X
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪
২১ ফাল্গুন ১৪৩০

টিনের চশমা দিয়ে মানবাধিকার দর্শন নয়

আবদুল মান্নান
২৭ মার্চ ২০২৩, ১৮:৩৪আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩, ১৮:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রতিবছর একতরফা নিজের দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ছাড়া বিশ্বের অনেক দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সারা বিশ্বে সেটা ছড়িয়ে দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেয় কোন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কী হাল।

এই বছরও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি। পাঠককে ইলহান ওমর নামক সোমালীয় বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

ইলহান ওমরের বয়স ত্রিশের কিছু বেশি (জন্ম ১৯৮২)। যুক্তরাষ্ট্রের মিনিসোটা অঙ্গরাজ্য হতে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একজন  কংগ্রেস সদস্য (আইন প্রণেতা) নির্বাচিত হন। জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। সোমালিয়ার শরণার্থী শিবিরে একজন বালিকা হিসেবে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব মিলেছে। উচ্চশিক্ষিত ইলহান তাঁর যোগ্যতা ও সাহসের গুণে কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ এই কারণেই, তিনি আফ্রিকা ও আরব দেশগুলোতে কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় তা নিয়ে সবসময় বেশ সোচ্চার ছিলেন। মাসখানেক আগে ইলহান কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে বেশ উচ্চ কণ্ঠে ইসরায়েল কর্তৃক প্যালেস্টাইনে কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় তা তুলে ধরে তার জোরালো প্রতিবাদ জানালেন। এটি ইলহানের জন্য কাল হয়ে গেলো। ক’দিন পরই ইলহান ওমর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি হতে অপসারিত হয়ে গেলেন। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে এসব বিষয়ে কথা বলা একেবারেই হারাম। সেই যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের বাছাই করা দেশের মানবাধিকার নিয়ে প্রতিবছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে চারদিকে নিন্দিত হয়।

২০২২-এর এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো এবং তাতে যথারীতি বাংলাদেশসহ অনেক দেশের মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উষ্মা প্রকাশ করলো। তেমন কোনও কার্যকর উল্লেখ নেই মিয়ানমার বা ইসরায়েলের অথবা নিজ দেশের।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলো। উল্লেখ্য, র‌্যাবকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্র। র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিয়োজিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও লন্ডন হতে প্রকাশিত গার্ডিয়ান পত্রিকা গবেষণা করে ২০২২ সালে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বছরে গড়ে এক হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করে, যার বেশিরভাগ কালো আমেরিকান (২০১৩-২০১৯)। অনেক সময় দেখে গেছে, কোনও পার্কে একজন শিশু খেলনা বন্দুক নিয়ে খেলছে। কেউ একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফোন করলো পার্কে একজনকে বন্দুক হাতে দেখা গেছে। এসে গেলো কয়েকটি পুলিশের গাড়ি। কোনও প্রশ্ন ছাড়াই ট্রিগারে হাত পড়লো। লুটিয়ে পড়লো শিশুটি। কাছে গিয়ে দেখা গেলো এটি খেলনা বন্দুক, যা ওই শিশুর  হাতে ছিল। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটারস’ (কালোদের জীবনও গুরুত্বপূর্ণ) নামে শুরু হয়েছিল একটি আন্দোলন।

যার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কালোদের ওপর যে ভয়াবহ নিপীড়ন ও তারা সর্বক্ষেত্রে যে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। এই আন্দোলনে তীব্রভাবে হাওয়া লাগলো ২০১৪ সালের জুলাই মাসের ১৭ তারিখ যখন এরিখ গার্নার নামের একজন কালো আমেরিকানকে ড্যানিয়াল পান্টালিও নামের নিউ ইয়র্কের একজন পুলিশ সদস্য গলায় পায়ের বুট দিয়ে চেপে ধরে আরশোলার মতো প্রকাশ্যে দিনের বেলায় হত্যা করলো। বাংলাদেশের অনেক সুশীল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে প্রায়ই বলে থাকেন সেই দেশে অপরাধ হলে তার বিচার হয়। এই যে গার্নারকে একজন পুলিশ আরশোলার মতো হত্যা করলো, তার সঙ্গে আরও অর্ধডজন পুলিশ সদস্য ছিলেন, তাদের তো কিছু হলো না। মেক্সিকো হতে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেক পরিবার বর্ডার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধৃত হলো। এরপরের কাহিনি আরও মর্মান্তিক। পরিবার বিচ্ছিন্ন করে অনেক শিশুকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হলো। এখন পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে আর কিছু জানা নেই। কোথায় গেলো যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার? তামাম মধ্যপ্রাচ্য ও লিবিয়াকে তছনছ করে দিলো সাবেক বুশ প্রশাসন। সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিলো।

কোনও দেশ সিরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখতে পারবে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে উপনীত হলো যে সম্প্রতি তুরস্ক ও সিরিয়াতে যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হলো, অনেক দেশ তুরস্ককে সহায়তা দিতে এগিয়ে এলো খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে, আর যে দু-একটি দেশ সাহস করে সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিল তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই ভূমিকম্পে সিরিয়ায় প্রায় সাত হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কোনও সুশীল বা সংস্থাকে কথা বলতে শোনা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক ২০২২ সালের যে প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাতে আছে, ২০১৮ সালের নির্বাচন বিষয়ক তথ্য (যা থাকার কথা ছিল পরের বছরের প্রতিবেদনে), আছে বাংলাদেশ নাকি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেয়, গণমাধ্যমে আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাকি নেই, সরকার বিচার ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ করে, আর আছে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। পরের অভিযোগটায় আগে আসি। দুর্নীতি যে কিছুটা লাগামহীন হয়েছে তা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে চারদলীয় জোট সরকারের আমলের সঙ্গে পার্থক্য হচ্ছে বর্তমান সময়ের দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের বিচার হচ্ছে। তবে তাকে যে আরও জোরদার করতে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা?

বিএনপিসহ যারা বর্তমান সরকারকে টোকা দিয়ে ফেলে দিতে চায় তারা তো দেশের কোথাও না কোথাও মাইক লাগিয়ে সরকার আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অস্বীকার করছে। মুক্তিযুদ্ধে কতজন শহীদ হয়েছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বেগম জিয়ার একজন সাবেক উপমন্ত্রী টিভিতে এসে চড়া গলায় বলছেন, জিয়ার সামরিক শাসন গণতন্ত্রের চেয়ে ভালো। আর একজন নেতা বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এত কান্নাকাটির কী হলো। একজন তো বলেই ফেললেন বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তান ভালো ছিল। একজন সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চান। শনিবার বিএনপির মহাসচিব দলের সমাবেশে বললেন, আওয়ামী লীগের ভুলেই নাকি ১৯৭১ সালে  গণহত্যা হয়েছে।

তারপরও স্টেট ডিপার্টমেন্ট আবিষ্কার করে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। আর বিরোধী দল ও তাদের মিত্ররা যদি একটি জনবহুল রাজপথ দখল করে সমাবেশ করতে চায়, তা বাধা দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মানহ্যাটান আইল্যান্ডের টাইমস স্কয়ারে যদি কেউ সমাবেশ করতে চায়, তা কি সেই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করতে দেবে? বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ তো দলীয় অফিসের সামনে চৌদ্দ ফুট কাঁটাতারের ভিতর পাঁচ বছর সমাবেশ করতে বাধ্য হয়েছে। সেই সমাবেশেও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড মেরে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার চেষ্টা করেছে বিএনপি চেয়ারপারসনের পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত। তখন কোথায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার বিষয়ে কান্না?

২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ২০২৩ সালে কথা বলার মধ্যে এক ধরনের দুরভিসন্ধি থাকাটা বিচিত্র নয়। কারণ, আর কয়েক মাস পরেই দেশে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে যেকোনও উপায়ে বিএনপি’র পলাতক চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসাতে অনেক সুশীল ও সংগঠন প্রকাশ্যে ও গোপনে তৎপর।

এই প্রতিবেদন তাদের চাঙা করবে। আর অতীত ঘাঁটলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র দেশে দেশে সবসময় অসাংবিধানিক পন্থায় কোনও একটি বিশেষ দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিতে ক্ষমতায় আনতে সবসময় তৎপর ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইরানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ড. মোসাদ্দেককে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উৎখাত করে। তারপর ইন্দোনেশিয়া, মিসর, ফিলিপাইন, চিলি, সাইপ্রাস, বাংলাদেশ, পানামা, নিকারাগুয়া, হাইতি, মেক্সিকো, এনগোলা, কোরিয়া প্রভৃতি দেশে গণতন্ত্র রফতানির নামে স্বৈরতন্ত্রের যুগ শুরু করেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে ইয়াহিয়া খান ত্রিশ লক্ষ মানুষ হত্যা করলো, তিনি নিক্সন প্রশাসনের বেশ প্রিয় পাত্র ছিলেন। কিউবাতে চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র বিফল হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রর হাত ছিল– তা তাদের এখন অবমুক্ত করা দলিলই সাক্ষ্য দেয়।

বুধবার ঢাকার এক সমাবেশে বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ বেশ জোর গলায় বললো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে দেশের মানুষ লজ্জিত হয়েছে। দেশের মানুষ এই প্রতিবেদনে লজ্জিত হয়নি। দেশের মানুষ লজ্জিত হয়েছিল যখন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইর একটি তদন্ত দল ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নাইকো দুর্নীতি মামলা তদন্ত করতে বাংলাদেশে পাঁচবার সফরে এসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেখানে স্পষ্টভাবে বিশ্বকে জানিয়ে দিলো বেগম জিয়া ও তাঁর পুত্র তারেক রহমান নাইকো জ্বালানি কোম্পানি হতে এক বিশাল অঙ্কের অর্থ উৎকোচ নিয়েছে। মামলাটি যেহেতু এখনও বিচারাধীন, সেহেতু যতটুকু দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও এফবিআইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে তা-ই বলা হলো।

আসি র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে। এই এলিট ফোর্সটি গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। প্রথম ধাক্কায় তারা ৫৯ জন মানুষকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করলো, যাদের বেশিরভাগই বিরোধীদলীয় নেতা কর্মী। পাঠকের জামাল ফকিরের কথা নিশ্চয় মনে আছে। যাকে র‌্যাব হত্যা করেছিল সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে। সেই সময় র‌্যাবের এসব হত্যাকাণ্ড জায়েজ করার জন্য তৎকালীন সরকার সংসদে দায়মুক্তি আইন পাস করিয়েছিল। তখন কোথায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার দলিল?

বর্তমান সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের হাতে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ছয়জন র‌্যাব সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের জামাতাও আছে। এই ঘটনা কি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানে না?

র‌্যাব যে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সফলভাবে কাজ করেছে তাতে মনে হয় স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুশি নয়। সার্বিক বিচারে মনে হয় যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হোক। মধ্যপ্রাচ্য বা আফগানিস্তানে এখন যে জঙ্গিবাদের রমরমা অবস্থা তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কতটুকু তার জন্য বড় কোনও গবেষণার প্রয়োজন নেই। আর র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তার ওপর যে অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, একই অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পুলিশ বিভাগকেই অভিযুক্ত করা যায়। আসলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি ও বাংলাদেশসহ অনেক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, তারা সম্ভবত তাদের সেই গুরুত্বটা বুঝতে পারছে না এবং নানা ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডে তাদের অবস্থানকে নড়বড়ে করে ফেলছে। যে দেশে থমাস জেফারসন, জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, ফ্র্যাঙ্কলিন রুজবেল্টের বা ড. মার্টিন লুথারের মতো পর্বতসম উচ্চতার নেতার জন্ম দেয়, সেই দেশের কোনও সংস্থা অন্য দেশ সম্পর্কে কোনও প্রতিবেদন প্রস্তুত করলে তা নির্মোহ ও সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা উচিত। সার্বিক পরিস্থিতি স্বচ্ছ কাচের চশমা দিয়ে দেখা প্রয়োজন, টিনের চশমা দিয়ে নয় ।

স্বাধীনতার মাসে সব শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক: বিশ্লেষক ও গবেষক

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
শেফিল্ডকে হারিয়ে যে রেকর্ড গড়লো আর্সেনাল
শেফিল্ডকে হারিয়ে যে রেকর্ড গড়লো আর্সেনাল
১৮ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছে চিনিকলে
১৮ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছে চিনিকলে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এসি চালুর আগে যে ৫ সতর্কতা জরুরি
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এসি চালুর আগে যে ৫ সতর্কতা জরুরি
গর্ভপাতকে সাংবিধানিক অধিকার দিলো ফ্রান্স
গর্ভপাতকে সাংবিধানিক অধিকার দিলো ফ্রান্স
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ