গত বছর জুলাইয়ে হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী ঘটনার পরে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যতটা সরব ছিল এখন আর ততটা নেই। অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেছে। যেসব দূতাবাস তাদের কূটনীতিকদের জন্য নন-ফ্যামিলি পোস্টি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল সেটি পুনরায় বিবেচনা করতে আবেদন করেছে সরকার।
সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, হলি আর্টিজানের হামলার পর কয়েকটি দূতাবাস তাদের কূটনীতিকদের জন্য নন-ফ্যামিলি পোস্টিং ব্যবস্থা চালু করে যার মাধ্যমে কোনও কর্মকর্তা ইচ্ছা করলে তার পরিবার নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারতো। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে আমরা তাদের অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের নন-ফ্যামিলি পোস্টিং এর বিষয়টি না জানানোর কারণে আমরা তাদের অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছি। বর্তমানে গোটা ইউরোপ জুড়ে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে এবং পৃথিবীর কোনও দেশই সে অর্থে নিরাপদ নয়। আমরা এখানে বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছি এবং একাধিকবার দূতাবাসগুলো সেজন্য আমাদের ধন্যবাদ দিয়েছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, জুলাইয়ে পরে বিদেশি কূটনীতিকদের কয়েকটি দাবি ছিল, বাড়তি নিরাপত্তা, বুলেট প্রুফ গাড়ি, গাড়ির জন্য সাধারণ নম্বর প্লেট, নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র বহন ইত্যাদি। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য আমরা একটি বিশেষ আনসার বাহিনী গঠন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আইসিডিডিআরবি ছাড়া আর কেউ এ আনসার বাহিনীর জন্য আবেদন করেনি।
বুলেট প্রুফ গাড়ির জন্য কয়েকটি দূতাবাস আবেদন করলে আমাদের তাদের আমদানি করার অনুমতি দিয়েছি এবং কিন্তু এখন নতুন করে কোনও দূতাবাস আবেদন করছে না বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
তিনি বলেন, দূতাবাসের গাড়ির জন্য হলুদ নম্বর প্লেট দেওয়া হয়। কিন্তু সেসময় দূতাবাসগুলো সাধারণ নম্বর প্লেট চাইলে আমরা দিতে রাজি হই। এখন পর্যন্ত ছয়টি দূতাবাস সাধারণ নম্বর প্লেটের আবেদন করলেও মাত্র চারটি এটি সংগ্রহ করেছে। নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি সরকার দিতে পারে না। কারণ এটি বর্তমানে প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের গুলশান বিউটিফিকেশন প্রকল্পের জন্য একাধিক দূতাবাস অসন্তোষ প্রকাশ করা ছাড়া নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে কোনও অভিযোগ তারা করেনি। আমরা কূটনীতিকদের কাছে গুলশান বিউটিফিকেশন প্রকল্পটি ব্যাখ্যা করেছি।
হলি আর্টিজানে হামলায় নিহত বিদেশি নাগরিকদের দেশগুলোর দূতাবাস কোনও অনুষ্ঠান আয়োজন করছে কিনা- এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়ে তারা আমাদের কোনও কিছু জানায়নি।’
/এসএসজেড/এসটি/
আরও পড়ুন:
অবিন্তা নেই, বেঁচে আছে তার স্বপ্ন
তুমি কোথায়, গুলশানে জঙ্গি হামলা!
দুর্বিসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন তারা
‘হয় আমি মরবো, না হয় ওদের মারবো’
গুলশানে এখনও কাটেনি আতঙ্কের রেশ
হলি আর্টিজান কেন বেছে নিয়েছিল জঙ্গিরা?
এসি রবিউলের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
অপারেশনের শুরুতে উত্তেজনায় কাঁপছিলাম
নিহত শাওনের মায়ের বিলাপে ভারি গুলশান
‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’ থেকে ‘সান ডেভিল’
৩ কারণে হলি আর্টিজান হামলার চার্জশিটে দেরি
পুলিশকে সেই রাতের কথা যা বলেছেন হাসনাত করিম
শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন এডিসি আব্দুল আহাদ
গুলি ও বোমার আঘাতেই মৃত্যু হয়েছিল হলি আর্টিজানের জঙ্গিদের
গুলশান হামলায় নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠান নিয়ে দূতাবাসগুলোয় সতর্কতা
হলি আর্টিজানের পলাতক জঙ্গিদের এক মাসের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে: মনিরুল
হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা রাজশাহীতে, কৌশল নির্ধারণ গাইবান্ধায়, চূড়ান্ত অপারেশন প্ল্যান ঢাকায়








