X
শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২
১৮ আষাঢ় ১৪২৯

নগর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় গলদ এবং উত্তরণে পথরেখা

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২১, ২২:৩৭

স ম মাহবুবুল আলম

বড় মাপের মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, মনোরম বেসরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে আমাদের নগর পরিপূর্ণ। গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি বেশি। তবু শহরে দরিদ্র ও বস্তিবাসী রোগাক্রান্ত হলে চিকিৎসকের দেখা পায় না। এ কারণে তারা হাতের কাছে ফার্মেসি থেকে অসম্পূর্ণ ও ভুল ওষুধ কিনে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করে। সরকারি হাসপাতালে চোখে পড়ে দীর্ঘ লাইন, দুর্গন্ধময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, জনভোগান্তি, অপ্রতুল ও নিম্নমানের সেবা।

রোগ জটিল হলে নগরবাসী চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে দৌড়ায়। তখন পকেট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বেরিয়ে যায়। রোগীরা প্রায়ই মারাত্মক বা অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছে নগরের হাসপাতালে যায়। সেখানে জরুরি বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতিতে বিপুল সংখ্যক রোগীর প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটে। এসব জেনে শুধু উন্নত দেশের নয়, আমাদের দেশের মানুষও আঁতকে উঠবে।

আমাদের গ্রামাঞ্চলে এখন বহু স্তরের শক্তিশালী গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য– বাড়ি থেকে সেবা, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স। অন্যদিকে নগরে তেমন সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত অনুপস্থিত।

বাংলাদেশে ২০০৯ সালের আইনে নগর জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা) প্রতিষ্ঠানের হাতে অর্পণ করা হয়। অথচ দীর্ঘ একযুগে তাদের মধ্যে নগর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কোনও উদ্যোগ বা সামর্থ্যের প্রকাশ দেখা যায়নি। বস্তুত নগরের বিপুল জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনও স্বাস্থ্য ইউনিট, কারিগরি জ্ঞান, অবকাঠামো বা জনবল নেই। সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার স্বাস্থ্যসেবার জন্য কোনও পৃথক আর্থিক খাত নেই। এখানে নীতিনির্ধারক ও দায়িত্বশীলরা নগরে স্বাস্থ্যসেবা কার দায়িত্ব তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন এবং দায়িত্বহীন আচরণ দেখিয়ে যাচ্ছেন।

আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বড় সহযোগী এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। তাদের অর্থায়নে (ঋণে) ১৯৯৮ সাল থেকে ২৩ বছর ধরে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে চলমান রয়েছে ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি’ প্রকল্প। এটি নগর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দায়িত্ব নিয়ে একটি ভ্রান্ত ধারণা পোক্ত করতে সহায়ক হচ্ছে। সরকারের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গেও এই প্রকল্প অসঙ্গতিপূর্ণ। এটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে ক্ষমতাহীন করেছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সরে গেছে। (এটাও সত্যি যে, বিদেশি দাতা ও এনজিওদের পক্ষে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের রাজনৈতিক প্রভাব, অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ, অসৌজন্যতা ও দুর্নীতি মোকাবিলা করে কাজ করা একটি দিবাস্বপ্ন)। এ কারণে প্রকল্পটি দেশের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে দিকনির্দেশনাহীন বিভিন্ন দুর্বলতায় ভরা এই প্রকল্প নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে দুর্বল করে রেখেছে। নগরে গড়ে ওঠেনি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সরকারি সক্ষমতা বা অবকাঠামো। নগরবাসী দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে এনজিওদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসেবা ক্রয় করা হয় এই প্রকল্পে। এক্ষেত্রে এনজিওদের জনবল, দক্ষতা ও মানসম্পন্ন সেবা প্রদানের সক্ষমতা বিবেচনায় রাখাটা দৃশ্যমান নয়। এককভাবে স্বতন্ত্র একটি এনজিও’র পক্ষে সম্পূর্ণ ও সমন্বিত প্রাথমিক সেবা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি প্রায় অসম্ভব। নগর টেকসই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অবকাঠামো তৈরির উপযোগী নয় তাদের অস্থায়ী সেবা ও মোটিভেশন।

নগরবাসী জানে না, কার্যত তাদের প্রদত্ত করের অর্থেই (ঋণের অর্থ কর থেকেই শোধ করা হয়) এনজিওরা তাদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। তাই তাদের মধ্যে এর প্রতি কোনও অধিকার বোধ কাজ করে না। এনজিওদের কাছ থেকে যা পায় সেটাই তারা বাড়তি পাওয়া ভেবে খুশি থাকে।

বর্তমানে প্রকল্পের চলমান চতুর্থ ধাপের কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালে। এতে গত ২৩ বছরে মোট ৩৪৮ মিলিয়ন ডলার (২৯২৩২ কোটি টাকা) ব্যয় হয়েছে। ফেজ১-এ ৫২ লাখ থেকে (১৯৯৮ সালের নগর জনসংখ্যার ২৮%) চতুর্থ ফেজ ১ কোটি ৭৭ লাখ নগরবাসীকে (২০২১ সালের নগর জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ) প্রকল্পের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এনেছে। অবশ্যই ঋণের অর্থে পরিচালিত এই প্রকল্প থেকে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন কিছু দরিদ্র নগরবাসী। আশা করা যায়, প্রকল্পভুক্ত এলাকায় সেসব বছরে স্বাস্থ্য সূচকগুলোতেও উন্নতি হয়েছে।

তবে প্রশ্ন হলো, সরকার কি ব্যয়কৃত অর্থের বিপরীতে নগরবাসীর জন্য যথাযথ পরিমাণ স্বাস্থ্যসেবা কিনতে সমর্থ হয়েছে? ঋণের অর্থে কেনা স্বাস্থ্যসেবা তদারকি করা এবং প্রকল্পকে একটি টেকসই বিকল্প ব্যবস্থায় রূপান্তরের আগ্রহ, দক্ষতা, জনবল ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কি স্থানীয় সরকার বিভাগের ছিল? যদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে এই দায়িত্ব ন্যস্ত থাকতো তাহলে প্রকল্পটি বৃহত্তর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত হয়ে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরিতে সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

বিশৃঙ্খল নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দায় শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নিতে হয়। করোনা বা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার দায়ভার এড়াতে পারে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের রুলস অব বিজনেস এবং অ্যালোকেশন অব বিজনেসে সারাদেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার দায়িত্ব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে। জনগণও তা-ই মনে করে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেই গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কাঠামোর আদলে নগরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার শক্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। দু্ই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অস্পষ্টতা সৃষ্টি করে বিষয়টিকে অমীমাংসিত ও জিইয়ে রাখার পক্ষে অনেক কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। এখন সরকারের প্রবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা বিষয়টির সমাধান বেগবান করতে পারে।

নগরে কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা পাবে রেফারেল সিস্টেম। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে। সরকার সঠিক নীতি গ্রহণ করলে নগরে অবস্থিত উচ্চ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি, শিক্ষাদান ও গবেষণায় যথাযথ মনোযোগ দিতে সক্ষম হবে।

একটি নগরে বহুবিধ জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা থাকে। নাগরিকদের স্বাস্থ্যের বৃহত্তর নির্ধারক, যেমন– বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন ব্যবস্থাপনা, রাস্তা পরিষ্কার, টয়লেট স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি পালন, নিরাপদ জল সরবরাহ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ব্যবস্থাপনা, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, অগ্নিনিরোধ, পেশাগত রোগ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, বন্য কুকুরের নিয়ন্ত্রণ, মশা নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ, শিশু পুষ্টি, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, সবুজায়নসহ বিবিধ সমস্যা সমাধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এসব ক্ষেত্রে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলোর উচিত জনবল ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে সমক্ষতা তৈরি করে নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখা। সেই প্রয়াসকে সফল করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে শক্তিশালী জনশক্তি অবকাঠামো এবং কমিউনিটির সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। স্বাস্থ্য কখনোই বিচ্ছিন্ন সমস্যা ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।

২০৪০ সালে দেশের জনসংখ্যা ২৩ কোটি হবে, যার অর্ধেকের বেশি (সাড়ে ১১ কোটি) বাস করবে নগরে। তাদের এক-তৃতীয়াংশই বস্তিবাসী। দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রক্রিয়ায় নিরাপদ খাবার, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাব এবং ঘনবসতিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপনের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। নগরের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যারা জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ব্যবসা বন্ধ হয়ে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ছে তা আমরা জানি না! বস্তিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার গ্রামীণ শিশু মৃত্যুহারের চেয়ে বেশি। অধিকাংশ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। নগরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওপিডি এবং কিছু সরকারি ডিসপেনসারির মাধ্যমে দেওয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও তাদের বিবিধ স্বাস্থ্য সমস্যা দেখভাল করার জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনবল, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ। বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে ধারণ করা, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতিসহ তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের লক্ষ্যপূরণ ও পেশাগত বিকাশ ঘটানোর সুযোগ ও সক্ষমতা নেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার। এনজিও ও পৌরসভায় সীমিত সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে  স্বাস্থ্যকর্মীরা যোগ দিতে চায় না। তাছাড়া তারা যোগ দিলেও দ্রুতই ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে খুব সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি করণীয় হতে পারে–

১. আইনগত অসঙ্গতি বা ফাঁক থাকলে তা দূর করে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নগর স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তুলতে নেতৃত্বের হাল শক্ত হাতে ধরতে হবে।

২. নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কমপক্ষে দুই স্তরে বিন্যাস করে নগর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অবকাঠামো, জনবল, স্থান, সংখ্যা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের প্রকার ও সেবার ধরন নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ ও ঐকমত্য।

৩. শুরু থেকেই সার্বক্ষণিক জরুরি সেবাসহ ডাবল শিফট চালু রাখতে হবে।

৪. স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও মূল্যায়নে তথ্যপ্রযুক্তির (ডেটাবেজ) ব্যবহার নিশ্চিতের পর সেবা চালু করতে হবে।

৫. বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে বিপুল বিনিয়োগ। তাই সরকারকে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতে হবে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি অর্থায়ন অপরিহার্য।

৬. প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জনবল পরিচালনা ও সেবা প্রদানে নিজস্ব ভূমিকা রাখার সুযোগ দিলে ভালো। এক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার নীতি পরিবর্তন করে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত অর্থ (ইউজার ফি) স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের অধিকার দেওয়া যায়।

৭. কমিউনিটি ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের উদ্যোগ থাকা চাই। কমিউনিটি ক্ষমতায়ন ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসার সঙ্গে পুষ্টির মানোন্নয়ন, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান, স্বাস্থ্যবিধি শিক্ষা ইত্যাদি (প্রমোটিভ, প্রিভেনটিভ, কিউরেটিভ ও রিহ্যাবিলিটেটিভ) নিয়ে বহুমুখী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

৮. নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক এনজিও বিশেষ অবদান রেখে চলছে। তাদের ত্যাগী মনোভাব, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৯. বতর্মানে দেশে নগরাঞ্চলের ৮০ ভাগ স্বাস্থ্য স্থাপনা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাতে। বেসরকারি খাতকে সরকারের পরিপূরক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অলাভজনক বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে সহযোগিতা করা দরকার। বেসরকারি লাভজনক ও বেসরকারি অলাভজনক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে আনা যেতে পারে। তাদের আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা দিতে হবে।

১০. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে (সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা) জনস্বাস্থ্য সমস্যায় করণীয় পালনে জনবল নিয়োগ ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের অমানবিক আচরণ ও দুর্নীতির মুখরোচক গল্পে বুঁদ না থেকে সুশৃঙ্খল নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানাতে হবে জনগণকে। দারিদ্র্য বিমোচন ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য চাই শক্তিশালী নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। সিনিয়র কনস্যালটেন্ট ও ল্যাব কো-অর্ডিনেটর, প্যাথলজি বিভাগ, এভার কেয়ার হাসপাতাল।

/এসএএস/জেএইচ/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
এবার নুপুর শর্মার বিরুদ্ধে ‘লুক আউট’ নোটিশ জারি
এবার নুপুর শর্মার বিরুদ্ধে ‘লুক আউট’ নোটিশ জারি
বুভুক্ষাই জন্ম দিয়েছে ইরোটিকার
বুভুক্ষাই জন্ম দিয়েছে ইরোটিকার
টেস্টে ব্রডের ব্যয়বহুল ওভারের বিশ্বরেকর্ড (ভিডিও)
টেস্টে ব্রডের ব্যয়বহুল ওভারের বিশ্বরেকর্ড (ভিডিও)
ঢাকার টিকা খেয়েছেন অন্য জেলার মানুষও
ঢাকার টিকা খেয়েছেন অন্য জেলার মানুষও
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ