মশা নিয়ে যত কথা

Send
মাহমুদুর রহমান
প্রকাশিত : ২২:৪১, জানুয়ারি ২৯, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৪, জানুয়ারি ২৯, ২০১৬

মাহমুদুর রহমানকিছুদিন আগে বানান বিভ্রাট নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ছিল সরব। সৌন্দর্য বর্ধন পরিবর্তিত হয়ে সৌন্দর্য বর্জন হয়ে গেল। এখন মনে হচ্ছে ‘পরিবর্তন’ স্বয়ং পরিবর্ধনে রূপ নিতে যাচ্ছে, অন্তত মশার ক্ষেত্রে। আগামী দিনে জনগণের অতিপ্রিয় ‘মশক নিধন’ অভিযানের বিকল্প হবে ‘মশক পরিবর্ধন’। এরই মাধ্যমে বহুদিনের চর্চিত  ‘জ্বর সারাবে কুইনাইন, কুইনাইন সারাবে কে?’ প্রশ্নের সদোত্তর পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।
চিকিৎসা খুঁজে পেতে যে সময় লেগেছে, নতুন মহামারি জিকার প্রতিশেধক বের করতে তিরিশ বছরের অপেক্ষা মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার মনঃপুত  নয়। এই রোগ এতটাই বিপজ্জনক যে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে যারা মা হতে চাইছেন, তাদের দুবছর অপেক্ষা করার স্বাস্থ্য উপদেশ দেওয়া হয়েছে। ওবামা চাইছেন, সমস্যা সমাধানে দ্রুততা। ঝামেলা হলো, এত আর তৈরি বোমা নয় যা অনায়াসে সিরিয়ার আকাশ সীমার গিয়ে নিক্ষেপ করা যায়। সাধে কি সেই পরিচিত প্রবাদ ‘মশা মারতে কামান দাগা! হয়তো সেই কারণে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট এই জীবের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে মানবের সীমিত জ্ঞানের উদ্ভাবন, পরিবর্ধন। পুরুষ মশক লারভায় যোগ করা হয়েছে কোষ পরিবর্ধন প্রযুক্তি। যার ফলে পরবর্তী মশক প্রজন্ম জিকা মুক্ত থাকে। এই মশকদের ব্রাজিলের আনাচে কানাচে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ভাবতে অবাক লাগলেও সত্য সত্যই থাকে। যে মশকদের উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে কোটি কোটি টাকার কয়েল, ম্যাট এবং অ্যারোসল ব্যবহার করা হচ্ছে, তারই কোটি কোটি স্বাস্থ্যবান বংশধর পরিবেশে মুক্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ, মশার কামড়ের ক্ষণস্থায়ী জ্বালা বাড়লে বাড়ুক, ঝুকিপূর্ণ জিকা না ছড়ালেই হলো। চমৎকার ব্যবস্থা! নাকি চমৎকার ব্যবসা? মশার চির বিদায়ের ব্যবস্থা না নিয়ে, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তটি ব্যবসাবান্ধব বটে! জনকল্যাণ কতটুকু হবে তাতো বলা মুশকিল।
ক্লোনিং যে কতটা অগ্রসর হয়েছে, তা আন্দাজ করা সহজ। এর ভয়াবহতা অভাবনীয়। মানুষকে নিরাপদে, সুস্থ রাখার যেকোনও কৌশলকেই স্বাগত জানাতে হয়। কিন্তু জীবনের প্রাকৃতিকচক্রে কোনও রকম পরিবর্তন/পরিবর্ধন বিপজ্জনক। পরিবর্ধিত মশকশিশুর মধ্যে এই পরিবর্তন আর কী বয়ে আনবে, তা সময়ই বলে দেবে। সৃষ্টির মহত্ব এই—কোনও কিছুই বিনা কারণে সৃষ্ট হয়নি। সীমিত চিন্তার পরিসরে, আমরা হয়তো তার সামান্যই জানি, বুঝি। পরিবেশ ধ্বংস করে বাঘসহ বিভিন্ন জীব বৈচিত্র্যের ইতি টানতে মানুষ পিছুপা হয়নি। মশা তাড়ানোর  ব্যাপারে ততটা মনোযোগ আমরা দেইনি। তবে হ্যাঁ—মশা/মাছি না থাকলে সাহিত্য সমৃদ্ধ করা বাঙালির একটি বিশেষণ, সেই চমৎকার স্লোকটি চির তরে হারিয়ে যাবে। কোনটি? কেন? ‘মশা মারা কেরানি’।

 লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ