X
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

উন্নয়নের তিন ডজন ইস্যু

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫:৩২

মোস্তফা মোরশেদ অর্থনীতির একটি নতুন শাখা হিসেবে ১৯৪০ এর দশকে উন্নয়ন অর্থনীতির যাত্রা শুরু হয়। এর উত্থানের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঔপনিবেশিক শাসন শেষে পরিবর্তিত পৃথিবীতে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোকে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের হাত থেকে রক্ষা করা। নতুন তত্ত্ব ও মডেলের সমন্বয়ে শুরু হওয়া এ ধারাকে অনেকেই ব্রিটিশদের সৃষ্টি (British Affair) বলে অভিহিত করেন।

এ লেখায় উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত ইস্যুগুলো আলোচনা করা হয়েছে। একটি দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সাথে যারা বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত তাদের জন্য উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হয়। উন্নয়নের সাথে যে সব চলক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সেগুলো সম্পর্কে যথাযথভাবে জানা এবং এ চলকগুলোর সম্ভাব্য পরিবর্তন পরিমাপ করার মাধ্যমে উন্নয়ন অর্থনীতির পাঠ সফলতা লাভ করে। নীতি নির্ধারকদের পাশাপাশি অর্থনীতির শিক্ষার্থীদেরও এসব জানার অবকাশ রয়েছে। প্রসঙ্গত, ব্যাখ্যা করার সুবিধার্থে এবং যথার্থ পরিভাষার অভাবে এ লেখায় অনেকগুলো ইংরেজি শব্দ সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে।

উন্নয়ন একটি বহুমুখী ধারণা। খুব স্বল্প পরিসরে এর ব্যাখ্যা বা বর্ণনা অসম্ভব। উন্নয়ন আলোচনায় অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। সংক্ষেপে বললে, উন্নয়ন মানে মানুষের জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত সকল চলকের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সামগ্রিকভাবে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। উন্নয়নের সাথে জড়িত চলকগুলোর তালিকা করলে মানুষের জীবন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সাথে তার সম্পৃক্ত সকল বিষয় চলে আসে। চলকগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে এদের একটির পরিবর্তন হলে আরেকটি বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তিত হয় যা অর্থনীতির ভাষায় অন্তর্জনিষ্ণু (ইস্যু ১) (endogenity) হিসেবে বিবেচিত। বাস্তবিক অর্থে, উন্নয়ন অর্থনীতির ধারণায় বহির্জনিষ্ণু (exogenous) চলক বলতে কিছু নাই। উন্নয়নের রুপরেখা প্রণয়নে চলকের সংখ্যা যত সমস্যা সৃষ্টি করে তার চেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে এদের পারস্পরিক অন্তর্জনিষ্ণু সম্পর্ক।

চলকের দুটি প্রকার রয়েছে; পরিমাণগত (ইস্যু ২) ও গুণগত (ইস্যু ৩)। পরিমাণগত চলকগুলোর তালিকায় যে সকল চলক থাকবে সে তালিকা অনেক দীর্ঘ। আলোচনার সুবিধার্থে ধরা যাক, এ তালিকায় পঞ্চাশটি চলক রয়েছে। তবে এ তালিকার প্রথমেই আসবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (ইস্যু ৪)। ১৯৮০ এর দশকে ‘উন্নয়ন’ ও ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’কে দুটি আলাদা ইস্যু বিবেচনা করা হতো। এমনকি এর পক্ষে দুটি আলাদা school of thought-ও গড়ে উঠে। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার (ইস্যু ৫) বিকাশের কারণে এ বিতর্কের অবসান হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ সকল আয়ের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চলক হিসেবে উন্নয়ন অর্থনীতির আলোচনায় সর্বাগ্রে স্থান করে নিয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় চলকটি একেক দেশের জন্য একেক রকম হবে। যেমন, আফ্রিকার উন্নয়নের তালিকার দ্বিতীয় চলক হয়ত ‘বিশুদ্ধ পানি’, ভারতের ক্ষেত্রে হয়ত ‘স্যানিটেশন’ কিংবা পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য সেটি ‘বৈষম্য’। ইস্যু হিসেবে উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত চলকগুলোকে বিবেচনা করার অবকাশ ছিল না, এ লেখার কলেবর বেড়ে যেত।

গুণগত চলকগুলো মূলত উন্নয়ন আলোচনার বিদ্যমান পরিমাণগত চলকের ক্রমাগত উৎকর্ষ সাধনের প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। উন্নয়নের চলক হিসেবে ‘শিক্ষার উপকরণ’ বিবেচনা করলে দেখতে হবে এগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য কতটুকু উপকারী। যেমন, নির্দিষ্ট সংখ্যক কলমের বিপরীতে কী মানের কলম সরবরাহ করা হবে সেটিই মুখ্য। পরিমাণগত চলকের গুণগত মান অর্জনের মাধ্যমে গুণগত চলকের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হয়।

উন্নয়ন সরাসরি জনগণের সাথে সম্পৃক্ত (ইস্যু ৬)। নির্দিষ্ট করে বললে, উন্নয়ন শুধুমাত্র মানুষের জন্য। যেখানে মানুষ নাই সেখানে উন্নয়ন নাই। মরুভূমিতে যেখানে মানুষের বসবাস নাই সেখানে উন্নয়ন চিন্তার প্রতিফলন নাই। এ অবস্থাকে আন-ডেভেলপমেন্ট বলা হয়ে থাকে। সম্ভাব্য উন্নয়ন হবার জায়গায় উন্নয়ন কম হলে তাকে আন্ডার-ডেভেলপমেন্ট বলে।

উন্নয়নকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য একক কোনো পদ্ধতি বা মডেল পাওয়া যায় না। বিশ্বব্যাংক যেভাবে সংজ্ঞায়িত (ইস্যু ৭) করেছে তাতে শুধুমাত্র মাথাপিছু জিএনআই (মার্কিন ডলার) এর উপর ভিত্তি করে দেশগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা হয়–

১) নিম্ন-আয়ের দেশ (মাথাপিছু জিএনআই ১,০২৫ এর কম);

২) মধ্যম-আয়ের দেশ;

৩) উচ্চ-আয়ের দেশ (মাথাপিছু জিএনআই ১২,৪৭৫ এর বেশি)।

মধ্যম-আয়ের দেশসমূহকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়; নিম্ন মধ্যম-আয়ের দেশ (মাথাপিছু জিএনআই ১,০২৬ থেকে ৪,০৩৫) ও উচ্চ মধ্যম-আয়ের দেশ (মাথাপিছু জিএনআই ৪,০৩৬ থেকে ১২,৪৭৫)।

অপরদিকে, জাতিসংঘের বিশ্লেষণ (ইস্যু ৮) অনুযায়ী বিশ্বের দেশসমূহকেও তিন ভাগে ভাগ করা হয়; ১) স্বল্পোন্নত দেশ, ২) উন্নয়নশীল দেশ, ও ৩) উন্নত দেশ। জাতিসংঘ তিনটি সূচকের (মাথাপিছু জিএনআই, মানব সম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক) উপর ভিত্তি করে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের হিসাব করে থাকে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের কোনও মাপকাঠি নেই। জাতিসংঘ শুধুমাত্র স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের তালিকা প্রণয়ন করে। এ তালিকার বাইরের দেশগুলো উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। উন্নয়ন পরিমাপে মানব উন্নয়ন সুচক বা HDI-ও (ইস্যু ৯) ব্যবহৃত হয় যা বহুলভাবে স্বীকৃত। HDI এর গঠন অনেকটা পূর্বে উল্লিখিত জাতিসংঘের মানব সম্পদ সূচকের মতো।

এছাড়া উন্নয়ন পরিমাপ করতে হলে আবশ্যিকভাবে সামাজিক খরচ ও লাভের বিশ্লেষণ (social cost-benefit analysis) করতে হয়। কারণ প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের (সরকারি ও বেসরকারি) সাথে এক্সটারনালিটির (ইস্যু ১০) গভীর সংযোগ রয়েছে যা টাকার অংকে পরিমাপ করতে হয়। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যে সকল ঋণাত্মক চিত্র উঠে আসে অর্থনীতির আলোচনায় এগুলোকে নেগেটিভ এক্সটারনালিটি এবং ধনাত্মক বিষয়গুলোকে পজিটিভ এক্সটারনালিটি বলা হয়ে থাকে। এ সকল এক্সটারনালিটি পরিমাপের মাধ্যমেই অর্থনীতির পাঠে সামাজিক খরচ ও লাভের বিশ্লেষণ (ইস্যু ১১) করা হয়। কোনও প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যদি নিগেটিভ এক্সটারনালিটি উদ্বুদ্ধ হয়ে সামাজিক ক্ষতি বেশি হয় তবে বাজার ব্যর্থ (ইস্যু ১২) (market failure) হয়। বাজার ব্যর্থতা ঠেকানোর জন্য প্রকল্প নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি কর্তৃত্বের (authority) দরকার হয়। এ কর্তৃত্বই কার্যত সরকার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরকারের কার্যপরিধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এভাবেই সরকার উন্নয়ন অর্থনীতিতে ভূমিকা (ইস্যু ১৩) রেখে থাকে।

সামাজিক খরচ ও লাভের হিসাব করা বেশ জটিল ও কষ্টসাধ্য। অনুন্নত দেশের জন্য এটি প্রায় অসম্ভব। এর সবচেয়ে বড় কারণ সরকারের দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি গবেষণা খাতের দুর্বলতা (ইস্যু ১৪)। সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সাথে উন্নয়ন সিদ্ধান্তের একটি দারুণ সমন্বয় দরকার যা পূর্বে উল্লিখিত অর্থনীতিতে সরকারের ভুমিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ।  

প্রকল্প নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সাথে অনেক বিষয় জড়িত। মোটাদাগে যদি পুরা অর্থনীতিকে তিনভাগে ভাগ করা হয় (কৃষি, শিল্প ও সেবা) তবে প্রকল্প নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবগুলোকে সমান প্রাধান্য দিতে হবে কারণ একটি আরেকটির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। একটি অন্যটির চেয়ে তুলনামূলক বেশি অনেক এগিয়ে গেলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রকল্পের অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন (ইস্যু ১৫)।

উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের অনেক দীর্ঘ তালিকা থাকতে পারে তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের একটি অগ্রাধিকার তালিকা থাকা আবশ্যক।

অগ্রাধিকার তালিকা হতে অর্থনৈতিক প্রভাবের (economic impact) (ইস্যু ১৬) আলোকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে যুক্তিসঙ্গত কারণে অনেকক্ষেত্রেই সরকার ব্যক্তিখাতের মতো আচরণ করে না। ব্যক্তিখাত যেমন মুনাফা (profit) কেন্দ্রিক আচরণ করে সেখানে সরকারের পরিকল্পনায় থাকে মানুষের সেবা (service) বাড়ানোর ব্রত। তাই ব্যক্তিখাতে ব্যবহৃত বিনিয়োগের পরিমাপকগুলো (ইস্যু ১৭) যেমন, এনপিভি, আইআরআর, প্রফিটাবিলিটি ইনডেক্স, ইত্যাদি দ্বারা সরকারি বিনিয়োগের মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না। প্রায় সকল আয়ের দেশের জন্য অবকাঠামোগত বিনিয়োগ (ইস্যু ১৮) উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এর পাশাপাশি অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশের জন্য অনেকক্ষেত্রেই প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (ইস্যু ১৯)।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে আরেকটি বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে কোনও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে এর সাথে সম্পর্কিত চলক বা চলকগুলোর trade-off (ইস্যু ২০) রয়েছে। অনেকক্ষেত্রেই একটি চলকের উন্নতি হলে অন্য একটি বা একাধিক চলক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একটি ধ্রুপদী উদাহরণ হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) দুটি গোলের পারস্পরিক সম্পর্ক। এসডিজি গোল-৮ এ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও সুন্দর কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে গোল-১০ এ সব ধরনের বৈষম্য কমানোর (ইস্যু ২১) লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের (গোল- ৮) সাথে বৈষম্যের সরাসরি ঋণাত্মক সম্পর্ক রয়েছে। বাস্তবে দেখা যায়, পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলে দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের অবতারণা হয়; এক) দারিদ্র্য কমে (ইস্যু ২২), কিন্তু, দুই) আয় এবং আয় বহির্ভূত বৈষম্য বাড়ে।

উন্নয়ন সংজ্ঞায়িত করার জন্য চলকের যে দীর্ঘ তালিকা রয়েছে সেখানে বৈষম্য নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে দুর্বোধ্য এবং কঠিন কাজ। পৃথিবীর সকল আয়ের দেশের জন্য উন্নয়ন তালিকার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চলক হচ্ছে বৈষম্য কমানো যা দীর্ঘসময় ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একটি অর্থনীতিতে দু’ধরনের বৈষম্য দেখা যায়, আয় ও আয়-বহির্ভূত। আয় দ্বারা সৃষ্ট যে বৈষম্য সেটি সহজেই অনুমেয়। আয়-বহির্ভূত বৈষম্য হচ্ছে সামাজিক প্রথা, নিয়ম, শিক্ষা, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাব ইত্যাদির কারণে সৃষ্ট বৈষম্য। সত্যি বলতে, আয়ের বৈষম্য অন্যান্য বৈষম্যের প্রায় সমান বদলি (proxy) হিসেবে কাজ করে। বৈষম্যের কারণে উন্নয়ন অন্তর্ভুক্তিমূলক (inclusive) (ইস্যু ২৩) হয় না। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি বৈষম্যও কমাতে হবে।

সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা (ইস্যু ২৪) থাকতে হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের হাত ধরে আমরা এরূপ দুটি পরিকল্পনা দেখেছি, রূপকল্প -২০২১ ও রুপকল্প-২০৪১। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উন্নয়নের জন্য সব দেশের আলাদা আলাদা কৌশল (ইস্যু ২৫) থাকবে। সম্পদের ভিন্নতা থাকায় প্রত্যেক দেশের আলাদা ভিশন ও কৌশল থাকা স্বাভাবিক এবং যুক্তিযুক্ত। যদিও অনেকক্ষেত্রেই আমরা উন্নয়নের তত্ত্ব ও মডেলকে সবার জন্য একইভাবে (generalize) ব্যবহার (ইস্যু ২৬) করার চেষ্টা করে থাকি যা বাস্তবে অসম্ভব।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকার সম্পদের স্থানান্তর (ইস্যু ২৭) করে থাকে। এ প্রক্রিয়া যত স্বচ্ছ হবে উন্নয়নের গতি (ইস্যু ২৮) তত বেশি হবে। সময়ের পরিক্রমায় সকল আয়ের দেশেই উন্নয়ন হয়। তবে এর গতিটাই মুখ্য। উন্নয়নের গতির সাথে কার্যত এ লেখায় বর্ণিত সকল চলকই সম্পৃক্ত। সম্পদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিকরণ (ইস্যু ২৯) প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের (ইস্যু ৩০) গুরুত্বও অনেক। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে উপকার বা সুবিধাভোগী (stakeholder) পর্যায়ে স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা। এটি করতে হলে সামজিক ন্যায়বিচার (ইস্যু ৩১) নিশ্চিত করতে হয়। আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও (ইস্যু ৩২) তখন উন্নয়নের চলক হয়ে উঠে।

সম্পদ স্থানান্তরের বিষয়টি বর্তমান প্রচলিত উন্নয়ন মডেলে নতুন রূপ লাভ করেছে। এনজিওদের মতো যদি উপকারভোগীদের মাঝে সম্পদের মালিকানা বা স্বত্ব (ownership) (ইস্যু ৩৩) সৃষ্টি করা না যায় তবে স্থানান্তরিত সম্পদ কার্যত কোনো কাজে আসে না। ধরুন, সরকার একটি নলকূপ স্থাপন করল। যারা এর উপকারভোগী তারা যদি এর রক্ষনাবেক্ষণ না করে তবে কিছুদিন পর এর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। যদি উপকারভোগীরা এর পেছনে ব্যয় (খুব সামান্য হলেও) এবং রক্ষনাবেক্ষণ করে তবে নলকূপটির ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হবে। বাংলাদেশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এরকমই স্বত্ব তৈরি করার নজির রয়েছে।

উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত আরও অনেক ইস্যু রয়েছে। বৈষম্যের মতো যে চলকটি আজকের দিনে উন্নয়ন অর্থনীতির আলোচনায় অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক সেটি হলো পরিবেশ সংরক্ষণ (ইস্যু ৩৪)। উন্নয়ন টেকসই করতে হলে এর বিকল্প নেই। উন্নয়ন মাত্রই টেকসই হবে তাই আমার মতে ‘টেকসই উন্নয়ন’ শব্দটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট! সমষ্টিক অর্থনীতির আলোচনায় রাজস্ব ও মুদ্রানীতির একটি চমৎকার ভারসাম্য (ইস্যু ৩৫) থাকা বাঞ্ছনীয়। দুই ঘরানার দু’দল অর্থনীতিবিদগণ যা-ই বলেন না কেন দু’টির কোনও একটি অপরটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। বিশেষ করে, একটি স্বাধীন, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও কর্তৃত্বপূর্ণ মুদ্রানীতি আজকের এ বিশ্বে অনেক বেশি প্রয়োজন।

উন্নয়ন অর্থনীতির ব্যপকতা ও বিষয়বস্তুর গভীরতা বিবেচনা করলেও লেখাটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে কারও কাছে ইস্যু হিসেবে কোনও কিছু বাদ পড়েছে বলে মনে হতে পারে। যেমন, একটি অর্থনীতিতে সরকারের গঠন (গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক না-কি একনায়কতান্ত্রিক) কেমন হবে উন্নয়ন অর্থনীতির আলোচনায় সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকারের গঠন বিষয়টি সামাজিক ন্যায় বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্বারা (যা ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) প্রতিস্থাপন করা যায়। প্রসঙ্গত, এখানে কিছু ইস্যুকে যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে আবার কিছু ইস্যু বাদ দিতে হবে। সম্ভাব্য সকল ইস্যু বিবেচনায় নিয়ে একটি পরিপূর্ণ অথচ সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে। হুশিয়ার করে দেওয়া যেতে পারে, উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়নে বর্ণিত ইস্যুগুলোকে বিবেচনা করতেই হবে। অন্যথায়, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের শ্রম ও অর্থ সবই dead-weight loss (ইস্যু ৩৬) হিসেবে গণনা করতে হবে।

লেখক: উন্নয়ন অর্থনীতি গবেষক

[email protected]

/এসএএস/

সম্পর্কিত

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

আমি কেন তালেবানকে সমর্থন করি না?

আমি কেন তালেবানকে সমর্থন করি না?

বিষয়টি ‘কথার কথা’ নয়

বিষয়টি ‘কথার কথা’ নয়

কাজের কথা

কাজের কথা

চাপ নয়, শিক্ষা হোক আনন্দের

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৩৬

প্রভাষ আমিন আমার প্রথম স্কুল চাঁদগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আমাদের বাড়ির লাগোয়া। লাগোয়া মানে কখনও কখনও আমাদের বাগান ছিল স্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। আবার স্কুলের সামনের মাঠটিও ছিল আমাদের সারাবছরের খেলার মাঠ। এখন তো প্লে, কেজি ইত্যাদি করে ক্লাস ওয়ানে উঠতে তিন বছর লেগে যায়। আমাদের সময় বয়স পাঁচ হলে সরাসরি ক্লাস ওয়ান। বাড়ির লাগোয়া বলে স্কুলকে ঠিক স্কুল মনে হতো না। তো ক্লাস ওয়ানে থাকতেই একবার স্কুলে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ফিরে এলাম। আম্মা জানতে চাইলেন, ফিরে এলাম কেন? আমি বললাম, স্কুলে জায়গা নেই। আম্মা কিছু বললেন না, খালি খাটের সঙ্গে বেধে আমাকে দিলেন বেদম পিটুনি। তারপর থেকে আর কখনও স্কুলে জায়গার অভাব হয়নি। হাইস্কুলে উঠে একবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী জেনারেল ওসমানীকে দেখতে স্কুল ফাঁকি দিয়েছিলাম। এছাড়া বরাবরই স্কুল ছিল আমাদের আনন্দের উৎস। 

আমার প্রাইমারি স্কুল দুটি। বাবার চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকার মোহাম্মদিয়া প্রাইমারি স্কুলেও কিছুদিন পড়েছি। প্রথম স্কুল বাড়ির লাগোয়া হলেও হাইস্কুল ছিল বেশ দূরে। গৌরিপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে আমাদের বাসে প্রথমে গৌরিপুর যেতে হতো। পরে রিকশা বা হেঁটে যেতে হতো স্কুলে। প্রাইমারি স্কুলের মতো আমার হাইস্কুলও দুইটা। মামার শিক্ষকতার আমি এসএসসি পাস করেছি চৌদ্দগ্রামের মুন্সীরহাট হাইস্কুল থেকে, যেটি বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে। আমি খুবই সৌভাগ্যবান, আমার দুটি হাইস্কুলের ক্যাম্পাসই ছিল বড়, খোলামেলা, একাধিক বড় মাঠ ছিল। কারণে-অকারণে শিক্ষকদের মার খেয়েছি প্রচুর। তবে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, খেলাধুলা, বিতর্ক, মারামারি, খুনসুটি- সব মিলে স্কুল ছিল মজার জায়গা।

শিশুদের সেই আনন্দের জায়গাটাই আমরা কেড়ে নিতে চেয়েছিলাম। ঢাকার ফ্ল্যাট বাড়ির স্কুলগুলো শিশুদের আনন্দের জায়গা হতে পারেনি। কারও কারও জন্য স্কুল মানেই যেন জেলখানা। আগের মতো এখন আর শিক্ষকদের পিটুনির ভয় নেই বটে, তবে স্কুল মানেই পড়াশোনার অনন্ত চাপ; ক্লাস, কোচিং, পরীক্ষা; দম ফেলার ফুরসত নেই কারও। দেড়বছর পর স্কুলে যেতে পেরে সবাই এখন উৎফুল্ল। কিন্তু পরীক্ষার চাপ এলেই সেই উচ্ছ্বাসটা হারিয়ে যেতে পারে। শহরের একটা ছেলের রুটিন দেখলে আমার কান্না পায়। ভোরে ঘুম থেকে উঠে যুদ্ধ শুরু। ঘুম চোখেই নাস্তা সারতে হয়; তাও নিজের পছন্দে নয়, মায়ের পছন্দে। তারপর ব্যাগ নিয়ে দৌড়। সেই ব্যাগেও থাকে নিজের নয়, মায়ের পছন্দের টিফিন। স্কুল ছুটি হয় দুপুর ২ টায়। দৌড়ে বাসায় এসে গোসল-খাওয়া শেষ করতে করতে কোচিংয়ের সময় হয়ে যায়। ৩টা থেকে ৬টা কোচিং খোয়াড়ে বন্দী। সেখান থেকে বাসায় ফিরে স্বাভাবিক হতে হতে দিনের ১২ ঘণ্টা শেষ। তারপর হোমওয়ার্ক। হোমওয়ার্ক করতে করতে একেটা শিশু ক্লান্তিতে ঢলে পড়ে। 

ছুটির দিনেও মাফ নেই। শুক্রবার সকালে কোচিং, যেদিন কোচিং থাকে না, সেদিনও বাসায় টিচার আসে। তাদের রুটিনে খেলা নেই, গান নেই, আউট বই পড়ার সুযোগ নেই। শুধু ছুটে চলা। কিসের পেছনে? আমি নিশ্চিত নই। পড়াশোনা? আসলে কি পড়াশোনা; নাকি নিছক রোল নম্বর আর সার্টিফিকেট? আসলে কোনটা সাফল্য, কোনটা ব্যর্থতা, আমি নিশ্চিত নই। তাহলে আমরা কিসের পেছনে ছুটছি, সন্তানদের ঠেলে দিচ্ছি কিসের রেসে। সাফল্য মানে আসলে কী?  আমরাই তো সন্তানদের শৈশব থেকে আনন্দ কেড়ে নিয়ে সেখানে ভর্তি করে দিচ্ছি অনন্ত চাপ। সাফল্য চাই, আরো সাফল্য। বোঝো আর না বোঝো সব মুখস্ত করতে হবে। তারপর পরীক্ষার খাতায় সব উগড়ে দিতে হবে। অমুক কেন তোমার চেয়ে ভালো, তমুক কেন নম্বর বেশি পেলো। 

যে হতে পারতো গানের পাখি, আমরা তাকেই বানাতে চাই তোতা পাখি। হাজার হাজার তোতা পাখি কিচির মিচির করছে আমাদের চারপাশে। আমরা বলি, শুধু পড়ো আর পড়ো। আমরা জানতে চাই না বা জানাতেও চাই না, আমাদের সন্তান গান শুনতে চায় কিনা, ফুল ভালোবাসে কিনা, প্রকৃতি তাকে টানে কিনা, শীতের সকালে শিশিরে পা ভেজাতে চায় কিনা, বৃষ্টিতে ভিজতে তার কেমন লাগে, গাছপালা-নদীনালার সৌন্দর্য্য আবিষ্কারের আনন্দ সে পেতে চায় কিনা। পরীক্ষায় ভালো করতে হবে; গোল্ডেন জিপিএ ৫ না পাওয়া বিরাট ব্যর্থতা। সুমনের গানের মতো ‘একটু পড়া, অনেক খেলা/গল্প শোনার সন্ধ্যাবেলা’ আর কারও জীবনে আসে না।

নীতি-নির্ধারকদের ধন্যবাদ। তারা শিশুদের এই পরীক্ষার চাপ থেকে মুক্তি দিতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। কথায় কথায় আমরা বৈপ্লবিক পরিবর্তন বলি বটে, কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার এই পরিবর্তন সত্যিই বৈপ্লবিক। ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা। এতদিন একটি শিশু বোঝার আগেই তার ওপর চেপে বসতো পরীক্ষার চাপ। নতুন পরিকল্পনায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনও পরীক্ষাই থাকছে না। আর দশম শ্রেণির আগে কোনও পাবলিক পরীক্ষা হবে না। এতদিন পঞ্চম শ্রেণিতে পিইসি আর অষ্টম শ্রেণিতে জেএসসি নামে দুটি চাপের পাহাড় ছিল শিশুদের কাঁধে। সেই পাহাড় দুটি সরিয়ে দিলে তারা একটু মাথা উঁচু করে, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে। আর দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হবে অভিন্ন বিষয়ে। সায়েন্স, আর্টস, কমার্সের বিভাজনটা শুরু হবে একাদশ শ্রেণি থেকে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুটি পরীক্ষার ভিত্তিতে দেওয়া হবে এইচএসসির ফল। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না থাকলেও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে। চতুর্থ শ্রেণির পর প্রথম পরীক্ষা শুরু হলে গুরুত্ব বেশি থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপরই। সব মিলিয়ে পরীক্ষায় যেনতেনভাবে ভালো করার চাপের বদলে নিয়মিত ক্লাসরুমের পারফরম্যান্স গুরুত্ব পাবে বেশি। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে নিজেদের মতো পড়াশোনা করবে। শিক্ষকরা তাদের মূল্যায়ন করবেন।

নতুন পরিকল্পনা অবশ্যই উচ্চাভিলাসী। তবে শিশুদের স্বার্থে এই পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও আছে। যেহেতু শিক্ষকদের মূল্যায়নের গুরুত্বটাই সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা বাড়ানোটা জরুরি। তারচেয়ে বেশি জরুরি শিক্ষকদের নৈতিক মান বাড়ানো। শিক্ষকদের ধারাবাহিক মূল্যায়নই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, এটা শোনার পর আমি রীতিমত আতঙ্কিত হয়েছি। শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে ক্লাস পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি বা ফেল করিয়ে দেওয়ার উদাহরণ ভুরি ভুরি। এই বিষয়টার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে সবচেয়ে বেশি। প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা, দক্ষতা হয়তো একটা পর্যায় পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। কিন্তু শিক্ষকদের নৈতিকতার মানদণ্ড রক্ষা করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীরা স্কুলে শুধু পাঠ্যবই শিখতে যায় না। সেখানে তাদের জীবন শেখানো হয়। তাই শিক্ষকদের কাছ থেকে নৈতিকতা শিখবে, মূল্যবোধ শিখবে। প্রাইভেট-কোচিংয়ের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে হলে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। শিশুদের জন্ম নেয় নিষ্পাপ হিসেবে। আমরা তাদের নানা প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেই। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পয়সা দিয়ে কিনে সন্তানের হাতে তুলে দেই। কীভাবে পাশের বন্ধুকে ল্যাং মেরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, আমরা সন্তানদের সেই শিক্ষা দেই। গাইড বই, নোট বই আমরাই কিনে তাদের জাতে তুলে দেই। তারা শিখে যায়, ফল ভালো করতে হলে অমুক শিক্ষকের কাছে কোচিং করতে হবে। এভাবে ঘরে-বাইরে, স্কুলে শিশুদের অনৈতিকতা শেখাই। তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার বদলে শৈশবেই তা ধ্বংস করে দেই। 

চ্যালেঞ্জ আছে বলে থেমে থাকা যাবে না। সামনে যত বাধাই আসুক শিশুদের স্বার্থে সব বাধা পেরিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা চাই আমাদের প্রতিটি সন্তান মানুষের মতো মানুষ হোক। তারা শিক্ষায়, জ্ঞানে, মানবিকতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। কেউ কাউকে ল্যাং মেরে এগিয়ে যাবে না। সবাই সবার পাশে থাকবে, একসাথে এগিয়ে যাবে। তাদের জীবনটা যুদ্ধের না হোক, হোক আনন্দের, সৃষ্টিশীলতার। দেশের ভবিষ্যতটা তো তাদেরই হাতে। তাই তাদের পেছনেই আমাদের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

/এসএএস/

সম্পর্কিত

‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি’

‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি’

‘সভ্য সমাজে এগুলো হতে পারে না’

‘সভ্য সমাজে এগুলো হতে পারে না’

১৫ আগস্টের দায় কেন বিএনপির?

১৫ আগস্টের দায় কেন বিএনপির?

‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, তবে...’

‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, তবে...’

আমি কেন তালেবানকে সমর্থন করি না?

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২৩

মো. জাকির হোসেন দীর্ঘ দুই দশক পর তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় পুনরায় ফিরে আসার পর বিশ্বের নানা প্রান্তে তাদের পক্ষে-বিপক্ষে নানা বক্তব্য-বিতর্ক চলছে। ইয়েমেনসহ কিছু দেশে জিহাদিরা তালেবানের বিজয়ে আতশবাজি পুড়িয়েছে, সোমালিয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেছে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ইসলামপন্থী সংগঠনগুলো এ ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে। বাংলাদেশের কিছু মানুষ তালেবানে এতটাই মজেছে যে, পারলে কিছু তালেবান ভাড়া করে এখনই সরকারকে বিদায় করে দেয়। 

আমি তালেবানের সমর্থক নই। আবার তালেবানের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার তাদের পক্ষেও নই। যেসব কারণে আমি তালেবানকে সমর্থন করতে পারছি না, তা হলো – এক. ইসলামি শরিয়া আইন বাস্তবায়নের নামে তালেবান নিজেরাই কোরআন-হাদিসের বিধান লঙ্ঘন করছে। আমি কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করছি। তালেবানের ভয়ে মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে মরিয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাসুল (সা.) উদ্দেশ করে বলেন, ‘আল্লাহর অনুগ্রহে আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছেন। যদি আপনি তাদের প্রতি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার পাশ থেকে সরে যেত।...’ (সুরা আল ইমরান: ১৫৯) 

রূঢ় ও কঠোরচিত্ত তালেবানের নৃশংসতা, নিপীড়ন, নির্যাতনের ভয়ে মানুষ নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে যেতেও কুণ্ঠিত নয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কোনও ভাই যেন তরবারি দিয়ে তার ভাইয়ের প্রতি ইঙ্গিত না করে। কেননা, তোমরা জান না, শয়তান তার মধ্যে হাত রেখে টানতে থাকে, তারপর সে জাহান্নামের গর্তে পড়ে যায়। (মুসলিম, ৬৫৬২)। 

পাঞ্জশির তালেবান যোদ্ধাদের দখলে এই খবর শোনার পর কাবুলের তালেবানেরা ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করে। এতে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪১ জন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘…যে ব্যক্তি নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করার দণ্ডদান উদ্দেশ্য ছাড়া কাউকে হত্যা করে, সে যেন পৃথিবীর সব মানুষকেই হত্যা করলো। আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করলো ।… (সুরা মায়েদাহ: ৩২)। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: ‘দুনিয়া ধ্বংস করার চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণ্যতর কাজ হলো মানুষ হত্যা করা।’ (তিরমিযি, ১৩৯৫)। অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি আকাশ ও পৃথিবীর সবাই মিলেও কোন মু’মিন হত্যায় অংশগ্রহণ করে তবু আল্লাহ তা’আলা তাদের সবাইকে মুখ উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’(তিরমিযি, ১৩৯৮)। 

আল্লাহ বলেন, “প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মের জন্য দায়ী থাকবে। কেউ অন্যের (পাপের) বোঝা বহন করবে না।…।”(সুরা আনআম: ১৬৪)। তালেবানদের প্রতিপক্ষকে সহায়তা করার অপরাধে অভিযুক্ত আফগান নাগরিককে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে তালেবান, যা কোরআনের বিধানের লঙ্ঘন। পাঞ্জশিরে আফগানিস্তানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহর ভাই রুহুল্লাহ আজিজীকে হত্যার পর পরিবারকে তার দেহ দাফন করতে দেয়নি তালেবান। তারা বলেছে, তার শরীর পচা উচিত। অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের ছয়টি হক আছে।’ এর একটি হলো, ‘মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজায় উপস্থিত হওয়া।’ (মুসলিম, ৪০২৩) শান্তি, সম্প্রীতি, ক্ষমা, সহনশীলতা ও ভালোবাসার নাম ইসলাম। উগ্রতা, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধপরায়ণতা, সাম্প্রদায়িকতা ইসলাম নয়। অবিশ্বাসীরা রাসুল (সা.)-কে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে, নামাজরত অবস্থায় তাঁর মাথায় উটের পচা-গলিত নাড়িভুঁড়ি ও আবর্জনা নিক্ষেপ করেছে, তাঁর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রেখেছে, তাঁকে পাথর দিয়ে আঘাত করেছে। মাতৃভূমি ত্যাগ করতে যারা বাধ্য করেছিল, মুসলমানদের ঘরবাড়ি থেকে যারা বিতাড়ন করেছে, লুটপাট করেছে, মুসলমানদের সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে, রাসুল (সা.)-এর চাচা হামজা (রা.)-এর কলিজা যে চিবিয়েছে, উহুদের যুদ্ধে শহীদ সাহাবাগণের মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে যারা খণ্ড-বিখণ্ড-বিকৃত করেছে, মক্কা বিজয়ের পর হাতের কাছে পেয়েও তিনি তাদের কোনও প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। বরং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে সবাইকে উদারতা ও ক্ষমার চাদরে ঢেকে দিয়ে বলেছিলেন, আজ তোমাদের ওপর আমার কোনও অভিযোগ নেই, তোমরা মুক্ত। 

চাচা আবু তালিব ও স্ত্রী খাদিজার (রা.) মৃত্যুর পর কুরাইশরা রাসুলের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের মাত্রা আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল। মক্কার মাটিতে তিনি আর টিকতেই পারছিলেন না। তিনি তায়েফবাসীর কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১০ দিন পর্যন্ত তিনি ঘুরে ঘুরে ইসলামের আহ্বান জানাতে থাকেন। কিন্তু তারা তাঁর কথায় কোনোই কর্ণপাত করলো না; বরং তারা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিল। অবশেষে তারা সন্ত্রাসী দুষ্ট যুবকদের লেলিয়ে দিলো। যুবকরা রাসুল (সা.)-কে পাথরের আঘাতে জর্জরিত করে তুললো। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর জীবন-আশঙ্কা দেখা দিলো। মহানুভব রাসুল (সা.) তায়েফবাসীদের এহেন আচরণ সত্ত্বেও আল্লাহর কাছে তাদের জন্য ক্ষমা ও করুণা প্রার্থনা করেন। 

অথচ তালেবান কাবুল দখলের পর প্রতিশোধ নিতে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে, সাংবাদিকদের পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। 

দুই. ইসলামে জিহাদ ইবাদত। ইবাদত কবুলের অন্যতম শর্ত হলো উপার্জন হারাম হতে পারবে না। একাধিক রিপোর্টে প্রকাশ, তালেবান বেশিরভাগ অর্থ সংগ্রহ করেছে মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি ও অপহরণের পর মুক্তিপণ থেকে। স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগান রিকন্সট্রাকশন (সিগার)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মাদক ব্যবসা এবং চোরাচালানের মাধ্যমে বছরে ১০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে তালেবান। রিপোর্ট অনুযায়ী, তালেবানের বার্ষিক রাজস্বের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। ইসলামে এর সবই হারাম। 

তিন. শরিয়া আইনের বিধান রাতারাতি কার্যকর করতে চায় তালেবান। শরীরে জটিল অসুখ হলেও সেরে ওঠতে সময় লাগে। আর অন্তরের অসুখ তো ভয়ংকর, তা দূর করতে সময় দরকার। শত শত বছর ধরে মানুষ ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছে। বহু শতাব্দী ধরে ইহুদি, নাসারা, মুশরিক, অবিশ্বাসীদের জীবনযাপন, সভ্যতা-সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে যে অন্তর, তা কী চাবুক মেরে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন করা যাবে? কোরআন-হাদিসে নবী-রাসুলদের ঘটনা সাক্ষ্য দেয়, তাঁরা যুগ যুগ ধরে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেছেন। তা সত্ত্বেও কোনও কোনও নবী-রাসুলের আহ্বানে হাতে গোনা কয়েকজন সাড়া দিয়েছেন। এমনকি কোনও নবীর আহ্বানে একজনও সাড়া দেননি। 

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: একদিন রাসুল (সা.) বললেন, ‘আমার কাছে সব উম্মতের লোকদের পেশ করা হলো। আমি দেখলাম, কোনও নবীর সঙ্গে মাত্র সামান্য কয়জন (৩ থেকে ৭ জন অনুসারী) লোক রয়েছে। কোনও নবীর সঙ্গে একজন অথবা দুই জন লোক রয়েছে। কোনও নবীকে দেখলাম তাঁর সঙ্গে কেউই নেই!...।’ (বুখারি, ৫৭০৫; ৩৪১০; তিরমিযি, ২৪৪৬; মুসনাদে আহমাদ, ২৪৪৪)। 
মক্কায় আল্লাহর আইন চালু করতে না পেরে রাসুল (সা.) মদিনায় গিয়ে সফল হন। মদিনার সংহতির চিন্তা করে রাসুল (সা.) সেখানকার অধিবাসীদের নিয়ে তথা পৌত্তলিক, ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুসলিমদের মধ্যে এক লিখিত সনদ বা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ সনদকেই ‘মদিনা সনদ’ বলা হয়। মদিনা সনদে বলা হয়, স্বাক্ষরকারী ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও মুসলিমরা মদিনা রাষ্ট্রে সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন এবং একটি জাতি (উম্মাহ) গঠন করবেন। সব শ্রেণির লোক নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। 

চার. তালেবান নারী শিক্ষা নিয়ে গড়িমসি করছে। নারীরা শিক্ষা বঞ্চিত হলে নারীদের জন্য নারী ডাক্তার, নারী শিক্ষক কীভাবে তৈরি হবে? পর্দা বজায় রেখে শিক্ষাগ্রহণ কি ইসলামে নিষিদ্ধ? 

পাঁচ. জোর করে চাপিয়ে দিয়ে, ভয় দেখিয়ে ইসলামি শাসন কায়েম করতে চায় তালেবান। রাসুল (সা.) যখন পৃথিবীতে আসেন তখন জাহেলি তথা অন্ধকারের যুগ ছিল, তাগুতের শাসন ছিল। রাসুল (সা.) কি এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য জোর করে, নেতিবাচক পন্থায়, নৈরাজ্য ও ধ্বংসাত্মক পন্থা অবলম্বন করেছিলেন, না সুন্দর ব্যবহার, উত্তম চরিত্র, আল্লাহর পথে আহ্বান, আত্মগঠন ও সমাজ-সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন? তালেবান তাহলে কার অনুসরণ করছে? আল্লাহর আইন বা ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হলে তা শুধু আল্লাহর কোরআন ও রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথেই করতে হবে। ইসলামের নামে কোনও শায়খের খামখেয়ালিপনা কিংবা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শবিরোধী পন্থায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। পিটিয়ে, আঘাত করে, ভয় দেখিয়ে, নিষ্ঠুরতা বা নৃশংসতার মাধ্যমে নয়, বরং দাওয়াতের ভিত্তিতে মদিনার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ইসলামি জীবন ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিলেন, এবং রাসুল (সা.)-কে তাদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। 

আল্লাহ তা’আলা রাসুল (সা.)-কে বলেন: “আপনি মানুষকে দাওয়াত দিন আপনার রবের পথে হিকমত ও উত্তম কথার মাধ্যমে এবং তাদের সঙ্গে তর্ক করুন উত্তম পদ্ধতিতে।…” (সুরা নাহল: আয়াত ১২৫)। উত্তম তর্ক হচ্ছে- কোমলতা ও দয়ার মাধ্যমে, ইসলামের বুনিয়াদি দিকগুলো তুলে ধরা। অবশ্যই নম্রতার সঙ্গে মানুষকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে হবে। এমনকি মহান রব মুসা (আ.) ও তাঁর ভ্রাতা হারুন (আ.)-কে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম অত্যাচারী শাসক নিজেকে আল্লাহ বলে দাবিকারী ফিরাউনকে পর্যন্ত নম্রতার সঙ্গে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “তোমরা উভয়ে ফিরাউনের নিকট যাও, সে তো সীমা লঙ্ঘন করেছে। তোমরা তার সঙ্গে নম্র ভাষায় কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।” (সুরা ত্বহা: আয়াত ৪৩-৪৪)। 

বাস্তব জীবনে কোনও কিছুর ভিত তৈরি হয়ে পূর্ণতা পেতে যেমন সময়, পরিশ্রম ও ধৈর্যের প্রয়োজন তেমনি মানুষের অন্তরগুলো গড়ে তুলতে এবং সেগুলোকে সত্যের পথে নিয়ে আসতে সময়, ধৈর্য ও ত্যাগের প্রয়োজন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘…যাকে মানুষ তাদের জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে সে-ই প্রকৃত মুমিন।’ (তিরমিযি,২৫৫১; নাসাঈ, ৪৯০৯)। অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘কেবল হতভাগ্য ব্যক্তির হৃদয় থেকেই দয়া তুলে নেওয়া হয়।’ (তিরমিযি, ১৯২৩)। 

ছয়. চীন সরকার উইঘুর মুসলিমদের নামাজ-রোজা পালনে বাধা দিচ্ছে, হারাম খাদ্যগ্রহণে বাধ্য করাসহ নিষ্ঠুর নির্যাতন করছে। অথচ তালেবান তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলছে। ইসলামে সব অমুসলিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ নয়। এমন অমুসলিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব বা মেলামেশা করা যাবে, যে ইসলামকে কটাক্ষ করে না, উপহাস করে না, কটূক্তি করে না, মুসলিমকে দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চায় না। কিন্তু তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না যে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে, কাজ করে। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, “…আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদের দেশ থেকে বহিষ্কৃত করেছে এবং বহিষ্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।” (সুরা মুমতাহিনা: ৮-৯)।

তালেবান শরিয়া আইন চালুর কথা বলছে। মুসলমান হিসেবে আমার অবশ্যই এর বিরোধিতা করা উচিত নয়। পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ৪৪নং আয়াতে বলা হয়েছে, “আর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির।” পরবর্তী ৪৫নং আয়াতে বলা হয়েছে, “আর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই জালিম।” এর পরবর্তী ৪৭নং আয়াতে বলা হয়েছে, “আর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই ফাসিক (পাপাচারী)।” ইবন আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যে কেউ আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অস্বীকার করবে সে অবশ্যই কাফের হয়ে যাবে। আর যে কেউ তা স্বীকার করবে, কিন্তু বাস্তবায়ন করে তদানুসারে বিধান দিবে না সে জালেম ও ফাসেক হবে’ (তাবারি)। 

তালেবান মুখে শরিয়া আইনের কথা বললেও তাদের অনেক কর্মকাণ্ড কেবল ইসলামের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণই নয়, কিছু ক্ষেত্রে তা কোরআন-হাদিসের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। শরিয়ার বিধান চালুর নামে কোনও শায়খের খামখেয়ালিপনা কিংবা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শবিরোধী পন্থা সমর্থনযোগ্য নয়।

লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: [email protected]

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

পরীমণি, ‘সরি মণি’

পরীমণি, ‘সরি মণি’

রাজনীতি ও ইতিহাসের ভুল পাঠ ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা

রাজনীতি ও ইতিহাসের ভুল পাঠ ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা

বিপদ ডেকে আনছে ভারত, ঝুঁকি বাংলাদেশেরও

বিপদ ডেকে আনছে ভারত, ঝুঁকি বাংলাদেশেরও

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের

বিষয়টি ‘কথার কথা’ নয়

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩৪

রেজানুর রহমান আমার আজকের লেখাটা একটু অন্যরকম। সবার পছন্দ নাও হতে পারে। কারণ, সংস্কৃতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা আমরা অনেকেই পছন্দ করি না। গানবাজনা, নাটক, চলচ্চিত্র, শিল্পকলা এসব নিয়ে কথা বলার কী কোনও মানে হয়? শুধু শুধু সময় নষ্ট। যারা এমনটা ভাবেন, আমার ধারণা তারা একটু স্বার্থপর। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংস্কৃতি কর্মীরাই ছিল প্রথম সারির সৈনিক। যেকোনও সংকটকালেই তাদের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু প্রয়োজন শেষ, আর সংস্কৃতি কর্মীদের কথা মনে থাকে না।

এই করোনাকালের কথাই ধরি। গত দেড় বছর অন্যান্য সেক্টরের মতো দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনও ঝিমিয়ে ছিল। সিনেমা হল বন্ধ, নাটকের মঞ্চায়ন বন্ধ। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলেছে। সবার একটাই প্রত্যাশা ছিল, নিশ্চয়ই আবার সবকিছু স্বাভাবিক হবে। আবার জমবে মেলা, বটতলা হাটখোলায়। আশার কথা, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দেশের সবকিছুই এখন স্বাভাবিক গতিতে চলমান হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অবস্থা খুবই করুণ। দীর্ঘ দেড় বছরের বিরতি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে এতটাই কাহিল করে তুলেছে যে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই। খেয়াল করলেই দেখবেন, রাজনৈতিক, সামাজিক, এমনকি পারিবারিক অনুষ্ঠানেও আমরা শিল্পীদের ডেকে আনি। নাচ গান, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়া কোনও কিছুই জমে না। সে কারণে যেকোনও আয়োজনের আগে শিল্পীরা হয়ে ওঠেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর কারও কারও কাছে আদরের শিল্পীরাই হয়ে ওঠেন অনেক ঝামেলার। ‘আরে ভাই এত টাকা টাকা করেন কেন? টাকা দিবো না এ কথা বলেছি নাকি? চিন্তা করবেন না। কাল, পরশু টাকা পেয়ে যাবেন...’।

এখন প্রশ্ন হলো শিল্পীদের কি সংসার নেই? তাদের কি খেতে হয় না? তাদের কি বাড়ি ভাড়া দিতে হয় না? এই করোনাকালে নাটক, সিনেমা ও সংগীতাঙ্গনের মানুষরাই সীমাহীন বিপাকে পড়েছে। আয় রোজগারের পথ বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন অনেকে। একটাই আশা ছিল, করোনার সংক্রমণ কমে গেলে নিশ্চয়ই সবকিছু আবার স্বাভাবিক হবে। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই শিল্পীদের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু তার তো কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। নাটকের মঞ্চ খুলে গেছে। সিনেমা হল খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা কি জানি এই সেক্টরের মানুষগুলো কতটা আর্থিক বিপদে আছেন? সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কথাই বলি। গত দেড় বছরে অনেকে ভাড়া দিতে না পারায় অফিস ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে নাটকের সেট, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সরঞ্জামাদি, যেমন- হারমোনিয়াম, তবলা ইত্যাদি নষ্ট হয়ে গেছে। আর্থিক সংকটে আবার ঘুরে দাঁড়াবার শক্তি পাচ্ছে না অনেক সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠন। তাই দাবি উঠেছে আর্থিক প্রণোদনার। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৩টি মিলনায়তন ঢাকার নাট্যকর্মীদের অনেক আস্থার জায়গা। কর্তৃপক্ষ মিলনায়তনগুলো খুলে দিয়েছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেক সংগঠনের পক্ষে এখন  নিয়মিত নাটক করা সম্ভব হবে না। এটাই চরম বাস্তবতা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঞ্চপাড়ায় হল ভাড়া মওকুফ অথবা বিশেষ প্রণোদনার দাবি উঠেছে। দেশের শীর্ষ সারির দুটি নাট্য সংগঠন যথাক্রমে ঢাকা থিয়েটার ও আরণ্যক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হল ভাড়া মওকুফ অথবা বিশেষ প্রণোদনা না পেলে তারা বরাদ্দপ্রাপ্ত তারিখে মঞ্চ নাটক করবে না!

ঢাকা থিয়েটার-এর প্রধান নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেছেন, ঢাকাস্থ শিল্পকলা একাডেমি ও সারাদেশে শিল্পকলা একাডেমির হল ভাড়া মওকুফ করা ও সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে করোনা প্রণোদনা না দেওয়ার প্রতিবাদে আমরা ১৭ সেপ্টেম্বর শিল্পকলায় নাটক করবো না। তিনি আরও বলেছেন, করোনা মহামারির কারণে দেশের প্রায় সব সাংস্কৃতিক সংগঠনই আর্থিক সংকটে পড়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষার পরেই আমরা সংস্কৃতির কথা বলি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে আমরা যে ধরনের আন্তরিকতা দেখিয়েছি, তার ছিটেফোঁটাও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না। যদিও শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির এমন তুলনা করা ঠিক হয়। কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতিরও উন্নয়ন তো জরুরি। অনেকেই হয়তো ব্যাপারটা খেয়াল করছেন না। অথবা খেয়াল করলেও দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাচ্ছেন। সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে আকাশ সংস্কৃতি। মোবাইল ফোন সংস্কৃতির আগ্রাসন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশ সংস্কৃতিই ভেসে আসছে মোবাইল ফোনে। আমাদের ভালো সিনেমা নেই, সাংস্কৃতিক চর্চা নেই, মঞ্চ নাটক নেই। ফলে প্রায় প্রতিটি পরিবারে আকাশ সংস্কৃতিই প্রভাব ফেলছে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম ভিনদেশের তারকাদের যেভাবে চিনে নিজ দেশের তারকাদের সেভাবে চিনে না! তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশের চেয়ে বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ দিনে দিনে বাড়ছে। এমন একটা নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বলিষ্ঠ ভূমিকা দরকার। কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব? কথায় আছে, অভাব দেখা দিলে গভীর প্রেমও দরজা-জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। করোনা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। কাজেই আর্থিক প্রণোদনা ছাড়া বোধকরি সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে জাগিয়ে তোলা যাবে না। এটা ‘কথার কথা’ এমন বিষয় না। জরুরি ভেবে দেখার বিষয়।

লেখক: কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক: আনন্দ আলো।

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

স্কুল যেন এবার আনন্দের হয়

স্কুল যেন এবার আনন্দের হয়

এক হাত পরীর, অন্য হাত কার?

এক হাত পরীর, অন্য হাত কার?

দেশের বড় সেতুগুলোর নিরাপত্তা কি আছে?

দেশের বড় সেতুগুলোর নিরাপত্তা কি আছে?

মডেল মানেই কি রাতের রানি?

মডেল মানেই কি রাতের রানি?

কাজের কথা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:১৭

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা মাথা তুলছে বেকারত্ব, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ছে। শহর, উপ-শহর ও গ্রাম– সারা দেশেই কাজের গতি এসেছে। কিন্তু মানুষের জন্য কাজ তৈরির পথ এখনও মসৃণই হয়নি। কর্মসংস্থানের ছবিতে অর্থনীতির গতির প্রতিফলন কম। খেটে খাওয়া মানুষ যদিওবা কিছু একটা করে টিকে থাকছে, বেশি বিপদে পড়েছে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস)-এর এক জরিপে উঠে এসেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ৬৬ শতাংশ অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশই বেকার থাকছেন। ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি পান। ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনও অন্য কোনও বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছেন কিংবা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ৩ শতাংশ স্ব-উদ্যোগে কিছু করছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে এখন মোট শিক্ষার্থী আছেন ২০ লাখের মতো।

ছবিটা উদ্বেগজনক। যোগ্য চাকরি জোগাড় করা দুরূহ কাজ। কিন্তু উপরোক্ত চিত্র জানিয়ে দেয় যে উপযুক্ততা অনেক দূরের ব্যাপার, একটা কাজই জোগাড় হচ্ছে না বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীর। সমস্যাটি কেবল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়। অন্যান্য পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন, তাদের চাকরির বাজারও ভালো নয়।

বিআইডিএস প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান। তার গবেষণার মূল্য এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। সেই সংস্থা যখন এমন তথ্য দেয়, তখন তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হয়। বাংলাদেশে বেকারত্বের হার সাধারণত শিক্ষিতদের মধ্যেই বেশি হয়ে থাকে। এখানেই শিক্ষা আর কাজের সম্পর্ক নিয়ে আমাদের ভাবতে হয়। অর্থনীতির আলোচনায় কর্মসংস্থানের সমস্যা নিয়ে যে আলোচনা হয়, সেখানে নীতি-নির্ধারকদের দিক থেকে যতটা প্রতিশ্রুতি থাকে, ততটা থাকে না সমাধানের ইঙ্গিত। সম্পদ আর কর্মসংস্থান সৃষ্টিই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার আসল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ এখন উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ। মানুষের মাথাপিছু আয়ও বেশি। সেই বাস্তবতায় কর্মসংস্থানে সাফল্যই প্রত্যাশিত। বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি পেতে তরুণ সমাজের মধ্যে আকাঙ্ক্ষাই বলে দেয় কর্ম সৃজনের জন্য যে শক্ত ব্যক্তি খাত প্রয়োজন, সেটা আমরা গড়ে তুলতে পারিনি কিংবা যেটুকু গড়ে উঠেছিল সেটা নষ্ট করেছি।

বেকারত্ব কমানোর সরকারি প্রচেষ্টা থাকবে, সেটাও ঠিক। কিন্তু বিআইডিএসের গবেষণা-ফল বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশে এখন শিক্ষার সঙ্গে চাকরি বা কর্মসংস্থানের সম্পর্কগত ধারণা বদলে যাচ্ছে। শিক্ষিত হলেই কাজ মিলবে, এমন ধারণা আর থাকছে না। অ্যাকাডেমিক জীবনে ভালো ফল করলেই ক্যারিয়ার-গ্রাফ ভালো হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। যে যে বিষয়ে পড়ছে, সে বিষয়ে কাজ পাচ্ছে না বা সেই ক্যারিয়ার তার কাছে আকর্ষণীয় লাগছে না। তাই প্রকৌশলী বা চিকিৎসক বিসিএস দিয়ে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র দফতরে, প্রশাসনিক বা পুলিশ ক্যাডারে।

প্রাণিবিজ্ঞানে পড়ালেখা করে কাজ করছেন ব্যাংকে বা বিমা খাতে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মের কোনও সাযুজ্য নেই। অথচ শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যই এই সাযুজ্য, উপযুক্ত সম্মান এবং যোগ্যতা অনুসারে অর্থ উপার্জন নিশ্চিত করা। কর্মসংস্থানের জন্য দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যশাস্ত্রের জয়জয়কার। প্রচুর ছেলেমেয়ে বিবিএ আর এমবিএ করে বের হচ্ছে প্রতিবছর। তাদের প্রায় সবাই চায় চাকরি। আত্মকর্মসংস্থান, অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে যে ধরনের ব্যক্তিগত অবকাঠামো প্রয়োজন, সেখানেও সমস্যা আছে।

বিআইডিএস বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে যারা বেকার থাকছেন, তাদের অধিকাংশই ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বাইরে অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করা। অর্থাৎ ব্যবসায় প্রশাসনে পড়া শিক্ষার্থীরাই তুলনামূলক বেশি চাকরি পাচ্ছেন। নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করার ক্ষেত্রেও ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। শঙ্কার বিষয় হচ্ছে, শিক্ষিতদের বড় একটা অংশ যদি উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে, তাহলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এত রাষ্ট্রীয় ও পারিবারিক বিনিয়োগের পর একটি ছেলে বা মেয়ে বেকার থাকলে তা শুধু কষ্টদায়ক নয়, বরং বলতে হবে সম্পদের অপচয়।

এত এত উচ্চশিক্ষিত প্রতিবছর সৃষ্টি করে উপকার কী হচ্ছে, সে প্রশ্ন নিশ্চয়ই উঠতে পারে। এত শিক্ষিত জনগোষ্ঠী থাকার পরও আমাদের করপোরেট-জগতে বিপুল বিদেশিকে ডেকে আনতে হচ্ছে উচ্চ বেতনে। এ বিষয়টা ভাবা দরকার। কেন এমন হচ্ছে সেই কারণ খুঁজে বের করা দরকার।

আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখছি, গরিবেরা বেকার থাকে না। দরিদ্রদের মধ্যে বেকার কম। বেকার সমস্যা বলে সচরাচর যাকে আমরা চিনি, তা আসলে যারা শিক্ষিত এবং তারাই আসলে কাজ পান না। আর বড়লোকদের বেকার হওয়ার সুযোগই নেই। ভাবনা মধ্যবিত্তকে নিয়ে, যাদের কাজের সুযোগ প্রসারিত হচ্ছে না। কারিগরি বিদ্যায় দক্ষ একজন বড় বেতনের কাজ পায়, তার কাজের অভাবও হয় না; কিন্তু তার কোনও সামাজিক মর্যাদা সৃষ্টি হয় না। আর এভাবেই শিক্ষিত বেকার তৈরি হয়। শিক্ষিত বিশাল এক জনগোষ্ঠীর অকারণ অযোগ্য উচ্চাশা উচ্চারিত আকাশে-বাতাসে।

এত মানুষ, অথচ উদ্যোক্তারা বলেন, তারা চাকরিপ্রার্থী লাখ লাখ পেলেও সত্যিকারের কাজের লোক পান না। ভালোভাবে বুঝতে হবে কেন বিভিন্ন ধরনের কাজে শ্রমের বাজারে চাহিদা আর জোগানে মিল থাকছে না। পরিকল্পনায় যারা আছেন, তারা শিক্ষা নিয়ে ভাবুন, ভেবে ঠিক করুন দেশে শিক্ষিত বেকারের জোগান বাড়বে, নাকি এমন শিক্ষা ব্যবস্থা হবে, যেখান থেকে সত্যিকারের কর্মী বাহিনী সৃষ্টি হবে।

লেখক: সাংবাদিক

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

স্কুল যখন খুলছে

স্কুল যখন খুলছে

৪৩ বছরে বিএনপি

৪৩ বছরে বিএনপি

জনপ্রতিনিধি ও জনপ্রশাসক

জনপ্রতিনিধি ও জনপ্রশাসক

আমেরিকার মিশন ইমপসিবল

আমেরিকার মিশন ইমপসিবল

ফেসবুকের পক্ষপাতমূলক আচরণ কেন?

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:০৭
লীনা পারভীন বর্তমানে গোটা বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগের এক নাম্বার মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। আমেরিকার তৈরি এই এক ফেসবুকের মাধ্যমে একদিকে যেমন কোটি কোটি মানুষ বিশ্বব্যাপী যুক্ত হচ্ছে, আবার এর মাধ্যমে চলে নানা রকম বাণিজ্যও। আধুনিক বিশ্বে তাই ফেসবুকের অস্তিত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। বাংলাদেশে মোট ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে বাংলাদেশ ফেসবুকের মতো একটি মাধ্যমের জন্য বিশাল সম্ভাবনার বাণিজ্য। অথচ এই মিডিয়ার ওপর বাংলাদেশের কোনও কর্তৃপক্ষের নেই নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা।

অন্যান্য দেশের মতো ফেসবুক এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। যেকোনও ইস্যুতেই পাবলিক অপিনিয়নের একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম এই ফেসবুক। অতি অল্প সময়ে বেশি সংখ্যক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের এমন সহজ মাধ্যম এখনও সৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশে শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য চলে এই ফেসবুককে কেন্দ্র করে, যাকে এফ কমার্স বলা হয়। অথচ উপকারী এই মাধ্যমটির বিরুদ্ধে এরইমধ্যে উঠেছে নানা অভিযোগ। ফেসবুকের জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব বা ফেইক সংবাদ প্রচার করে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাকে অস্থির করে তোলার চেষ্টাও দেখেছি। ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের পেইজ বা গ্রুপের মাধ্যমে চলছে ব্যক্তি, সরকার বা রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ধরনের হেইট স্পিচ। মিথ্যা সংবাদকে অতি দ্রুত বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম এখন ফেসবুক। কোটাবিরোধী আন্দোলন বা সাম্প্রতিক এমন অনেক আন্দোলনের সময় আমরা সেসবের উদাহরণ পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সাকিব আল হাসানের মতো ব্যক্তিত্বদের নিয়েও সরাসরি আক্রমণমূলক বক্তব্য ও ভিডিও ফেসবুকের বুকে ঘুরেছে অহরহ, কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নিয়েছে ফেসবুক, না নিতে পেরেছে আমাদের সরকার বা কর্তৃপক্ষ। সরাসরি হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে সেখানে। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালগুলোর সংবাদ যখন শেয়ার হয়, সেখানে কমেন্ট সেকশনগুলোতে গেলে রীতিমতো আতঙ্কিত হতে হয় যে এটা কোন দেশ? অথচ সেখানে ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড কাজ করে না। রিপোর্ট করেও কোনও সুরাহা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যারা লেখালেখি করছেন বা বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যারা পোস্ট করেন, এমন অনেকের লেখাকে কেন্দ্র করে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গের নামে আইডি রেস্ট্রিক্ট করা হচ্ছে। কারও পোস্ট রিচ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি বিভিন্ন মেয়াদে ব্যান দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড আসলে কী? এই স্ট্যান্ডার্ডের উদ্দেশ্য কী? এর উদ্দেশ্যই হচ্ছে সব ব্যবহারকারীর মধ্যে একটি স্বচ্ছ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তারাই বলছে এই স্ট্যান্ডার্ড দেশ বা সীমা নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য। সহিংসতা তৈরি করতে পারে এমন সব ধরনের কনটেন্টকে তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। বাস্তবে আমরা কী দেখছি? ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গণহত্যার ছবি পোস্ট দিলে সেটাকে স্ট্যান্ডার্ডের অজুহাতে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে, মৌলবাদ বা জঙ্গিবাদ নিয়ে কোনও লেখা দিলে সেখানে তারা স্ট্যান্ডার্ডের নীতি দেখাচ্ছেন, কিন্তু কাউকে সরাসরি মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া ভিডিও বা পোস্ট থেকে যাচ্ছে অনায়াসে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক দিন ধরেই কাজ করছে একজন ব্লগার অমি রহমান পিয়াল। সম্প্রতি তিনি লিখিত একটি কলামে ফেসবুক নিয়ে যে অভিযোগ এনেছেন সেটি মারাত্মক। মাসের পর মাস তাকে ব্যান করে রাখা হচ্ছে কেবল মুক্তিযুদ্ধ বা সরকার পক্ষীয় পোস্টের জন্য। তিনি অভিযোগ করেছেন, অনেকবার অ্যাপ্লাই করার পরও তাই আইডি ভ্যারিফাইড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। লাখো ফলোয়ারের আইডি হয়েও তার সব লেখা ফলোয়ারদের কাছে পৌঁছায় না। এমনকি কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের অজুহাতে তার মেসেঞ্জারকেও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে অথচ মেসেঞ্জার কিন্তু পাবলিক স্পেস না। মেসেঞ্জারে একজন ব্যবহারকারী অনেক ধরনের মেসেজ আদান-প্রদান করেন, যা মূলত ওয়ান টু ওয়ান হয়ে থাকে। এ বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ংকর। ফেসবুক ঘোষণা দিয়ে থাকে তাদের ডাটা প্রাইভেসি আছে। একজনের মেসেঞ্জারে কী আদান-প্রদান হয় সেটি নিশ্চয়ই কেউ রিপোর্ট করেনি বা কারও অনুভূতিতে আঘাত করেনি। তার মানে ফেসবুক নিজেই এটি মনিটরিং করছে এবং নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এখানে ডাটা প্রাইভেসি কোথায়? মেসেঞ্জারের তথ্য যে কোথাও পাচার হচ্ছে না সেই বিশ্বাস কিন্তু এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগ উঠেছে ফেসবুকের নিয়োগকৃত এ অঞ্চলের বাংলাদেশি মডারেটরদের বিরুদ্ধে। মূলত ফ্যাক্ট চেকিংয়ের নামেই এসব করছে তারা। আমি নিজেও এর ভিকটিম। একটি অত্যন্ত সাধারণ পোস্টের অজুহাতে আমাকে ব্যান করা হয়েছিল, এমনকি বর্তমানে আমি কোনও লাইভ স্ট্রিমিং চালাতে পারি না। কেন এই দ্বিচারিতা? বহুবার আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এগুলো নিয়ে, কিন্তু তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।

রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাছে কি ফেসবুক এতটাই শক্তিশালী হয়ে গেলো? ফেসবুকের বিরুদ্ধে এমন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল ভারতেও। এমনকি আমেরিকার নির্বাচনের সময় তো তুলকালাম ঘটেছিল। কই, সেসব দেশ তো ফেসবুকের পরোয়া করেনি। ফেসবুক ঠিকই সেসব দেশের নিয়ম শ্রদ্ধা করতে বাধ্য হয়েছে। তাহলে আমাদের জন্য কেন সেটা প্রযোজ্য হবেনা? অন্তত ফেসবুকের এ দেশীয় যেসব ফ্যাক্ট চেকার আছে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড তো সরকার চেক করতেই পারে। তারা কারা? কী তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা তারা যে পক্ষপাতিত্ব করছে, এর প্রমাণ তো আমাদের কাছে প্রচুর আছে। সেসব নিয়ে কেন আমরা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারছি না? ভূরি ভূরি ভিডিও/পেইজ/গ্রুপ আছে যারা অহরহ কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে, অথচ সেগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করলেও অগ্রাহ্য হচ্ছে।

সামনে নির্বাচন। আমার আশঙ্কা মৌলবাদ বা উগ্রবাদীরা এর সুযোগ নিতে শুরু করেছে। অনলাইনে ফাইটারদের কোণঠাসা করে দেওয়া হচ্ছে। গুজব ছড়িয়ে দেশে যেকোনও সময় একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সরকারের উচিত এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনা। অন্যথায়, সরকারের অন্যতম সফল ডিজিটাল বাংলাদেশের ফলাফল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হবে। 
/এমওএফ/

সম্পর্কিত

অস্তিত্ব সংকটে আফগান নারীরা?

অস্তিত্ব সংকটে আফগান নারীরা?

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতা

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতা

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে কন্যা সাফরার না বলা কথা

আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে কন্যা সাফরার না বলা কথা

সংসদে কাদের মির্জার বিচার চেয়েছে জাপা

সংসদে কাদের মির্জার বিচার চেয়েছে জাপা

সুদিনের মৌমাছিদের কমিটিতে স্থান নেই: কৃষিমন্ত্রী

সুদিনের মৌমাছিদের কমিটিতে স্থান নেই: কৃষিমন্ত্রী

ওমরাহ করতে গেলেন তাসকিন-সোহানরা

ওমরাহ করতে গেলেন তাসকিন-সোহানরা

‘বঙ্গবন্ধুর ছবি আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস’

‘বঙ্গবন্ধুর ছবি আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস’

১৫ বছর আগে মেহেদীকে বলা হাথুরুর কথাই সত্যি হলো

১৫ বছর আগে মেহেদীকে বলা হাথুরুর কথাই সত্যি হলো

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

ইভ্যালির রাসেলের বাসায় র‍্যাবের অভিযান

ইভ্যালির রাসেলের বাসায় র‍্যাবের অভিযান

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আইনি নোটিশ

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আইনি নোটিশ

শেষ হলো সংসদ অধিবেশন

শেষ হলো সংসদ অধিবেশন

গৃহহীনদের ঘরের ‘দুর্নীতি তদন্ত’ দুদক বন্ধ করবে কেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

গৃহহীনদের ঘরের ‘দুর্নীতি তদন্ত’ দুদক বন্ধ করবে কেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune