পেঁয়াজের ঝাঁজ, শিক্ষা ও কূটনীতি

Send
প্রভাষ আমিন
প্রকাশিত : ১৫:৪৪, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৬, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

প্রভাষ আমিনবছর না ঘুরতেই আবার পেঁয়াজের দামের ঘোড়াটা পাগল হয়ে গেছে। কোনও যুক্তি ছাড়াই এটা লাফাচ্ছে, মানে একদিনেই দ্বিগুণ যেমন হয়ে যাচ্ছে, আবার কমেও যাচ্ছে। আর দেশের একেক জায়গায় পেঁয়াজের দাম একেকরকম। এটা আসলে পাগলামিই। দুর্ভাগ্য হলো বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারের এই পাগলা ঘোড়ার লাগামটা ভারতের হাতে। তারা ইচ্ছা হলেই পাগলা ঘোড়াটাকে নাচাতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২৩ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। তবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর প্রায় ১৯ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ থাকে। অথচ চাহিদা রয়েছে ৩০ লাখ মেট্রিক টনের। বাকি ১১ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়, যার বেশিরভাগই আসে ভারত থেকে। চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ যেখান থেকে আসে, লাগামটা তাদের হাতে থাকাই স্বাভাবিক। গত বছর এই সময় মানে ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল। তারপরের প্রতিক্রিয়া তো সবার জানা। পেঁয়াজের দামের বিশ্বরেকর্ড হয়েছিল। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থা হয়েছিল লেজেগোবরে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়েছিল, এমনকি ভিআইপি মর্যাদায় পেঁয়াজ এনেছিল বিমানে চড়েও। এসব করতে করতে কেটে যায় লম্বা সময়। সেবার পেঁয়াজ সঙ্কটের সমাধান হয়েছিল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। গত বছর তবু রফতানি বন্ধের আগে দাম বাড়িয়ে একধরনের ওয়ার্নিং দিয়েছিল ভারত, এবার তাও দেয়নি। একেবারে বিনা মেঘে বজ্রপাত। তবে মেঘ একেবারে ছিল না, সেটা বলা যাবে না। আমরা সেই মেঘ দেখতে পাইনি। 

ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে তুমুল প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাই নিন্দা-মন্দ করছেন। টাইমিংটাও সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। যেদিন বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ভারতে ইলিশ রফতানি শুরু করেছে, সেদিনই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। আমি জানি, দুটি আলাদা বিষয়, একটির সঙ্গে আরেকটির কোনও মিল নেই। বিষয়টাও নিছক কাকতালীয়। কিন্তু পুজোর আগে ইলিশ পেয়ে কলকাতায় যখন উচ্ছ্বাস, তখন বাংলাদেশে পেঁয়াজ নিয়ে হাহাকার। তবে ভারদের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তে আমার কোনও ক্ষোভ নেই। একটা দেশ তার কোন পণ্য রফতানি করবে, কোনটা করবে না; সেটা সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার। আর যেকোনও দেশই আগে নিজের চাহিদা মেটাবে, তারপরে রফতানি করবে। অতিবৃষ্টিতে পেঁয়াজ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ছিল, তাই তারা রফতানি বন্ধ করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। যদিও এবার হুট করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে ভারতেও। সে দেশের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতে পেঁয়াজের দাম যেটুকু বেড়েছে, মজুত যা আছে; তাতে রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়। বরং রফতানি বন্ধের ফলে হুট করে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সে দেশের কৃষক। তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। তাই ভারতের কৃষক নেতারা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। 

ভারত যে ইচ্ছা করে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলার জন্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে,তেমনটি অন্তত আমি মনে করি না। ভারতে পেঁয়াজ একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক চরিত্র। পেঁয়াজের দাম বাড়লে যে সঙ্কট তা এমনকি সরকার পতন পর্যন্ত যেতে পারে। তাই তারা কোনও ঝুঁকি নেয়নি। অতি সতর্কতার কারণে তারা আগেই পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দুই দেশকেই ক্ষুব্ধ করেছে। গত বছর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হয়েছিল মহারাষ্ট্রের নির্বাচনকে সামনে রেখে। এবার হয়েছে বিহার নির্বাচনকে সামনে রেখে। সে দেশের সরকার চায়নি পেঁয়াজের বাজারে কোনও অস্থিরতা তৈরি হোক। ভারতের পেঁয়াজের বাজার স্থির রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থির করে ফেলেছেন তিনি। 

আগেই বলেছি, ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই, ক্ষোভও নেই। তারা পেঁয়াজ রফতানি করবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের কষ্ট হবে বটে, তবে আমরা তো আর জোর খাটাতে পারি না। তবে সব সিদ্ধান্ত চাইলেই আপনি একা নিতে পারবেন না। পেঁয়াজ রফতানির সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একার হতে পারে না। এখানে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে, কূটনীতি আছে। কিন্তু ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেসব কিছুর তোয়াক্কা করেনি। আমার প্রবল আপত্তি, ভারতের রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তের ধরনে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রতি তাদের অবহেলা, অবজ্ঞা, উপেক্ষা আর গোনায় না ধরার পুরনো মানসিকতার নোংরা প্রকাশ ঘটেছে। গত বছর অক্টোবরে নয়াদিল্লি সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে রসিকতার ছলে ভাঙা হিন্দিতে বলেছিলেন, ‘হঠাৎ করে আপনারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন। আগে নোটিশ দিলে আমরা অন্য দেশ থেকে ব্যবস্থা করতে পারতাম। ভবিষ্যতে এমন কিছু করলে আগে জানালে ভালো হয়।’ পরে দুই পক্ষের আলোচনায়ও এমন একটা সমঝোতা হয়েছিল যে পেঁয়াজ রফতানি বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা আগে বাংলাদেশকে জানাবে। কিন্তু ভারত সে সমঝোতার প্রতি সম্মান দেখায়নি, সম্মান দেখায়নি শেখ হাসিনার বন্ধুসুলভ অনুরোধেও। ভারতের এই একতরফা সিদ্ধান্ত চরম অবন্ধুসুলভ। দুই পক্ষ যখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে উষ্ণতর দাবি করেন, তখন এই একতরফা সিদ্ধান্ত সেই দাবির সমান্তরাল নয়। সব সম্পর্কেই পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা, আস্থা, বিশ্বাসের ব্যাপার থাকে। এমনকি সম্পর্কটা স্বামী-স্ত্রীর মতো হলেও পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া কিছু করা যায় না। পাকিস্তানের সঙ্গে চির বৈরিতা তো আছেই, চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর ভারত যখন বন্ধুবলয় বাড়াতে চাইছে, তখন এভাবে চিহ্নিত বন্ধুকে বিব্রত করার চেষ্টা ব্যাখ্যার অতীত। ভারতের গণমাধ্যমে দেখছি, সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে বিব্রত। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে তো দূরের কথা, তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও জানায়নি। 

তবে বাংলাদেশ তাদের আপত্তি জানিয়েছে। আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তে ভারত অনুতপ্ত। তবে এই অনুতাপ তিনি কীভাবে টের পেলেন জানি না। কারণ ভারত তেমন কোনও ঘোষণা দেয়নি।

তবে এবার বাংলাদেশের সঙ্কট হয়তো গত বছরের মতো জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী হবে না। গত বছরের সঙ্কট থেকে নেওয়া কিছু শিক্ষা তো আছেই, তার চেয়ে বড় কথা এখন দেশে যে মজুত আছে, তাতে আরও অন্তত দুই মাস চলবে। আর ভারত পাইপলাইনে থাকা পেঁয়াজ মানে যেগুলো আমাদের ব্যবসায়ীরা আগেই কিনে রেখেছিলেন বা পেঁয়াজবাহী যেসব ট্রাক সীমান্তে অপেক্ষায় ছিল, সেগুলোকে আপাতত ঢুকতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতেও বাজারে সৃষ্ট তাৎক্ষণিক সমস্যাটা কেটে যাবে। বাংলাদেশও ভাবনার সময় পাবে। পেঁয়াজ আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় হলেও অপরিহার্য নয়। তাই সঙ্কট যতটা জটিল, বাজারে তার প্রভাব তেমন পড়বে না। পেঁয়াজ সঙ্কটের প্রভাবের তুলনায় গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হইচই বেশি হয়েছে। তবে পেঁয়াজ সঙ্কটের চেয়েও ভয়ঙ্কর হলো,সঙ্কট সৃষ্টির সক্ষমতা। দুই মাসের মজুত থাকার পরও যারা ভারতের রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত শোনার সঙ্গে সঙ্গে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ করে ফেললো, তাদের খুঁজে বের করাটা জরুরি। 

আজ পেঁয়াজের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিলো, কাল তো তারা এটা চাল নিয়েও করতে পারে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে চিনে রাখাটা জরুরি। 

আমাদের সব মন্ত্রণালয়ের আলাদা আলাদা দায়িত্ব আছে। কখন কোন ফসল চাষ হচ্ছে, কোথায় ঝড়ে কোন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কোথায় বন্যায় ফসল ডুবে যাচ্ছে, কোথায় বাড়তি সেচ লাগবে, সার লাগবে এটা অবশ্যই কৃষি মন্ত্রণালয়কে জানতেই হবে। এটাই তাদের কাজ। খাদ্য মন্ত্রণালয়কে জানতেই হবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা, মজুতের অবস্থা। সে অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানতেই হবে কখন কোন পণ্য আমদানি করতে হবে। এমনকি একই পণ্য কখনও আমদানিতে উৎসাহ দিতে, কখনও বিমানে আমদানি করতে হয় আবার কখনও আমদানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করতে হয়। এই টাইমিংটা ঠিক করাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ। তারা যদি গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ভারতের পেঁয়াজের বাজারের দিকে নজর রাখতো, যদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আগে থেকেই বৈঠক করতো; তাহলে এই সাময়িক সঙ্কটটাও এড়ানো যেতো। 

তবে সঙ্কট থেকে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। পরপর দুই বছর ভারতসৃষ্ট পেঁয়াজ সঙ্কট থেকে আমরা যদি একটা স্থায়ী সমাধান বের করতে পারি, তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো। আর সেটার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো,পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ফেলা। বাংলাদেশের কৃষকরা জাদু জানে। চাল, মাছ, সবজিসহ নানান পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ চমকপ্রদ সাফল্য দেখিয়েছে। তাহলে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ কেন নয়? আমি জানি এটা সম্ভব। খালি সরকারের একটু নীতি সহায়তা দরকার। প্রথম কথা হলো, কৃষক যাতে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে যখন দেশি পেঁয়াজ উঠবে, তখন আমদানি নিরুৎসাহিত করতে হবে, প্রয়োজনে বন্ধ করতে হবে। কৃষক দাম পেলে বিপুল উৎসাহ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করবে। আর বাংলাদেশের উর্বরা মাটি সবসময় আমাদের দুহাত ভরে দেয়। আর পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করতে হবে। প্রতিবছর যে ৪/৫ লাখ টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়, তা ঠেকাতে হবে। উৎপাদিত ২৩ লাখ টন পেঁয়াজের মধ্যে যদি ২২ লাখ টন গুদামে তোলা যায়, তাহলেই সঙ্কট অনেক কমে যায়। আর ফেসবুকে যারা পেঁয়াজ ইস্যুতে ভারত বিরোধিতার বিষ উগরে দিলেন, তারা যদি ভারতীয় পেঁয়াজ না খান, পেঁয়াজের ব্যবহার কমান; তাতেও চাহিদা কমানো সম্ভব। পেঁয়াজ কোনও অপরিহার্য সবজি নয়। চাইলেই পেঁয়াজ ছাড়া দিব্যি চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। অন্তত পেঁয়াজের ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া যায়। আমি অনেককে চিনি, যারা কখনও পেঁয়াজ খান না। উৎপাদন বাড়িয়ে, অপচয় আর চাহিদা কমিয়ে চাইলে এক বছরের মধ্যেই আমদানিনির্ভরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এর উদাহরণও কিন্তু বাংলাদেশেই আছে। একসময় বাংলাদেশে গরুর বাজার ভারত নিয়ন্ত্রণ করতো। মোদি সরকার ক্ষমতায় এসে গরুর চোরাচালান বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে গরুর বাজারে তীব্র সঙ্কট সৃষ্টি হয়। সঙ্কটটা কয়েক বছর ছিল। এখন বাংলাদেশ গরুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই কাজটা কিন্তু বাংলাদেশের খামারিরাই করেছে। গরু সঙ্কট সমাধান করতে পারলে, পেঁয়াজ পারবো না কেন। খালি সরকারকে কয়েকটা বছর কৃষকের পাশে থাকতে হবে। 

আমি সেদিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন আমরা ভারতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলতে পারবো, তোমরা এখন আঙুল চোষো। আমাদের আর তোমাদের পেঁয়াজ লাগবে না।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ



/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ