স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের মুহূর্ত ২০২৪ সালের জুলাই। গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের দিনগুলো ফিরে দেখতে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রয়াস।
আজ ১২ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিন ছিল শুক্রবার, ছুটির দিন। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে অবস্থান নেন। এদিন বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।
এদিন বিকাল ৪টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও ডিপার্টমেন্টের ব্যানারে স্লোগান ও মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হতে থাকেন তারা। এসময় তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে নানান স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হলপাড়া, ভিসি চত্বর ও রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। আন্দোলনকারীরা জানান, তারা এখানে আধাঘণ্টা অবস্থান করবেন।
শাহবাগ মোড় অবরোধের পর বাংলামোটরের দিকে যেতে চাইলে পুলিশকে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা যায়। আগেরদিন বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা পুলিশের বেরিকেড ভেঙে গেলেও এদিন তারা শাহবাগ মোড় থেকে সামনে এগোতে দেখা যায়নি। ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অন্যান্য দিন রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ করলেও এদিন শুধু শাহবাগেই এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
এদিকে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে এসে এদিন প্রতিনিধি সম্মেলনের ডাক দেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকালে শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু বাকের মজুমদার বলেন, আগামীকাল শনিবার (১৩ জুলাই) সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ এবং ৬৪ জেলায় একযোগে অনলাইন ও অফলাইনে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেইসঙ্গে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করবেন তারা।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার অনেক জায়গায় আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সামনে যদি আমাদের কোনও সহকর্মীর ওপর হামলা হয়, তাহলে এর ফল ভালো হবে না।’ এসময় আন্দোলনকারীদের একদফা আমলে নিয়ে সরকারের প্রতি দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও এদিন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নীলফামারী ও নোয়াখালীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও বিক্ষোভ মিছিল, মশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।









