর্যন্ত বেশ ভালোভাবে টিকে ছিল। এ কারণে অনেক মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত বাঙালিরা বাড়িতে উর্দুতে কথা বলতেন।

১৯১১ সালে শরৎচন্দ্রের সমসাময়িক বাঙালি নারী ও দক্ষিণ এশিয়ার নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যখন কলকাতায় মুসলিম মেয়েদের জন্য প্রথম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তিনি উর্দু-মিডিয়ামই চালু করেন। যদিও তাঁর নিজের সব লেখাই ছিল বাংলা না হয় ইংরেজিতে। অবশ্য সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারগুলোকে তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী করতে তার হাতে আর কোনও উপায়ও ছিল না।

এই আলোকে দেখা যায়, হিন্দুদের সঙ্গে বাঙালিদের সম্পর্কের ব্যাপারে শরৎচন্দ্রের সমীকরণটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক বলেও বাদ দেওয়া যাবে না। তবে গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, একই স্কুলে পড়া এবং সম্ভবত একই ভাষায় (অন্তত স্কুলে) কথা বলা বালকের বিষয়ে এ ধরনের সাম্প্রদায়িকতা প্রকাশ হওয়ার ব্যাপারটি অবাক করার মতোই।

ঔপনিবেশিক শাসনকালে উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে বেঙ্গল রেনেসাঁর প্রেক্ষাপটে উত্থান হয় আধুনিক বাঙলার ধারণা। তবে নতুন যে কথা বলার ভঙ্গিমা আজ অবধি আনুষ্ঠানিক বা চলিত গদ্যরীতি হিসেবে অব্যাহত রয়েছে তা সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের কথ্যভাষা থেকেই এসেছে। পূর্ববঙ্গের বাসিন্দাদের ভাষাটিকে তাই ‘বাংলা’ না বলে ‘বাঙাল’ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়।

বাংলাদেশে প্রচলিত অসংখ্য উপভাষা থাকা সত্ত্বেও চলিত বাংলা হলো সরকারি ভাষা। কিছু অভিজাত শ্রেণির লোক কিংবা শিক্ষিত বাঙালি পরিবার, যারা তাদের আগের আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল, তারাই এখন শুদ্ধ ভাষা নামে চলিত ভাষার একটি কাছাকাছি সংস্করণে কথা বলছে। তবে এই কথ্য ভাষাতেও আছে কিছু অমিল। মুসলিমরা কথা বলার সময় সাধারণত কিছু আরবি-ফার্সি শব্দে জোর দেয়। এ জাতীয় শব্দের উপস্থিতি মুসালমানীয় বাংলা বা দোভাষীতে (একটি লিখিত ভাষা যা মুসলিমরা আধুনিক বাঙলা গড়ে ওঠার পাশাপাশি  তৈরি করেছিল) আরও স্পষ্ট দেখা যায়।

ইসলামি উৎস থেকে আগত বিদেশি শব্দগুলো মুসলিম লেখকরা ব্যবহার করতেন তাদের পাঠকের ওপর ভিত্তি করে। যদি মুসলিম পাঠকের উদ্দেশ্যে লেখেন তবে ওই শব্দগুলো বেশি, আর পাঠকের গণ্ডিটা বড় হলে শব্দগুলো কম ব্যবহার করতেন। 

ক্লিনটন সিলির মতে, কারবালার সুপরিচিত কাহিনী বিষাদ সিন্ধুতে মীর মোশাররফ হোসেন তাঁর ভাষাকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করেছিলেন যাতে তিনি একইসঙ্গে হিন্দু এবং মুসলিম পাঠকদের টানতে পারেন।’

ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগ

ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িক রেখার ভিত্তিতে ভারত ভাগের পর ফিরে যায়। পূর্ব পাকিস্তান থেকে যায় ১৯০৫ সালের লর্ড কার্জনের পূর্ব বাংলার মতোই। তবে এবার আসাম ছাড়া। পাকিস্তান নামের নতুন দেশটি ভারতের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিম সীমান্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলো নিয়ে গঠন করা।

পূর্ব বাংলা, পূর্ব পাকিস্তানে রূপান্তর হলেও দুই পাকিস্তানের মাঝে রয়ে যায় ভারতের হাজার মাইলের ভূখণ্ড। বছর না যেতেই সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক পার্থক্যগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং নতুন দেশের ধর্মীয় একতাটা ক্রমে ম্রিয়মাণ হতে থাকে। এর মধ্যে ভাষা একটি শক্তিশালী ইস্যুতে পরিণত হয়।

তীব্র বিরোধিতা শুরু হয় যখন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ (কায়েদে-আজম বা পাকিস্তানের ‘জাতির জনক’ বলে স্বীকৃত) কেবলমাত্র উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে বলে ঘোষণা করেন। পূর্ব পাকিস্তানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী যারা বাঙলায় কথা বলতেন, তাদের ওপর একটি বিদেশি ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হলো। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পূর্বপাকিস্তান সফরে দেওয়া একটি ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সেই বছরের শেষদিকে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত পূর্ব-পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে বিশিষ্ট ভাষা ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সাহসী পাল্টা তীর ছুড়ে বলেছিলেন: "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়েও বেশী সত্য আমরা বাঙ্গালী। এটি কোন আদর্শের কথা নয়; এটি একটি বাস্তব সত্য।"

পশ্চিম পাকিস্তানের (বেশিরভাগই সামরিক) শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া সাধারণ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের নীতিমালা যখন জটিলতর হয়ে উঠলো, তখন সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হওয়াটা ছিলো শুধু সময়ের ব্যাপার। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর যখন বর্বর সামরিক হামলা হয়, তখন লক্ষ লক্ষ লোক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গিয়েছিল, প্রধানত পশ্চিমবঙ্গে, যেখানকার লোকেরাও বাংলায় কথা বলতো।

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা নয় মাস ধরে যুদ্ধ করেছে, পরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীও যোগ দেয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং পূর্ব পাকিস্তান অঞ্চলটি একটি নতুন সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যার নামকরণ হয় বাংলাদেশ, অর্থাৎ ‘বাংলাভাষী মানুষের দেশ’।

বাংলাদেশ বলতে কী বোঝায়?

স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি উদ্দেশ্যে ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করার। তারপরও এর মাঝে কোনোদিন এ প্রশ্ন ওঠেনি—১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িকতার ধুয়ো তুলে গড়ে ওঠা সীমানাপ্রাচীর তুলে দিয়ে বাংলায় কথা বলা দুটি পক্ষকে এক করা হচ্ছে না কেন। অথচ বাংলায় কথা বলা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যই কিন্তু অগণিত শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল, যখন যুদ্ধের ডামাডোলে পুড়ে ছাই হচ্ছিল তাদের ঘরবাড়ি। পশ্চিমবঙ্গের একজন সুপরিচিত ও কিঞ্চিৎ রাগান্বিত  ইতিহাসবিদ রমেশ চন্দ্র মজুমদার ঘোষণা দিয়েছেন যে নতুন রাষ্ট্রটির নিজেকে ‘বাংলাদেশ’ বলার অধিকারই নেই।

“এই প্রসংগে স্মরণ করা আবশ্যক যে ইতিহাসের দিক হইতে পূর্ববঙ্গের "বাংলাদেশ" নাম গ্রহণের কোনও সমর্থন নাই।' বাংলা'র পূর্বরূপ " ‘বাঙ্গালা’ নাম মুসলমানদের দেওয়া নামটি বাংলার একটি ক্ষুদ্র অংশের নাম 'বঙ্গাল' শব্দের অপভ্রংশ, ইহা 'বঙ্গ' শব্দের মুসলমানরূপ নহে। মুসলমানরা প্রথম হইতেই সমগ্র বঙ্গদেশকে মুলুক বাঙ্গালা বলিত। চতুর্দশ শতাব্দী হইতেই বাঙ্গালা (Bangala) শব্দটি গৌড় রাজ্য বা লখনৌতি রাজ্যের প্রতিশব্দরূপে বিভিন্ন সমসাময়িক মুসলিম গ্রন্হে (যেমন সিরাৎ-ই-ফিরোজ শাহী) ব্যবহৃত হইয়াছে। পরে হিন্দুরাও দেশের এই নাম ব্যবহার করেন। … আজ পশ্চিমবঙ্গের লোকেরা বাঙ্গালী বলিয়া পরিচয় দিতে পারিবে না ইহাও যেমন অদ্ভুত, অসঙ্গত ও হাস্যকর, 'বাংলাদেশ' বলিলে কেবল পূর্ববঙ্গ বুঝাইবে ইহাও তদ্রুপ  অদ্ভুত,অসঙ্গত ও হাস্যকর। 

দীর্ঘকাল ধরিয়া বাঙ্গালা, বাংলাদেশ, বাঙ্গালী, শব্দগুলি সমগ্র (Bengal) বাংলা অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার পর আজ হঠাৎ কেবলমাত্র পূর্ববঙ্গকে (যাহা আদিতে মুসলমানদের 'বাঙ্গালা' রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল না—'বঙ্গ ওয়া বাঙ্গালা' তাহার প্রমাণ), বাংলাদেশ বলিত হইবে এরূপ ব্যবস্থা বা ঘোষণা করার অধিকার কোনও গর্ভমেন্টের নাই।'১০

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে আরও বলেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের অনেক মানুষই এখনও ‘বাংলাদেশ’ নামকরণ মেনে নিতে পারেনি। কারণ তারা এখনও তাদের কথাবার্তা ও লেখায় নিজেদের ভূমিকে বাংলাদেশ বলে সম্বোধন করছে।

এতে করে বোঝা যাচ্ছে, কে বাঙালি, এ প্রশ্নের মধ্যেই কিন্তু সমস্যাটা আটকে নেই। রমেশচন্দ্র মজুমদার আরও খানিকটা এগিয়ে এসে প্রশ্ন তুলছেন, বাংলাদেশিরা আদৌ নিজেদেরকেই শুধু বাংলাদেশি বলতে পারবে কিনা। কেননা, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের এ ধরনের নামকরণ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা যায় না।

“অন্যকথায়, পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের ওপর যা যেভাবে চাপিয়ে দিয়েছিল, আমরাও কি সেই একই কাজ করতে পারি? নাকি আমরা বহু সংস্কৃতি, জাতীয়তা ও ভাষার সমন্বয়ে একটি গণতান্ত্রিক জাতিতে পরিণত হতে পারি?

গত শতকের ষাটের দশকের দিকে একটি শক্তিশালী বাঙালি পরিচয় আত্মপ্রকাশ পায়। যা কিনা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষীদের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানিদের আলাদা করে দিয়েছিল। আর সেই পৃথক পরিচয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিল পোশাক। ওই সময় আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলাম, তারা শাড়ি পরতে পছন্দ করতাম, কপালে টিপ না পরলে আমাদের সাজটাই সম্পূর্ণ হতো না।

প্রায় সকলেই তখন রবীন্দ্রসংগীত গাইতো বা নিদেনপক্ষে গাওয়ার চেষ্টা করতো। সালওয়ার কামিজ তখন পরতো বেশিরভাগই পশ্চিম পাকিস্তানের নারীরা, পূর্ব পাকিস্তানে এই পোশাকটি শুধুমাত্র তরুণীদের জন্যই যুৎসই মনে করা হতো। তখন ছিল ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের শাসনামল। যদিও এরপর ধীরে ধীরে সালওয়ার কামিজটা হয়ে গেলো মানানসই ইসলামিক একটা পোশাক, তথাপি পূর্ব পাকিস্তানে শাড়ির কদর কমেনি একটুও। এমনকি পার্টিতে শাড়ি পরতে দেখা যেতো পশ্চিম পাকিস্তানের বনেদি পরিবারের অনেক নারীকে।

তবে টিপ পরা এবং রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া বা শোনাকে হিন্দুয়ানি মনে করা হতো। সুতরাং পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক গভর্নর মোনেম খান আনুগত্যের সঙ্গে তাঁর কর্তার আদেশ শুনলেন, ওই দুটো বিষয়কেই পাবলিক টেলিভিশন থেকে নিষিদ্ধ করলেন। সময়টা ছিল ষাটের দশক। এই জাতীয় নিষেধাজ্ঞা তাদের বিরোধী বাতাসকে করে দিলো আরও উজ্জীবিত। রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া হতে লাগলো আরও জোরালো গলায়, টিপগুলো হয়ে গেলো আরও বড় ও রঙিন।

কপালে ওই প্রতীকটির প্রসঙ্গে আবারও আমার কয়েক বছর আগেকার ভারত সফরের কথা স্মরণ করছি। ভারতীয় জনতা পার্টির জয়জয়কারের সময় সেইটি। আমি মধ্যপ্রদেশের একটি সরকারি এম্পোরিয়ামে কেনাকাটা করছিলাম। আমার টিপ এবং শাড়ি দেখে বিক্রয়কর্মী নারীটি (গম্ভীর, সাদাসিধে, মধ্যবয়সী) ধরেই নিয়েছিলেন যে আমি কলকাতা থেকে এসেছি।

লেনদেন করার সময়, যখন তিনি আমার নাম, জাতীয়তা এবং একপর্যায়ে আমার ধর্মটাও জানতে পারলেন, তখন জানতে চাইলেন কেন আমি ‘বিন্দি’ (টিপ) পরেছি। উত্তর দিলাম যে অনেক বাঙালির মতো এই বিন্দুটি আমার সাজগোজের অংশ মাত্র, এর কোনও ধর্মীয় তাৎপর্য নেই।

আমি পরে বুঝতে পেরেছিলাম কেন এই উত্তর তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তার অসন্তুষ্টি ছিল বেশ চড়া, যার কারণে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং তাতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে তীব্র মন্তব্য করতেও দ্বিধা করেননি। অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কারণ তার মতে আমি কেবল হিন্দু নারীদের পবিত্র প্রতীককে তুচ্ছ করেছিলাম তা নয়, বরং কেবল সাজগোজের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে চূড়ান্ত তাচ্ছিল্যের পরিচয়ও দিয়েছি। অথচ আমার কাছে এটি কেবল একটি বিন্দু যা আমার সাজগোজের অংশ, এরচেয়ে অধিক কিছু নয়। 

আমি বুঝতে পেরেছি যে আইয়ুব সরকারের আদর্শকে প্রত্যাখ্যান ও রক্ষণশীল ভারতীয় সেই বিক্রয়কর্মীর ‘টিপ‌‍' সম্পর্কিত বিশ্বাস (যদিও ঘটনা দুটোর মাঝে সময়ের ফারাক অনেক) এক হয়ে গিয়েছিল। একজন হিন্দুয়ানি বলে যেটাকে প্রত্যাখ্যান করতে বললেন, আরেক হিন্দু সেটাকে নিজের একচেটিয়া বলে দাবি করে বসলেন। উদারপন্থী বাঙালি মুসিলমদের দ্বারা ধর্মনিরপেক্ষতা দেখানোটা উভয়ের কাছেই অগ্রহণযোগ্য হিসেবেই দৃশ্যমান হলো।

বাংলাদেশ আজ কেবল বাঙালিদের ভূমি নয়; বরং এটি পাহাড়, বন এবং সমুদ্রের নিকটবর্তী সমস্ত আদিবাসীর আবাস, যারা তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে এবং যারা নিজস্ব সংস্কৃতিকে আগলে রাখতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া অনেক উর্দুভাষী লোকও আছেন যারা ১৯৭১ সালের পর পাকিস্তানে না গিয়ে বাংলাদেশেই থেকে গেছেন।

আমরা বাংলাভাষী সংখ্যাগরিষ্ঠরা যারা ভূমিটিকে নিজেদের হিসেবে চিহ্নিত করেছি, আমাদের কি এখন অধিকার আছে যে অন্যদের ওপর নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি চাপিয়ে তাদেরও বাঙালি বানানোর?

অন্য কথায়, পাকিস্তানি শাসক শক্তি আমাদের ওপর একসময় যা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, সেটার পুনরাবৃত্তি কি আমরাও ঘটাবো? নাকি আমরা বহু ভাষা, জাতি এবং সংস্কৃতির একটি গণতান্ত্রিক দেশ হয়ে উঠতে পারবো?  সিদ্ধান্ত আমাদেরই হতে হবে (যারা বাংলাভাষী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ), এবং সিদ্ধান্তটা কী হবে, সেটাও পরিষ্কার। 

লেখক: উপাচার্য, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি

 

তথ্যসূত্র:

১. Sumit Sarkar, The Swadeshi Movement in Bengal (New Delhi- 1977, pp. 19-20). 

২. শ্রী শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎ সাহিত্য সমগ্র, ‘শ্রীকান্ত’ প্রথম খণ্ড, পৃ. ২৬৮, কলিকাতা, প্রথম মুদ্রণ: ৩১ ভাদ্র, ১৩৯৩।

৩. Shams-i-Siraj Afif. Tarikh-i-Firuz Shahi, in The History in India  as told by its own Historians, trans. And ed. H.M. Elliot and John              Dowson (re-print Delhi) 3: 295, 296.

৪.  P.C. Bagchi, “Political Relations between Bengali and China in the Pathan Period”, in Visva Bharati Annals, 1 (1945), p.117. 

৫. Perween Hasan, Sultans and Mosques: Early Muslim  Architecture of Bangladesh (London 2007), pp. 23-69.

৬. Clinton B. Seely ‘ A Muslim Voice in Modern Bengali Literature : Mir Mosharraf Hossain’, in  Understanding the Bengal Muslims: Interpretative Essays, ed. Rafiuddin Ahmed (Dhaka 2001) pp. 113-38.

৭. আনিসুজ্জামান, স্বরূপের সন্ধানে, (ঢাকা : ১৩৯৭) পৃ. ৭৪।

৮. রমেশচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত, বাংলাদেশের ইতিহাস: মধ্যযুগ , কলিকাতা ১৩৮৫, ভূমিকা পৃ. ১১-১২।

 

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আজ কয়েক স্থানে হবে বৃষ্টি, তাপমাত্রা বাড়বে নাকি কমবে?
আজ কয়েক স্থানে হবে বৃষ্টি, তাপমাত্রা বাড়বে নাকি কমবে?
টিভিতে আজকের খেলা (৮ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (৮ জুন, ২০২৬)
দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দিলেন, তবু সাত দিনেও মুক্তি মেলেনি
দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দিলেন, তবু সাত দিনেও মুক্তি মেলেনি
মামলা নিতে ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার
মামলা নিতে ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার
সর্বশেষসর্বাধিক