দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই আসছে আরেকটি নতুন অর্থবছর। এই অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে অর্থবিভাগ। নতুন বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখাই হবে আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য। অর্থাৎ আগামী অর্থবছর নিত্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং জীবনযাত্রার মান যেন সীমার মধ্যে থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে চান অর্থমন্ত্রী। এজন্য মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে সাড়ে ৬ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অঙ্কের বাজেট। জাতীয় সংসদে আজ বৃহস্পতিবার (৬ জুন) নিজের প্রথম বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী যে বক্তব্য দেবেন; তার শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার’। কিন্তু এই সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে; চলছে সেই হিসাব-নিকাশ। তারমধ্যে অন্যতম এই মূল্যস্ফীতি ও ঋণ পরিশোধ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তুত করা বাজেটে ঘাটতিই থাকবে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বিশাল পরিমাণ ঘাটতি পূরণে কয়েকটি খাতকে উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ব্যাংকিং খাত। এই খাত থেকে মোটা দাগে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ১ লাখ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণও রয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকবহির্ভূত খাত হিসেবে বিবেচিত সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এনবিআরকে রাজস্ব আয়ের টার্গেট দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। নন-এনবিআর থেকে আসবে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর কর ব্যতীত প্রাপ্তির টার্গেট থাকছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে না পারায় বাধ্য হয়ে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর সরকারকে ভরসা করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা কম। সেখানে আগামী অর্থবছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কীভাবে সম্ভব তা নিয়ে শঙ্কা জানান তিনি।
এই বাজেটের আরেক চ্যালেঞ্জ ব্যাংক ঋণ। প্রস্তাবিত বাজেটের ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে সরকার। যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাজেটে অর্থের জোগান দিতে সরকারকে এখন আগের চেয়ে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ।
পাশাপাশি ডলার-সংকট ও ডলারের বাড়তি দাম সরকারকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বেশ চাপে ফেলেছে। আগামী অর্থবছরের জন্য সুদ পরিশোধে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রীর ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ কতটা সহজ তিনি করতে পারবেন সেটি সময়ই বলে দেবে।









