রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারেন তরুণ করদাতারা

Send
মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন
প্রকাশিত : ১৯:৪৮, আগস্ট ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫২, আগস্ট ০২, ২০২০

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনআসছে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে যাওয়ার কথা কিন্তু মাথা থেকে বের হয়ে যায়নি। যদিও করোনাভাইরাস আমাদের শুধু নয়, সারা দুনিয়ার অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে ব্যাপকভাবে আঘাত করেছে। আমরা করোনা মহামারির আঘাতকে মোকাবিলা করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছি। এ স্বপ্ন দেখা আমাদের জন্য বড় বেশি উপযোগী। কারণ, আমাদের একঝাঁক তরুণ রয়েছে, যারা কিছু করতে চায়, করার জন্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মানসিক শক্তি তাদের আছে।
শিরোনাম দেখে অনেকে আমার সাথে একমত না হতে পারেন। কারণ, বর্তমান কোভিড-১৯-এর প্রভাবে যেখানে তরুণরা কর্ম হারিয়ে, ব্যবসা হারিয়ে দিশেহারা, সেখানে এ মুহূর্তে করদাতা হিসেবে তরুণদের অবদানই বা কতটুকু অবদান রাখবে! কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকারি উদ্যোগ বলুন, বেসরকারি খাত বলুন, ব্যক্তি উদ্যোগ বলুন, সবই তরুণ সমাজকে কেন্দ্র করে। আবার আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যাপক পরিকল্পনাও কিন্তু তরুণ সমাজকে কেন্দ্র করে। এর কারণ হলো আমাদের দেশে শিশু এবং যাদের বয়স ০-২৫ বছরের কোঠায়, তারা মোট জনসংখ্যার ৬০% (তথ্য -বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো)। এদের মধ্যে তরুণ উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যাদের বয়স ১৫-২৫ বছরের কোঠায়, তারা ব্যাপক উপার্জনক্ষম এবং সৃজনশীল বুদ্ধিসম্পন্ন।
গড় আয়ু ৭৩ বছর হলেও ৬০-৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত একজন মানুষ কর্মক্ষম থাকতে পারছেন। এ কর্মক্ষম জনশক্তি মধ্যে ৮০-৮৫% তরুণ সমাজ তাদের নিজেদের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে, তথা জীবিকার প্রয়োজনে কোনও না উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং হবেন।
আমাদের জন্য আরও একটি আশার কথা হলো সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখন গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় না থেকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার কথা ভাবছেন। এটা আমাদের তরুণ সমাজ ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হবে যদি সরকার তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে।
সবাই চাকরিজীবী হবেন তা কিন্তু নয়। এ বছর যুব দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘Skills for a resilient youth’। এ প্রসঙ্গে এক বাণীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা করেছেন ‘দেশে বিদেশে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হচ্ছে এ সরকারের অন্যতম কাজ’। তাই দেখা যাচ্ছে যুবসমাজ কোনও না কোনোভাবে কাজের সন্ধান পাবেন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য, নেতৃত্ব প্রভৃতি ক্ষেত্রে তরুণ সমাজ অতি দ্রুত সময়ে সম্পৃক্ত হতে যাচ্ছে। আমরা এখন দেখি ব্যবসা বাণিজ্যে শুধু নয়, রাজনীতিতেও তরুণ সমাজ এগিয়ে আসছে। তাই তরুণদের মাঝে করদাতাবান্ধব মানসিকতা তৈরি করা অতীব জরুরি। সমাজে অর্থনৈতিক ভিত গড়ে তুলতে এ বিশাল যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া বিকল্প কোনও পথ নাই। তরুণরা যেন ট্যাক্স পরিশোধে নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে গড়ে না ওঠে, সে দিকটা অতি সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে। সরকারের কিছু উদ্যোগ এখন ইতিবাচক। যেমন, অনলাইনে ট্যাক্স পরিশোধ করা, ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া ইত্যাদি। এটা কিন্তু যথেষ্ট না, উদ্যোগ নিতে হবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের।
কিন্তু ২০২০-এর অর্থ আইন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তরুণ সমাজকে উৎসাহিত করার উল্লেখযোগ্য কোনও উদ্যোগ বাজেটে প্রতিপলন ঘটেনি। বরং তরুণদের দ্বারা পরিচালিত অনলাইনে কর্মসূচির সম্প্রচার বাবদ ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫% (এসআরও ১৪৯/২০২০)। এটা তরুণ সমাজকে অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রবেশের পথকে নিরুৎসাহিত করবে। আমি আগে বলেছি কৌশলটা এমন হতে হবে যেন তরুণদের মাঝে ট্যাক্স পরিশোধে নেতিবাচক কোনও ধারণা তৈরি না হয়।
আগে তরুণদের উন্মুক্তভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তারপর সরকার তার থেকে ব্যাপক হারে মুনাফা করার সুযোগ পাবে। আগে তো তাদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের মতো ট্রেড লাইসেন্স উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বিনা ফিতে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।
আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি অনেক তরুণ ট্যাক্স দেওয়ার ব্যাপারে খুবই নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে বসে আছেন। অনেকটা যেন বাধ্য হয়েই ট্যাক্স, ভ্যাট দিতে হচ্ছে। কিন্তু তাদের দায়িত্ববোধটা জাগিয়ে দেওয়া আগে প্রয়োজন। আয় করলে আয়ের একটা অংশ পরিবার পরিজনের পাশাপাশি সরকারও এর অংশীদার। এ মনোভাব তৈরি আগে জরুরি। উন্নত দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে এ ট্যাক্স সচেতনতা এতটাই উচ্চমানের যে তাকে জীবনযাত্রার হিসাব শুরুই করতে হচ্ছে সরকারকে ট্যাক্স দেওয়ার হিসাব ধরে। আমাদের একজন পরিচিত যিনি চাকরি করতেন নেদারল্যান্ডে। তিনি বললেন তার বেতনের ৩০% সরকারি ট্যাক্স বাবদ কেটে নিচ্ছে। অবশিষ্ট ৭০% দিয়ে তার যাবতীয় পরিকল্পনা। অবশ্য সে দেশের সরকার নাগরিকদের অনেক সুযোগও প্রদান করছে। এটা করতে তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল। এ পরিকল্পনা তৈরি এবং বাস্তবায়ন করার জন্য রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও অঙ্গীকার সবার আগে দরকার।
আলোচনা করছিলাম তরুণ সমাজ রাজস্ব বৃদ্ধিতে কীভাবে অবদান রাখছে। এ জন্য মূল্যায়ন হওয়া দরকার তরুণ সমাজের কর্মের সুযোগ কী আছে। তরুণরা আজ যেখানে হোঁচট খাচ্ছে তা হলো সঠিক দিকনিদের্শনার অভাব, দক্ষতার অভাব, অর্থনৈতিক অভাব, নিয়ম-নীতির বেড়াজাল। তাই চাকরি, ব্যবসা, উদ্যোক্তা হতে তরুণরা ভয় পায়। অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির কাজ তারা করতে আগ্রহী।
আমাদের দেশে ব্যবসা বাণিজ্য বা ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন, বিআইএন, ইআরসি, আইআরসি ইত্যাদি লাইসেন্সগুলো আইনগতভাবে নিতে হয়। কিন্তু এ লাইসেন্সগুলো পেতে একজন নতুন উদ্যোক্তাকে যে পরিমাণ হয়রানিতে পড়তে হয় তা কাম্য নয়। উল্লেখিত সব লাইসেন্স সম্পূর্ণ অনলাইনে ফ্রিতে দিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। অনেকে বলবেন অনলাইনে তো দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কে যেন তালাটা আটকে রাখছে। অনলাইনের তালা খোলার ও ব্যবস্থা করতে হবে। সার্বিকভাবে আমরা যে যেখানে আছি সবাইকে আন্তরিক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
আরেকটা বাস্তবতা হলো অনেক তরুণ উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী  ই-টিআইএন, বিআইএন  রেজিস্ট্রেশন নিয়ে থাকেন। কিন্তু ট্যাক্স দেওয়ার ব্যাপারে নতুন রেজিস্ট্রেশন গ্রহণকারী তরুণদের মধ্যে ৫% ট্যাক্স ফাইল করছেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। এর কারণ হলো তারা ট্যাক্স ফাইল করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন না বা আমাদের যারা দায়িত্ববান তারা সেভাবে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার কাজটি করছি না।
তরুণদের করের আওতায় আনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যাপক হারে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কৌশল গ্রহণ করা, অনলাইনে করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া, করদাতাদের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধা উন্মুক্ত করা। যেমন, একজন তরুণ উদ্যোক্তাকে প্রশ্ন করছিলাম-আপনার তো ব্যবসা ভালো, ট্যাক্স ফাইল করছেন না কেন? তিনি উত্তর দিলেন আমার কষ্টে অর্জিত অর্থ সরকারকে দিয়ে লাভ কি? সরকার আমাকে হয়রানি ছাড়া তো কিছুই দিচ্ছে না। আমি বাংলাদেশের মানুষ আলো-বাতাস ছাড়া আর কি পাচ্ছি? এগুলো ট্যাক্স দিলেও পাবো, না দিলেও পাবো। উত্তর যতই দেই না কেন, ওই তরুণকে কিন্তু বুঝানো কঠিন।
তরুণদের করের আওতায় আনার জন্য আমার সুপারিশ হলো, যারা ট্যাক্স ফাইল করবে তাদের শুরুতে একটা কার্ড দেওয়া যেতে পারে, সরকারি সেবার ক্ষেত্রে ট্যাক্সদাতা হিসেবে কার্ড প্রদর্শন করলে কিছুটা অগ্রাধিকার পাবে। যেমন- সরকারি হাসপাতালে গেলে সে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা সুবিধা পাবে। বেসরকারি হাসপাতালে গেলে ৩০-৪০% ছাড় পাবে, অন্যান্য সরকারি সেবা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবে। এতে করদাতারা সম্মানবোধ করবেন এবং ট্যাক্স ফাইল করার জন্য নিজ থেকে উদ্যোগ নেবে। এখানে সরকার শুধু কৌশলটা প্রয়োগ করলেই সফলতা আসবে।
আমাদের কর ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকার ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। কিন্তু যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় এগুচ্ছে না। বৈশ্বিক মহামারির কথা বিবেচনায় নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের সুপারিশ ছিল কর ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করার জন্য ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়া। অর্থমন্ত্রী মহোদয় তা করার চেষ্টাও করেছেন। তিনি বাজেট প্রস্তাবে সর্বপ্রথম অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে ২০০০ টাকা পর্যন্ত কর অবকাশেরও সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে একটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সমস্যা হলো এ উদ্যোগ করদাতার কতটুকু কাজে লাগবে, তা কে দেখবে? আমরা কেউ যদি অনলাইনে রিটার্ন দিতে যাই দেখা যাবে এখানে এত কঠিন করে রাখা হয়েছে, করদাতা তো দূরের কথা, অনেক দক্ষ আইনজীবীও এর জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে করদাতার জন্য অ্যানালগ পদ্ধতি থেকেই গেলো।
করের হার বৃদ্ধি না করে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করার প্রতি নজর দেওয়া জরুরি। বিগত ২১ জুন ২০২০-এ দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত অর্থনীতির বিশ্লেষক জনাব মামুন রশিদ যথার্থ উল্লেখ করেছে,  ‘আপনি বলুন, বাংলাদেশে বছরে আড়াই বা ৩ লাখ টাকা আয় করে এমন লোকের সংখ্যা কত? অর্থাৎ মাসে ২৫ হাজার টাকা বা তারও নিচে। আমি জানি আপনি বলবেন, এই যে করোনাকালে অনেক নিম্নবিত্ত মানুষের আয় কমে গেছে, তারপরও এ সংখ্যা অনেক অনেক বিরাট। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে আমরা এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারছি না। ‘চেয়ে চেয়ে দেখার’ মতো আমরাও বহু বছর ধরে দেখছি দেশে ধনিক ও সচ্ছল শ্রেণির বিকাশ ঘটছে, কিন্তু তাদের করজালের মধ্যে আনা যাচ্ছে না। আর আমাদের প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর আদায়ও বাড়ছে না। পক্ষান্তরে কর আদায়ে এখনও পরোক্ষ কর বা মূল্য সংযোজন বা বিক্রয় করের আধিপত্য চলছে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশে সবাই কর দেন কিনতে গিয়ে, তবে তারপরও কর আদায় এত কম। অন্য অনেক সমপর্যায়ের দেশ যদিও জীবনাচরণ বা লাইফস্টাইল চিহ্নিত করে কর ধার্য করে কর আয় বাড়াচ্ছে, আমাদের দেশের ধনীরা বিজনেস ক্লাসে বিদেশ যাচ্ছেন, দেশে-বিদেশে অত্যাধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, সন্তানদের ভালো স্কুল-কলেজে ভর্তির জন্য মোটা অংকের টিউশন ফি ছাড়াও ডোনেশন দিচ্ছেন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগের কর প্রদানের পরিমাণ একজন মধ্যম পর্যায়ের ব্যাংক কর্মকর্তা বা করপোরেট এক্সিকিউটিভ থেকেও কম। প্রখ্যাত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (বিসিজি) ২০১৫ সালের শুরুতে জরিপ করে দেখিয়েছে যে বাংলাদেশে বছরে ৬ হাজার ডলার বা ৫ লাখ টাকার ওপর খরচ করতে পারে এমন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ। তাদের মতে, এ সংখ্যা বছরে ১০ শতাংশের বেশি বাড়ছে।’ বাড়তি এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে করজালে আনতে না পারলে রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক হারে ঘাটতি দেখা দেবে। যা সামাল দেওয়া সরকারের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জের ব্যাপার হয়ে পড়বে।
অনেক করদাতা আছেন তারা কর অফিসের কথা শুনলেই যেন মনে করেন কোনও বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। আসলে করদাতাদের কর পরিশোধের পরিবেশ তৈরি যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন করভীতি দূর করাও। একজন করদাতা তার নিজস্ব আয় থেকে দেশের জন্য কর দিবে কেন, কী প্রয়োজন, তার জন্য দেশের থেকে করদাতার রিটার্ন কী? এই স্বাভাবিক প্রশ্নগুলোর উত্তর যেন করদাতা নিজের মধ্যেই খুঁজে পান। এজন্য দরকার মূল্যবোধ তৈরি। কর মূল্যবোধ। এটা এক-দিন দুই দিনে হবে না। তবে শুরুটা করতে হবে। আমাদের ধারণা এমন হয়েছে কর অফিসে চাকরি করা মানেই সে খারাপ লোক, ঘুষখোর, ধান্দাবাজ ইত্যাদি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সৎ কর কর্মকর্তার সংখ্যাও কম নয়। তা না হলে আমাদের মোট রাজস্ব আয়ের ৮০-৯০ শতাংশ এ খাত থেকে আসতো না।  
সুতরাং আমাদের কর ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। গতানুগতি কর ব্যবস্থা বিদ্যমান রেখে তরুণ করদাতাদের যেমন করের আওতায় আনা কঠিন হবে, তেমনি রাজস্ব বৃদ্ধিতেও আশানুরূপ অর্জন আশা করা যায় না।
তাই আর দেরি না করে তরুণ সমাজকে আজকের ও আগামীর করদাতা হিসেবে জাগিয়ে তুলতে প্রতিটি স্তরে ট্যাক্স সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক হারে কাজে মনোযোগ দিতে হবে। গতানুগতিক ধারা থেকে যত দ্রুত সম্ভব বের হওয়াই এখন বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে বলে অর্থনীতির বিশ্লেষকগণ মনে করেন।
লেখক: আয়কর আইনজীবী

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ