রেকর্ড গড়বার পথে শেখ হাসিনা

Send
হায়দার মোহাম্মদ জিতু
প্রকাশিত : ১৫:৫৬, আগস্ট ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৭, আগস্ট ০৩, ২০২০



হায়দার মোহাম্মদ জিতুমিডিয়া এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ক্ষেত্রে কন্টেন্ট বানানোর দৌড়ে প্রি-প্রোডাকশন, প্রোডাকশন এবং পোস্ট প্রোডাকশন–এই তিন ধাপে কাজ সম্পাদন করা হয়। যেখানে প্রথম ধাপে পরিকল্পনা, দ্বিতীয় ধাপে প্রয়োগ এবং তৃতীয় ধাপে পর্যবেক্ষণ-ফলাফল হিসাব করা হয়। এই হিসাবে বাঙালির জীবন যৌবনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান করে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, প্রয়োগের যুদ্ধও শুরু করে ছিলেন দেশ গঠনের সংগ্রামে। কিন্তু বহিঃশত্রু এবং অভ্যন্তরীণ চক্রের হত্যাযজ্ঞে দ্বিতীয় ধাপ অসম্পন্ন এবং তৃতীয় ধাপও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

যদিও বাঙালির সৌভাগ্য যে পরবর্তী সময়ে সেই হাল ধরেছেন তাঁরই কন্যা বাঙালির শান্ত সাহস শেখ হাসিনা। যার অগ্রযাত্রায় আজ বাঙালি জয়যাত্রার মিছিলে শামিল। ফলাফল বৈশ্বিক ব্যবস্থায় যেখানে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানান প্ল্যাটফর্ম এবং সংগঠন গড়ে উঠেছে নারী অধিকার সংগ্রহের জন্য। সেখানে শেখ হাসিনা এ ধরনের প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সুন্দর-সাম্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছেন মাধুর্য সম্পন্ন উপায়ে।
শেখ হাসিনার কল্যাণেই আজ নারীরা অর্থনৈতিক সংগ্রামে এগিয়ে এসেছেন। মার্কস দর্শন মতে ক্ষমতা কাঠামো হস্তগত করার উপায় অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ দ্বারা। সে হিসেবে নারীর যে অস্তিত্ব-উপস্থিতি তা শেখ হাসিনাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্ণয় করেছেন। প্রত্যেকের জন্য সহজে লেনদেনের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। উৎপাদনমুখী মিছিলে শামিল করেছেন, যা পেশাগত কাঠামো নিরীক্ষণে স্পষ্ট বোঝা যায়। অর্থাৎ লৈঙ্গিক বৈষম্য হটিয়ে সমতার অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক পথ অনুসন্ধানে অগ্রসর হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, স্বাভাবিক উৎপাদনমুখী বৈশ্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও দেশকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে লড়ে যাওয়ার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এটাই একজন ভিশনারি নেতার আচরণ। কারণ বাংলাদেশ বলতে আজ শুধু দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডিতে আবদ্ধ একটি রাষ্ট্রকে বোঝায় না। বরং বিশ্ব দরবারের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারকে বোঝায়। সে সূত্রে বৈশ্বিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এদেশেও করোনা সংকট দেখা গেছে।
কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনার একক নেতৃত্ব গুণে সেই সংকটকে মোকাবিলায় বাংলাদেশ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাই পর্যন্ত ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে যাতে ১ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার ৮৪১ পরিবার উপকারভোগী হয়েছেন। শিশু খাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ে ব্যয় করেছে প্রায় ১২৬ কোটি টাকা, যাতে প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৭ পরিবার উপকারভোগী হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতাল, শিক্ষা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সকল পর্যায়েই নানান প্রণোদনা-প্যাকেজ নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তবে এও সত্য দেশের এই সংকটে অনেকেই মজা দেখবার জন্য তৈরি হয়েছিলেন। ভাবখানা এমন যে দেখি শেখ হাসিনা এবার কী করেন? কিন্তু এরা জানেন না শেখ হাসিনা সেই মায়ের সন্তান যিনি ’৭১-এ বাঙালির বিজয় বার্তা আসবার সময় যখন পাকিস্তানি সেনারা বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে বাঙ্কার বসিয়ে অবস্থান করছিলেন ঠিক সে সময় তাদের বন্দুকের নলের সামনেই বাড়িতে টাঙানো পাকিস্তানি পতাকা টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে উড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের পতাকা। অর্থাৎ শেখ হাসিনা এমনই অদম্য বাবা-মার সন্তান। যাদের স্পর্ধার অনুপ্রেরণায় শেখ হাসিনাও আজ দেশরত্ন থেকে বিশ্বরত্নের পথে।
তবে এই বৈশ্বিক হয়ে ওঠার গল্পে শেখ হাসিনাকে পাড়ি দিতে হয়েছে ষড়যন্ত্র এবং মৃত্যুর দামামার অজস্র পথ। একেও তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং জানিয়েছেন ‘মৃত্যুর আগে আমি মরতে রাজি নই। তার আগে যতক্ষণ জীবন আছে, বাংলার মানুষের সেবা করে যাবো।’ শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির শান্ত সাহস এবং পরম নির্ভরতার নাম। রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাঙালির জন্য অপেক্ষা করছে একটি মহা গৌরবসম্পন্ন মুহূর্ত।
কিছু দিন পূর্বে তার সামনে অপেক্ষা করছিল শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী, মার্গারেট থ্যাচার, চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার মতো বিশ্ব নারী সরকার প্রধানদের ছাড়িয়ে শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছাবার হাতছানি। টানা তৃতীয়বারের মতো শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় আজ সে পথ আরও উন্মুক্ত। বর্তমানে তিনি হতে চলেছেন বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি নারী সরকার প্রধান এবং ভবিষ্যতের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকা একক নারী রাষ্ট্রপ্রধান।
একাধারে বিশ্বে টানা ক্ষমতায় থাকা নারী সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন সেন্ট লুসিয়ার গভর্নর জেনারেল ডেম পারলেত লুইজি। তিনি ২০ বছর ১০৫ দিন দেশ পরিচালনা করেছেন। ব্রিটিশ লৌহমানবী মার্গারেট থ্যাচার ১১ বছর ২০৮ দিন দায়িত্বে ছিলেন। আর ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় ছিলেন ১৫ বছরের কিছু বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা হিসেবে প্রায় ১২ বছর এবং সর্বমোট হিসেবে প্রায় ১৭ বছর সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। যা নারী নেতৃত্বে দ্বিতীয় দীর্ঘ সময়। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গাও দুই পদে ১১ বছর ৭ দিন দায়িত্বে ছিলেন। যদিও চন্দ্রিকা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মাত্র ৮৫ দিন।
বিশ্বে উল্লেখযোগ্য নারী সরকার প্রধানদের মাঝে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে বিশ্বে আলোচিত ৪ জন নারী—ইন্দিরা গান্ধী, মার্গারেট থ্যাচার, অ্যাঙ্গেলা মেরকেল এবং শেখ হাসিনা। এসব নারী প্রধান প্রত্যেকেই তার দেশকে দিয়েছেন নতুন দর্শন এবং সম্ভাবনা। এদের মাঝে শুধু মেরকেল এবং শেখ হাসিনা আজও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
কাজেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে-ই বাঙালির কর্মযজ্ঞ (প্রোডাকশন) এবং ভবিষ্যৎ (পোস্ট প্রোডাকশন বা ফলাফল) নির্ধারিত। আর এই পথ চলাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য গৌরব এবং ইতিহাস অপেক্ষা করছে। যেখানে বৈশ্বিক ইতিহাসে লেখা থাকবে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার নাম। যা পুরো বাঙালি জাতির জন্য হবে গৌরবের এবং ভবিষ্যৎ জয়যাত্রায় অনুপ্রেরণার কারণ।
লেখক: প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ
[email protected]

 
/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ