এখন আমাদের পালা

জাফর সোবহান
২৬ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩২আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৯

জাফর সোবহান ১৯৭১ সালের পরে আমাদের মধ্যে যাদের জন্ম– বাংলাদেশ প্রজন্ম, তাদের কাছে ১৯৭১ সাল যেন এক পৌরাণিক কালপর্ব। আর একাত্তর প্রজন্ম, যারা আমাদেরকে মুক্তি এনে দিয়েছেন, স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, আলাদা প্রজন্মের অনুভূতি তৈরি করে দিয়েছেন, সেই প্রজন্মের অস্তিত্ব যেন আমাদের স্বাধীন সত্তাজুড়ে বিদ্যমান।
যুদ্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ত্যাগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রজন্মকে ‘গ্রেটেস্ট জেনারেশন’ বা ‘মহান প্রজন্ম’ হিসেবে ডাকা হয়ে থাকে। তারা যুক্তরাষ্ট্র সৃষ্টিতে কী ভূমিকা রেখেছে তা আজ আমরা জানি। যুদ্ধের ময়দানে অবিচল থেকে, যন্ত্রণা সহ্য করে এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তারা দেশে ফিরেছেন এবং আধুনিক আমেরিকার ভিত্তি তৈরি করেছেন।
বাংলাদেশিদের কাছেও ১৯৭১-এর প্রজন্ম সবসময় এবং চিরদিন মহান হয়ে থাকবে। তাদের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দিয়ে যাওয়া শান্তি আর সম্ভাবনার মধ্যে আমরা যারা জন্ম নেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি, তাদের সেই উপহার ধারণ করতে হবে।
১৬ ডিসেম্বর যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অবদান শেষ হয়ে যায়নি। অনেকেই যুক্তি দেখাতে পারেন— নতুন রাষ্ট্র গঠন, ৯ মাসের যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ এবং দুই শতকের অবহেলা ও নিপীড়ন থেকে নতুন করে বাংলাদেশকে তৈরি করাটাও যুদ্ধের চেয়ে কম কিছু ছিল না।

বাংলাদেশের জন্মের মাত্র ১০ মাস আগে ১৯৭০ সালে আমার জন্ম। ওই গৌরবের সময়ে পাকিস্তানি সেনাদের সামনাসামনি হওয়ার একটি মুহূর্ত রয়েছে আমার। দিনটি ছিল ২৭ মার্চ। ওইদিন সকালে বাবাকে গ্রেফতারের জন্য আমাদের বাড়িতে এসেছিল পাকিস্তানি সেনারা।

যখন আমি আমার বাবার মতো কারও সঙ্গে কিংবা ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ওই প্রজন্মের অন্য কারও সঙ্গে কথা বলি, তখন বুঝতে একটুও কষ্ট হয় না যে আমাদের বাকি সবাইকে বাংলাদেশি ওই প্রজন্মটি কত বিশাল অর্জন এনে দিয়েছে। আমাদের এ জাতি গঠনের পেছনে কত রক্ত ঝরেছে, বীরত্ব গাঁথা রয়েছে; তাও চোখের সামনে প্রতিফলিত হতে থাকে।  

সাড়ে চার দশক পেরিয়ে গেছে। ১৯৭১ পরবর্তী প্রজন্মের সময় হয়েছে হাতে মশাল নিয়ে মাহাত্ম্যের দিকে জাতির দীর্ঘ যাত্রা বজায় রাখার। পুরনো প্রজন্ম এখন গোধূলি লগ্নে। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে গেছেন।   আমাদেরকে একটি গর্বিত ও স্বাধীন জাতির স্বীকৃতি এনে দিয়েছেন তারা। সেই জাতি, যারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে জায়গা করে নিতে পারে, বিশ্বের সব জাতির সমঅংশীদার হতে পারে। 

জাতি গঠনের জন্য মোদ্দা কাজটি শেষ হয়ে গেছে হয়তো, কিন্তু পরবর্তী ধাপে জাতি হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের কাজটিও কম কষ্টসাধ্য ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের সবাইকে ভূমিকা পালন করতে হবে। এই ভূমিকা রাখার মধ্য দিয়ে আমরা ১৯৭১ সালে অর্জিত গৌরবের যোগ্য উত্তরসূরী হতে পারব। এর মধ্য দিয়ে আমাদের শহীদদের স্মৃতিকে গৌরবান্বিত করতে পারব।       

৪৭ বছর আগের এই দিনে গোটা বাংলাদেশি প্রজন্ম এক হয়ে জেগে উঠেছিল এবং মুক্তির দাবি তোলার সাহস দেখিয়েছিল। এখন আমাদের পালা। ভবিষ্যতটা আমাদের। আসুন, এই ২৬ মার্চে আমরা নক্ষত্রকে ছোঁয়ার চেষ্টা করি, স্বপ্ন দেখার সাহস করি, সাহস দেখাই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের।

লেখক: সম্পাদক, ঢাকা ট্রিবিউন

/এফইউ/এএ/টিআর/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
একটি ফ্লাইট কেন কখনও নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছে যায়
একটি ফ্লাইট কেন কখনও নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছে যায়
বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি পদে নিয়োগে যেসব প্রস্তুতি জরুরি
বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি পদে নিয়োগে যেসব প্রস্তুতি জরুরি
আজ থেকে বঙ্গভবনে অফিস করবেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
আজ থেকে বঙ্গভবনে অফিস করবেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৫ একর ফসল নষ্ট চীনা কৃষকের 
এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৫ একর ফসল নষ্ট চীনা কৃষকের 
সর্বশেষসর্বাধিক