X
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

মানুষ কেন বিএনপিকে ভোট দেবে?

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১৩

প্রভাষ আমিন মানুষ কেন বিএনপিকে ভোট দেবে?: শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচার জন্য জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে: মির্জা ফখরুল।

এই প্রশ্ন আর উত্তরেই লুকিয়ে আছে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ শেষে ফিরে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেছিলেন, ‘বিএনপি জানে যে তাদের আর কোনও সম্ভাবনা নেই, সে কারণেই তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। একটা দল কীভাবে জিতবে? তার নেতৃত্ব কোথায়? একজন এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আরেকজন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে দেশান্তরি, সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাদের নেতৃত্ব দিয়েছে। তাহলে জনগণ কোন ভরসায় ওই দলকে ভোট দেবে। জনগণ কখন ভোট দেয়। তারা তো দেখে ক্ষমতায় যাবে কে। যদি এখন এটাই হয় যে একজন এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী, আরেকজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তারা তো ইলেকশনও করতে পারবে না। দেশের মানুষ বিএনপির সময়ে কী পেয়েছে আর আওয়ামী লীগের সময়ে কী পেয়েছে, সেটির তুলনা করতে হবে। জনগণ কাকে ভোট দেবে, আওয়ামী লীগের বাইরে আর কে আছে? কারা, কেন, কী কারণে, কোন সুখের স্বপ্নে, কোন আশায় বিএনপিকে ভোট দেবে?’

পরদিন মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচার জন্য জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে। তারা দেশের যে অবস্থা তৈরি করেছেন, তাতে মানুষের জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই। জীবিকারও কোনও নিরাপত্তা নেই। চারদিকে ভয় ও ত্রাস। সন্ত্রাস ছাড়া আর কোনও কিছুই নেই। মানুষ অতিষ্ঠ। দেশের মানুষ শাসক দলের ওপর অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। তাই তারা বিএনপিকে ভোট দেবে।’

যেখানে বাংলাদেশের মানুষ এক মেয়াদ পরপরই পরিবর্তনে অভ্যস্ত, সেখানে আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে একযুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছে। এই থাকার পেছনে আওয়ামী লীগের কৌশল বা অপকৌশল যেমন আছে, বিএনপির দায়ও কম নয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তারা আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়ের চেয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যেই তাদের মনোযোগ বেশি ছিল।

এটা মানতেই হবে, গত এক যুগে বাংলাদেশ বদলে গেছে। উন্নয়নকে মানদণ্ড ধরলে বাংলাদেশ এখন স্বর্ণযুগ পার করছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তো আমাদের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে গেছে। তবে শুধু পদ্মা সেতু নয়; গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, আয়– সব খাতেই চমকপ্রদ সব অর্জন আছে। কিন্তু এটাও মানতে হবে, উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দুর্নীতিও। বাংলাদেশে সড়ক বা সেতুতে নির্মাণ ব্যয় অনেক বেশি। শেয়ার বাজার, ব্যাংক এবং অর্থনৈতিক খাতে সুশাসনের প্রবল ঘাটতি আছে। হাজার কোটি টাকা পাচার বা লোপাটের ঘটনা আছে অনেক। যুবক, ডেসটিনি আর বিভিন্ন ই-কমার্স মিলে মানুষের ২১ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। সুশাসন থাকলে এগুলো ঠেকানো যেত।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মানুষকে স্বস্তি দিলেও দেশে আসলে রাজনীতিই নেই। গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সূচকে বাংলাদেশের অবনমন ঘটেছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে মানুষ পরিবর্তন চাইতেই পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানুষ কেন বিএনপিকে ভোট দেবে? আওয়ামী লীগকে বদলে বিএনপিকে আনলে কী এমন পরিবর্তন হবে? যদিও ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। তবু বিএনপির সর্বশেষ ৫ বছরের দুঃশাসনের কথা মানুষ নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল যেটা বলেছেন, সেখানেই লুকিয়ে আছে বিএনপির ব্যর্থতা। ‘আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে বাঁচতে মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে’– তার মানে বিএনপির নিজেদের কোনও অর্জন বা যোগ্যতা নেই। গত এক যুগে তারা জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেনি। নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারেনি। আর আওয়ামী লীগ থেকে বাঁচতে বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে বিএনপির হাত থেকে তাদের কে বাঁচাবে? ভোট দিয়ে ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে ঝাঁপ দেবে কেন মানুষ। ‘আওয়ামী লীগ থেকে বাঁচতে মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে’ এই নেতিবাচক ভোটের আশায় বসে না থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেদিন বিএনপিকে ভোট ইতিবাচক যুক্তি তুলে ধরতে পারবেন, অতীতে ভুলত্রুটি স্বীকার করে মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে পারবেন; সেদিন তাদের রাজনীতি নতুন করে শুরু হবে। আওয়ামী লীগ খারাপ। কিন্তু বিএনপিও তো ধোয়া তুলসি পাতা নয়। এক খারাপকে বিদায় করে আরেক খারাপকে আনার দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে।

বিএনপির আরেকটা বড় সংকট তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী– নেতৃত্ব। আগামী নির্বাচনে বিএনপির নেতা কে? এই প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াই তাদের নেতা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এখন বিএনপির কোনও পদে নেই। সরকারের অনুগ্রহে তিনি এখন কারাগারের বদলে নিজ বাসায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন বটে, তবে বিএনপি যেন তাকে ভুলেই গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার যা বয়স, শারীরিক যে অবস্থা তাতে তিনি আবার নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবেন, এটা বিশ্বাস করার লোক বিএনপিতেও খুব বেশি নেই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক মামলার দণ্ড নিয়ে লন্ডনে পালিয়ে আছেন। লন্ডন থেকেই তিনি দল চালাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে একটি দল চালানো যায়, কিন্তু সে দলকে আন্দোলন বা নির্বাচনে ক্ষমতায় আনা কঠিন। তাছাড়া দেশে-বিদেশে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। তাই আওয়ামী লীগ বাঁচতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হলে নেতৃত্ব আগে ঠিক করতে হবে।

একটা কথা বলা হয়, সিদ্ধান্তহীনতার চেয়ে ভুল সিদ্ধান্তও ভালো। এই কথাটা বিএনপির ক্ষেত্রেও খাটে। তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, সিদ্ধান্তহীনতা। একবার নির্বাচন বয়কট, একবার অংশগ্রহণ, একবার সংসদ বয়কট, একবার যোগদান, কখনও আন্দোলন, কখনও ঢিমেতালে, কখনও ড. কামালের সঙ্গে, কখনও জামায়াত- বিএনপি আসলে নিজেদের করণীয় ও ভবিষ্যৎ স্থির করতে পারছে না। আওয়ামী লীগের মতো বড় ও শক্তিশালী দলকে হটাতে হলে নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করতে, সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে হবে, নেতৃত্ব ঠিক করতে হবে। হাওয়াই কথা বলে লাভ হবে না।

আমরা গণতন্ত্র চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, যাতে মানুষ নিজেদের ভোট দিতে পারে, পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নিতে পারে। কিন্তু গণতন্ত্র মানে যেন শুধু এক দুঃশাসক বদলে আরেক দুঃশাসককে ক্ষমতায় আনা না হয়। গণতন্ত্রের পথ ধরে আসে সুশাসন, মানবাধিকার, টেকসই অগ্রগতি, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

 

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

একা নয়, ভালো থাকতে হবে সবাই মিলে

একা নয়, ভালো থাকতে হবে সবাই মিলে

মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা!

মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা!

‘আমি ক্রসফায়ারের পক্ষে’

‘আমি ক্রসফায়ারের পক্ষে’

‘খলের কখনও ছলের অভাব হয় না’

‘খলের কখনও ছলের অভাব হয় না’

অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৩০

মো. আখতার হোসেন জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতি বছর বিশ্বের অগণিত মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিভিন্ন দেশে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অভিবাসন তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেও অভিবাসনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আশির দশকের শুরু থেকেই দেশের কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় ও দারিদ্র্য বিমোচনে অভিবাসন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কোভিড-১৯ ও লকডাউনের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা ভর করেছে দেশের অভিবাসন খাতেও।  

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১,৭৫২.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্চ-মে মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও জুন থেকে এর ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা করোনাভাইরাসের অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ প্রায় মোট ১৬৮টি দেশে বসবাস করছেন। তারা মূলত বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং চুক্তি শেষে দেশে ফিরে আসেন।

প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের কোনও যথাযথ প্রক্রিয়া নেই বলে প্রতি বছর কতজন দেশে ফিরছেন এর সঠিক সংখ্যা বের করা বেশ কঠিন।

তবে, করোনা বৈশ্বিক মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অন্য যেকোনও বছরের তুলনায় গত বছর দেশে ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আইওএম’র হিসাব অনুসারে, গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে প্রায় চার লাখ প্রবাসী শ্রমিক কোভিড-১৯ এর কারণে দেশে ফেরত আসেন। কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে বেশিরভাগ দেশে লকডাউন ঘোষণা করায় এবং জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ অভিবাসী শ্রমিকদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ঋণদায়গ্রস্ত এবং দেশে তারা বেকার অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাই, বিদেশে যেমন তারা কষ্টে দিনযাপন করছিলেন, দেশে এসেও তারা পড়েছেন এক দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। আইওএম’র গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ফেরত আসা ৭৫ শতাংশ প্রবাস শ্রমিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বিদেশে ফেরত যেতে আগ্রহী।

সেক্ষেত্রে আমাদের দরকার প্রবাস ফেরত এই শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি কাঠামোভিত্তিক রি-স্কিলিং ও আপস্কিলিং প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা, যেটি পরবর্তীতে দক্ষতার বিচারের মাপকাঠিতে প্রবাসে চাকরি নিশ্চিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।

দক্ষতার বিচারে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত তিন রকমের অভিবাসন হয়– দক্ষ, স্বল্প দক্ষ এবং অদক্ষ। সাধারণত আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, পরিবহন, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাজ, স্বাস্থ্য সেবা, ঘরের কাজসহ স্বল্প দক্ষ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত থাকায় যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক অভিঘাতে তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। করোনায় বেশিরভাগ দেশে এসব কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী শ্রমিকই চাকরি হারিয়েছেন।

বিদেশ গমন করা অধিকাংশ শ্রমিকই কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে যান। অথচ ছয় মাস কিংবা এক বছরের একটি প্রশিক্ষণ বিদেশে তাদের পারিশ্রমিক দুই থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। তাই দেশে ফেরত আসা শ্রমিকরা যাতে ফের বিদেশ গমনের পর অধিক উপার্জন করতে পারেন, সেজন্য বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যেসব খাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন, সেসব খাতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, করোনা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের রূপ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভরতা ও উদ্ভাবন এবং নতুন দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কোভিড-১৯ যেমন কাজের ক্ষেত্রকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করেছে, একইসাথে অনেক নতুন সুযোগও সৃষ্টি করেছে। দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই ভাষাগত দক্ষতা ও প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় তারা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হন।

এসব ক্ষেত্রে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রম পরিস্থিতি আরও সুসংহত করা যেতে পারে। এছাড়া, অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, অটোমোবাইল ও ডিজিটাল খাতের কাজে বিদেশে অধিক চাহিদা থাকায়, তাদের এসব কাজ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করার ব্যাপারে নজর দেওয়া যেতে পারে। আমাদের নারী প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই বিদেশে ঘরের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের যদি ভারতের কেরালা, ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের মতো নার্সিং কোর্স করানো হয়, অথবা দক্ষভাবে গৃহপরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তা তাদের জন্য যেমন মঙ্গলজনক হবে, তেমনি আমাদের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোও সুনিশ্চিত হবে।

অভিবাসীদের জন্য বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার কয়েক ধাপে নগদ সহায়তাসহ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এর মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রবাস ফেরত শ্রমিকরা কাজে লাগিয়েছেন। প্রবাসীদের সহায়তার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনায় সুফল পেতে তাই নীতিনির্ধারকদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করা জরুরি।  আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কাকে উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব দেশ, বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ তাদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে এগিয়ে আসতে পারে।

করোনাকালীন ও পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। তাই, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি ও নতুন সম্ভাবনাময় বাজার অনুসন্ধান একসঙ্গে দুটোই চালিয়ে যেতে হবে। আর এটা করা সম্ভব হবে বহুমুখী অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই।

লেখক: সিনিয়র সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ‎গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

ভিয়েতনামে বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ ১৮

ভিয়েতনামে বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ ১৮

পঞ্চম ধাপে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ইউপিতে আ. লীগের প্রার্থী ঘোষণা

পঞ্চম ধাপে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ইউপিতে আ. লীগের প্রার্থী ঘোষণা

বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে: আতিকুল ইসলাম

বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে: আতিকুল ইসলাম

দুই ডোজের আওতায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ

দুই ডোজের আওতায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ

কারখানা থেকে ৩০ কোটি টাকার সার গায়েব

কারখানা থেকে ৩০ কোটি টাকার সার গায়েব

কালি বাড়ির সিসিটিভির হার্ডডিস্ক চুরি, সন্দেহের চোখ যেদিকে

কালি বাড়ির সিসিটিভির হার্ডডিস্ক চুরি, সন্দেহের চোখ যেদিকে

বাল্যশিক্ষায় কী শিখছে শিশু?

বাল্যশিক্ষায় কী শিখছে শিশু?

বিএনপি নেতারা আইনের তোয়াক্কা করেন না: ওবায়দুল কাদের

বিএনপি নেতারা আইনের তোয়াক্কা করেন না: ওবায়দুল কাদের

একসঙ্গে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ৫০ আ.লীগ নেতাকর্মী

একসঙ্গে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ৫০ আ.লীগ নেতাকর্মী

দুবাই চলে গেছেন ভারতে প্রথম ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ব্যক্তি

দুবাই চলে গেছেন ভারতে প্রথম ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ব্যক্তি

ঢামেকের সামনে থেকে অজ্ঞাতনামা বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার

ঢামেকের সামনে থেকে অজ্ঞাতনামা বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune