আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, তা এগিয়ে এনে বুধবারই সই করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের একজন কূটনীতিক এবং এই আলোচনার বিষয়ে অবগত দ্বিতীয় আরেকটি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর জানিয়েছে।
যদি চুক্তি সইয়ের সময় এগিয়ে আনা হয়, তবে আজই ইলেকট্রনিক উপায়ে বা ডিজিটালি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত চুক্তির অংশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হয়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে এই চুক্তির মূল অনুলিপি প্রকাশ করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রটি জানিয়েছে, মূলত শুক্রবারের আগেই যাতে হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যেই সময়সীমা এগিয়ে আনার এই আলোচনা চলছে। কারণ এই নির্দিষ্ট বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত হয়েছে। এ ছাড়া সমঝোতা স্মারকের মূল অনুলিপি প্রকাশের জন্য হোয়াইট হাউসের ওপর যে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও সময় এগিয়ে আনার পেছনে আরেকটি কারণ হতে পারে।
তবে আলোচনার বিষয়ে অবগত সূত্রটির দাবি, ইরানই মূলত আনুষ্ঠানিক সইয়ের আগে চুক্তিপত্র প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েছিল। হোয়াইট হাউস কোনও রাজনৈতিক চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলেও দাবি করেছে সূত্রটি।
যুক্তরাষ্ট্রের সময় বুধবার সকাল পর্যন্ত চুক্তি সইয়ের সময় পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তি সইয়ের সময় পরিবর্তন হোক বা না হোক, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের নির্ধারিত বৈঠকটি যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরুর বিষয়ে কথা হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, গত রবিবারই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং ইরানি স্পিকার গালিবাফ ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশের কূটনৈতিক সূত্রটি দাবি করেছে, রবিবার এই ধরনের কোনও স্বাক্ষর হয়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন আলোচনার বিষয়ে অবগত সূত্রটি দাবি করেছে যে রবিবার আসলেই সই হয়েছিল এবং বুধবার যদি আবার সই হয়, তবে তা হবে ‘দ্বিতীয় দফা স্বাক্ষর’। তবে কেন একই চুক্তিতে দুবার স্বাক্ষরের প্রয়োজন হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউস রবিবার থেকে বলে আসছিল যে, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক সই অনুষ্ঠানের পরই কেবল ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, যদি বুধবার চুক্তিটি সই হয়ে যায়, তবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার সেই সময়সীমাও এগিয়ে আসবে।

কোলাকুলি নেই, শুধু করমর্দন: মোদি-ট্রাম্প সম্পর্ক কি জোড়া লাগবে
ইরানকে আবারও ট্রাম্পের হুমকি
চাইলেই হরমুজ বন্ধ করতে পারে ইরান: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট







