নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে দুই কর্মীর জীবিত উদ্ধারকে ‘অসাধারণ’ ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স। তার মতে, বিশ্বে এমন উদ্ধার অভিযান আগে হয়নি।
সিডনি থেকে অনলাইনে উদ্ধারকাজে পরামর্শ দেওয়া ডিক্স বলেন, এটি উদ্ধারকারী দলের বিশাল জয়। দুই জনকে জীবিত বের করে আনা অসাধারণ ঘটনা। ২০২৩ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডের সুড়ঙ্গ উদ্ধার অভিযানে ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিতি পান।
২৬ আগস্ট নেপালের রাসুয়া এলাকায় ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গটি আটকে যায়। এতে ভেতরে কর্মীরা আটকা পড়েন। এরপর নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধারকারীরা পাথর ও কাদা সরিয়ে তাদের খুঁজতে থাকেন।
ডিক্স বলেন, এই উদ্ধার অভিযান বিশ্বে প্রথম। একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার পর একসঙ্গে কয়েকটি সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালানোর ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। বিশ্বে এমন কাজ আগে হয়নি।
তার ধারণা, বন্যার পানি বাড়তে থাকায় কর্মীরা সুড়ঙ্গ দিয়ে পাহাড়ের দিকে ছুটে যান। তাদের পেছনে ছিল পানি, পাথর, পলি ও কাদা। একপর্যায়ে পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের পথ বন্ধ করে দেয়। এতে কর্মীরা আটকা পড়লেও একই সঙ্গে তারা পানিতে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যান।
ডিক্স বলেন, গাড়ির আকারের পাথর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরাতে হয়েছে। সুড়ঙ্গ উদ্ধারে এমন কাজ আমরা আগে কখনও করিনি।
উদ্ধার হওয়া দুই কর্মী ১০ দিন আলোবিহীন অবস্থায় ভেতরে থাকা পানি ও খাবারের ওপর নির্ভর করে বেঁচে ছিলেন। ডিক্স বলেন, বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। এর বড় অংশই বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর করে।
তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে এমন কিছু এলাকা চিহ্নিত করেছিলেন, যেখানে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে। দুই কর্মী জীবিত উদ্ধারের পর সেই ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।
ডিক্স বলেন, এখন আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে নিচে এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে। এখন আমরা আরও মানুষকে খুঁজতে পারি।
এই সুড়ঙ্গে আরও অন্তত ৩৫ জন কর্মী আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নদী উপত্যকার ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনও প্রায় ১৫০ কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি

যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ
হরমুজে ইরানের বিরুদ্ধে সেনা পাঠানোর পথে দক্ষিণ কোরিয়া







