দেশে নারী-পুরুষের বৈষম্য বেড়েছে কেন?

শাহানা হুদা রঞ্জনা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:০০ আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:০০

বাংলাদেশে যে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য বেড়েছে, বা নারীর প্রতি বৈষম্য বেড়েছে— তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এটা বোঝার জন্য কোনও পরিসংখ্যানের প্রয়োজন নেই। যে সমাজে প্রতিনিয়ত নারী ও কন্যাশিশুকে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, পারিবারিক সহিংসতা, মর‌্যাল পুলিশিং, সামাজিকভাবে নিগৃহীত হতে হচ্ছে, সেই সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্য বাড়তে বাধ্য।

অন্যদিকে যারা নারীকে এইভাবে অসম্মান ও অপদস্থ করছে, তাদের অধিকাংশই পুরুষ। এই সমাজে পুরুষ-আধিপত্যের যে বাস্তবতা, সেই ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে কোনও মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি। বরং বেড়েছে নারীর প্রতি বৈষম্য। নারী যখন নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তখন তাকে নানাভাবে কোণঠাসা করা হয়।

পাশাপাশি বেড়েছে শরীর নিয়ে কটূক্তি, স্লাট-শেমিং, পোশাক নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য এবং অনুমতি ছাড়া নারীর ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা। এতে নারী নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন।

আমাদের সমাজে পুরুষের চেয়ে নারীর জীবন অনেক জটিল ও কঠিন। নারী নিজেও ভাবেন না বা তাকে ভাবতে দেওয়া হয় না যে, তারা এই সমাজে কেমন আছেন? নারী যে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন; এইটাও বোঝার সুযোগ দেয়া হয় না।

অতীতকালে বেশিরভাগ নারী পরিবারকে জগত ভেবে, সেখানে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন। পুরুষের কাজ ছিল বাইরের জগতে। এখন সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। নারী এখন বাইরের জগতের লড়াইতেও সম-শক্তি নিয়ে লড়ছেন। পরিবারকে সুখী করবেন বলে অনেক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

এর ফলে নারীর ওপর চাপ বেড়েছে। বেতনভোগী নারীরা সপ্তাহে গড়ে ২৭.৭ ঘণ্টা গৃহস্থালি কাজে ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষেরা ব্যয় করেন ৭.৬ ঘণ্টা। বেতনভোগী কাজ ও গৃহস্থালি কাজ মিলিয়ে নারীরা সপ্তাহে গড়ে ৭৩.৭ ঘণ্টা কাজ করেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৫৯ ঘণ্টা। (সূত্র: আইএলও)

চাপ বাড়লেও, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এমনভাবে নারীকে কোণঠাসা করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক পরিসরে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানোর সূচকে বাংলাদেশ এক বছরে ৫৫ ধাপ পিছিয়েছে। সহজভাবে বলা যায় দেশে নারী-পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন খাতে বৈষম্য বেড়েছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈশ্বিক জেন্ডার গ্যাপ বা নারী-পুরুষের বৈষম্য সূচক ২০২৬ অনুযায়ী, ১৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৭৯তম। গত বছর বাংলাদেশ ছিল ২৪তম অবস্থানে। এক বছরে কোনও দেশের অবস্থান এতটা পিছিয়ে যায়নি।

এবার বাংলাদেশের অবস্থান পিছিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সূচকে। এই সূচকে বাংলাদেশের সমতার হার গত বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। ডব্লিউইএফ নারী-পুরুষের বৈষম্য পরিমাপ করে চারটি ক্ষেত্রে— অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও টিকে থাকা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। আমরা একটু আলোচনা করে বুঝে নিতে পারি কেন ও কিভাবে নারী-পুরুষের মধ্যে এই বৈষম্য বাড়লো?

বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি, প্রশাসন ও সামাজিক উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও বাস্তব জীবনে নারী ও পুরুষের অধিকার, সুযোগ, নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান কিন্তু রয়েই গেছে।

চব্বিশের জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে নারী-পুরুষের সম্পর্ক, নারীর সামাজিক অবস্থান, জনপরিসরে নারীর স্বাধীনতা এবং জেন্ডার সমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে নারীর বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ দেখে সবাই ভেবেছিল এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর পদচারণা জোরালো হবে। সেইসাথে জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কারের আলোচনা ও নীতি নির্ধারণে নারীর ভূমিকা থাকবে দৃশ্যমান ও কেন্দ্রীয়।

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হলো ভিন্ন। নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতিতে নারীর সুযোগ সীমিত হয়ে গেলো। রাজপথ কাঁপানো নারীরা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। জুলাই আন্দোলনের নারী নেতৃত্বের বড় একটি অংশ রাজপথ, সংগঠন, এমনকি জনপরিসর থেকেও অনেকটা সরে গেছেন; কিংবা নিজেদের গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে দেখা গেছে ক্ষমতায় এসেছেন পুরুষ, কথা বলছেন পুরুষ, শুনছেন পুরুষ, ঐক্য গড়েছেন তারাই। তাহলে আন্দোলনের সক্রিয় নারীরা কেন হারিয়ে গেলেন? কারণ জুলাই বিপ্লবের পর নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা, এবং সামাজিক স্বাধীনতায় নেতিবাচক প্রভাব ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রথম সারির নারীরা স্বীকার করেছেন যে, অনলাইন ও অফলাইনে নারীদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিংয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নারীর চুল ধরে টানা, শরীরে আঘাত করা, আজেবাজে গালি ছুঁড়ে দেওয়া সবই হয়েছে চব্বিশ পরবর্তী সময়ে। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, সেইসময় তাঁদের সঙ্গে আন্দোলনে থাকা পুরুষ সদস্যরা কেউ এগিয়ে আসেননি। এখানেই রাজনৈতিক বৈষম্যের শুরু।

এমনিতেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলে নারীদের জায়গা করে নেওয়া সহজ নয়। এর ওপর যখন সমাজ বৈরী থাকে, এবং পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিপত্তি প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে, তখন রাজনীতিতে নারীর এগিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ শোনা গেছে যে, নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না, মতামত প্রকাশের জায়গাও ছোট হয়ে আসছিল এবং বেড়ে যাচ্ছিল পুরুষ নেতাদের প্রাধান্য। কেউ কেউ বলেছেন, একটা সময় তাদের মনে হয়েছিল যে তারা ব্যবহৃত হচ্ছেন বা হয়েছেন।

বাংলাদেশে ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ৩৩ বছর নারী নেতৃত্বে ছিলেন। অথচ এরপরেও নারীরা রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থানে আসতে পারেননি। কারণ এই সমাজ এখনও মনে করে রাজনীতি ‘পুরুষের কাজ’। রাজনীতির ময়দান নারীর জন্য নয়।

শুধু নারীর উপস্থিতি বাড়লেই যে তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতা সমান হবে, তা নয়। দলীয় মনোনয়ন, নেতৃত্ব নির্বাচন, রাজনৈতিক অর্থায়ন, নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। নারী-পুরুষের বৈষম্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরেকটি দুর্বল অবস্থান অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ সূচকে। গত বছরের তুলনায় নারীদের আনুমানিক অর্জিত আয়ের সমতা কমেছে ১৫ শতাংশ পয়েন্ট। শ্রমশক্তিতে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণের সমতা কমেছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-র ‘দ্য জেন্ডার পে গ্যাপ ইন বাংলাদেশ: ট্রেন্ডস, কজেস অ্যান্ড পলিসি অপশনস’ শীর্ষক সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে ২২ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ কম উপার্জন করেন। মাসিক মজুরির হিসাবে একজন পুরুষ প্রতি ১ হাজার টাকা আয় করলে, একজন নারী আয় করেন ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। ২০২৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধান বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় কিছুটা বেশি।

এই মজুরি ব্যবধান কেন রয়ে গেছে? প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে নারী ও পুরুষ বেতনভোগী কর্মীদের মধ্যে দৃশ্যমান বিভিন্ন পার্থক্য দিয়ে মজুরি ব্যবধানের বড় অংশেরই ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। শিক্ষা, পেশা ও কর্মখাতের পার্থক্য এ ব্যবধানের কেবল একটি অংশ ব্যাখ্যা করে।

আইএলও বলছে, এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বৈষম্য এই ব্যবধানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই পরোক্ষ বৈষম্যটাই হচ্ছে নারীকে কর্মক্ষেত্রে নামতে না দেওয়া বা বাধা দেওয়ার বিষয়টি।

মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানে নারীদের অংশগ্রহণের হারও পুরুষদের তুলনায় অনেক কম। ২০২৩ সালে নারীদের কর্মসংস্থানের হার ছিল ৪০.২ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের হার ছিল ৭৭.৯ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবধান ৩৭.৭ শতাংশ পয়েন্ট।

কর্মজীবী নারীদের মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশ ছিলেন বেতনভোগী কর্মী, যেখানে কর্মজীবী পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪৮ শতাংশ। ফলে মোট বেতনভোগী কর্মীর মাত্র ১৭ শতাংশ ছিলেন নারী। তাছাড়া যেসব খাতে নারী কর্মীর অংশগ্রহণ বেশি, সেসব খাতে গড় মজুরিও তুলনামূলক কম। কেন অর্থনৈতিক সূচকে নারী- পুরুষের মধ্যে বৈষম্য চলছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই প্রতিবেদনে।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের ২০২২ সালের বাংলাদেশি পরিবারের আয়-ব্যয় জরিপভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে— শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ৪২.৫ শতাংশ এবং পুরুষ ৮১.৩ শতাংশ। নারীর বেকারত্বের হার ৫.৯ শতাংশ এবং পুরুষের ২.৮ শতাংশ নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ, সমান মজুরি, পদোন্নতি এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধার মুখোমুখি হন এবং এই বাধা পাওয়ার হার বেড়েছে। ফলে নারী আর্থিক স্বনির্ভরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। পরিবারের যেকোনও প্রয়োজনে চাকরি ছাড়তে হয় নারীকেই।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে দেশের শ্রমশক্তিতে নারীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার। অর্থাৎ, এক বছরে দেশের শ্রমশক্তি থেকে কমে যাওয়া মানুষের প্রায় ৯৪ শতাংশই নারী। নারী অধিকার কর্মীদের অনেকেই মনে করছেন নারী-পুরুষ ব্যবধান বাড়ার আলোচনায় সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে নারীর স্বাধীনতা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কিছু গোষ্ঠীর রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় এবং তা নারী-পুরুষের ব্যবধান বাড়িয়ে তোলে।

বাংলাদেশে নারীর শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শিক্ষাগত সাফল্য সব সময় অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে রূপান্তরিত হচ্ছে না। নারী ও পুরুষের জন্য বাস্তবে সমান সুযোগ থাকলেও, তা ব্যবহারের সক্ষমতা সমান থাকে না।

নারী-পুরুষের ব্যবধানের প্রশ্নটি কেবল নারীর অধিকার বনাম পুরুষের অধিকারের দ্বন্দ্ব নয়। বরং এটি সমান সুযোগ, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং সামাজিক ক্ষমতার প্রশ্ন। অনেকে নারীর অগ্রগতিকে পুরুষের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।

এতে করে নারী-পুরুষের মধ্যে অবিশ্বাস ও সংঘাত বৃদ্ধি পায়। পুরুষ আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে। সবাইকে বুঝতে হবে প্রকৃত জেন্ডার সমতা মানে পুরুষের অধিকার কমিয়ে নারীর অধিকার বাড়ানো নয়— বরং নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য বৈষম্যহীন সুযোগ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

শাহানা হুদা রঞ্জনা: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক

/এপিএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
এআই অভিনেতাদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ফরাসি অভিনেত্রীর
এআই অভিনেতাদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ফরাসি অভিনেত্রীর
নিজেদের ড্রোন বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত
নিজেদের ড্রোন বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত
বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সমুদ্রে ভাসছিলেন ৮ জেলে, উদ্ধার করলো কোস্ট গার্ড 
বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সমুদ্রে ভাসছিলেন ৮ জেলে, উদ্ধার করলো কোস্ট গার্ড 
সংগীত তারকা থেকে ফার্স্ট লেডি: কে এই পেং লিয়ুয়ান?
সংগীত তারকা থেকে ফার্স্ট লেডি: কে এই পেং লিয়ুয়ান?
সর্বশেষ সর্বাধিক