ভারতের নতুন টাকার নোট ও হিন্দি-দিল্লি আধিপত্যবাদ

Send
গর্গ চট্টোপাধ্যায়
প্রকাশিত : ১২:৪৫, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৭, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৬

গর্গ চট্টোপাধ্যায়ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোট চালু পরপরেই এই নতুন নোটের নানা বৈশিষ্ট্যকে বেআইনি বলে অভিযোগ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্টে। বিচারপতি সে মামলা গ্রহণ করেছেন এবং প্রাথমিক শুনানিতে সরকারপক্ষের এই বক্তব্য যে দেবনাগরীতে সংখ্যা আসলে সংখ্যা নয়, নকশা মাত্র, এ হেন সাফাইতে সন্তুষ্ট হননি। সরকারপক্ষ আরও সময় চেয়েছে। আগের ৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ফলে যে রাষ্ট্রব্যাপী ব্যাপক আর্থিক অস্থিতি তৈরি হয়েছে, এই নতুন নোট আস্তে আস্তে তা সামলাবে। অথচ এই নতুন নোটের ডিজাইনের মধ্যে নিহিত রয়েছে এমন কয়েকটি জিনিস, তা এই ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক জাতিসমূহের মধ্যে যে মৌলিক বোঝাপড়া, তাকে পদদলিত করে। এই নতুন নোটে অগ্রাধিকার পেয়েছে ৩টি জিনিস - হিন্দি, দিল্লি ও মোদি।
নতুন নোটগুলোতে সংখ্যা বড় করে ছাপা হয়েছে হিন্দির সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রচারিত লিপি দেবনাগরিতে। আগের নোট সংখ্যা দেবনাগরিতে ছিল না। নতুন দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার কী মনে করে যে হিন্দিভাষীরই একমাত্র মাতৃভাষায় নোটের সংখ্যা পড়ার অধিকার আছে, আর অহিন্দিভাষীদের নেই? টাকার নোটে কোন লিপিতে সংখ্যা থাকবে, তা নির্ধারণ করে সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশাবলী।
সংবিধানের ৩৪৩ নং ধারায় পরিষ্কারভাবে বলা আছে যে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের যে কোনও সরকারি (অফিসিয়াল ) কাজে ব্যবহার করতে হবে আন্তর্জাতিক সংখ্যালিপি। যার মানে হলো ‘ইংরেজি’তে আরবি-হিন্দু সংখ্যা। অর্থাৎ 1,2,3 ইত্যাদি। এতদিন তাই  হয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক লিপি ছাড়াও নোটের ব্যাপারে দেবনাগরি লিপিতে সংখ্যা ছাপা যাবে, এই মর্মে কোনও রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকা বা সাংবিধানিক বিধান নেই। ১৯৬০-এর রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকায় বলা আছে যে দেবনাগরি লিপির সংখ্যা শুধু সেই কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকাশনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যে ক্ষেত্রে জনতার যে অংশের জন্য এই প্রকাশনা, তার জন্য এটি জরুরি। প্রথমত, টাকার নোট কোনও কেন্দ্রীয় সরকারি ‘প্রকাশনা’ নয়। ফলে এই নির্দেশিকা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর দ্বিতীয়ত, টাকার নোটে ছাপা তথ্য কি শুধু হিন্দিভাষীদের জন্য? বাকিরা কি বানের জলে ভেসে এসছে? এই সকল ধারণার একটা মিথ্যা উত্তর মজুত থাকে। সেটা হলো হিন্দি হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা। এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ও বেসরকারি কায়েমি স্বার্থান্বেষী চক্র গত ৭০ বছর ধরে এই মিথ্যা প্রচার করে চলেছেন। ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা ধারণাটিরই কোনও স্থান নেই। ভারতের কোনও রাষ্ট্রভাষা নেই। গুজরাট হাইকোর্ট তার বিখ্যাত রায়তে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে অহিন্দি রাজ্যে, হিন্দি বিদেশি ভাষার সমতুল্য।

ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন নামক সংঘরাষ্ট্রে অহিন্দিভাষী জাতিসমূহ যে চুক্তির দ্বারা হিন্দিভাষী জাতির সাথে আবদ্ধ, তার নাম দিল্লিতে ক্ষমতাধারী পার্টির হিন্দিকরণের ম্যানিফেস্টো নয়। তার নাম সংবিধান। টাকার নোটে এই সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখানো প্রকারান্তরে ইন্ডিয়ান ইউনিয়নের ঐক্যের ওপর আঘাত হানা। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে যে রাজনৈতিক আদর্শ মানুষে মানুষে ভাষার প্রশ্নে বৈষম্য ঘটায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিককে ভাষার প্রশ্নে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করে, তা কোনও বহুভাষী রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণময় নয়। এ ব্যাপারে হাতের কাছে ১৯৭১-পূর্ববর্তী পাকিস্তান এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

যদি শাসকেরা চাইতেন যে ইংরেজি ছাড়াও মানুষের অন্যান্য ভাষায় সংখ্যাগুলো পঠিত হওয়া জরুরি, তার দুটি সহজ উপায় ছিল। এক, টাকার নোট যেহেতু প্রচার বা স্তুতির স্থান নয়, বরং একটি নিত্য ব্যবহারিক বস্তু, তাই টাকার বিনিময় কার্যের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক অন্যান্য ছবি ও নকশা তুলে নিয়ে অনেকগুলো ভাষার লিপিতে একই সাইজে সংখ্যা দেওয়া যেত। দুই, ইউরো মডেল নেওয়া যেতো। সে ক্ষেত্রে, ভাষিক জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত নগদের সমানুপাতিক হারে নানা সিরিজের নোট ছাপা যায়, যেখানে ইংরেজি সংখ্যার সঙ্গে কিছু শতাংশ নোটে সংখ্যা থাকবে বাংলায়, কিছু শতাংশে দেবনাগরিতে, কিছু শতাংশ তামিলে, ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যের কথা এই যে যখন এই উপমহাদেশ ফিরিঙ্গি শাসনাধীন ছিল, তখন কিন্তু এই এলাকায় চালু টাকার নোটে ৯টি লিপিতে সংখ্যা (ইংরেজি সমেত) একই সাইজে দেওয়া থাকতো। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দের ১০ টাকার নোট দ্রষ্টব্য। একই সঙ্গে একই সাইজে থাকতো নানা ভাষায় টাকার অংকটি অক্ষরে লেখা - যথা বাংলায় দশ টাকা। বহু ভাষাকে সমমর্যাদা দেওয়ার ব্যাপারটির ইতি ঘটে ১৯৪৭-এ ইন্ডিয়া রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার সঙ্গে। তবে থেকে হিন্দি তথা দেবনাগরি পরিণত হয় তথ্য দেওয়ার জন্য বড় আকারে। অন্যান্য ভাষা পর্যবসিত হয় পেছনদিকের এক ছোট প্যানেলে গাদাগাদি করে ক্ষুদ্র আকারে, বৈচিত্রের পরাকাষ্ঠা হিসেবে। ১৯৪৭’র পর থেকেই ক্রমাগত টাকার নোটে হিন্দির মোট এলাকার তুলনায় ইংরেজি ব্যতীত অহিন্দি ভাষাসমূহের মোট ছাপা এলাকা কমেছে বিরাটভাবে। ঔপনিবেশিক শাসনের তুলনায় টাকার নোটের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষিক জাতীয়তাগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য যে ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন রাষ্ট্রে লঙ্ঘিত হয়েছে, তা শুধু লজ্জার বিষয় নয়, চিন্তারও বিষয়। অহিন্দি ভাষাগুলোর এই প্রান্তিকায়ন আকস্মিক নয়, প্রকট ভাবে পরিকল্পিত কেন্দ্রীকরণ-মূলক রাষ্ট্রনীতিরই অঙ্গ।

১০% তামিল আর ৭৫% চৈনিক জনগোষ্ঠীর সিঙ্গাপুর তাদের টাকার নোট তামিল, চীনা ও ইংরেজিতে একই সাইজের অক্ষরে নোটের অংক ছাপে। আসলে সমতা হোক বা বৈষম্য, ইচ্ছা ও নীতিটা আসল। নোট তারই বহিঃপ্রকাশ।     

নতুন নোটে রয়েছে দেবনাগরি ‘র’ অক্ষর সম্বলিত নতুন টাকার আইকন। এই আইকন বাছাইকালে কোন জনমত যাচাই হয়নি। আমার ভাষা বাংলা তথা অসমীয়াতে টাকা শব্দ যে অক্ষর দিয়ে শুরু, তা হলো ‘ট’, হিন্দি রুপিয়ার ‘র’ নয় । যদি আজ ‘র’ এর জায়গায় সকল নোটে ‘ট’ সম্বলিত আইকন ব্যবহার হত, তাহলে হিন্দিভাষীরা কী মনে করতেন? তারা ছেড়ে দিতেন?

আসলে হিন্দি আধিপত্যবাদের এই রাষ্ট্রে এই ‘ট’ আইকন কল্পনা করাও শক্ত। পরিকল্পিত ভাবে অহিন্দিদেড় প্রান্তিক করে দেওয়ার যে নানা প্রকল্প চালু হয়েছে, তা এখন টাকার নোটেও ঢুকে গেলো আরও জোরালো ভাবে।

কেউ বলতে পারেন, তাহলে ইংরেজিই বা এত পবিত্র কেন? হিন্দি হলেই যত অসুবিধে? হিন্দি তো অন্তত বিদেশি নয়। এ প্রসঙ্গে ফের মনে করাতে চাই, যে হ্যাঁ ইংরেজি বিদেশি ভাষা, এবং অহিন্দি মানুষের কাছে হিন্দিও বিদেশি ভাষাই। পূর্বোল্লোখিত গুজরাট হাই কোর্টের রায় সেটা পরিষ্কার করে দেয়। আমরা যেন দেশ ও রাষ্ট্র, এই ভিন্ন দুটি ধারণাকে এক না করে ফেলি।

অবশ্যই, সকল ভাষার সমান অধিকারই আদর্শ উপায়। তার ব্যতিরেকে কেন ইংরেজি, সে নিয়ে প্রবাদপ্রতিম গণনেতা তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী আন্নাদুরাই-এর মন্তব্য স্মর্তব্য। তিনি বলেছিলেন, ইন্ডিয়ান উনিয়নের মতো একটি বহুভাষিক সংঘরাষ্ট্রে প্রতিটি ভাষিক জাতীয়তাকে সুবিধা ও অসুবিধা সমান ভাবে ভাগ করে নিতে হবে। তবেই ঐক্য সাধিত হবে। ইংরেজি হলো এই ভাষিক জাতীয়তাগুলো থেকে সমদূরত্বে। এটাই ইংরেজির সুবিধা। আরেকটি সত্য হলো যে ভারত নামক রাষ্ট্র কল্পিত হয়েছিল ইংরেজিতে - নানা জায়গার উচ্চবর্গের মানুষের মূলত ইংরেজিতে ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে। আজও তা সত্য। এটা অবশ্যই ভারত কল্পনায় উচ্চবর্গের বিশেষ স্বার্থ ও প্রাধান্যকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়, কিন্তু তা আজকেও সত্য এবং বাস্তব।  ইংরেজি না থাকলে নানা ভাষী শাসকগোষ্ঠীর কোনও মেলবন্ধন নেই।

এই নোটে রয়েছে আরো নানা সমস্যা। সংবিধানের অষ্টম তফসিলে গত কয়েক বছরে অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু ভাষা, যেগুলোর নিজস্ব লিপি আছে, যেমন মনিপুরের মেইটেইলোন, সাঁওতালি (অলচিকি যার লিপি), সেগুলো নোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০ হাজারেরও কম মানুষের ভাষা সংস্কৃত রয়েছে নোটে কিন্তু ৭০ লক্ষাধিক মানুষের মাতৃভাষা সাঁওতালি নেই, এ কেমন পরিহাস?   

অথচ নতুন করে যখন নোট ছাপা হলো, সেই সুযোগ তো ছিল। ফের, প্রশ্নটা সদিচ্ছার ও সমতার, যে সমতার আদর্শকে গলা টিপে মারে ক্ষমতা। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক বৈচিত্র্যকে নতুন দিল্লি একটি নিরাপত্তা ও ঐক্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। এই ভাষ্যে, হিন্দি ছাড়া সবকিছুই গোলমালের, অনৈক্যের প্রতীক, আর হিন্দি হলো ঐক্যের প্রতীক। এই প্রায় সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যকামী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী বোঝা যায় যখন সরকারি ভাষার প্রচার ও প্রসার তথা অন্যান্য ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি দেখাশুনো করে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রকের অধীন একটি দফতর। নতুন দিল্লি নতুন নিয়ম চালু করেছে যে নিজস্ব লিপিহীন নতুন ভাষাগুলোকে সরকারি পঞ্জীকরণ ও স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য সেই ভাষা লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরি লিপি আবশ্যিক ভাবে মেনে নিতে হবে।  এখানে সেই ভাষার সবার মতামত গুরুত্বহীন। এই ব্যবস্থার এক বলি হলো বোড়ো ভাষা, যেটির আবাদভূমি কোনও হিন্দিভাষী এলাকার সংলগ্ন নয়। বোড়ো লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে নতুন দিল্লির আদেশে।  এর আগে মোহনদাস গান্ধীর ছবি দিয়ে টাকার নোটের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার রাজনীতিকরণ করা শুরু হয়েছিল। টাকায় এইবার বিজেপি সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত’ প্রকল্পের বিজ্ঞাপন হিন্দিতে ছেপে টাকার নোটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে অন্য স্তরে নিয়ে গেলো। এর ফলে এবার থেকে টাকার নোট হয়ে উঠবে নিজ প্রবর্তিত সরকারি প্রকল্প বিজ্ঞাপনের এক নতুন ক্যানভাস। একটু একটু করে গণতন্ত্রের মৌলিক নিরপেক্ষতার কাঠামোটি ধ্বংস প্রাপ্ত হচ্ছে।  

পুরানো নোটগুলোতে স্থান-ভিত্তিক রাজনৈতিক সিম্বল জায়গা পায়নি ৫০ টাকার নোট সংসদ ভবন ছাড়া। এই সংসদ ভবন সকল নাগরিকের প্রতীক। অথচ আমরা দেখছি যে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোটে বিরাজ করছে লাল কেল্লার ছবি। এই লাল কেল্লার স্মৃতি ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের সকল জাতির কাছে সুখকর নয়। লাল কেল্লা ছিল দিল্লি-কেন্দ্রিক মোঘল সাম্রাজ্যের সদর দফতর। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্র মোঘল সাম্রাজ্যের উত্তরাধীকারী কোনও রাষ্ট্র নয়। এটি ১৯৪৭-এ সৃষ্ট। দিল্লী-কেন্দ্রিক যে সাম্রাজ্য বাঙালি, অহমিয়া, ওড়িয়া ইত্যাদি নানা স্বাধীন এলাকা দখল করেছিল, লাল কেল্লা সেই স্বাধীনতা হরণের প্রতীক। মূলত হিন্দি-উর্দু ভাষী লোক-লস্কর এই দখলকৃত এলাকায় বসিয়ে তারা এই দেশগুলোকে শাসন করতো। সেই কাটা ঘায়ে লাল কেল্লার নুনের ছিটে দিয়ে আজকের নতুন দিল্লির সরকার কী প্রমাণ করতে চায়?    

৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ঘোষণাটি যখন নরেন্দ্র মোদি দিলেন হিন্দি ও ইংরেজি, ইংরেজির সময়ে পর্দায় ফুটে উঠলো হিন্দি অনুবাদ। কলকাতা দূরদর্শন কেন্দ্রকে বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয়নি, চেন্নাইকে দেওয়া হয়নি তামিল। তাই বাকি অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাগ্যে বরাদ্দ হয়েছে অন্যের থেকে শোনা কথা, গুজব ও বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম। রাষ্ট্র সবার। এবং সবাইকে তাদের ভাষায় জানানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই মৌলিক নীতির লঙ্ঘন জলভাতে পরিণত হয়েছে। এদিকে অহিন্দিভাষী অঞ্চলে ভোট চাইতে যাওয়ার সময়ে কিন্তু বিজেপি সেই ভাষাতে পোস্টার-ফ্লেক্স দিতে ভোলে না। ক্ষমতার যত কেন্দ্রীকরণ হবে, ততো বেশি বেশি করে আরও বেশি মানুষ প্রান্তিক হবেন। নাগরিকের দায়িত্ব নয় নিজেকে বদলে রাষ্ট্রের উপযোগী হয়ে ওঠা। কল্যাণকামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার পরিষেবার ক্ষেত্রে ও অন্য সকল ক্ষেত্রে নাগরিকসমূহের ভিন্নতার বাস্তবতা মাথায় রেখে সেই ভিন্নতাকে ধারণ করার উপযোগী হয়ে ওঠা।  যেন এরই রূপক হিসেবে দেখা গেল যে নতুন নোট চলতি এটিএম মেশিনগুলিকে না আঁটার ঘটনা। হাজারে হাজারে এটিএম মেশিন নতুন নোট অনুযায়ী বদলাতে হলো। বদলে চলতি এটিএম মেশিন অনুযায়ী নতুন নোট বানালে হতো না?    

 লেখক: স্থিত মস্তিষ্ক-বিজ্ঞানী

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ