নিজস্ব সৃষ্টিতে বোধ জরুরি

Send
ফাহমিদা নবী
প্রকাশিত : ১২:১৯, মার্চ ৩১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৬, মার্চ ৩১, ২০১৮

ফাহমিদা নবীকয়েকদিন আগে ফেসবুকে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলাম রেডিওতে টানা বিদেশি গানের প্রচারণায়। বিষয়টিতে দেখলাম শিল্পী, সমাজ, দর্শক শ্রোতা সবাই সহমত। কে চায় দেশপ্রেমের কাছে মাথানত করতে? কেউ চায় না। তবে কেন এমন হয়? আজ আরও কিছু বিষয় তুলে ধরলাম...
ইদানীং রেডিও সরাসরি ফেসবুক লাইভে থাকে, কেন?
রেডিও তো টিভি নয়, সেখানে চেহারা না দেখার মধ্যে যে আনন্দ সেটার চাহিদাটাও নষ্ট করছেন? রেডিও কর্তৃপক্ষরা কি সেটা বুঝতে পারেন? শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানান কিন্তু সম্মানী দিতে নারাজ! শিল্পীদের সম্মানী দিতে পারছেন না। কারণ, তাদের নাকি অসহায় অবস্থা! তাহলে এত রেডিও চ্যানেলের কী প্রয়োজন? নানান রকম সমস্যা। দিনশেষে নিজের দেশের সংস্কৃতিকেই তুলে ধরতে হবে। পারলে রেডিওগুলো মাসে একটা করে নতুন গান তৈরি করুক। কর্তৃপক্ষকে বলছি। কিছু করুন, ধার করে আর কত? শ্রোতাকে যা দেবেন তাই তো শ্রোতা শোনেন। যা শোনাবেন না, তা শুনতে পাবে না শ্রোতারা, প্রচারেই প্রসার, নিজেদের গানগুলো বাজান, লাভ আছে ক্ষতি নেই।

আরেকটি বিষয় এড়িয়ে যেতে চাই না, বাংলা নাটকে ইদানীং হিন্দি গান বাজানো হচ্ছে, চমৎকারভাবে তা প্রচারও হচ্ছে! বাহ কী অনুজ্জ্বল সংস্কৃতি নিয়ে দৌড়াচ্ছি আমরা! লজ্জাটা আমার লেগেছে দেখেই, যে বানালো বা যারা অভিনয় করেছেন তাদের নিশ্চয়ই লজ্জা লাগারই কথা।

আমাদের কি মানানসই গান নেই সেই দৃশ্যের সঙ্গে মেলাবার মতো? অবশ্যই আছে। কিন্তু বোধটাকে কাজে লাগাননি পরিচালক। আফসোস!

আশা করি আর এমনটি করবেন না। টিভি চ্যানেলের প্রযোজকরাও একটু সচেতন হন। সংস্কৃতিকে লালন করি সবাই মিলে। একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই নয় কি?

যারা প্রবাসে বসবাস করেন তারা কিন্তু রীতিমতো কাঁদেন এসব দেখে। কারণ, দেশের গান দেশের নাটক তারাই দেখে দেশটাকে আঁকড়ে জড়িয়ে রাখেন। এত গান হচ্ছে তা কাজে লাগান। একটু মাথা খাটান। নিজের নিজস্বতা নিজেরই। যা শেখানো যায় না। শিখে নিতে হয়। শ্রোতারা শোনেন, দর্শক দেখেন। যা শোনাবে না, দেখাবেন না তা শুনতে বা দেখতে পাবেন না। বারবার বলছি প্রচারেই প্রসার, নিজেদের গানগুলোই বাজান, লাভ আছে ক্ষতি নেই।  নিজস্বতা বোধ, এসব শেখানো যায় না। শিখে নিতে হয়। নিজস্ব সৃষ্টিতে বোধ ভীষণ জরুরি। এমনকি প্রতিদিনের চর্চায়, কথার ধরনে, নম্রতা সভ্যতার আদল জরুরি। ধন্যবাদ সবাইকে অনেক।

রেডিও কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ, যদি ভাববার একটু জায়গা তৈরি হয়। ভীষণ খুশি হবো। পাশের দেশে কী দারুণ, তারা শুধু নিজেদের প্রচারেই ব্যস্ত। তাই না?

কারণ, সেটাই জ্ঞান এবং ধ্যান, এবং বিশ্বাস অর্থলগ্নির। যদিও আমি ব্যবসা বুঝি না, বুঝি মূল্যবোধ। ওটাই আমাদের শিল্পীদের একমাত্র সম্পদ। যার যা ইচ্ছা করতেই পারে, কিন্তু সব ব্যাপারে যা ইচ্ছা তাই কি করা যায়? যায় না, কিছু নিয়ম কায়দা-কানুন তো রয়েছেই।

রেডিও, টেলিভিশন এগুলো গণমাধ্যম। এখানে ইচ্ছার সঙ্গে দর্শকশ্রোতা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। যা সত্য এবং সুন্দর, যা মানানসই, যা মানুষের মনের ইচ্ছা, তা কিন্তু দেশের প্রতি টান, এবং পুরো ব্যাপারটাই একটা টান, যে টান না থাকলে একতা আসে না, আর আজ এত কথাও কেউ বলতো না, চেতনা বড় কঠিন আবেগ, তাকে অন্তত এড়ানো কঠিন। পুরোটাই দেশবোধ... আর সংস্কৃতি তো দেশের মানকে ধরে রাখে, শ্রোতা তো সেই আবেগের বাইরের কেউ নয়। চিন্তা করবেন রেডিও কর্তৃপক্ষ। সম্মান সম্মান বয়ে আনবে, সাথে মূল্যবোধের টানাহেঁচড়া কমবে। তাতে সবাই খুশি হবে। সংসারে মায়ের মুখে হাসি দেখলে পুরো জগৎ জয় করা যায়, তেমনি সংস্কৃতির আবেগকে জড়িয়ে রাখুন। শিক্ষা তো শিক্ষিত মন আনে। অশিক্ষা কি শিক্ষিত মন আনতে পারে? ভাবুন, বাংলাদেশের কত শিল্পী, কত গান সেই ৫০ দশক থেকে আজ- অবধি। বিশ্বাস রাখুন। সবাই শুধু দিনরাত রেডিও শুনবে।

টিভি চ্যানেলগুলোও অনেক অনুষ্ঠান না করে মানসম্মত কিছু অনুষ্ঠান করুন। তাতে করে শিল্পীর সম্মানী দিতেও অসুবিধা হবে না। মানসম্মত অনুষ্ঠানও হবে। বাজে কথা বলবেন না দর্শক-শ্রোতারা। ব্যবসাও মন্দ হবে না,কি বলেন? আমরা গান গাই সম্মানের কৌটা ভরে, ব্যর্থ হই তখনই যখন সংস্কৃতি অঙ্গন নিজস্বতার কাছে বোধহীনতাকে নিয়ে ময়ূরের মতোন হাঁটেন!

তখন মনে হয় তারা কি ভিত তৈরি না করেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছেন?

পুরো পৃথিবীতে শিল্পীর সম্মান সবার আগে। কারণ, তারা মানুষের মন নিয়ে কাজ করেন। ভাববেন, রাগ পরে করবেন।

সবার জন্য ভালোবাসা। সবার মঙ্গল হোক।

লেখক: সংগীত শিল্পী

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ