X
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২
২২ আশ্বিন ১৪২৯

গ্রন্থাগারে বই আছে, নেই পাঠক!

বাগেরহাট প্রতিনিধি
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৮আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:৫২

গ্রন্থাগারে পত্রিকার টেবিলেই থাকে বেশি ভিড় বইয়ের সঙ্গে পাঠকের আত্মিক সম্পর্ক তৈরি করতে গড়ে তোলা হয়েছিল বাগেরহাট সরকারি গণগ্রন্থাগার। এতে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠকের জন্য রয়েছে প্রায় ৩০ হাজারের মতো বই, ম্যাগাজিন ও পত্রিকা। তবে গ্রন্থাগারে এখন আর তেমন পাঠক দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে বইগুলোও পড়ে রয়েছে অবহেলায় ও অপাঠ্য অবস্থায়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মোবাইলফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে ছাপা হরফের বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন পাঠকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে মহকুমা তথ্যকেন্দ্র নামে বাগেরহাট শহরের বর্তমান শালতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে যাত্রা শুরু হয় এই গ্রন্থাগারটির। পরে ১৯৮৪ সালে এটি জেলা সরকারি পাবলিক লাইব্রেরিতে রূপ নেয়। সর্বশেষ ২০০১ সালে শহরের সরুই এলাকায় ৩৩ শতাংশ জমির ওপর একতলা নিজস্ব ভবনে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ সরকারি পিসি কলেজ থেকে এই গ্রন্থাগার ভবনের মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৫০০ গজ। এছাড়া সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১০০ গজ এবং সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে এর দূরত্ব মাত্র আধা কিলোমিটার।

বাগেরহাট সরকারি গণগ্রন্থাগার পাঠকদের জন্য এখানে রয়েছে মোট ২৯ হাজার ৯৩০টি বই। এর মধ্যে রয়েছে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ধর্মীয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই। অভিধানসহ ইংরেজি ভাষারও বেশ কিছু বই এখানে রয়েছে। এছাড়া গ্রন্থাগারে প্রতিদিন ৯টি বাংলা, ১টি ইংরেজী দৈনিক ও মাসে ১০টি ম্যাগাজিন রাখা হয়। এখানে এক সঙ্গে ৯৬ জন পাঠকের নিরিবিলি পরিবেশে বসে বই পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্রন্থাগারটি খোলা থাকে। এখানে লাইব্রেরিয়ান, লাইব্রেরি অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহায়ক কাম নিরাপত্তা প্রহরীসহ ৩ জন কর্মরত রয়েছেন। তবে জুনিয়র লাইব্রেরিয়ানের পদটি শূন্য রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন সময় গ্রন্থাগারে গিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পাঠক পত্রিকা পাঠের জন্যই কেবল এখানে আসেন। বই পড়তে আসা পাঠকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। প্রতিদিন কতজন পাঠক গ্রন্থাগারে আসেন সেই হিসাবও নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। তাদের দাবি রেজিস্ট্রার না থাকায় পাঠকের প্রতিদিনের প্রকৃত সংখ্যা বলা যাবে না। তবে মাস শেষে টালির মাধ্যমে পাঠক উপস্থিতি নির্ধারণ করা হয়।

গণগ্রন্থাগারে পত্রিকা পড়তে আসা শহরের হরিণখানা এলাকার নিয়াজ পারভেজ বলেন, ‘লেখাপড়া শেষ করে চাকুরির আশায় আছি। মূলত এখানে পত্রিকা পড়ার জন্য আসি। পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি চাকুরির বিজ্ঞাপনেও চোখ বুলাই।’

একই কথা বলেন তার সঙ্গে আসা মো. শহিদুল ইসলাম নামের আরেক পাঠক।

বাগেরহাট শহরের দশানি এলাকার তামান্না আক্তার বলেন, ‘সময় পেলে মাঝে-মধ্যে গণগ্রন্থাগারে উপন্যাস পড়তে আসি।’

গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাঠ্য বইয়ের বাইরে অন্য বই পড়ার প্রবনতা কমে যাওয়া, স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা পাঠক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

বাগেরহাটের গণগ্রন্থাগারে বই থাকলেও নেই আগের মতো পাঠক এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা শিশু কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে ছোট বাচ্চা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ প্রায় সব ধরনের মানুষের হাতে ইন্টারনেট সংযোগসহ স্মার্টফোন রয়েয়ে। এরাই মূলত গ্রন্থাগারের পাঠক ছিল। তবে এখন তারা ইন্টারনেটের দুনিয়াতেই বেশি সময় কাটান।’

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একজন শিক্ষিত মানুষের কাছে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বই চিন্তার খোরাক যোগায়। যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিন্তার খোরাক খুই কম। তাই বই পড়ার কোনও বিকল্প নেই।’

তবে বাগেরহাট গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান দাবি করেন, ‘এখানে তিন ক্যাটাগরিতে নিয়মিত গ্রাহক রয়েছেন ৪৯ জন। প্রতিদিন গড়ে ২৮২ জন পাঠক বই ও সংবাদপত্র পড়তে আসেন। পাঠকদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি।’

পাঠকের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে সরকারি গণগ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হয়। এছাড়া বই পাঠ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।’

/টিটি/
টাইমলাইন: কেমন আছে গ্রন্থাগারগুলো
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০০
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৮
গ্রন্থাগারে বই আছে, নেই পাঠক!
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
যারা সরকারকে মানে না, সংলাপ তাদের সঙ্গে: মির্জা ফখরুল
যারা সরকারকে মানে না, সংলাপ তাদের সঙ্গে: মির্জা ফখরুল
শিশির ভেজা শাপলায় চলে নরম রোদের খেলা  
ত্রিশালের চেচুয়ার বিল/শিশির ভেজা শাপলায় চলে নরম রোদের খেলা  শিশির ভেজা শাপলায় চলে নরম রোদের খেলা  
ছাত্র অধিকার পরিষদের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ
ছাত্র অধিকার পরিষদের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ
ঢাবির ৫৩তম সমাবর্তনের আবেদন শুরু
ঢাবির ৫৩তম সমাবর্তনের আবেদন শুরু
বাংলাট্রিবিউনের সর্বাধিক পঠিত
প্রস্তুত হন, চেরাগ জ্বালিয়ে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রস্তুত হন, চেরাগ জ্বালিয়ে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
আলিবাবার জ্যাক মা পারলে আমরা পারবো না কেন: শামীমা নাসরিন
আলিবাবার জ্যাক মা পারলে আমরা পারবো না কেন: শামীমা নাসরিন
গোলমাল বাধলে ঘর স্ত্রীর নামে যাবে, স্বামীর নামে না: প্রধানমন্ত্রী
গোলমাল বাধলে ঘর স্ত্রীর নামে যাবে, স্বামীর নামে না: প্রধানমন্ত্রী
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
চোখের সামনে পড়েছিল কয়েকজনের লাশ, মৃত্যুর হাত থেকে ফিরলাম
চোখের সামনে পড়েছিল কয়েকজনের লাশ, মৃত্যুর হাত থেকে ফিরলাম