দায়িত্বশীল ও সতর্ক হতে হবে

Send
জুলফিকার রাসেল
প্রকাশিত : ১২:৪৬, মে ১৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৮, মে ১৩, ২০১৭

জুলফিকার রাসেল২০১৪ সালের ১৩ মে যখন বাংলা ট্রিবিউন যাত্রা শুরু করে, আমাদের লক্ষ্য ছিল একটিই- পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কোনও সংবাদ প্রকাশ না করার। কে কার আগে দেবে এই প্রতিযোগিতায় না যাওয়ার। সংবাদে সব পক্ষের তথ্য যথাযথভাবে আছে কিনা তা দেখার। একটি ঘটনার সবক’টি দিক যাচাই করে মনের প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার। সেই উত্তরগুলো সাজিয়ে, বিশ্লেষণ করে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। সেই লক্ষ্যে এখনও অটুট বাংলা ট্রিবিউন।
অনলাইনে সংবাদ প্রকাশে সবচেয়ে বড় সুবিধে হচ্ছে- প্রকাশের পর ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধন করার সুযোগ থাকে। চাইলে নামিয়েও ফেলা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট করা যায়। সরাসরি পাঠকের রিঅ্যাকশনও পাওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই হলো। পৃথিবীর যে কোনও স্থানে বসে পুরো বিশ্বের খবর মুহূর্তেই জেনে নেওয়া যায়। এ কারণে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোকে অনেক দায়িত্বশীল, সতর্ক হতে হয়। একটি ভুল বা উস্কানিমূলক খবর ছড়িয়ে দিতে পারে যুদ্ধের মতো বড় ঘটনাও!
অস্বীকার করার উপায় নেই, অনেক সাংবাদিক কখনও কখনও নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কিংবা মালিকপক্ষের চাপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট করে থাকেন। এটা ওই সাংবাদিকের অপেশাদারিত্ব। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি ভুল রিপোর্টের কারণে কারও মানহানি হলে, ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় সাংবাদিককে বা ওই পত্রিকাকেই নিতে হবে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা সাজিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিককে গ্রেফতার করানোর বিষয়টি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য খুবই উদ্বেগজনক। এই আইনের অপপ্রয়োগ দেখে কিছু লিখতে গেলেও ভয় হয়। কেউ হেনস্থা করার জন্য ওঁৎ পেতে নেই তো!

একটি ভুল রিপোর্টের কারণে কারও মানহানি হলে, ক্ষতিগ্রস্ত হলে অবশ্যই তার অধিকার আছে মামলা করার। প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিলের সুযোগ আছে। কেউ সেখানে অভিযোগ করতে না চাইলে সরাসরি ফৌজদারি মামলা করতে পারেন। বিভিন্ন ধারায় সেই মামলা করা যায়। অবশ্য সাংবাদিকদের হেনস্থা করতে অনেক প্রভাবশালী চাঁদাবাজি, চুরি, অপহরণসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা ঠুকেও দিচ্ছেন।

কিন্তু মতের অমিল হলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা ঠুকে দেওয়া, এরপর প্রভাব খাটিয়ে পুলিশকে দিয়ে তাকে গ্রেফতার করানো, রিমান্ডে নেওয়া- এগুলো মতপ্রকাশের ওপর চরম আঘাত। আইনমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ৫৭ ধারা থাকবে না। এর পরিবর্তে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের খসড়া নামিয়ে দেখলাম। সেখানে ১৯ নং ধারাটি আইসিটি অ্যাক্ট-এর ৫৭ ধারারই অনুলিপি। একেবারে নতুন বোতলে পুরনো মদ। এবার মামলাটি জামিনযোগ্য করা হয়েছে। শাস্তি কমানো হয়েছে। কিন্তু অপপ্রয়োগের সুযোগ থেকেই যাচ্ছে। বাংলা ট্রিবিউন এ ধরনের আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করে।

বাংলা ট্রিবিউন পরিবার কিছুদিন আগে তাদের একজন সদস্য, বিশেষ প্রতিনিধি ওমর ফারুককে হারিয়েছে। তাই বলে তাকে ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হবে? হবেও না। গত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। এবারও হবে। চলে যাওয়ার আগে লেখা জমা দিয়েই গেছেন তিনি। সেরা রিপোর্ট বাছাই করে আমরা প্রতিমাসে একজন সেরা প্রতিবেদক নির্বাচিত করি। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ষসেরা প্রতিবেদক পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওমর ফারুককে আজীবন বেঁধে রাখতে নাম দেওয়া হয়েছে- বাংলা ট্রিবিউন ওমর ফারুক বর্ষসেরা প্রতিবেদক পুরস্কার। তার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউনের এই বিশেষ সংখ্যা তাকে উৎসর্গ করা হলো।

লেখক: সম্পাদক, বাংলা ট্রিবিউন

 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ