X
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪
২১ ফাল্গুন ১৪৩০

উচ্চ দ্রব্যমূল্য মোকাবিলা করবেন কীভাবে?

সাইফুল হোসেন
১১ জুলাই ২০২৩, ১৭:৪৯আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৩, ১৭:৪৯

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। মূলত ইনফ্লেশানে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়, ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে সমাজের উচ্চবিত্তের মানুষের চেয়ে যারা মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র মানুষ তাদের কষ্ট অনেক বেড়ে যায়।  

বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষদের খুব বিপাকে ফেলেছে। উল্লেখ্য যে সমাজের নিম্নবিত্তের মানুষের মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ যায় খাদ্যদ্রব্য কিনতে। তাই বর্তমান আয় দিয়ে তাদের চলা খুবই কষ্টকর। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত  মানুষের আয়ের স্তর অনেক নেমে গেছে, ফলে তাদেরও ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা। তাদের সমস্যা কোনও কোনও ক্ষেত্রে আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। কারণ, তারা একদিকে যেমন কারও কাছে হাত পাততে পারেন না, আবার পারেন না সহজে একটি বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে। ইনফ্লেশনের কারণে প্রকৃতপক্ষে সমাজের সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এখন সবার প্রশ্ন হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সামাল দেওয়ার উপায় কী? এই অবস্থায় মূলত নিজের অনেক কিছুই করার আছে। আমরা আজ আলোচনা করবো এই বিষয় নিয়ে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সামাল দেওয়ার জন্যে আপনি কিছু কাজ করতে পারেন। মূল কথা হলো,  দ্রব্যমূল্য প্রতিদিন বাড়ছে, কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। যখন প্রচণ্ড বিপদ আসে মানুষের, তখন সেই বিপদ থেকে তার পালানোর কোনও পথ থাকে না। যেহেতু পালানোর কোনও পথ থাকে না, তাই তখন আপনাকে ফাইট করতে হবে, আপনাকে স্ট্রাগল করতে হবে, আপনাকে টিকে থাকতে হবে।  আপনাকে দুরবস্থার সঙ্গে তীব্র লড়াই করতে হবে। মনে রাখতে হবে আমরা মানুষ, আমরা অনেক কিছু পারি।  স্রষ্টা আমাদের সেই শক্তি দিয়েছেন।  কিন্তু এই টিকে থাকার জন্যে আমি আপনাদের ছয়টি পরামর্শ দেবো। এই ছয়টা পরামর্শ যদি মেনে চলেন তাহলে আপনার জীবন অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

এক. প্ল্যানিং ও বাজেটিং:

আপনি আপনার আর্থিক ব্যাপারে একটা পরিকল্পনা এবং বাজেটিং করবেন। বিগত দিনগুলোতে খেয়াল করলে দেখবেন বা আপনার চারপাশের লোকজনের অবস্থা দেখলে বুঝবেন যে কেউ কিন্তু তাদের এক্সপেন্ডিচারের বা খরচের কোনও বাজেট করে না। কোনও পরিকল্পনাও করে না যে তারা কীভাবে খরচ করবে। আপনার আয়ের পথ হয়তো একটা বা দুটো  কিন্তু খরচের শত পথ আছে। যদি আপনি এই বাজেট না করেন বা কোনও পরিকল্পনা না করেন তাহলে এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময় আপনার টিকে থাকা আসলেই কঠিন হবে। এই প্ল্যানিং এবং বাজেটিং কী? সেটা আমি সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

আপাতত এক মাসের জন্য পরিকল্পনা করবেন। যখন আপনি পরিকল্পনা করবেন তখন সেটা নোট করে ফেলবেন। আপনি জানেন যে আপনার আয় কত। আপনি লিখলেন যে আপনার আয় বিশ হাজার টাকা বা পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং একপাশে লিখলেন আপনার খরচ কত। আপনি দেখবেন যে গত মাসে আপনি হয়তো খরচ করেছেন ৫৫ হাজার টাকা। তার মানে পাঁচ হাজার টাকা আপনার হয় ঋণ করতে হয়েছে, নয়তো সঞ্চয় থেকে নিতে হয়েছে। তাহলে আপনার যেটা করা দরকার সেটা হচ্ছে আয় যেহেতু আপনার ফিক্সড, সুতরাং আপনি খরচ কোন কোন খাতে কত করবেন, সেগুলো লেখা দরকার। যেমন, বাচ্চার স্কুলে আপনার কত টাকা খরচ হচ্ছে, বাবা মায়ের জন্য কত  টাকা খরচ হচ্ছে, বাসা ভাড়ার পরিমাণ কত, খাবার খরচ কত, ট্রান্সপোর্ট বিল কত ইত্যাদি। কোনটাতে  খরচ কত সেটা লিখতে হবে। যেমন, আপনার কত টাকা খরচ হচ্ছে মাছ, ডিম, মাংস বা সবজিতে- এগুলো খরচ লিখলেন। আপনার যদি নিজস্ব কোনও মোটরসাইকেল থাকে বা যদি কোনও গাড়ি থাকে তাহলে তার পেছনে আপনার কত খরচ হচ্ছে।

এই  খরচের খাতগুলো চিহ্নিত করে খরচের টাকার হিসাব লিখলেন। তারপর সব খরচ যোগ করলেন। দেখলেন, ইনকাম হচ্ছে পঞ্চাশ হাজার টাকা কিন্তু সব মিলে যে খরচ করেছেন এটা পঞ্চান্ন হাজার টাকা।

এটা চলবে না। কারণ, এই পাঁচ হাজার টাকা কোথায় পাবেন? বরং যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে– যে আয়টা করছেন সেই আয় থেকে একটা অংশ আগে বাদ দিন বা সঞ্চয় করুন। এটা বয়স অনুসারে ধরুন, টেন পার্সেন্ট বা টোয়েন্টি পার্সেন্ট। বয়স কম হলে ১০%, বেশি হলে ২০% বা আরও বেশি  হলে  ৩০% । বয়স অনুসারে আপনার সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে। আপনি যদি পঞ্চাশ হাজার টাকা থেকে বিশ পারসেন্ট বাদ দেন তাহলে দশ হাজার টাকা আপনি বাদ দিতে পারবেন। বাকি চল্লিশ হাজার টাকার মধ্যে খরচকে সীমাবদ্ধ করতে হবে। কিন্তু যখন আপনার খরচগুলোকে লিখলেন তখন দেখলেন যে হিসাব চল্লিশ হাজারের একটু বেশি হয়ে গেছে।

এবার কী করবেন? আবার খরচের হিসাব দেখবেন। পুনরায় দেখবেন কোন কোন খরচগুলো বাদ দেওয়া যায়। বাদ দেওয়ার পরে খরচ এক জায়গায় থামাতে হবে। এবং এই চল্লিশ হাজারের মধ্যে আপনাকে নিয়ে আসতে হবে। কারণ, আয় পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং সঞ্চয় হচ্ছে দশ হাজার টাকা। তাহলে চল্লিশ হাজার টাকা খরচ করতে পারবেন। এরমধ্যেই আপনাকে  সব খরচ করতে হবে। আবার যদি এমন হয় যে আপনি একটা ফ্রিজ কিনবেন, বিশ হাজার টাকা দিয়ে, তাহলে সেই বিশ হাজার টাকা সঞ্চয়ের জন্য আপনার ছয় মাস ধরে একটা প্ল্যান করতে হবে। এই খরচের মধ্য থেকেও টাকা বাঁচিয়ে ওই ফ্রিজের টাকাটা রাখতে হবে একপাশে সরিয়ে। তারপরে ছয় মাস পরে এটা আপনি কিনবেন।

প্রত্যেকটা ব্যাপারে খুব মেথডিক্যাল হতে হচ্ছে আপনাকে। প্রত্যেকটা ব্যাপার লিখে ফেলতে হবে এবং যখন খরচ করবেন তখন ওই বাজেটটা সঙ্গে থাকতে হবে। যা লিখেছেন তার বাইরে যাবেন না। যদি যান তাহলে সেটা আবার যা লিখেছেন সেখান থেকে এডজাস্ট করতে হবে।

দুই. খরচ বাদ দিয়ে খরচ কমানো:

খরচ কমানো কিন্তু সহজ না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আপনার খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে, কমাবেন কীভাবে? উত্তর হচ্ছে, আপনার কন্সাম্পশান বা ভোগ কম করতে হবে। কেনাকাটায় প্রচণ্ডভাবে সাশ্রয়ী হতে হবে। আমি একটা উদাহরণ দিই, আমি বাজার করি কখনও গুলশান মার্কেট থেকে আবার কখনও মহাখালী বাজার থেকে। বর্তমান সময়ে মাঝে মাঝে আমি এবং আমার বন্ধু দুজন চলে যাই কাওরান বাজারে। মহাখালী মার্কেটে যেটার দাম হয়তো আপনার একশ’ টাকা কেজি, কাওরান বাজারে গেলে সেটা আপনি  মিনিমাম  ৩০% -৪০% কমে কিনতে পারবেন।  যদি পুরা মাসের বাজার হয় তাহলে কিন্তু অনেক। এখন এটা অবস্থান ভেদে আপনাকে ঠিক করতে হবে। অনেকে গ্রাম থেকে মাছ নিয়ে আসেন। তিন মাসের মাছ নিয়ে আসে একসঙ্গে অনেক কম দামে। যারা মাছের চাষ করেন তারা অনেক কম দামে বেচতে পারেন। এটা আপনার মতো করে হিসাব করতে হবে। খরচ কমাতে হবে। যে জিনিস কিনেন সেখানে খরচ কমাতে হবে। যে জিনিস আগে বাড়তি কিনতেন সেটা এখন কেনা যাবে না। যে করে হোক খরচকে কমিয়ে বাজেটের মধ্যে আনতে হবে।

কীভাবে করবেন? এটা আপনার ওপর নির্ভর করছে। চিন্তা করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন।

তিন. ফাইন্ডিং চিপ অল্টারনেটিভস অর্থাৎ কম দামি অল্টারনেটিভের দিকে মনোযোগী হওয়া:

যেমন ধরুন, একটা বই আমার লাগবেই। এই বইটা আমি গুলশান মার্কেট থেকে কিনতে পারি, বই বিচিত্রা থেকে কিনতে পারি। এই বইটা আমি রকমারি থেকে কিনতে পারি, অনলাইনে অর্ডার দিতে পারি। আবার এই বইটা নীলক্ষেত মার্কেট থেকে কিনতে পারি, বাংলা বাজার থেকে কিনতে পারি। যদি আমার অনেক বই দরকার হয় তাহলে আমি চলে যাবো নীলক্ষেত বাজারে অথবা বাংলা বাজারে। নীলক্ষেত মার্কেট থেকে কিনলে অনেক কম দামে বইগুলো কিনতে পারছেন। কখনও  হয়তো প্রিন্ট অতটা সুন্দর হবে না বা অতটা চকচকে হবে না, অরিজিনাল হবে না, কিন্তু দরকার তো পড়া, সেটা আপনি করতে পারবেন।

ইসলামপুর কাপড়ের মার্কেট থেকে যদি কাপড় কিনে বানান তাহলে খরচ চার ভাগের এক ভাগ হয়ে যাবে। সুতরাং, যে জিনিস কিনবেন সেটা কম মূল্যে কোথায় পাওয়া যায় এবং কোয়ালিটি রক্ষা করা যায় সেই চেষ্টা করবেন।

শুধু আপনার নিজের চেষ্টাই যথেষ্ট। কারণ, এখন প্রকৃত আয় কমে গেছে। তাছাড়া বিকল্প চিন্তাও করতে পারেন। যেমন, ভাতের পরিবর্তে রুটি, কলমের পরিবর্তে পেন্সিল, গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস ইত্যাদি।

চার. অতিরিক্ত আয় করার চেষ্টা:

বিষয় হচ্ছে, চাইলেই অতিরিক্ত আয় বাড়াতে পারবেন না। কিন্তু সম্ভব, যদি আপনার ক্রিয়েটিভ বুদ্ধিমত্তা এবং শারীরিক পরিশ্রমকে কাজে লাগান। প্রত্যেক মানুষের একটি করে আলাদা ক্ষমতা থাকে। আমরা আমাদের মনসংযোগ, মেধা এবং দক্ষতা সঠিকভাবে কাজে লাগাই না। এজন্য আমাদের ইনকাম স্ট্রিম বাড়াতে পারি না। আপনি চেষ্টা করুন, আপনি কীভাবে ইনকাম স্ট্রিম বাড়াতে পারেন। দেখবেন যখন এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করছেন তখন অনেক বিষয় আপনি পেয়ে যাচ্ছেন। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন, কারণ দুশ্চিন্তা করলে আপনার চিন্তাশক্তি বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং আপনার চিন্তা করতে হবে কীভাবে ইনকাম স্ট্রিম বাড়ানো যায়।

আমি আমার নিজের কথা বলছি, আমি যখন চিন্তা করেছি ইনকাম বাড়াবো তখন পরিকল্পনা করে ইনকাম স্ট্রিম বাড়াতে পেরেছি। কারণ, এখন একটা নির্দিষ্ট ইনকাম স্ট্রিম দিয়ে আপনি সংসার চালাতে পারবেন না। কোনও কাজকেই আপনার ছোট করে দেখলে চলবে না। এবং কোনও কাজ করার সময় লজ্জা পাওয়া যাবে না। আপনি তো চুরি করছেন না যে লজ্জিত হবেন। আপনি পরিশ্রম করবেন, আপনি হালাল উপায়ে উপার্জন করবেন। লজ্জা পাবে যারা চোর, যারা লুটেরা, আপনি নন।

আমরা চুরি করবো না, বিক্রি করবো। কী বিক্রি করবো? সেটা হচ্ছে কথা। মধ্যবিত্ত শ্রেণির বড় একটা সংকট “লোকে কী বলবে?”। আপনি যদি সংকটে থাকেন, অন্য কেউ কি এসে সাহায্য করবে? আপনার সমস্যা আপনাকে সমাধান করতে হবে। যেকোনও উপায়ে আপনার ইনকাম করতে হবে, আয় বাড়াতে হবে। আপনার কাজ করতে হবে আপনার নিজের জন্য, আপনার পরিবারের জন্য।  প্রত্যেকটা কাজই সুন্দর যদি আপনি সততা, পূর্ণ মনোযোগ এবং আন্তরিকতার সঙ্গে করেন।

পাঁচ. জেনে বুঝে বিনিয়োগ করুন:

মানে বিজ্ঞতার সঙ্গে আপনি বিনিয়োগ করবেন। অনেকেরই ছোট ছোট বিনিয়োগ আছে। আপনার কাছে যদি অল্প টাকা থাকে, দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই, শুধু সরকারি সঞ্চয়পত্র কিনুন। আপনার এখন রিস্ক নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি করি না। আপনি জানেন কতটুকু রিস্ক নেওয়া সম্ভব আপনার পক্ষে। আপনি আরেকজনের কথা শুনে স্টক বা শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করলেন। ভাবলেন যে  লাভবান হবেন। এটা করবেন না। কারণ, আপনি যেটা ভালো বুঝেন সেটাই করবেন। যদি না বুঝতে পারেন তাহলে সঞ্চয়পত্র কিনুন, না হলে যে ব্যাংকে রেট ভালো দেয় সে ব্যাংকে FDR করে রাখুন। কিন্তু সেভিংসের যে অভ্যাস সেটা যেন বন্ধ না হয়, সেটা যেন চলমান থাকে। যদি প্রোপার্টিতে ইনভেস্ট করতে হয় খুব সাবধানতার সঙ্গে করতে হবে। কোন প্রোপার্টিতে ইনভেস্ট করছেন সেটা ভালো করে খেয়াল করে তারপর ইনভেস্ট করতে হবে। দুটো সময় মানুষ বেশি ভুল করে। একটি হচ্ছে মানুষের কাছে যখন প্রচুর টাকা থাকে এবং আরেকটি সময় যখন মানুষের কিছুই থাকে না। অনেকে টাকার সমস্যার কারণে হঠাৎ করে জমি বিক্রি করে ফেলেন, ভুল সিদ্ধান্ত নেন।

ছয়. আপৎকালীন টাকা একপাশে সরিয়ে রাখুন:

প্রত্যেকের ইমার্জেন্সি ফান্ড বা আপৎকালীন টাকা থাকা উচিত। ইমার্জেন্সি ফান্ড বলতে, আপনার  ৩ মাস, ৬ মাস বা ১২ মাস চলার জন্যে যে টাকাটা লাগে সেটি একপাশে সরিয়ে রাখুন। সেটাও একদিনে সরিয়ে রাখা সম্ভব না। আপনারা দুর্দিনে সবাই ইমার্জেন্সি ফান্ড ভেঙে খেয়ে ফেলেন, এটাই নিয়ম। কারণ, ইমার্জেন্সি ফান্ড হচ্ছে দুর্দিনে খরচ করার জন্য। কিন্তু এখন আপনার ইনকাম আছে, সুতরাং এখন আপনার দুর্দিন না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দুর্দিন তৈরি হয়েছে বলে আপনি এই ফান্ড ভেঙে ফেলবেন সেটা যেন না হয়। ইমার্জেন্সি ফান্ড তখনই খরচ করতে হয় যখন আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন বা চাকরি হারাবেন।

বর্তমানে যত বিপদই আসুক যদি এই নিয়মগুলো আপনি যথাযথভাবে মেনে চলেন, সঠিকভাবে কাজ করেন, বাস্তবায়ন করেন, তাহলে দেখবেন আপনার এই দুর্দিনে টিকে গেছেন ভালোভাবে। আর মনে রাখবেন দুর্দিন একদিন কেটে যায়, সুদিন আসে। আমরা সুদিনের আশা করে বর্তমানকেও সুন্দর করার চেষ্টা করি। আর একটি কথা, এই সময়ে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটি কাজ করুন, কারও ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে মন খারাপ করে দিন কাটানোর প্রয়োজন নেই। সুদিন আসবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।

লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক, ফাইন্যান্স ও বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট; সিইও, ফিনপাওয়ার লিডারশিপ ইন্টারন্যাশনাল

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
‘সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদারকির অভাবই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ’
‘সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদারকির অভাবই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ’
মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে শিশুকে হত্যা: ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড
মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে শিশুকে হত্যা: ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড
ইরানে ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড
ইরানে ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড
চিকিৎসকদের সুবিধা দেবো, রোগীদের সেবা দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের সুবিধা দেবো, রোগীদের সেবা দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ