একটু উষ্ণতা, বাংলাদেশের জন্য

Send
তুষার আবদুল্লাহ
প্রকাশিত : ১৪:০৯, নভেম্বর ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১০, নভেম্বর ৩০, ২০১৯

তুষার আবদুল্লাহবাজারের অস্থিরতা ঘরকেও অস্থির রাখবে, এটাই স্বাভাবিক। এমন কোন বাজার আছে যেখানে অগ্রহায়ণের হিম খুঁজে পাওয়া যাবে? শীত আসার আগেই ঝরতে থাকা কুয়াশার দেখা নেই বাজারে। কুয়াশা ভেজা সবজিতেও কয়লার আঁচ। অস্থির নাগরিকের দুর্ভোগের ক্লান্তি মুছে ফেলার সংলাপ—শীতে যেন গরম কাপড় কেনায় খরচ না বাড়ে, তাই খাদ্যের বাজার উষ্ণ হয়ে আছে। লবণ, পেঁয়াজ, আটা-ময়দা, চাল কিনলেই ওম পাওয়া যাবে। যে কয়টি পণ্যের কথা বলা হলো, তার বাইরে খাদ্যপণ্যের যে বিশাল তালিকা, সেখানে এমন কোনও পণ্য নেই, যাতে হাত দিলে ফোসকা পড়বে না। ফুলকপি, আলু, শসা, বেগুন, আদা, রসুন, সয়াবিন তেল সবাই বাজারে অপেক্ষা করছে একটু উষ্ণতা দেওয়ার জন্য।
উদোর পূর্তিতে ঘাটতি রেখে, ভাবলেন বাইরে গিয়ে একটু হাওয়া খেয়ে আসবেন। সেই হাওয়াটাও বিষে ভরা। ঘরে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা, চলাচল করা মানে রোগ সঞ্চয়। আর একবার রোগ বাধালে তো আর রক্ষা নেই। ডাক্তার, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওষুধ বিক্রেতা আপনাকে জাপটে ধরে। তাদের আলিঙ্গন দেখে রোগ পালাতে চায়। কিন্তু রোগের এই শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেই। সেই প্রতিরোধে রোগ এতোটাই নতজানু হতে বাধ্য হয় যে, তার শাখা-প্রশাখাও বাড়তে থাকে। কমতে থাকে শুধু আপনার আয়ু, অর্থ-সম্পদ। অর্থ-সম্পদ কমে যাওয়ার উপলক্ষ এবং উৎসও কম নেই। নানা প্রলোভনে ব্যাংক ঋণ নেবেন, ফটকা বাজারে গিয়ে শেয়ার কিনবেন, সঞ্চয়পত্র কিনবেন, সবখানেই যেন আপনার প্রতি ঈর্ষাকাতর দফতরগুলো ফাঁদ পেতে বসে আছে। ধস নামাবে শেয়ারবাজারে। কমাবে মুনাফার সুদ। বাড়বে শুধু আপনার ঋণের চক্রবৃদ্ধি সুদ।

নিজের জীবন তো চক্রে আটকে গেলো। বেরোবার পথ নেই। সন্তানকে মুক্ত জীবন দেবেন, সেই উপায় কই? শিক্ষার জন্য যেখানে পাঠাবেন, সেখানে চলছে সনদ বাণিজ্য। শিক্ষক নেই। নিরাপত্তা নেই সন্তানের জীবনের। শিক্ষা জীবন শেষ করে কাজ খুঁজতে গিয়ে দেখে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুতো, টাকার অঙ্ক, রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়া চাকরি নেই। চাকরি জুটলেও তারও টেকসই হওয়ার নেই গ্যারান্টি। চাকরি করবে না, আপনার সন্তান চাকরি দেবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামবে? সেখানেও আছে মাকড়সা জালের সম্পর্ক। তার বাইরে দাঁড়িয়ে আপনার সন্তান যত উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুক না কেন, মোরগ লড়াইয়ের মতো তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার সম্মিলিত প্রতিরোধ তো আছেই।

কোথায় যাবেন আপনি নিজের মতো করে, সড়ক, উড়াল, জল, রেল সর্বত্র আপনার মরণফাঁদ। দুর্ভোগের সরাইখানা হয়ে আছে সব। তার মধ্যে আপনি একা লড়ে যাবেন? হুম আপনি একাই তো। ওরা আপনাকে যন্ত্রণা দিতে, দুর্ভোগে দিতে, মেরে ফেলতে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু আপনার পাশে কেউ নেই। আপনি দূরে দাঁড়িয়ে দেখছেন, কীভাবে যন্ত্রণায় ছটফট করছে আপনার মতোই কোনও নাগরিক। ওই যন্ত্রণা আপনাকে না ছোঁয়া পর্যন্ত ভাবছেন, কী দরকার কাছে গিয়ে যন্ত্রণার আঁচ নেওয়ার। আমি তো আছি ভালোই। আসলে আপনি ভালো নেই। কারণ যন্ত্রণার কাছে আপনার বাড়ির ঠিকানাও আছে। সময়মতো ঠিক এসে হাজির হয়ে যাবে। তখন আজকের যন্ত্রণাকাতর মানুষটাও, আপনার ছটফটানি উপভোগ করে যাবেন।

তাহলে পালাবো কোথায় আমরা, পালিয়ে যেতেই হবে? না মোটেও না। আমরা তো একাত্তরে রণাঙ্গন থেকে পালিয়ে যাইনি। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আত্মসমর্পণ করিনি। আমরা এক হয়েছিলাম। নষ্টদের দখলে চলে যাচ্ছে সব। আসলে সবই কি গেছে নষ্টদের দখলে? আপনি তো আছেন। আপনি হাত বাড়ান। দেখেন আমরা আপনার হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সত্যিই একটু উষ্ণতার প্রয়োজন। সেই উষ্ণতা স্বপ্নের, ভালোবাসার এবং অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য। যে বাংলাদেশ দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থের ক্ষুদ্রতা মুক্ত হয়ে জনমানুষের কথা বলবে।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ