X
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

৩৯তম বিসিএস এবং রুচিবোধ পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ

আপডেট : ১১ মে ২০২০, ২১:০৭

কাবিল সাদি কথায় বলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচি ও চাহিদার পরিবর্তন হয়, ভালো লাগার বিষয়কেও এড়িয়ে চলে। একটা সময় ছিল মা বাবার সবচেয়ে মেধাবী সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এক কথায় বলতে গেলে চিরন্তন পছন্দ থাকতে হতো ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার (প্রকৌশলী) হওয়া। আমাদের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদেরও মানসিক সিদ্ধান্ত হয়ে উঠেছিল এটাই, দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া। সময় বদলেছে, চাহিদাও বদলেছে আর তাই ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেলে বা মেয়েটারও স্বপ্ন বিসিএস দিয়ে প্রথম পছন্দের তালিকায় ফরেন (পররাষ্ট্র) বা প্রশাসন নতুবা পুলিশ ক্যাডার। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা এমনই। এমনও উদাহরণ রয়েছে যে বিসিএসে যিনি মেধা তালিকায় প্রথম হয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে আছেন তিনিও ডাক্তারি পড়া। এমন বহুবার বহু ক্যাডারে যুক্ত হচ্ছেন অতীতের প্রথা ভেঙে বেরিয়ে আসা আমাদের ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা মেধাবীরা এবং ব্যতিক্রম ছাড়া এটাই বর্তমান সর্বোচ্চ চাকরির ক্ষেত্র বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রকৃত অবস্থা।

সম্প্রতি ৩৯তম বিসিএস একেবারেই ব্যতিক্রম। এটি অল্প সময়ে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা এক ঐতিহাসিক বিসিএস পরীক্ষা। এছাড়াও এই বিসিএস কিছু কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তা হলো, বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে এসে শুধু প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নিয়েই মৌখিক পরীক্ষায় সুযোগ পেয়ে সর্বোচ্চ টেকনিক্যাল ক্যাডার সার্ভিসে ঢোকা। এছাড়াও আরেকটা বিষয় ৩৯তম বিসিএসকে আলোচনায় এনেছে। তা হলো, এই বিসিএসের সব নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করে আবার নতুনভাবে আরও দুই হাজার ক্যাডারের প্যানেল নেওয়া। যারা মূলত নন-ক্যাডার ফলাফল দেওয়ার পরও চাকরি পাননি বা নন-ক্যাডারও আর পাবেন না বলে ধরে নিয়েছিলেন; তারাই আবার ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন। আসলে বিষয়টা চমকপ্রদ হলেও এর পেছনের গল্পটা মর্মান্তিক। করোনা মহামারিতে ডাক্তার সংকট ও অধিক সেবা দেওয়ার চিন্তা থেকেই সরকারের এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এ জন্যই আগে প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এবং দেশের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া ৩৮তম বিসিএসের ফলাফল এখনও দেওয়া না হলেও তড়িঘড়ি ও বিশেষ সভা করে এই ৩৯তম বিসিএস থেকে এত অধিক সংখ্যক ক্যাডার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এটা নিয়ে ৩৮তম বিসিএস দেওয়া প্রার্থীদের সামান্য ক্ষোভ বা হতাশা দেখা দিলেও অধিকাংশ চাকরি প্রার্থীই সরকার ও কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সাধারণ জনগণও এই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছে। তাই মহামারির কারণ হলেও অন্তত কিছু বেকারের কর্মসংস্থানও ঘটেছে। পাশাপাশি এই টেকনিক্যাল ক্যাডারের বিশেষ বিসিএসটাও জাতির এই মহামারি সংকটে বড় অবদান রাখতে পেরেছে।

আলোচনার শুরুতেই বলেছিলাম, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্বপ্ন ও চাহিদার পরিবর্তন হচ্ছে। তাই চিকিৎসার মতো এই অতি প্রয়োজনীয় পেশার প্রতিও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। আর তার প্রমাণ ডাক্তারি পড়েও তাদের পছন্দের তালিকায় দেখা যায় পররাষ্ট্র, প্রশাসন, কর বা পুলিশের মতো ক্যাডার। অথচ অনেকে বিসিএসে প্রথম হয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন, যদি তার এই অভাবনীয় মেধাশক্তি ডাক্তারি পেশায় দিতে পারতেন, আমরা হয়তো অনেক যোগ্য ও দক্ষ একজন ডাক্তার পেতাম। এভাবে যে ছেলে বা মেয়েটা উচ্চশিক্ষায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে পুলিশ বা প্রশাসনে যোগ দিয়েছেন, তিনিও যদি তার মেধাটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দিতেন আমরা কত মেধাবী একজন প্রকৌশলী পেতাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এটাই আজকাল হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সেই প্রবণতাই বাড়ছে। বিষয়টা এখানেই থেমে গেলেই হয়তো শেষ হতে পারতো, কিন্তু না, এখানেই শেষ নয় বরং আরও ভয়ানক হলো, যে শিক্ষার্থী একজন ভালো ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য ভার্সিটির প্রথম সেমিস্টার থেকে যে স্বপ্ন ও আবিষ্কারের নেশায় শ্রম দিতো, আজ তাকেই এসব ব্যতিক্রমী ক্যাডারে আসতে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ফাঁকে ফাঁকে অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে সময় দিতে হচ্ছে বাজার থেকে লাল নীল রঙের বাহারি বই কিনে নাক-মুখ চুবিয়ে ট্রাম্প-পুতিনের খবর নেওয়া অথবা হৈমন্তির বয়স গণনায়।

যতটা রোগীর দেহ ব্যবচ্ছেদের গভীরতা মাপবে তার থেকেও তাকে পরিমাপ করতে হচ্ছে সিরিয়া ইরাকের মানচিত্র ঘেঁটে রাজনৈতিক দেহ ব্যবচ্ছেদ। ফলাফল, ভালো ডাক্তার হওয়ার অনেক শিক্ষা আর ফর্মুলাই সে অনায়াসে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। এই শিক্ষার্থীই যদি কোনোভাবে তার পছন্দের প্রথম সারির পররাষ্ট্র, প্রশাসন বা পুলিশ ক্যাডার না পেয়ে নিজের ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডার পান, তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মতো ভয়ানক ও স্বপেশার জ্ঞানবুদ্ধিহীন একজন হাতুড়ে পর্যায়ের ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার পেয়ে থাকি, যা আমাদের জাতির জন্য অনিরাপদ। আর সুদূরপ্রসারী ফলাফল হচ্ছে, না পাচ্ছি ভালো কূটনীতিক আর না পাচ্ছি ভালো ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। এটা অবশ্যই আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ।

তবে বাস্তবতা হলো, সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থীরা যতই মেধাবী হোক তাদের অভাব পূরণ করতে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ নেই বা সুযোগ দেওয়ার চিন্তা করাটাই হাস্যকর। ঠিক এ কথাগুলো কৃষি বা অন্যান্য টেকনিক্যাল ক্যাডারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আমাদের এই রুচিবোধ পরিবর্তনের পেছনে বড় কিছু কারণ হলো আন্ত-ক্যাডার বৈষম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, গুণীর কদর না দেওয়া, আমাদের মানবিক উদারতার সংকট, দুর্নীতি নির্মূল করতে না পারা, পেশাভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক সুবিধার উচ্চ বিলাসিতাসহ দেশপ্রেমের অভাব।

আমাদের সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, প্রথা ভেঙে যুগোপযোগী কাঠামো নির্মাণের। সব আন্ত-ক্যাডার বৈষম্য ভেঙে দিয়ে টেকনিক্যাল ক্যাডারদের টেকনিক্যাল ক্যাডারে আবদ্ধ রেখে তাদের বিষয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ মেধাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানো এবং একইভাবে ধীরে ধীরে অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রেও বিষয়ভিত্তিক মেধায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা। তাহলে একদিকে যেমন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমে আসবে এবং করোনার মতো মহামারি বা যেকোনও জাতীয় সংকটে ৩৯তম বিসিএসের মতো জনবল নিয়োগ সহজসাধ্য হয়ে উঠবে। আন্ত-ক্যাডার বৈষম্য রোধ, ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ এবং সম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে ক্যাডার পরিবর্তনের চিন্তা ও প্রবণতাও কমে আসবে।

আর এতে জনগণ এই সর্বোচ্চ শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা থেকে সর্বোচ্চ নাগরিক সেবারও নিশ্চয়তা পাবে। আর এটা হলেই প্রতিফলন ঘটবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও চেতনার এবং সেই সঙ্গে গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন দেখা সোনার বাংলা।

লেখক: ব্যাংক কর্মকর্তা।

[email protected]

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সরকারি চাকরিতে বয়স ছাড়: সুবিচার না অবিচার?

সরকারি চাকরিতে বয়স ছাড়: সুবিচার না অবিচার?

পুরুষ নির্যাতন ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

পুরুষ নির্যাতন ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

কবে হবে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনার উন্নয়ন

কবে হবে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনার উন্নয়ন

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি কি বেকারদের নিয়ে ভাববে?

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি কি বেকারদের নিয়ে ভাববে?

অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৩০

মো. আখতার হোসেন জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতি বছর বিশ্বের অগণিত মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিভিন্ন দেশে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অভিবাসন তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেও অভিবাসনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আশির দশকের শুরু থেকেই দেশের কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় ও দারিদ্র্য বিমোচনে অভিবাসন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কোভিড-১৯ ও লকডাউনের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা ভর করেছে দেশের অভিবাসন খাতেও।  

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১,৭৫২.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্চ-মে মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও জুন থেকে এর ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা করোনাভাইরাসের অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ প্রায় মোট ১৬৮টি দেশে বসবাস করছেন। তারা মূলত বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং চুক্তি শেষে দেশে ফিরে আসেন।

প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের কোনও যথাযথ প্রক্রিয়া নেই বলে প্রতি বছর কতজন দেশে ফিরছেন এর সঠিক সংখ্যা বের করা বেশ কঠিন।

তবে, করোনা বৈশ্বিক মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অন্য যেকোনও বছরের তুলনায় গত বছর দেশে ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আইওএম’র হিসাব অনুসারে, গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে প্রায় চার লাখ প্রবাসী শ্রমিক কোভিড-১৯ এর কারণে দেশে ফেরত আসেন। কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে বেশিরভাগ দেশে লকডাউন ঘোষণা করায় এবং জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ অভিবাসী শ্রমিকদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ঋণদায়গ্রস্ত এবং দেশে তারা বেকার অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাই, বিদেশে যেমন তারা কষ্টে দিনযাপন করছিলেন, দেশে এসেও তারা পড়েছেন এক দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। আইওএম’র গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ফেরত আসা ৭৫ শতাংশ প্রবাস শ্রমিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বিদেশে ফেরত যেতে আগ্রহী।

সেক্ষেত্রে আমাদের দরকার প্রবাস ফেরত এই শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি কাঠামোভিত্তিক রি-স্কিলিং ও আপস্কিলিং প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা, যেটি পরবর্তীতে দক্ষতার বিচারের মাপকাঠিতে প্রবাসে চাকরি নিশ্চিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।

দক্ষতার বিচারে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত তিন রকমের অভিবাসন হয়– দক্ষ, স্বল্প দক্ষ এবং অদক্ষ। সাধারণত আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, পরিবহন, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাজ, স্বাস্থ্য সেবা, ঘরের কাজসহ স্বল্প দক্ষ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত থাকায় যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক অভিঘাতে তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। করোনায় বেশিরভাগ দেশে এসব কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী শ্রমিকই চাকরি হারিয়েছেন।

বিদেশ গমন করা অধিকাংশ শ্রমিকই কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে যান। অথচ ছয় মাস কিংবা এক বছরের একটি প্রশিক্ষণ বিদেশে তাদের পারিশ্রমিক দুই থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। তাই দেশে ফেরত আসা শ্রমিকরা যাতে ফের বিদেশ গমনের পর অধিক উপার্জন করতে পারেন, সেজন্য বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যেসব খাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন, সেসব খাতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, করোনা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের রূপ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভরতা ও উদ্ভাবন এবং নতুন দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কোভিড-১৯ যেমন কাজের ক্ষেত্রকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করেছে, একইসাথে অনেক নতুন সুযোগও সৃষ্টি করেছে। দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই ভাষাগত দক্ষতা ও প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় তারা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হন।

এসব ক্ষেত্রে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রম পরিস্থিতি আরও সুসংহত করা যেতে পারে। এছাড়া, অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, অটোমোবাইল ও ডিজিটাল খাতের কাজে বিদেশে অধিক চাহিদা থাকায়, তাদের এসব কাজ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করার ব্যাপারে নজর দেওয়া যেতে পারে। আমাদের নারী প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই বিদেশে ঘরের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের যদি ভারতের কেরালা, ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের মতো নার্সিং কোর্স করানো হয়, অথবা দক্ষভাবে গৃহপরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তা তাদের জন্য যেমন মঙ্গলজনক হবে, তেমনি আমাদের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোও সুনিশ্চিত হবে।

অভিবাসীদের জন্য বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার কয়েক ধাপে নগদ সহায়তাসহ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এর মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রবাস ফেরত শ্রমিকরা কাজে লাগিয়েছেন। প্রবাসীদের সহায়তার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনায় সুফল পেতে তাই নীতিনির্ধারকদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করা জরুরি।  আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কাকে উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব দেশ, বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ তাদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে এগিয়ে আসতে পারে।

করোনাকালীন ও পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। তাই, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি ও নতুন সম্ভাবনাময় বাজার অনুসন্ধান একসঙ্গে দুটোই চালিয়ে যেতে হবে। আর এটা করা সম্ভব হবে বহুমুখী অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই।

লেখক: সিনিয়র সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ‎গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

চিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

২৩ নাগরিকের বিবৃতিচিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune