সামরিক শক্তি এবং নৌবহর দেখিয়ে ইরানকে নতজানু করার মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবতার চেয়ে অনেক দূরে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হোসেইন মোহেব্বি বলেন, আমেরিকার শক্তির একটি বড় অংশ নির্ভর করে তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের ওপর। তারা মনে করেছিল কেবল নৌবহর ও বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতিতেই ইরান পিছু হটবে। কিন্তু তারা প্রতিবার যত ধাপ এগিয়েছে, ততবারই তাদের কয়েক ধাপ পিছিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তি হিসেবে দাবি করা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মুখোমুখি হতে গিয়ে গুরুতর সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে আইআরজিসি মুখপাত্র বলেন, দেশটি নিজেই ভারী অর্থনৈতিক ঋণে জর্জরিত এবং একই সঙ্গে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত। এই পরিস্থিতিতে তারা কীভাবে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে জয়ের দাবি করে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মোহেব্বি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে হিসাব করলে, এই পরিস্থিতি আমেরিকার জন্য যে পরিমাণ ক্ষতির কারণ হচ্ছে তা ইরানের ক্ষতির তুলনায় বহু গুণ বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর এক ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি চাপাতে চায়, তবে নিজেদেরই কয়েক ডলারের মাশুল ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক পটপরিবর্তন কাঁচামাল ও জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত এখন প্রচণ্ড চাপে পড়েছে এবং দেশটি তার প্রয়োজনীয় কিছু কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন ও রফতানি প্রভাবিত হয়েছে এবং ওই অঞ্চলের দেশগুলোর উৎপাদন ক্ষমতার একটি অংশ স্থগিত হয়ে গেছে।
এসব ঘটনার সার্বিক বিশ্লেষণ টেনে মোহেব্বি বলেন, এসব পরিস্থিতি একত্রে দেখায় যে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ বা অবরোধ সৃষ্টি করা মানেই অবরোধকারীদের নিশ্চিত বিজয় নয়; বরং এটি শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের জন্যই ভারী খেসারত ডেকে আনতে পারে।

মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের মুখে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি প্রেসিডেন্টের
অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় টাস্কফোর্স গঠন করলো ইরান







