X
সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২
২৪ শ্রাবণ ১৪২৯

মেট্রোরেলের অধীর অপেক্ষায় যাত্রীরা

প্রণব মজুমদার
০৬ আগস্ট ২০২২, ১৬:৩৪আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২, ১৬:৩৪

নব্বই সালের শুরুতে আমার প্রথম কলকাতায় যাত্রা। উচ্চশিক্ষা শেষে কর্মযোগে যুক্ত হয়েছি। ৬ মাস পেরিয়েছে। ইংল্যান্ডের লন্ডনভিত্তিক কোম্পানি টিসিএলে (টেলিকমিউকেশন লিমিটেড) আমি কনিষ্ঠ ‘হিসাব কর্মকর্তা’। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ রেলওয়ের পরামর্শক। সারাদেশে মাটির নিচ দিয়ে ক্যাবল সংযোগ স্থাপনের কাজ করে টিসিএল। টনি হসকিন আমার কর্মস্থলের মনিব (বস)। প্রথম ছুটি দিলেন ১৫ দিন। তিনি এক মাসের ছুটিতে লন্ডন যাওয়ার আগে আমাকে বললেন, ‘ভিজিট ক্যালকাটা প্রানব! অ্যান্ড রাইড দ্য মেট্রোরেল দেয়ার। চেক দ্য রেল টেলিকমিউকেশন সিস্টেম কানেকশন আন্ডার দ্য গ্রাউন্ড।’ ষাটোর্ধ্ব টনি বেশ আদর করতেন আমাকে। ব্যক্তিগতভাবে ৯ হাজার টাকা তিনি দিলেন আমায়। আনন্দে আমিতো আটখানা! অনেক টাকা! ৫ বছর মেয়াদী আমার পাসপোর্টের বয়স মাত্র ১১ মাস। যেই হুকুম সেই কাজ। ২ দিন পর রাজধানীর ধানমন্ডিতে কাগজপত্র নিয়ে সকালে দাঁড়িয়ে গেলাম ভারতীয় হাই কমিশনের ভিসা কেন্দ্রে। এক মাসের ভিসাসহ পাসপোর্ট পেলাম বিকেলে। রাতের বাসে গাবতলী থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা। এককভাবে ভ্রমণ। ভোরে পৌঁছে গেছি সীমান্তে। বেনাপোল-হরিদাসপুর হয়ে অটোতে বনগাঁ রেল স্টেশন। মেট্রোরেলে চড়ে শিয়ালদহ স্টেশন। ছিলাম মাত্র ৯ দিন। যাতায়াত মূলত মেট্রোরেলেই। পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ, এবং কেনাকাটা রেলপথের কারিগরি দিকগুলো পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি সম্পন্ন করে ফিরেছি দেশে।

মেট্রোরেল ভ্রমণের আনন্দ সে এক অভিনব অভিজ্ঞতা। ভাবতাম ওপরে ইলেকট্রিক তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎচালিত এমন রেলগাড়ি যদি ঢাকায় হতো। তখনকার সময়ে আমার সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন অবশেষে পূর্ণ হতে  চলেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাণিজ্যিকভাবে শুরু হচ্ছে মেট্রোরেলে চলাচল। অধীর আগ্রহে আছে দেশের জনগণ। প্রায় ১২ কিলোমিটার রেলপথে রাজধানীর উত্তরা-আগারগাঁও প্রথম ধাপে স্বপ্নের মেট্রোরেল আপাতত ১০টি বগি নিয়ে ৩ মাস পর যাত্রা করবে। ৯টি স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিয়ে মেট্রোরেল চালু হচ্ছে। আশার কথা, মহাসাগরের যানজট নিরসনে বিরাজমান লোডশেডিংয়ের আওতায় থাকছে না জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচ্য এই মেট্রোরেল।

ডিপিডিসি ও ডেসকো সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।     

মেট্রোরেল মূলত একটি দ্রুত পরিবহণ ব্যবস্থা যা বিশ্বের অনেক বড় শহরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় গণ পরিবহণের জন্য ‘ঢাকা মেট্রোরেল’ হলো ‘জাইকা’র অর্থায়নে একটি সরকারি প্রকল্প। প্রকল্পটি রাষ্ট্রায়ত্ত ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) পরিচালনা করছে। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি সমীক্ষা অনুসারে, ২০০৪ সালে ঢাকার রাস্তায় যানবাহনের গড় গতি প্রায় ২১ (২১.২ কিমি/ঘণ্টা), কিন্তু ২০১৫ সালে তা ৬ (৬.৮ কিমি/ঘণ্টা) এ নেমে আসে। ফলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বাসে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি। কিন্তু মেট্রোরেলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। এটি প্রত্যাশিত যে এ ধরনের পরিবহণ মানুষের জীবনধারা পরিবর্তন করে এবং তাদের উৎপাদনশীল সময় বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মেট্রোরেল বিশ্বের অনেক বড় শহরে গণ পরিবহণের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। ১৮৬৩ সালে লন্ডনে প্রথম দ্রুত ট্রানজিট সিস্টেম চালু করা হয়েছিল, যা এখন ‘লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের একটি অংশ। ১৮৬৮ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এনওয়াইতে তার প্রথম দ্রুত ট্রানজিট রেল ব্যবস্থা চালু করে এবং ১৯০৪ সালে, নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে প্রথমবারের জন্য খোলা হয়েছিল। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে, জাপান হলো প্রথম যে দেশ ১৯২৭ সালে একটি পাতাল রেল ব্যবস্থা তৈরি করে। ভারত ১৯৭২ সালে কলকাতায় তার মেট্রো সিস্টেম নির্মাণ শুরু করে। এরপর ভারত অন্যান্য শহরেও মেট্রোরেল ব্যবস্থা নির্মাণ করে। বর্তমানে, বিশ্বের ৫৬টি দেশের ১৭৮টি শহরে ১৮০টি পাতাল রেল ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

বাংলাদেশে মেট্রোরেল চালু করার জন্য সরকার ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্পের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করছিল। অবশেষে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে, ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ বা ‘মেট্রোরেল’ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের জন্য মোট ৫টি রুট লাইন প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এমআরটি লাইন ১, ২, ৪, ৫ ও ৬। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এর অর্থায়নে ‘দ্য ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট সার্ভে (ডিএইচইউটিএস ১)’ মূল্যায়ন করা হয় এবং ‘এমআরটি লাইন-৬’ নামে মেট্রোরেলের জন্য প্রথম এমআরটি রুট নির্বাচন করা হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় আনুমানিক ২.৮২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে জাইকা ০.০১ শতাংশ সুদের হারে প্রায় ৭৫ শতাংশ বা ২.১৩ বিলিয়ন ডলার প্রদান করছে। বাকি ২৫ শতাংশ তহবিল দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুন, ২০১৬ সালে মেট্রোরেল ব্যবস্থা নির্মাণ কাজের সূচনা করেন। প্রাথমিকভাবে, ‘এমআরটি লাইন ৬’-এর দৈর্ঘ্য ২০.১ কিলোমিটার হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছিল, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত, যা পরে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়, ফলে রুটটির দৈর্ঘ্য আরও ১.১৬ কিলোমিটার বৃদ্ধি পায়। এটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ২১.২৬ কিমি। রুটে মোট ১৭টি স্টেশন থাকবে এবং রুটে ২৪টি ট্রেন সেট চলবে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোরেলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০,০০০ যাত্রী বা প্রতিদিন ৯,৬০,০০০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেট্রোরেলের ন্যূনতম ভাড়া ২০ টাকা রাখা হয়েছে।

এমআরটি লাইন ১ মেট্রোরেল প্রকল্পের অধীনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এমআরটি লাইন ১, দুটি ভিন্ন রুটে নির্মিত হবে। ‘এয়ারপোর্ট রেল লিংক’ নামে পরিচিত প্রথমটি কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা পরে গাজীপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়। এ রুটটি হবে প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল ব্যবস্থা যেখানে ভূগর্ভস্থ স্টেশনও থাকবে। ভূগর্ভস্থ লাইনটি প্রতিদিন প্রায় ৮,০০,০০০ যাত্রী বহন করবে। এমআরটি লাইন ১ এর দ্বিতীয় রুটটি বারিধারা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে, যা পূর্বাচল রুট নামে পরিচিত হবে। এ রুটটি হবে একটি এলিভেটেড রেল যোগাযোগ। এমআরটি লাইন ১ এর দু’টি রুটই ২০২৬ সালে নির্মাণ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এমআরটি লাইন ৪ নির্মাণ করা হবে, যা ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা। এমআরটি লাইন ২ গাবতলী থেকে চিটাগাং রোড  রুটে পরিচালিত হবে, যা ২০৩০ সালে শেষ হবে বলে প্রত্যাশা।

ঢাকা মহানগর এলাকায় দু’ ধরনের পরিবহণ ব্যবস্থা রয়েছে। পাবলিক বাস, বেসরকারি মিনিবাস, বাস, লেগুনা, সিএনজি এবং রিকশাসহ যাতায়াতের মাধ্যম। তবে অত্যধিক যানজট এবং অতিরিক্ত ভিড়সহ বিভিন্ন কারণের জন্য এ ধরনের পরিবহন ব্যবহার করার জন্য লড়াই করতে হয়। অন্যদিকে, সিএনজি এবং ট্যাক্সি ক্যাব পরিসেবাগুলোও অনেক সময়ই দুষ্প্রাপ্য, এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। যদিও অনেকে পরিবহনের জন্য ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করে। মেট্রোরেল তাদের জন্য একটি সুবিধাজনক পরিবহণ পরিসেবা প্রদান করবে যারা ব্যয়বহুল গণপরিবহণ ব্যবহার করে আর্থিকভাবে কুলিয়ে উঠতে পারে না এবং সাশ্রয়ী পরিবহণের অভাবে ক্রমাগত ভোগান্তিতে না পড়ে। সাশ্রয়ী ভাড়ায় কম সময়ে নগরে চলাচল, একদিকে যেমন সময় কম অপচয় হবে তেমনি ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও কমে আসবে। যানজটও কম হবে!

প্রতিদিন মেট্রোরেল পরিচালনা করতে প্রায় ২.৩৩ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। সুতরাং প্রতিদিন ৪ লাখ ৮৩ হাজার জন যাত্রী মেট্রোরেল ভ্রমণ করলে টাকা উঠে আসবে।

যানজটের কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। ২০১৮ সালে পরিচালিত বুয়েটের একটি সমীক্ষা অনুসারে, ঢাকা শহরের যানজটের জন্য বার্ষিক ৪.৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়, যা জাতীয় বাজেটের ১০ শতাংশ এর বেশি। ২০১৭ সালের বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩.৮ মিলিয়ন কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। নষ্ট কর্মঘণ্টার মূল্য বিবেচনায় নিলে ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনের মতে, ঢাকার যানজট ৬০ শতাংশ কমাতে পারলে বাংলাদেশের ২.৬ বিলিয়ন  মার্কিন ডলার সাশ্রয় হতো। অপচয় রোধ ঢাকার ১৮ কোটি জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে গতিশীল করবে। এ ছাড়া মেট্রোরেল প্রকল্প প্রতি বছর ২.৪ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে যা জাতীয় জিডিপির ১.৫ শতাংশের সমান। 

মেট্রোরেল চালু হলে ঢাকা শহর থেকে জনসংখ্যার ঘনত্ব কমানো যাবে। মানুষ বাসা ভাড়া অনেক কম খরচ করে শহরের বাইরে বাস করবে এবং অফিস ও অন্যান্য কাজে সহজে ঢাকায় সহজে যাতায়াত করতে পারবে। গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জ এলাকায় বসবাসকারী লোকেরা সকল রুট চালু হয়ে গেলে এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ঢাকা শহরে চলাচল করতে পারবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে। মেট্রোরেল রাজধানীর পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ঢাকার বায়ুদূষণ অন্যান্য মেগাসিটির তুলনায় অনেক বেশি। যেহেতু মেট্রোরেল বিদ্যুৎচালিত এবং প্রতি ঘণ্টায় বেশি যাত্রী বহন করতে সক্ষম, তাই ঢাকায় বাস ও অন্যান্য পরিবহনের মাধ্যমে যাতায়াতের প্রবণতা কমে আসবে। নির্দ্বিধায় বলা যায়, মেট্রোরেল সেই স্বপ্নের প্রকল্প যে প্রকল্প ঢাকা শহরকে বর্তমান অবস্থা থেকে আধুনিক কসমোপলিটনে রূপান্তর করবে। বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, ভবিষ্যতে উন্নত বিশ্বে পদার্পণ সময়ের ব্যাপার মাত্র।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলমান প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর অনুমোদিত ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। তবে মতিঝিল ছাড়িয়ে মেট্রোরেলের রুট কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ায় প্রকল্পের কাজ বেড়ে গেছে।

সে অনুযায়ী মেট্রোরেল প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর খরচ হবে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা।

রাজধানীর মতিঝিলের পরিবর্তে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা ব্যক্ত করায় প্রথম পরিকল্পনা অনুসারে মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার। আর মতিঝিল-কমলাপুর অংশটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার। এতে মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য দাঁড়াচ্ছে ২১ কিলোমিটারের কিছু বেশি। উড়ালপথে (এলিভেটেড) নির্মাণাধীন এ মেট্রোরেলে আগে ১৬টি স্টেশন ছিল। কমলাপুর যুক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭টিতে। ৩ মাস পর প্রথম ধাপে রাজধানীর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৯টি স্টেশনে বিরতি দিয়ে চলাচল শুরু হচ্ছে। বিশেষ সেবা হিসেবে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিভাগ জানিয়েছে মেট্রোরেল লোডশেডিংয়ের আওতামুক্ত থাকবে। ডিপিডিসি ও ডেসকো নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। এজন্য ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। প্রায় ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ রেলপথে মেট্রোরেল ১০ সেট বগি নিয়ে চলাচল করবে। এরই মধ্যে মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য বিজ্ঞানে স্নাতক পাস কর্মী নিয়োগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ও স্বতন্ত্র পুলিশ বাহিনী রাখা হচ্ছে। মেট্রোরেলে যাতায়াতের জন্য অধীর আগ্রহে দিন গুণছে দেশের মানুষ। কলকাতা মেট্রোরেলের চেয়েও ভালো পরিসেবা পাবে আমাদের মেট্রোরেল ব্যবস্থা; সেই স্বপ্ন পূরণের দিকে আমিও মুখিয়ে আছি।

লেখক: কথাসাহিত্যিক, কবি ও অর্থকাগজ সম্পাদক

 

/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
নিজের মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিলেন যুবক
নিজের মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিলেন যুবক
আদার রসে চুলচর্চা
আদার রসে চুলচর্চা
খোলাবাজারে ডলারের দাম ১১৩ টাকা
খোলাবাজারে ডলারের দাম ১১৩ টাকা
বঙ্গমাতা বেঁচে আছেন কোটি মানুষের প্রাণে: ওবায়দুল কাদের
বঙ্গমাতা বেঁচে আছেন কোটি মানুষের প্রাণে: ওবায়দুল কাদের
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ