X
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ওমিক্রন প্রতিরোধ যেন ডেল্টার মতো না হয়

সালেক উদ্দিন
২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:০৬আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:০৬

সালেক উদ্দিন সারা পৃথিবী এখন শঙ্কিত করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে। করোনাভাইরাসের এই ধরনটি জ্যামিতিক হারে বিস্তার লাভ করার ক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা ঘোষণা দিয়েছেন, করোনাভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রমণশীল ও বিপজ্জনক। ওমিক্রনের  ছোবল থেকে বাঁচতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের সব দেশই সতর্ক। তারপরেও ওমিক্রন চলছে তার নিজস্ব গতিতে। আলেকজান্ডারের যেমন বিশ্বজয়ের নেশা চেপে বসেছিল, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ওমিক্রনও যেন সেই নেশায় মেতে উঠেছে।

এরইমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ওমিক্রনের শুধু অস্তিত্বই নয়, ব্যাপক বিস্তারের খবর মিলছে। বিশ্ব নিয়ন্তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওমিক্রন।

আর সব বিশেষজ্ঞদের মতোই Microsoft-এর উদ্যোক্তা বিল গেটস বেশ কিছু দিন ধরে এ ব্যাপারে নিয়মিত টুইট করছেন। তার কয়েকটি টুইট পড়লাম। টুইটারে তিনি লিখেছেন, করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনটি যেকোনও ভাইরাসের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে। এর গতির সঙ্গে বিদ্যুতের গতি তুলনা করলে খুব একটা ভুল হবে না। তার ঘনিষ্ঠ ‘বন্ধু’রা একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন ওমিক্রনে। তিনি এমন সময় টুইট করেছেন যখন তার নিজের দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে ওমিক্রনের হার ৩ থেকে ৭৩ শতাংশে উঠে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমিক্রন এতই দ্রুত ছড়ায় যে একটি দেশে এটি বিস্তার লাভ করতে শুরু করলে পুরো দেশময় ছড়াতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ তিন মাস। এসব বিবেচনা করেই হবে হয়তো বিল গেটস বলেছেন, ‘আমরা সম্ভবত করোনা মহামারির সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে প্রবেশ করছি’।

বাংলাদেশে যেহেতু এখনও গণহারে শিশুদের টিকার আওতায় আনা যায়নি, তাই ওমিক্রন নিয়ে দুশ্চিন্তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দেখা গেছে পৃথিবীর যেখানে ওমিক্রন তার ভয়াল থাবা হেনেছে সেখানে শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুবরণ করছে।

ভয়ের খবর হচ্ছে যে প্রতিবেশী ভারতে ওমিক্রনের অস্তিত্বের খবর পাওয়া গেছে। খবরটি এ কারণে আমাদের জন্য ভয়ংকর যে  গেলো বছর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে যখন ভারত নাস্তানাবুদ অবস্থায় তখনও বাংলাদেশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টমুক্ত ছিল। আমরা মুখে বললেও বাস্তবে ভারতের সঙ্গে স্থল ও নৌবন্দরে যাতায়াতের যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কথা বলেছিলাম বাস্তবে তা হয়নি। ফলে বাংলাদেশকে ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রকোপে কাঁপতে হয়েছিল। প্রাকৃতিক কারণেই হোক বা টিকার জন্যই হোক অথবা মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সফলতার কারণেই হোক, শেষ পর্যন্ত সেই ক্রান্তিকাল থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা সক্ষম হয়েছিলাম।
ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট যত দ্রুত বিস্তার লাভ করার কথা জেনেছি তাতে ভারতে এর বিস্তার লাভ করলে আমাদের দেশেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়াতে খুব একটা  সময় লাগবে না বলে মনে হচ্ছে। যেহেতু চিকিৎসা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানাবিধ কারণে আমরা ভারতের সঙ্গে যাতায়াতের বিধিনিষেধ দিয়েও তা পরিপালন করতে পারি না সেহেতু বলা যেতে পারে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে দেশময় তা ছড়িয়ে পড়বে খুব অল্প সময়ে।

প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে যে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ পৃথিবীময় আবার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু যুক্তরাজ্যে দিনে গড়ে এক লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।  যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপের প্রায় সব দেশেই এর প্রকোপ দুর্দান্ত আকার ধারণ করছে। পিছিয়ে নেই যুক্তরাষ্ট্র এবং আফ্রিকার দেশসমূহ।

আমাদের দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে যাওয়ার কারণেই হবে হয়তো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে আমাদের সতর্কতা মোটামুটি নেই বললেই চলে। বর্তমানে কাঁচাবাজার, শপিং মল, বাস-ট্রেন-লঞ্চ সর্বত্র গাদাগাদি করে মানুষ বিচরণ করছে। মাস্ক পরার বিষয়েও শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক অনুষ্ঠানাদি ইত্যাদিতে  চলছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই কোথাও। মসজিদে এখন আর দূরত্ব বজায় রেখে কেউ নামাজ আদায় করে না। মাস্ক পরার অনীহা রয়েছে অনেক মুসল্লির মধ্যেই। ফুটপাতে মাস্ক ছাড়াই হাঁটছে মানুষ, গণপরিবহনের যাত্রীরা মাস্কের ব্যাপারে কেন যেন উদাসীন। পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষ যুদ্ধে নেমেছে মাস্ক ছাড়াই। সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধির কোনও বালাই নেই সেখানে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে জ্যামিতিক হারে সংক্রমণের ক্ষমতাসম্পন্ন করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট পুরো দেশকে সংক্রমিত করতে খুব একটা সময় নেবে বলে মনে হয় না।

এখনই সময় সরকারি বেসরকারি ও সামাজিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করার। টিকাদান কার্যক্রম আরও সহজ এবং জোরদার করা। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা ও তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। পাশের দেশ থেকে স্থল ও নৌ-বন্দরের মাধ্যমে দেশে প্রবেশের সময় সবাইকে টেস্ট এবং প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনে আইসোলেশন ইত্যাদির মাধ্যমে ওমিক্রন নিয়ে কেউ  দেশে প্রবেশ করছে না তা নিশ্চিত করা। প্রবেশ করলেও আক্রান্তরা সুস্থতার আগে অন্যের সান্নিধ্যে যেন  আসতে না পারে  সে ব্যাপারে যুগোপযোগী ব্যবস্থা নেওয়া। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরে ওমিক্রন নিশ্চিতের জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা অব্যাহত রাখা। ওমিক্রন  প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর যে ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে তার যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করা।

স্থলবন্দর নৌবন্দর বিমানবন্দর প্রতিটি স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে ওমিক্রন টেস্টের ফলাফল পাওয়ার মতো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা এবং প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ওমিক্রন টেস্টের আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রতিটি হাসপাতাল এবং যেসব স্থানে কোভিড টেস্ট করা হয় সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে রাখা অত্যাবশ্যক বলে মনে করছেন তাঁরা।

লেখক: কথাসাহিত্যিক

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
মঞ্চের সামনে বসা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি
মঞ্চের সামনে বসা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি
মেসিদের আনন্দের রাত
মেসিদের আনন্দের রাত
মুক্তি-সংগ্রাম ঢাকার দ্বারপ্রান্তে, টার্গেট কিলিং শুরু
মুক্তি-সংগ্রাম ঢাকার দ্বারপ্রান্তে, টার্গেট কিলিং শুরু
খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশ অভিমুখে বিএনপি নেতাকর্মীরা
খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশ অভিমুখে বিএনপি নেতাকর্মীরা
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ