জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করবে তৃণমূলের জনসংগঠন 

ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রকৃত উন্নয়নের মাপকাঠি কী? এর উত্তর কেবল মাথাপিছু আয়ের গাণিতিক সূচকে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। উন্নয়নের সবচেয়ে বড় মানদণ্ড হলো—সাধারণ নাগরিকের আত্মমর্যাদা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা। রাষ্ট্রকাঠামোয় নাগরিক যদি কেবল নিষ্ক্রিয় ভোক্তা বা করুণার পাত্র হয়ে থাকে, তবে আইনের শাসন ও সুশাসন কখনোই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।

আমাদের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিককে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোজন যোজন ব্যবধান আজও। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে নাগরিকের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করার যে প্রক্রিয়া এবং কাঠামো, তা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে তৃণমূলের নিজস্ব সংগঠন বা সমাজভিত্তিক সংগঠন—যাকে আমরা সহজ ভাষায় বলতে পারি ‘জনসংগঠন’।

জবাবদিহি ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনও নির্দেশ নয়; এটি অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। কিন্তু একাকী একজন বিচ্ছিন্ন মানুষের পক্ষে যখন কোনও স্থানীয় প্রশাসন বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না, তখনই একটি সংগঠিত জনসংগঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। একটি সত্যিকারের জনসংগঠন কোনও রাজনৈতিক দল কিংবা এনজিওর শাখা কার্যালয় নয়; এটি হলো একটি সুনির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্থানীয় মানুষেরাই তাদের সমস্যা চিহ্নিত করেন, নিজেদের সমাধান নিজেরা খোঁজেন এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করেন।

সংগঠনের আড়ালে সুবিধাবাদীদের দাপট

আমাদের দেশে আজ গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত অসংখ্য সাইনবোর্ডসর্বস্ব সংগঠনের মেলা বসেছে। স্থানীয় কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা সুবিধাভোগী কিংবা সাময়িক কোনও প্রকল্পের অর্থ ছাড় করানোর উদ্দেশ্যে এগুলো রাতারাতি গড়ে ওঠে। এগুলো নিজেদের তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করলেও আদতে ভুয়া ও মেকি সংগঠন। এদের মূল কাজ হলো— প্রকল্প শেষ হলে হাওয়া হয়ে যাওয়া, কিংবা স্থানীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধার করা।

এই ভুয়া সংগঠনগুলো নাগরিকদের অধিকার আদায়ের বদলে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের স্তাবকতা করে নিজেদের আখের গোছায়। এরা জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা তো দূরের কথা, বরং সমাজে একধরনের সুবিধাবাদী কাঠামোর জন্ম দেয়, যা সুশাসনের পথে প্রধান বাধা।

একটি খাঁটি জনসংগঠনের রূপ কখনোই এমন হতে পারে না। সত্যিকারের জনসংগঠনের জন্ম হয় মানুষের ভেতর থেকে, কোনও কৃত্রিম অনুদানের প্রলোভন থেকে নয়। এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো, এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। এতে গ্রামের কৃষক, খেটে খাওয়া দিনমজুর, নারী, তরুণ, প্রতিবন্ধী কিংবা প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষের সমান কণ্ঠস্বর থাকে। কোনও মেকি সংগঠন যদি আপনার এলাকায় সাধারণ মানুষের ভয়ভীতি দূর করতে না পারে, তবে সেটিকে অবিলম্বে বর্জন করতে হবে। নাগরিকদের এখন সময় এসেছে— এসব নামসর্বস্ব ভুয়া সংগঠনগুলোকে চিহ্নিত করে বয়কট করার এবং নিজেদের উদ্যোগে সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ জনসংগঠন গড়ে তোলার।

নাগরিক সমাজ ও তৃণমূল জনসংগঠন

সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নাগরিক সমাজের সংগঠন (সিএসও) এবং তৃণমূলের জনসংগঠনের (সিবিও) পার্থক্য ও সম্পর্কটি গভীরভাবে বোঝা প্রয়োজন। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো মূলত শিক্ষিত পেশাজীবী, গবেষক, আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের নিয়ে গড়ে ওঠে। তারা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করেন, বড় মাপের গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে অবদান রাখেন এবং তাদের কাজের প্রকৃতি বেশ প্রাতিষ্ঠানিক। অপরদিকে, তৃণমূলের জনসংগঠন গঠিত হয় একেবারে প্রান্তিক মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণে। তাদের কোনও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিসঘরের প্রয়োজন হয় না; তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় পাড়ার বটতলায়, ক্লাবের ঘরে কিংবা স্থানীয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।

নাগরিক সমাজ যদি হয় সুশাসনের আন্দোলনের লড়াইয়ে ‘কৌশলগত উপদেষ্টা বা বর্ম’, তবে তৃণমূলের এই জনসংগঠনগুলো হলো সেই লড়াইয়ের ‘মূল চালিকাশক্তি বা স্পন্দন’। একটি দক্ষ নাগরিক সমাজের সংগঠন কখনোই তৃণমূলের জনসংগঠনকে নিজের অধীনস্থ বা নিয়ন্ত্রিত সংস্থা হিসেবে দেখতে পারে না। সিএসও-র মূল ভূমিকা হওয়া উচিত অনুঘটকের— তারা তৃণমূলের জনসংগঠনকে আইনি জ্ঞান দেবে, তথ্য অধিকার আইনের সঠিক ব্যবহারের পথ দেখাবে এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার সেতু হিসেবে কাজ করবে। যখন একটি নির্ভেজাল জনসংগঠন এবং একটি দূরদর্শী নাগরিক সমাজ একসঙ্গে হাত মেলায়, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রশাসনিক ও স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ধাপে বড় ধরনের টেকসই রূপান্তর ঘটে।

স্থানীয় সরকারে জবাবদিহির জাদুকরি পরিবর্তন

আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, একটি স্থানীয় জনসংগঠন কি সত্যিই রাষ্ট্রযন্ত্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে? আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গবেষণাগুলো স্পষ্ট ভাষায় বলছে—হ্যাঁ, পারে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত ‘রোল অব কমিউনিটি-বেজড অর্গানাইজেশনস ইন প্রমোটিং ডেমোক্রেটিক লোকাল গভর্ন্যান্স অ্যাট দ্য গ্রাসরুটস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি উল্লেখযোগ্য গবেষণায় ড. ভুঁইয়া ও তার সহকর্মীরা নীলফামারীর ‘কচুকাতা গ্রাম উন্নয়ন পরিষদ’-এর বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

সেই গবেষণায় দেখা যায়, সম্পূর্ণ নারী-নেতৃত্বাধীন এই জনসংগঠনটির ধারাবাহিক সামাজিক তদারকি ও চাপের কারণে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভাগুলোতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি পাঁচ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছিল। গ্রাম আদালত ও ইউপির স্থায়ী কমিটিগুলোতে সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা বণ্টন থেকে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে দূর হয়েছিল।

একইভাবে, প্রখ্যাত গবেষক চৌধুরী ও পাণ্ডে তাদের ‘স্ট্রেংদেনিং লোকাল গভর্ন্যান্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় প্রমাণ দেখিয়েছেন যে, সামাজিক অডিট, গণশুনানি কিংবা নাগরিক সনদের মতো জবাবদিহির হাতিয়ারগুলো তখনই সফল হয়, যখন সেখানে কোনও নিবেদিতপ্রাণ জনসংগঠন যুক্ত থাকে। কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির পক্ষে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব বা স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর কাজের হিসাব নেওয়া কঠিন, কিন্তু একটি সুসংগঠিত জনসংগঠনের মুখোমুখি হতে যেকোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাধ্য হন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি কমে এবং সরকারি বরাদ্দের সুফল সত্যিকারের অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

জনসংগঠনের পথনকশা

একটি সত্যিকারের জনসংগঠন কীভাবে গঠিত ও পরিচালিত হওয়া উচিত, তা সিএসও ও উন্নয়ন কর্মীদের খুব সুনির্দিষ্টভাবে বুঝতে হবে। এটি কোনও সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ বা কোনও তহবিল বিতরণের কাজ নয়— এটি একটি অবিরাম সামাজিক সাধনা।

প্রথমত, জনসংগঠনের সূচনা হতে হবে এলাকার সুনির্দিষ্ট সাধারণ সংকট বা চাহিদা থেকে। সেটা হতে পারে বেহাল রাস্তা মেরামত, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে রোধ কিংবা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ। এলাকার মানুষকে একত্র করে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রথম কমিটি বা পরিষদ গঠন করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, পরিচালনা প্রক্রিয়ায় শতভাগ রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।

নির্দিষ্ট মেয়াদের পর নেতৃত্ব রদবদল বাধ্যতামূলক হতে হবে, যাতে কোনও একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এটিকে ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত করতে না পারে। সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নারী ও তরুণদের মতামত অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তৃতীয়ত, স্থায়িত্বের মূল শর্ত হলো অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা। যেকোনও সংগঠন যখন বাইরের দাতা সংস্থা বা কোনও ধনী ব্যক্তির তহবিলের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখনই সেটি তার স্বাধীনতা ও সাহসিকতা হারিয়ে ফেলে। একটি আদর্শ জনসংগঠন পরিচালিত হবে তার সদস্যদের নিজস্ব ক্ষুদ্র চাঁদা, এক মুঠো চালের সঞ্চয় কিংবা স্থানীয় স্বেচ্ছাশ্রমের শক্তিতে। নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয় বলেই নেতারা সাধারণ সদস্যদের কাছে প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে বাধ্য

থাকেন। এই অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতাই একটি সংগঠনকে সর্বজনীন আস্থা এনে দেয়।

রাষ্ট্রের অংশীজন ও আগামীর বাংলাদেশ

রাষ্ট্রের উন্নয়ন সহযোগীদের, উন্নয়ন অংশীদারদের এবং গণমাধ্যমকে বুঝতে হবে যে, তৃণমূলের মানুষকে বাদ দিয়ে ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া যেকোনও উন্নয়ন প্রকল্পই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই জনসংগঠনগুলোকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সহযোগী মনে করা। কারণ, একটি সচেতন জনসংগঠন যখন স্থানীয় উন্নয়নকাজের মান তদারকি করে, তখন বস্তুত জনপ্রতিনিধিদের কাজের মান ও ভাবমূর্তিই উন্নত হয়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত সংবেদনশীল। গণমাধ্যমকে শহরের রাজনীতি ও উচ্চবিত্তের খবরের বাইরে গিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা এসব জনসংগঠনের লড়াই ও সাফল্যের গল্পগুলো সাহসের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। একটি দূরবর্তী গ্রামে যখন একটি জনসংগঠন তার আইনি অধিকার আদায়ে সফল হয়, গণমাধ্যমে সেই সংবাদ প্রকাশিত হলে তা সারাদেশের কোটি কোটি মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।

সুশাসন কিংবা আইনের শাসন কোনও অলৌকিক বিষয় নয়— যা আকাশ থেকে হঠাৎ ঝরে পড়বে। আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের অধিকার আমাদেরই বুঝে নিতে হবে। নীয় রাজনৈতিক প্রভাব বা সুবিধাবাদীদের তৈরি ভুয়া সংগঠনের ছায়া থেকে এখনই বেরিয়ে আসতে হবে। আপনার গ্রামে, আপনার পাড়ায় বা মহল্লায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আজই একটি প্রকৃত, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন জনসংগঠন গড়ে তুলুন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শান্ত ও দৃঢ় কণ্ঠে প্রশ্ন করতে শিখুন। নাগরিকের এই অর্থবহ ও সম্মিলিত সততার কাছে রাষ্ট্র বাধ্য হবে স্বচ্ছ হতে।

লেখক: একজন উন্নয়নকর্মী

/এপিএইচ/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ব্যর্থতাও উদ্‌যাপনের! ব্যর্থ হয়েছেন? অভিনন্দন, আজ আপনারই দিন
ব্যর্থতাও উদ্‌যাপনের! ব্যর্থ হয়েছেন? অভিনন্দন, আজ আপনারই দিন
মাদারীপুরে বিচারকের বাসভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, নেপথ্যে কারা?
মাদারীপুরে বিচারকের বাসভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, নেপথ্যে কারা?
ব্যাংক এশিয়ায় নিয়োগ, আবেদন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত
ব্যাংক এশিয়ায় নিয়োগ, আবেদন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে স্বর্ণ-আইফোনসহ প্রায় দেড় কোটির মালামাল জব্দ
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে স্বর্ণ-আইফোনসহ প্রায় দেড় কোটির মালামাল জব্দ
সর্বশেষ সর্বাধিক