স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের মুহূর্ত ২০২৪ সালের জুলাই। গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের দিনগুলো ফিরে দেখতে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রয়াস।
আজ ১৮ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এদিন দেশব্যাপী সংঘর্ষ ও গুলিতে ২৭ জন নিহতের খবর পাওয়া যায়।
আন্দোলনের উত্তাল সময়ে এদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আলোচনার আহ্বান জানান তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এ নিয়ে প্রেস ব্রিফিংও করেন আনিসুল হক। তিনি লিভ টু আপিলের শুনানি দ্রুত করার চেষ্টার কথা জানান। ব্রিফিংয়ে আনিসুল হক আরও জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে বিচার বিভাগীয় কমিটির দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এই প্রস্তাব প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে।
সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকার রাজি বলে জানান আইনমন্ত্রী। রাত ৯টা থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে বসা নিয়ে আনিসুল হকের বক্তব্য দেওয়ার পর তা নাকচ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সহিংসতা চালিয়ে সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘খুন করে সংলাপের পথ বন্ধ করেছে সরকার।‘
অন্যদিকে ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় ও অন্যান্য ৪৭টি জেলায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী পরিবহন বন্ধ কার্যকর করার জন্য অন্যান্য বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে যোগ দেন। পুলিশ ও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বুলেট, শটগানের গুলি ও রাবার বুলেট দিয়ে তাদের ওপর গুলি চালালে কমপক্ষে ২৯ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হয়। পুলিশ ও ছাত্রলীগের লোকজন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
আন্দোলনকারীরা বিটিভি ভবন, সেতু ভবন ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সারা দেশে ব্রডব্যান্ডসহ সবধরনের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় এবং মেট্রোরেলের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
ঢাকা ছাড়াও দেশের ৪৭টি জেলায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, পুলিশের গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হন অন্তত ১৫০০ জন। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এবং কিছু জায়গায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।
সারা দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনে সহিংসতা কেবল দিনে না, রাতেও অব্যাহত থাকে। মেরুল বাড্ডায় পুলিশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, পরে হেলিকপ্টার গিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।









