অভিবাদন প্রিয়তমা

Send
তুষার আবদুল্লাহ
প্রকাশিত : ১৪:২৯, মার্চ ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩০, মার্চ ০৮, ২০২০

তুষার আবদুল্লাহপ্রিয়তমা অভিবাদন, প্রথমত এই গোলকে আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ধরিত্রীতে আমাকে পৌঁছে দিতে যে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার জন্য অভিবাদন প্রিয়তমা। কৃতজ্ঞতা পলি-দোআঁশ মাটির এই ভূমিতে আমাকে বপন করার জন্য। তারপর ধীরে ধীরে অঙ্কুরোদগম। ডালপালা মেলতে চারাগাছের যত্ন, তার জন্য তো কম ঘাম ঝরেনি। ঘাত-প্রতিঘাত কম ছিল না। কখনও নিঃসঙ্গ শেরপা হয়ে আমার আঙুল ধরে হেঁটে যাওয়া। নিঃসঙ্গ সেই শেরপাকে অভিবাদন। মাইলফলক ছুঁতে গিয়ে যখন ব্যাকুল আমি। পথচিত্র আঁকতে পারছি না। আঁকতে গিয়ে মুছে যাচ্ছে বারবার। কেউ কেউ এসে মুছে দিয়ে যাচ্ছে, তখন তিনিই আমার আঁকতে শেখা পথরেখা ধরে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। আমার পথের সেই সঙ্গীকে অভিবাদন।
লক্ষ্য ছুঁতে যাওয়ার পথে হারিয়ে গেলেন তিনি। পাশে এসে দাঁড়ালো যে, সেই প্রিয়তমাকে অভিবাদন। সহোদরা সে। অনুজ হলেও ভূমিকা নিয়ে নেয়, পথের কাঁটা তুলে নেওয়ার। স্বপ্নে রঙ মেশানোর। একের পর এক বাধার দেয়াল ভেঙে ফেলার শক্তি প্রয়োজন তখন। সেই শক্তির হাতিয়ার সেই অনুজাকে অভিবাদন। লড়াইয়ে আমাকে নিয়ে ছুটে চলার গতির কাছে পরাভূত অপছায়া। অমাবশ্যা দূর করে আলো জ্বেলে দিয়ে ছিল সে। সেই আলোর সহযাত্রীকে অভিবাদন। আলো খুঁজতে গিয়ে দেখি মশাল হাতে দাঁড়িয়ে আছে একজন। তার কাছে যুদ্ধ জয়ের বটিকা আছে। চোখে প্রশ্রয়। সেই প্রশ্রয়দাত্রীকে অভিবাদন। জীবন গণিতের কত ভুল শুধরে দিয়েছেন তিনি। সহজ সমাধান দিয়েছেন জটিল গণিতের। বাইশ গজের জীবনে এক প্রান্ত ধরে রেখে,  অভিজ্ঞতা, সাফল্য সঞ্চয়ের সুযোগ করে দেওয়া সেই প্রিয়তমাকে অভিবাদন। জীবন অপারজেয় নয় সত্যি। জীবনের অমরত্ব নেই। তবে আছে ভালোবাসার অমরত্ব। সেই ভালোবাসে অমরত্বের পুষ্পের রূপ দেওয়ার জন্য অভিবাদন প্রিয়তমা।

বিস্ময়ের বিস্ময় ফুরোয়না কখনই, যখন কাঁধে এসে হাত রাখে ও। কোলে মাথা নিয়ে জানান দেয়, ফিরে এসেছেন তিনি। আবদার ভালোবাসার সরোবরে ভাসতে ওকে নিয়ে তৈরি হয় মুগ্ধতার পৃথিবী। সুন্দর ভুবন ছেড়ে চলে না যাওয়ার আকুতি কেবল পর্বতের আকার নেয়। হেরে যাওয়ার নেশাও পেয়ে বসে এই সময়টায়। যার কাছে বারবার হেরে যেতে চাই। নতজানু হতে চাই। সেই প্রিয়তমাকে অভিবাদন। আমার সুন্দরের রঙে পৃথিবী বর্ণিল, আলোকিত আজ জোর দিয়ে বলতে পারিতো ওর জন্যই। এই প্রিয়তমাকেই তো ডাকতে পারি পদ্মা, মেঘনা, দোয়েল, তিলা ঘুঘু, পারিজাত, ছাতিম, বাংলাদেশ, পৃথিবী।

আপন বৃত্তের বাইরেও সম্পর্কের মহাদেশ আছে। সেখানে একজন এসে বললো–তুমিই পারবে। এগিয়ে যাও। থেমে যেও না। সেই প্রিয়তমাকে অভিবাদন। সবাই যখন বলছে ও আর পারবে না। পৃথিবীর কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে নেবে। দুশ্চিন্তায় আমিও, আসলেও কি পারবে ও? পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রও যে ওর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ভাবছে সর্বনাশের ডোবায় ডুবে মরেছে ও। আর ভেসে উঠবে না। আমি তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকে। তাহলে কি ও হেরে গেলো? কিন্তু ও হেরে গেলে তো মানুষ হেরে যাবে। নেমে আসবো চির অমাবশ্যা। না হারেনি ও। জিতে গেলো। সর্বনাশের ডোবায় ফোটালো চন্দ্রমল্লিকা। অভিবাদন সেই চন্দ্রমল্লিকা।

আমি আমার প্রিয়তমাদের জয়িতা হতে দেখেছি। লড়ে কাউকে মাঠ ছেড়ে যেতে দেখিনি। সহযাত্রীদের যাত্রার বৈঠা বেয়ে গেছেন আমার কত প্রিয়তমা। তাদের কয়জনকেই আর জানা হয়েছে, আমার আমাদের। ঘরে-বাইরে যেখানে যাচ্ছি, চারদিকে শুধু আমার প্রিয়তমাদের যুদ্ধ জয়ের গল্প। বাগানে সূর্যমুখী ফোটানোর কাহিনি। ওদের মুখ থেকে, চোখ থেকে কবে যে করুণা শব্দটি হারিয়ে গেছে। চারদিক আলোকিত এখন প্রিয়তমা চন্দ্রমল্লিকাদের আভায়। আমি সেই আভায় স্নান করতে ভালোবাসি। শুধু কি আমি? পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং গোলকের যেখানে সৌন্দর্য ও মেধার স্ফুরণ, সেখানেই প্রিয়তমারা উজ্জ্বল। ষড়যন্ত্র আছে, নকশা আছে সেই আদিম সময়ের মতোই ওদের আটকে দেওয়ার, গুহা বন্দি করার। এনিয়ে আমি এখন আর ভয় পাই না। দেখলাম তো মা, বোন, জীবনসঙ্গী এবং আমার কন্যা কেমন করে ডিঙিয়ে গেলো, যাচ্ছে বাধাগুলো। অভিবাদন আমার এই প্রিয়তমাদের।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ