X
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

১৯৭১ ও আজকের বাংলাদেশ

আবদুল মান্নান
১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪০আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৫:০২

১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। শুরুতেই আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কারা অভ্যন্তরে নিহত জাতীয় চার নেতাকে। স্মরণ করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যে ত্রিশ লাখ মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের স্মৃতিকে। স্মরণ করছি দেশ স্বাধীন করার জন্য যে তিন লাখ মা-বোন নিজের সম্ভ্রম খুইয়েছেন তাঁদের। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের শহীদদের প্রতিও রইলো গভীর শ্রদ্ধা।

মুক্তিযুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এদিন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বৈধ সরকার কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার এক আম্রকুঞ্জে দেশ-বিদেশের অনেক সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণের সামনে শপথ গ্রহণ করেন। শপথবাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। অধ্যাপক ইউসুফ আলী একসময় নবাবগঞ্জ কলেজের ও পরবর্তীকালে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ১০ এপ্রিল তিস্তা নদীর উজানে শলিগুড়ি বাগডোগরা নামক স্থানে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের (যাঁরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন) নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের বৈঠক বসে। সেই সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য স্পিকার মনোনীত করা হয় অধ্যাপক ইউসুফ আলীকে। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ৩ (কোনও স্থানে ৪ এপ্রিল উল্লেখ আছে) এপ্রিল একটি ছোট প্রতিনিধিদল ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সহায়তা কামনা করেন। জবাবে ইন্দিরা গান্ধী প্রতিনিধিদলকে পরামর্শ দেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা একটি সরকার গঠন করলে এই ধরনের সহায়তা করতে সহজ হবে। তাজউদ্দীন আহমদ দিল্লিতে দেখতে পান সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান ও অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমান। তারা দুজনই পরবর্তীকালে বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হয়েছিলেন। দিল্লিতে এই দুই অর্থনীতিবিদ আরেক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের (পরে নোবেল লরিয়েট) অতিথি ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে এই অর্থনীতিবিদরাও সহায়তা করেছিলেন।

প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এই তথ্যগুলো আমাকে জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি রচনা করে তিনি তা নিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীর কাছে। তিনি পড়ে বলেছিলেন, এই ঘোষণাপত্রে সংযোজন করার কিছু নেই। ঠিক একই সময় আরও দুটি গোষ্ঠী পৃথকভাবে প্রবাসী সরকার গঠনের চেষ্টা করে। প্রথম গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন কিছু তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা, আর অন্যদিকে ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া কিছু সেনা অফিসার। কিন্তু উভয় পক্ষের সঙ্গে কোনও বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব ছিল না বলে তা সম্ভব হয়নি।

১৭ এপ্রিলের আগের দিন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ মান্নান ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম কলকাতা প্রেস ক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন, পরদিন নবগঠিত প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন এবং তাঁদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, তাঁরা যেন প্রস্তুত থাকেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টা সম্পর্কে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

প্রথমে ১৪ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কীভাবে যেন সংবাদটি জানাজানি হয়ে যায়। ফলে সেখানে পাকিস্তান বিমানবাহিনী হামলা করা শুরু করে। তাই স্থান পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত হলো। পুরো অনুষ্ঠান আয়োজন করার দায়িত্ব কাঁধে নিলেন পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক নূরুল কাদের খান ও মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী (বীরবিক্রম), বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা। তাঁদের সহায়তা করলেন স্থানীয় সংগ্রাম পরিষদ ও জনগণ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

১৭ এপ্রিল খুব ভোরে কলকাতা থেকে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা মেহেরপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয় বিএসএফ। মেহেরপুর সীমান্তবর্তী মহকুমা। বেলা ১১টা নাগাদ ছোট একটি গাড়িবহর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মেহেরপুরে প্রবেশ করে সীমান্ত সংলগ্ন আম্রকুঞ্জ বৈদ্যনাথতলায় অবস্থান নেয়। স্থানীয় একটি গির্জা থেকে কিছু টুল-টেবিল এনে বানানো হয় একটি ছোট মঞ্চ। সামনে বিদেশি সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানের পরিচালক সংসদ সদস্য এম এ মান্নান অনুষ্ঠান সম্পর্কে সবাইকে ব্রিফ করেন। খুবই সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রথমে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। তারপর বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে একটি ছয় সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এও ঘোষণা করা হয়, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন তাজউদ্দীন আহমদ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও উপরাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। কর্নেল এমএজি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ উপস্থিত জনগণ ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তাঁরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা ও সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। সব শেষে ঝিনাইদহের এসডিপিও মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। যাতে অংশ নেন স্থানীয় পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম বৈধ সরকার।

এই সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও সুযোগ নেই। কারণ যারা সরকারের সদস্য ছিলেন তাঁরা সবাই ছিলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তখন থেকে এই স্থানটির নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। কোনও কোনও জ্ঞানপাপী  বলে থাকেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়া। তারা ভুলে যান জিয়ার রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনও বৈধ সুযোগ ছিল না। কারণ তিনি কোনও নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন না, আর তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনও শপথও নেননি। তারা আরও ভুলে যান জিয়াসহ যারা প্রথম সরকারের অধীনেই কাজ করেছেন এবং যারা আগে সরকারি কর্মচারী ছিলেন অথবা পরবর্তীকালে সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা সবাই সরকার থেকে একটি প্রতীকী সম্মানি পেতেন।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে কি প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হয়। উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে... ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন এবং বাংলাদেশের মর্যাদা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।’

সেই প্রস্তাবনায় স্বাধীন বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে তার একটা স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয় এবং এও ঘোষণা করা হয়, এই ঘোষণাপত্র ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর হবে এবং একটি সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত এই ঘোষণাপত্রের আলোকেই দেশ পরিচালনা করা হবে। ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার কথা জোর দিয়ে বলা হয়। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তাদের বক্তৃতায় এসব বিষয় উল্লেখ করা ছাড়া আরও বলেন, বাংলাদেশ হবে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র এবং এই দেশ জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক আইন ও সনদ মেনে চলবে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি ১৯৭২ সালে সংবিধানে সপ্তম তফসিল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ এমন একটা দলিলকে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রথমে কাটছাঁট করা হয়; এরপর জিয়া সংবিধান থেকে তা বাতিল করে দেন। যে চার জাতীয় নেতাকে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ যাত্রা শুরু  করেছিল, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তা আবার সংবিধানে সংযোজিত হয়। খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে তা আবার বাতিল করে পরিশিষ্ট হিসেবে সংবিধানের শেষের দিকে তা অন্তর্ভুক্ত করেন।

এই নিয়ে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যরা সংসদে প্রতিবাদ করলে বেগম জিয়া সরকারে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা বা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের অংশ নয়। অথচ এই প্রস্তাবনা ছিল বৈধ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্মসনদ। ব্যারিস্টার মওদুদের এমন বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

বিশ্বে গত তিন শতকে অনেক দেশ যুদ্ধ করে নিজের দেশকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত করে স্বাধীন করেছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রকাশ করার ইতিহাস আছে মাত্র দুটি দেশের। প্রথমটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর দ্বিতীয়টি বাংলাদেশের। দুটির মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি যারা রচনা করেছিলেন তারা সঠিক অর্থে জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। তারা সরকার গঠন করেছিলেন অনেক পর, ১৭৮৯ সালে। ব্রিটেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল ১৭৭৬ সালে। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রস্তুত বা তা প্রকাশের পূর্বে অনুমোদন সবই করেছিলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।

বাংলাদেশেই একমাত্র সরকার যারা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য বৈধভাবে গঠিত হয়েছিল, দেশে একজন স্পিকার ছিলেন আর ছিলেন যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য একজন সেনাপ্রধান। 

৫৩ বছর পার করলো স্বাধীন বাংলাদেশ। এই ৫৩ বছরে বাংলাদেশ অর্জন করেছে অনেক কিছু; কিন্তু যা হারিয়েছে তাও কম নয়। এই ৫৩ বছরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ অনেকটা হারিয়ে গেছে। সামাজিক ন্যায়বিচার এখন অনেকটা নির্বাসিত। আর্থসামাজিক বৈষম্য চরম বেদানায়ক। সমাজে অসৎ মানুষের দোর্দণ্ড প্রতাপ। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে মনে হতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্তানি আমল থেকেও বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি বর্তমানে অনেক বেশি শক্তিশালী। তারা হুমকি দিলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য পর্যন্ত  সরিয়ে নিতে হয়। তারা ফতোয়া দিতে পারে কেউ বাংলা নববর্ষ পালন করলে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে।

একজন অর্ধশিক্ষিত মোল্লা ফতোয়া দেয় যে পহেলা বৈশাখের জন্য যারা পাঞ্জাবি বানাবে আর শাড়ি কিনবে তারা জাহান্নামে যাবে। বিশ্বের অনেক ইসলামপ্রধান দেশে মেয়েরা টিপ পরে আর বাংলাদেশে ফতোয়াবাজরা এই টিপ পরা নিয়ে মাঠ গরম করে অথচ পরিধেয় বস্ত্র বা টিপজাতীয় বিষয়গুলো সংস্কৃতির অংশ। বাঙালি সংস্কতিকে ধর্মের দোহাই দিয়ে একশ্রেণির ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী কোণঠাসা করে ফেলেছে। কোনও কোনও সময় শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞান নিয়ে কথা বললে শিক্ষককে কারাগারে যেতে হয়। গত বছর চুয়াডাঙ্গায় আরেকজন অর্ধশিক্ষিত মোল্লা বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করে বলে সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এই দেশবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এসব বিষয়ে মাঠ গরম করার সুযোগ পায় অনেকটা সরকারের নমনীয়তার কারণে। সরকারকে বুঝতে হবে এরা বাংলাদেশকে আরেকটি তালেবানি আফগানিস্তান বানাতে চায়। কায়েম করতে চায় তালেবানি শাসন। এদের লাগাম টেনে ধরা এখনই সময়। আশকারাকে অনেকেই সরকারের দুর্বলতা মনে করে।

ফিরে যাই সেই অগ্নিঝরা একাত্তরে, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে কিংবা ১৯৭২-এর সংবিধানের মূল চেতনার অনেক বর্তমানে নির্বাসিত। বর্তমান সরকারের আমলে এসব কিছু যদি ফিরিয়ে আনা না যায়, তাহলে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের হয়তো খোলসটা থাকবে, বাকি সব হারিয়ে যাবে। একটি অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ। সময় থাকতে সাবধান না হলে আগামী দিনে একাত্তরের বাংলাদেশকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশে চিরজীবী হোক ।

লেখক: সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
উপকূলে ‘মে আতঙ্ক’
উপকূলে ‘মে আতঙ্ক’
টিভিতে আজকের খেলা (২৬ মে, ২০২৪)
টিভিতে আজকের খেলা (২৬ মে, ২০২৪)
ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’: ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’: ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌ রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ড্রয়ে লিগ শেষ রিয়ালের, ক্রুসের অশ্রুসিক্ত বিদায়
ড্রয়ে লিগ শেষ রিয়ালের, ক্রুসের অশ্রুসিক্ত বিদায়
সর্বশেষসর্বাধিক