অনলাইন মিডিয়ার শক্তি

Send
জুলফিকার রাসেল
প্রকাশিত : ২৩:৪৩, মে ১২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২১, নভেম্বর ২৪, ২০১৬

জুলফিকার রাসেলফেসবুক সম্প্রতি ‘লাইভ’ নামে একটা ফিচার চালু করেছে। যদিও সবার জন্য এখনও ফিচারটি উন্মুক্ত হয়নি। ফেসবুকের এই ‘লাইভ’ ফিচারটি যদি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, তবে অবস্থাটা কী দাঁড়াবে? আপনার পাশে কোথাও ছিনতাই হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে আপনি মোবাইলে সেই ভিডিও লাইভ সম্প্রচার শুরু করে দেবেন। আপনার ফেসবুকের বন্ধুরা মুহূর্তেই ছড়িয়ে দিতে শুরু করবেন সেই ভিডিও। যেখানে সিসি ফুটেজেরও দরকার হবে না। সহজেই ধরা যাবে অপরাধীদের। অর্থাৎ তথ্য সরবরাহের সুযোগটিও চলে আসছে মানুষের হাতের নাগালে।
সেদিন খুব দূরে নয়, যখন পাঠকই হবেন সংবাদমাধ্যমের আসল সোর্স, যেটি এখন বিশ্বব্যাপী ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বলে পরিচিত। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সিটিজেন জার্নালিজমে কোনও গণমাধ্যম খুব বেশি অবদান রাখতে পারছে বলে মনে হয় না। পাঠক একটা লেখা পাঠান, সেটাই প্রকাশ করে আমরা সিটিজেন জার্নালিজম নাম দিচ্ছি। বিষয়টা এমন হওয়ার কথা ছিল না। হওয়ার কথা ছিল—সংবাদের সব শর্ত পূরণ করে একজন নাগরিকই তার সমস্যা তুলে ধরবেন। হয়তো সেটাকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ করতে সাহায্য করবেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে আমি সবসময়ই পাঠকের প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছি। এর ফেসবুক পেইজে যত প্রতিক্রিয়া আসে তার সবগুলোর জবাব নিজেই দেওয়ার চেষ্টা করি। সেখানে পাঠকরা ক্ষোভ জানান, কোনও সংবাদ নিয়ে নিজের আপত্তি জানান, প্রশংসা করেন কিংবা নতুন রিপোর্টের আইডিয়া দেন। তাদের সেই অভিমতে আমিও অংশ নিই। এতে একজন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নিজের জবাবদিহির জায়গাটাও তৈরি হয়ে যাচ্ছে। যেটা আগে গণমাধ্যমের জন্য অসম্ভব বিষয় ছিল। সম্পাদক ছিলেন পাঠকের ধরাছোঁয়ার বাইরে। জবাবদিহি তৈরি হওয়া তো দূরের কথা।

আরও পড়তে পারেন:  দুই বছর পূর্তি তিন বছরে পা 



অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর মূল শক্তি মনে হয় এটাকেই বলা যায়। আমরা যে গণতন্ত্রের চর্চার কথা বলি, সেখানে এই জবাবদিহির সংস্কৃতি অন্যতম হাতিয়ার। আর যেসব নিয়ে এতদিন কথা হয়েছে, সেগুলোকে আসলে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের শক্তি বলা চলে না, বলা যায় সৌন্দর্য। যেমন—দ্রুত সংবাদ পরিবেশন করা, মিনিটে মিনিটে একটি সংবাদের আপডেট দেওয়া, এমনকি কোনও ভুল থাকলে দ্রুত সেটাকে শুধরে নেওয়া, যা কাগজের পত্রিকায় অসম্ভব ছিল, তা অনলাইনে খুব সহজেই করা যায়।
একটা কথা মাথায় রাখতে হবে—বাংলা ট্রিবিউন সবসময় গুরুত্ব দিয়েছে দ্রুত সংবাদ উপস্থাপন করতে গিয়ে যেন ভুল কোনও তথ্য না দিয়ে বসে। পাঠককে কখনও আমরা বিভ্রান্ত করতে চাই না। এ জন্য সহকর্মীদের সবসময় বলি, প্রয়োজনে একটু দেরি হোক তবু পাঠক যেন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য না পায়। সংবাদমাধ্যম শুধু তথ্য সরবরাহ করবে তা নয়, সংবাদমাধ্যমের আসল কাজ তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ওই তথ্যের গভীরে যাওয়া এবং ঘটনার পেছনের ঘটনা তুলে নিয়ে আসা, যা জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়তে পারেন: বর্তমানের অনলাইন ভবিষ্যতের বাতিঘর



বাংলা ট্রিবিউন তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সেই চেষ্টাই করছে। শুধু ইভেন্ট-বেইজড সাংবাদিকতা নয়; বিশেষ প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চর্চা করতেই পথ চলছে। যেখানে পক্ষ-বিপক্ষ সবার মতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা হয়। আমরা বড় বড় ইস্যুতে জরিপ করছি সাধারণ মানুষের বক্তব্য কর্তাব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এই জরিপগুলো তো অংশগ্রহণমূলক সাংবাদিকতারই একটি উদাহরণ হতে পারে।
আমরা একটি শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম হিসেবে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য পাঠকের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে চাই। পাঠকই হবে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের আসল শক্তি। পত্রিকাটি তার দুই বছর পার করেছে। সামনের বছরগুলোতে পাঠকদের নিয়েই সবসময় সজাগ থাকতে চায় বাংলা ট্রিবিউন।
লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বাংলা ট্রিবিউন

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ