ইরান-মার্কিন আলোচনা

স্পটলাইটে থাকা কে এই আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থি নেতা গালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৮আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫১

ইরান যুদ্ধ এক মাসের মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সোমবার বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ‘চিরশত্রু’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার তুরুপের তাস হতে পারেন ৬৪ বছর বয়সী এই কট্টরপন্থি রাজনীতিক। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের এক ‘শীর্ষ ব্যক্তির’ সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো সেই ব্যক্তি হিসেবে গালিবাফকেই শনাক্ত করেছে। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইসলামাবাদের মাটিতে গালিবফ ও অন্যান্য ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং সম্ভবত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি বৈঠকের আয়োজন করতে মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ গালিবাফ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে আছে, তা থেকে বাঁচতে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে।

১৯৬১ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদের কাছে তোরকাবেহ গ্রামে এক কুর্দি বাবা ও পারস্য মায়ের ঘরে জন্ম গালিবাফের। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান জিওগ্রাফিতে স্নাতক এবং পরে পলিটিক্যাল জিওগ্রাফিতে পিএইচডি করা এই নেতা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। গালিবফের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে ইলিয়াস ও এসহাক গালিবাফ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। তবে এসহাক সম্প্রতি কানাডায় অভিবাসনের জন্য আবেদন করেছেন। তার মেয়ে মরিয়ম কোথায় থাকেন, তা স্পষ্ট নয়।

গালিবাফের সামরিক জীবন শুরু হয় ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ-এ যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৮০ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) যোগ দেন এবং দ্রুততম সময়ে অন্যতম কনিষ্ঠ কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৯৯ সালে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে আগের কমান্ডারকে সরিয়ে তাকে জাতীয় পুলিশ বাহিনীর প্রধান করা হয়। সে সময় সংস্কারবাদী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামিকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিক্ষোভ দমন না করলে আইআরজিসি একতরফা ব্যবস্থা নেবে।

২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্টসহ বিভিন্ন বিক্ষোভে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে ফাঁস হওয়া এক অডিও ফুটেজে তাকে বলতে শোনা যায় যে, তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে গত জানুয়ারির বিক্ষোভে কিছুটা নমনীয় সুরে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রতিবাদ করা জনগণের বৈধ অধিকার’ এবং অর্থনৈতিক দুর্দশা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যদিও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি।

মেয়র হিসেবে তেহরানকে ১২ বছর (২০০৫-২০১৭) শাসন করেছেন গালিবাফ। তার সময়ে শহরের উত্তর অংশে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে জমি বিক্রিতে দুর্নীতি এবং দরিদ্র দক্ষিণ অংশকে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার বিচরণ ছিল সরব। ২০০৮ সালে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এবং পরবর্তীকালে ব্রিকস সম্মেলনে তিনি ইরানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০২০ সালে পার্লামেন্ট স্পিকার হওয়ার পর থেকে তিনি আইআরজিসি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রতি অনুগত থেকেই কিছু অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা বলেছেন। নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ডিরেক্টর কামরান বোখারি এক্স-এ লিখেছেন, গালিবাফ আইআরজিসি-র সবচেয়ে শক্তিশালী উপদলের রাজনৈতিক নেতা। তিনি দেশে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার মতো কট্টরপন্থি, আবার কোনও চুক্তি করার মতো যথেষ্ট বাস্তববাদী।

বর্তমান সংস্কারবাদী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত গালিবফ। এমনকি নিত্যপণ্যের দাম কমাতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে গালিবফ আমেরিকাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে আমেরিকানদের বলছি: আমাদের টেবিলে সব অপশনই আছে—মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতি এবং অনুশোচনামূলক প্রতিরক্ষা।’ যুদ্ধ শুরুর পর তার সুর আরও কঠোর হয়েছে। ১০ মার্চ তিনি লিখেছিলেন যে ইরান ‘যুদ্ধবিরতি চাইছে না’ এবং আমেরিকান ঘাঁটিগুলো অঞ্চলের জন্য ‘হুমকি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

 

/এএ/
টাইমলাইন: ইরানে ইসরায়েলের হামলা
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী