X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

গ্রামাঞ্চলে টিকা কার্যক্রম: কিছু সুপারিশ

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ১৮:৫০

ড. প্রণব কুমার পান্ডে দেড় বছরের বেশি চলমান কোভিড-১৯ অতিমারির ভয়াল থাবায় বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ বিপর্যস্ত। এই ভাইরাসের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্য খাতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অর্থনীতি ও শিক্ষাসহ প্রায় সব সেক্টর এর প্রভাবে একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং ডাক্তারদের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার পরেও এখন পর্যন্ত এই ভয়াল ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সুনির্দিষ্ট ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। প্রায় এক বছর প্রচেষ্টার ফলে কয়েকটি কোম্পানির ভ্যাকসিন বাজারে এসেছে। তবে কোনও কোম্পানিই শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারেনি এই মর্মে যে ভ্যাকসিন গ্রহণের পরে মানুষ এই ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত হবে না।

আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি ভ্যাকসিনের দুই ডোজ নেওয়ার পরেও বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ওপর প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে যে ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একদিকে যেমন কম, ঠিক তেমনই আক্রান্ত হলেও তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি এবং আক্রান্ত হওয়ার পরের জটিলতা অনেক কম। ফলে, পৃথিবীব্যাপী জনগণকে রক্ষা করার জন্য এই মুহূর্তে যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটি হচ্ছে যত বেশি সম্ভব জনগণকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা।

তবে পৃথিবীব্যাপী জনগোষ্ঠীর চাহিদার তুলনায় এই কোম্পানিগুলোর টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা এখনও অনেক কম। যে কয়েকটি কোম্পানি টিকা বাজারে এনেছে তারা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম উৎপাদন করছে এখন পর্যন্ত। এমনকি টিকার বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো তাদের শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে উৎপাদিত টিকার বেশিরভাগ অংশই নিজেদের জনগণের জন্য ব্যবহার করেছে, যা দরিদ্র দেশগুলোকে এক ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে বাধ্য করেছে। তবে এই বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে কোভ্যাক্স-এর মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হলেও এর অধীনে এখন পর্যন্ত খুব বেশি দেশ  টিকা পায়নি।

ভ্যাকসিনের স্বল্পতা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও টিকা প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার অনেক আগে থেকেই এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। টিকা বাজারজাতকরণ শুরুর সময় থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো টিকা সংগ্রহের কাজ চালিয়ে গেছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি সম্পাদিত হলেও ভারত সরকারের ভ্যাকসিন রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে মাত্র সাত মিলিয়ন ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে এই পর্যন্ত।  এছাড়াও ভারত সরকারের উপহার হিসাবে ৩.১ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এই ভ্যাকসিন দিয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রম এই বছরের প্রথম দিকে শুরু হলেও ভ্যাকসিন রফতানির ক্ষেত্রে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে গণটিকা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। সে সময় অনেকেই মনে করেছিল যে ভারত ছাড়া বাংলাদেশ সরকার অন্যান্য উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হবে। ফলে এই টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

কিন্তু সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। চীনের সিনোফার্ম ও রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি, মডার্না, ফাইজার ও জনসন অ্যান্ড জনসনসহ প্রায় সব উৎপাদনকারী সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা ইতোমধ্যে সিনোফার্ম থেকে বেশ ভালো সংখ্যক টিকা পেতে সক্ষম হয়েছি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোভাক্স-এর আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত ৫.৫ মিলিয়ন ডোজ মডার্নার  এবং ১.৬ লক্ষ ডোজ ফাইজারের টিকা। এছাড়াও জাপানের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কোভ্যাক্সের আওতায় বেশ কিছু অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসেছে। এই টিকা আসার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সর্বোপরি এই টিকার ওপরে ভিত্তি করে সরকার খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকা প্রদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত  টিকা চলে আসবে। এর মাধ্যমে দেশের অন্তত ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দিতে সক্ষম হবে সরকার।

তবে বাংলাদেশের টিকা প্রদান প্রক্রিয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে এ কথা বলা যায় যে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে শহর এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এক ধরনের বৈষম্য রয়েছে। টিকা গ্রহীতার সংখ্যার হিসেবে শহরের মানুষ গ্রামের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে। সেই ক্ষেত্রে গ্রামের জনগণ এখন পর্যন্ত টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এই পিছিয়ে থাকার বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

প্রথমত, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এক ধরনের অনীহা কাজ করছে। অনেকের ধারণা এই টিকা নিলে তারা বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হবেন। আবার অনেকে মনে করেন যে টিকা গ্রহণ না করেও তারা সুস্থ থাকতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, টিকা গ্রহণ করতে হলে আগে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হতো, যা ছিল গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের জন্য এক  বিড়ম্বনা। ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ করেছি যে টিকা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে অনেকেই টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে উদাসীনতা প্রদর্শন করেন। তাছাড়া অনেকে এই নিবন্ধন না করতে পেরে বিভিন্ন দোকানে গিয়ে অধিক পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে নিবন্ধন করছেন।

অনেকের মোবাইল না থাকার কারণে নিবন্ধন করার পরে যে মেসেজটি মোবাইলে আসে সেখানেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।  ফলে, অনেকে জানতেই পারছেন না যে কবে তার টিকা নেওয়ার তারিখ ছিল। ফলে সার্বিকভাবে দেশের বড় অংশের মানুষ এখনও টিকা গ্রহণ থেকে বিরত থেকেছে, কিংবা টিকা গ্রহণের ব্যাপারে তাদের মধ্যে উদাসীনতা রয়েছে।

আমরা ইতোমধ্যে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক  সংক্রমণের খবর পাচ্ছি। কোভিডের প্রথম ঢেউয়ে সংক্রমণ শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের জনগণকে আরও বেশি উৎসাহিত করে কীভাবে টিকার আওতায় নিয়ে আসা যায় সে বিষয়টি ভাবা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
গ্রামাঞ্চলের মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে এসে গ্রাম এবং শহরাঞ্চলের টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে বৈষম্য কমানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যদিও ৭ আগস্ট থেকে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়সহ দেশব্যাপী শুরু হয়েছে গণটিকা কার্যক্রম। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ক্যাম্পেইন চালিয়ে অধিক মানুষকে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। ছয় দিনে পর্যায়ক্রমে টিকা পাবেন গ্রাম, শহর ও দুর্গম এলাকার মানুষ। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরও টিকা দেওয়া হবে।

ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে যত বেশি মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তটি প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিবন্ধন ছাড়াই অন দ্য স্পট নিবন্ধনের মাধ্যমে জনগণকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে টিকা নেবার ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি হবে। তবে ক্যাম্পেইন পরবর্তী সময়ে টিকাদানের উদ্যোগের সফলতার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।  

প্রথম যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সেটি হলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই টিকা প্রদান কার্যক্রমের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা। আমরা ইতোমধ্যে জানি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের কমিউনিটি ক্লিনিক বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে অন দ্য স্পট নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। যেহেতু অনেকের মোবাইল ফোন থাকে না কিংবা অনলাইনে নিবন্ধন করা দুরূহ বলে মনে করছেন, ফলে কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবহার করে সে এলাকার জনগণের নিবন্ধন কাজটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে টিকা প্রদান করা সম্ভব। তাছাড়া আমাদের ইপিআই কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় জনগণ বেশি উৎসাহিত এবং প্রায় সব জনগণকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে জনগণকে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করতে হবে।  প্রয়োজনে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবন্ধন করে নিবন্ধন কার্ড পৌঁছে দেওয়া গেলে টিকা কেন্দ্র কিংবা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্থাপিত টিকা কেন্দ্রগুলোতে জনগণ গিয়ে খুব দ্রুতই টিকা গ্রহণ করতে পারবে। জনগণকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে টিকা নিবন্ধনের এবং টিকা কার্ড প্রিন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে জনগণ উদ্বুদ্ধ হবে এবং টিকা নিতে এগিয়ে আসবে।
টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে শহর এবং গ্রামাঞ্চলের ব্যবধান যদি দ্রুত কমানোর না যায় তবে সরকারের এই মহতী উদ্যোগের সফলতা পেতে সময় লাগবে। আমরা এটাও জানি যে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত টিকা দেশে এসে পৌঁছায়নি। তবে এখনই সময় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের। দেশে যখন পর্যাপ্ত টিকা এসে যাবে তখন স্থানীয় পর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইপিআই কার্যক্রমের  মতো কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদানের মাধ্যমে জনগণকে একদিকে যেমন করোনা অতিমারির ছোবল থেকে রক্ষা করা যাবে, অন্যদিকে টিকা কার্যক্রম বাস্তবায়নের সরকারের মহৎ উদ্যোগ সফল হবে।

ফলে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত অতি দ্রুত গ্রাম এবং শহরাঞ্চলের মধ্যে ব্যবধানের বিষয়টি উপলব্ধি করে এই কার্যক্রমগুলো হাতে নেওয়া এবং টিকা কর্মসূচির উদ্দেশ্য সফল করা। যদি এটা করা যায় তবে আমরা অতি দ্রুত করোনার ভয়াল থাবা থেকে জনগণের স্বাস্থ্যকে অন্তত কিছুটা সময়ের জন্য হলেও রক্ষা করতে পারবো।


লেখক: অধ্যাপক, লোক-প্রশাসন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

গৃহবধূর ভিডিও ধারণ করে ধর্ষণ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূর ভিডিও ধারণ করে ধর্ষণ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেফতার
৯ ব্যাটারের শূন্য রানে লজ্জার রেকর্ড বাংলাদেশের
৯ ব্যাটারের শূন্য রানে লজ্জার রেকর্ড বাংলাদেশের
জোটের শরিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করলো বিএনপি
জোটের শরিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করলো বিএনপি
নতুন রূপে ক্লেমন ড্রিংক
নতুন রূপে ক্লেমন ড্রিংক
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ