স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের মুহূর্ত ২০২৪ সালের জুলাই। গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের দিনগুলো ফিরে দেখতে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রয়াস।
আজ ১৫ জুলাই। এ দিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ স্লোগানের কারণে কোনও ধরনের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি আওয়ামী লীগ করবে কিনা এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনের যে বক্তব্য, কতিপয় নেতা যেটা রেখেছে, তার জবাব ছাত্রলীগ… যারা তাদের আত্মস্বীকৃত রাজাকার, নিজেদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে গত রাতে, তার জবাব তারাই (ছাত্রলীগ) দেবে। ছাত্রদের বিষয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত সীমিত থাকবে। আমরা দেখি, রাজনৈতিকভাবে কারা প্রকাশ্যে আসে। তখন দেখা যাবে। আমরাও মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।’
বেলা ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আন্দোলনকারীদের খুঁজে খুঁজে পেটান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার মুখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ক্যাম্পাস ছেড়ে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।
এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রাত ৯টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। হামলায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া হামলার ছবি তুলতে গিয়ে মারধরের শিকার হন কয়েকজন সাংবাদিক।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আহত ও তাদের সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা হয়। সন্ধ্যার পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরেও মারধরের ঘটনা ঘটে।
ছাত্রলীগ দাবি করে, আন্দোলনকারীরা প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান, মারধর করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া আরও অন্তত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চালানো এসব হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া যশোরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন হেলমেটধারীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা ‘আমি রাজাকার’ স্লোগান দেন, তাদের শেষ দেখিয়ে ছাড়বেন বলে হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।









