স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের মুহূর্ত ২০২৪ সালের জুলাই। গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের দিনগুলো ফিরে দেখতে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রয়াস।
আজ ১৭ জুলাই। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আন্দোলনকারীদের সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
রাজধানীসহ দেশের অন্তত আট জেলায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া অন্তত ১০টি জায়গায় সড়ক ও মহাসড়ক এবং দুই জায়গায় রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসব ঘটনায় ৫০ জনের বেশি আহত হন। সারা দেশে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল করবেন আন্দোলনকারীরা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাজলা ও শনিরআখড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মুহুর্মুহু রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ছোড়ে পুলিশ। পাল্টা ইটপাটকেল ছোড়েন আন্দোলনকারীরা। এতে পুলিশের দুই জন সদস্য ও আট শিক্ষার্থী আহত হন। এক পর্যায়ে শনিরআখড়ার কাজলায় হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই রাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় ফেসবুক। শিক্ষার্থীরা পরের দিন সারা দেশে পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির আহ্বান জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে হল ছাড়তে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। যদিও কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলন, তারা হল ছাড়লেও ঢাকা ছাড়বেন না। তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বের করে দেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ে (রাবি) পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস দখলে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুর থেকে ক্যাম্পাস এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিকাল ৪টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এ নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ সিন্ডিকেট সদস্যদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
গাইবান্ধা জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীর। জেলা শহরের রেল গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে রেল লাইন অবরোধ করেন তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ঘটনার পর বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বরিশালে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ১৫ শিক্ষার্থী ও সাত পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন আহত হন।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শেরপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজাসহ ২৫ জন আহত হন। এর মধ্যে চার জন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচ জনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের সুপার মার্কেট এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ আন্দোলনকারী আহত হন।









