X
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২
১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
গানের শিল্পী, গ্রামোফোন, ক্যাসেট ও অন্যান্য: পর্ব ১৩

রবীন্দ্রনাথের পরে দিলীপকুমারের ওপরেই দাবি ছিল সর্বাধিক

শহীদ মাহমুদ জঙ্গী
০২ অক্টোবর ২০২২, ১০:২২আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৮:৪৯

পিতা প্রখ্যাত লেখক-কম্পোজার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং পুত্র দিলীপকুমার রায়ের কিশোর বয়সের কথোপকথন—

দিলীপ: ‌ম্যাম (বিদেশি) বিয়ে করা কি খারাপ বাবা?

দ্বিজেন্দ্রলাল (চিন্তিত): জোর করে বলা যায় না। আমার জীবনে একজন ইংরেজ মেয়ে এসেছিলেন। তাকে বিয়ে করিনি অনেক ভেবেই।

দিলীপ: তাহলে তাকে ভালোবাসেননি বলুন।

দ্বিজেন্দ্রলাল: ভালোবাসা বলতে যা বোঝায় তা নয়, তবে আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম বৈকি। পরমা সুন্দরী। কিন্তু নিত্যগোপাল আমার খুব উপকার করেছিল। সে ছিল বিলাতে আমার পরম বন্ধু। বোঝাল আমাকে, ‘অমন কর্ম কোরো না দ্বিজু, তেলে-জলে মিশ খায় না। তাছাড়া ছেলেপিলে?

আজকের দিনেও, পিতা ও পুত্রের মধ্যে এই ধরনের সংলাপ চিন্তা করা যায় না। এই চমৎকার পরিবেশের কারণে দিলীপকুমার অল্প বয়সেই চিন্তার ক্ষেত্রে সমবয়সীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিলেন। এবং স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দ অপছন্দের কথা বলতে পারতেন।

দিলীপকুমারের পিতামহ কার্তিকেয়চন্দ্র রায় ছিলেন উচ্চাঙ্গ ধ্রুপদের অনুরাগী। পিতা দ্বিজেন্দ্রলাল বাংলা গানের একজন অসাধারণ গীতিকার ও কম্পোজার, একই সঙ্গে গায়ক। তিনি রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের তুলনায় অনেক কম গান সৃষ্টি করেছেন। তবে গানের মান এতই উন্নত যে দ্বিজেন্দ্রগীতি বলে খ্যাত গানগুলো রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে আছে।

দিলীপকুমার পিতামহের মতোই হিন্দুস্তানি ক্লাসিক্যাল গানের ভক্ত হয়ে উঠেছিলেন। পিতার বাংলা গানে তার আগ্রহ ছিল না। দ্বিজেন্দ্রলালের অভিমান হয়। তিনি দিলীপকুমারকে বলেছিলেন, ‌‌‘বয়স হলে একদিন বুঝবি কী জিনিস আমি রেখে গেলাম।’

সুখের বিষয় হচ্ছে, একসময় বাংলা গানের প্রতি দিলীপকুমার রায়ের ভালোবাসা জন্মায়। এবং পছন্দের তালিকায় দ্বিজেন্দ্রলালের গানও উঠে আসে।

এই যে পিতার গানকে সেই অল্প বয়সে অবজ্ঞা করার সাহস, সেই সাহস কিন্তু বাসার উদার পরিবেশের জন্যই সম্ভব হয়েছে। আশপাশে সব ধরনের গানের চর্চার কারণেই অল্প বয়সেই গান বিষয়ে তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা গড়ে ওঠে। গানের প্রতি এই ভালোলাগা-ভালোবাসা থেকেই তিনি বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করার জন্য নিজেকে তৈরি করেছিলেন।

দিলীপকুমার লিখেছেন, ‘তিনি একটা বিষয়ে আমাকে তার প্রবল মনের সমগ্র প্রবলতা দিয়ে জোর দিয়ে গিয়েছিলেন। সেটা এই যে জগৎ সমাজ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যে যা-ই বলুক না কেন, যতক্ষণ তোমার নিজের হৃদয় মন বিবেক কোনও কিছুকে সত্য বলে মেনে নিতে না পারছে, ততক্ষণ হাজার সনাতন হলেও সে সত্যকে স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেওয়া তোমার পক্ষে হবে মিথ্যাচার।’ 

দ্বিজেন্দ্রলালের এই কথাগুলো দিলীপকুমারের বিশ্বাসকে আরও মজবুত করেছিল।

দ্বিজেন্দ্রলাল আনন্দিত হতেন দেখে যে দিলীপকুমার নির্বিচারে কোনও কিছুকেই মেনে নিচ্ছে না- কোনও কিছুকে শ্রদ্ধেয় শুনে এসেছে বলেই শ্রদ্ধা করছে না। যেমনটি হয়েছে প্রথমদিকে দ্বিজেন্দ্রলালের গানের ব্যাপারে।

দিলীপকুমারের শিশু বয়সে মা সুরবালা এবং কিশোর বয়সে পিতা দ্বিজেন্দ্রলাল পৃথিবী ত্যাগ করেন। এত অল্প বয়সে বাবা মা দুজনকেই হারিয়ে অল্প বয়সেই দিলীপকুমারকে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। যদিও পিতামহ এবং পিতার রেখে যাওয়া সম্পদের কারণে আর্থিক কোনও কষ্টে পড়তে হয়নি, তবু অল্প বয়সে পিতা-মাতার স্নেহ বঞ্চিত হওয়ার বেদনাকে সঙ্গে নিয়েই দিলীপকুমার ও তার একমাত্র ছোট বোন মায়াকে বড় হতে হয়েছে। এবং সেই কিশোর বয়সেই মায়ার দেখাশোনার দায়িত্ব দিলীপকুমারকে পালন করতে হয়েছে। মায়ার বিয়ে হয়েছিল সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র ভরশঙ্করের সঙ্গে। দিলীপকুমার চিরকুমার ছিলেন।

দিলীপকুমারের সংগীতের ওপর সাবলিল দক্ষতা, কণ্ঠের জাদু, গান পরিবেশনের স্বতন্ত্র ভঙ্গি সহজেই শ্রোতাকে মুগ্ধতায় ভাসিয়ে দিতো। তার গান গাওয়ার স্বতন্ত্র ধরন ‘দৈলপী ঢং’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল। আসলে, গানে দিলীপকুমারের প্রস্তুতি দীর্ঘ সময়ের। দেশের আনাচে-কানাচে এবং বিদেশে সংগীতের স্বরূপ অন্বেষণ করেছেন। সংগীতকে সম্পূর্ণভাবে আত্মস্থ করে, গান কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন। তার গান শোনার জন্য শ্রোতাদের মধ্যে দারুণ আগ্রহ ছিল। বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে প্রচুর অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার আমন্ত্রণ পেতেন, ফলে প্রায় প্রতিদিনই তিনি সংগীত পরিবেশনে ব্যস্ত থাকতেন।

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য সাহানা দেবী লিখেছেন, ‘‘গয়া কংগ্রেসে আমি সতী দেবীসহ ‘বন্দেমাতরম’ গান করি। তখন মাইক ছিল না। গান কিন্তু চতুর্দিক থেকে পরিষ্কার শোনা গিয়েছিল। এই কংগ্রেসমণ্ডপে প্রথম দিলীপকুমার রায়কে দেখি, তার গান শুনে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। একটি গজল গান গেয়েছিলেন। মঞ্চের ঠিক সামনেই যাতায়াতের জন্য রাখা পথটিতে একটি টেবিলে হারমোনিয়াম বাজিয়ে। যেমন অপূর্ব কণ্ঠ, তেমন গায়কী ঢং, আমাদের আকর্ষণ করেছিল। মনে হয়েছিল এই ঢংয়ের গান পূর্বে আর কোথাও শুনিনি। যখন শুনলাম তিনি সুভাষবাবুর বিশেষ বন্ধু, তখন আমরা গিয়ে সুভাষবাবুকে ধরলাম তার বন্ধুটির গান আর একদিন শোনাবার জন্য। কিন্তু সুভাষবাবু তখন কংগ্রেসের ব্যাপারে মেতে আছেন। কাজেই বেশি বিরক্ত করা গেল না।”

পরিচিত হওয়ার পর সাহানাকে গানও শেখান দিলীপকুমার। দুজনার মধ্য স্বার্থহীন বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনেক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য তিনি সাহানাকে সঙ্গে নিতেন।

দিলীপকুমারের জনপ্রিয়তা নিয়ে সাহানা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ তখন দিলীপের অতুলনীয় কণ্ঠস্বরে, তার গানের ঢংয়ে মুগ্ধ। কলকাতা শহরবাসী সব মেতে আছে। বাংলা গানে তিনি এনে দিয়েছেন একটা নতুন ধারা, নতুন প্রেরণা, খুলে দিয়েছেন নতুন একটা দিক।’

দিলীপকুমার রায় দিলীপকুমার সম্পর্কে গোবিন্দ গোপাল মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘তখন কলকাতায় প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় কারুর না কারুর বাড়িতে তার গান লেগেই থাকত এবং দলে দলে সংগীতপিপাসু ও সংগীত রসিকেরা ছুটতেন তার গান শুনে বিভোর হতে।’

দিলীপকুমার সম্পর্কে নারায়ণ চৌধুরী লিখেছেন, ‘স্বীকার করতেই হবে, রবীন্দ্রনাথের পরে তার ওপরেই বাংলা গানের দাবি ছিল সর্বাধিক। স্বভাবত আন্তরিক ও অপরিসীম প্রাণশক্তিবান দিলীপকুমার বাঙালির সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে চেষ্টার ত্রুটি করেননি। তার সেই একাগ্র সাধনার দ্বারা তিনি বাংলা গানকে সবিশেষ সমৃদ্ধও করেছেন।’

মহাত্মা গান্ধী দিলীপকুমার সম্পর্কে বলেছেন, ‘I may make bold to claim that very few persons in India or rather in the world- have a voice like his, so rich and sweet and intense.’

গায়ক, কম্পোজার, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি দিলীপকুমার রায়ের জন্ম ১৮৯৭ সালের ২২ জানুয়ারি।
সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান দিলীপকুমার রায় প্রেসিডেন্সি কলেজে ম্যাথম্যাটিকসে অনার্স করেন। এরপর ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যান উচ্চ শিক্ষার জন্য। সেখানে তার সাথে সখ্য গড়ে ওঠে প্রখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল, ফ্রান্সের খ্যাতিমান লেখক রোমেইন রোল্যান্ডসহ অনেক গুণী ব্যক্তির।

ক্যাম্ব্রিজে অঙ্কের পাশাপাশি পশ্চিমের মিউজিকের ওপরও কোর্স সমাপ্ত করেন। জার্মান ও ইটালিয়ান মিউজিক শেখার জন্য তিনি ক্যাম্ব্রিজ থেকে বার্লিন যান।

১৯২৩ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এবং ওস্তাদ আব্দুল করিম খান, ওস্তাদ ফাইয়াজ খান ও পণ্ডিত ভাতখান্ডের কাছে ক্লাসিক্যাল মিউজিক শেখেন।

১৯২৫ সালে দিলীপকুমারের প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়। রেকর্ডে গান ছিল দুটি- প্রথমটি ডি এল রায়ের ‘বসি কুসুম কাননে’, দ্বিতীয় গানটি ছিল গিরিশ ঘোষের লেখা ‘রক্তজবা কে দিল তোর পায়ে’। গিরিশের লেখা গানের সুর করেন দিলীপকুমার। লেখক ক্যাটালগে দিলীপকুমারের পরিচিতি দিতে গিয়ে লেখা হয়েছিল, ‘স্বনামখ্যাত স্বর্গীয় মিস্টার ডি, এল, রায় মহাশয়ের সুযোগ্য পুত্র শ্রীযুক্ত দিলীপকুমার রায় মহাশয় জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, প্রভৃতি দেশে ইউরোপীয় সংগীত শিক্ষা করিয়া স্বদেশে প্রত্যাগত হইয়া ভারতীয় সংগীত রীতিমত শিক্ষা করিয়াছেন এবং নব্যসম্প্রদায়ের মধ্যে উচ্চ অঙ্গের গায়ক বলিয়া খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছেন। তাঁহার অতি প্রিয় দুইখানি গান রেকর্ডে প্রকাশিত হইল। গান দুইখানি অতিশয় শ্রুতিসুখকর হইয়াছে। আমরা সকলকে শুনিতে অনুরোধ করি।’

সেই রেকর্ড ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।

কোনও নিয়ম-কানুনের মধ্যে ছিলেন না দিলীপকুমার। তা সে গানের ক্ষেত্রে হোক কিংবা নিত্যদিনের জীবনে হোক। সুরের ক্ষেত্রে তিনি এক সুর থেকে অন্য সুরে চলে যেতেন। আবার মূল সুরে ফিরেও আসতেন অবলীলায়। বৈচিত্র্য পছন্দ করতেন। তা সুরে হোক বা তালে।

তিনি দ্বিজেন্দ্রলাল ও অতুলপ্রসাদের অনেক গানের স্বরলিপি তৈরি করেছেন। ১৩৩১ বঙ্গাব্দে দ্বিজেন্দ্রলালের গানের স্বরলিপি যখন প্রথম প্রকাশ করেন, তখন ভূমিকায় লিখেছিলেন, ‘স্বরলিপি দেখে গান শিক্ষা সম্বন্ধে আমার একটা কথা বলবার আছে। সেটা এই যে, কোনও গানের মধ্যে রসসঞ্চার করতে হলে শুষ্ক হুবহু অনুকরণে হয় না। কোনও গানকে প্রাণে মূর্ত করে তুলতে হলে তাকে নিজের সৌন্দর্য-অনুভূতি অনুসারে একটু আধটু বদলে নিতেই হয়। একজন গায়ক একটি গান যে করেন তার বন্ধু বা শিষ্য কখনোই ঠিক সেভাবে গাইতে পারেন না। এটা বাঞ্ছনীয় নয়। এছাড়া একটা গান কোনও গায়কই সব সময় হুবহু একভাবে গেয়ে থাকেন না। এই কথাটি মনে রাখলে স্বরলিপি দৃষ্টে কোনও গানকে নিজের সৌন্দর্যবোধ দিয়ে একটু আধটু পরিবর্তিত করে নেওয়ার সুবিধা হবে বলে মনে হয়। নইলে কোনও গানকে নকল করার চেষ্টার মতন বিড়ম্বনা আর্টে অল্পই আছে।’

প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর ছিলো দিলীপকুমারের জীবন। যেখানেই যেতেন আসর মাতিয়ে দিতেন। নিজের মতো করেও আনন্দ করতেন। এই বিষয়ে তিনি পিতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের মতোই ছিলেন। হাসতে যারা জানেন না তাদের পাড়া দিয়ে দ্বিজেন্দ্রনাথ হাঁটতেন না।

দিলীপকুমার লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে দেখে যখন মুগ্ধ হই তখন এই সত্যটাই নতুন করে উপলব্ধি করি যে, হাসি গাম্ভীর্যকে সমৃদ্ধিই করে- হাল্কা করে না। নিদারুণ গম্ভীরানন মানুষের সংস্পর্শে এসে যখন প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে তখন জপ করেছি কবির ( দ্বিজেন্দ্রলালের) প্রাণখোলা হাসি রবীন্দ্রনাথের রসিকতা, গিরিশ মেশোর সাদা স্নিগ্ধ সখ্যশক্তি।’

দিলীপকুমারের ডাক নাম ছিল মন্টু। কাছের মানুষজন মন্টুদা বলেই সম্বোধন করতেন। মন্টুদা’র বিভিন্ন উদ্ভাবনী মজার গল্প তখন তাদের আড্ডার নিয়মিত আলোচ্য বিষয়। এরকমই একটি ঘটনা, যেটা সে সময়ের রক্ষণশীল সমাজের সাথে একেবারেই বেমানান ছিল।

ময়মনসিংহের সুষঙ্গের রাজবংশের সুধীন সিংহ ছিলেন দিলীপকুমারের প্রাণের বন্ধু। সুধীনের স্ত্রী রেবা সিংহ ছিলেন অসামান্য সুন্দরী। রেবা ও সেই সময়ের খ্যাতিমান চিত্রনায়িকা লীলা দেশাই গিয়েছেন দিলীপকুমারের সঙ্গে দেখা করতে। উনি বাইরে যাবেন। দুয়ারে একটা হুডওয়ালা গাড়ি অপেক্ষা করছে।

উনি দুই মহিলাকে নিয়েই বের হলেন। গাড়িতে নিজে মাঝখানে বসলেন দুই মহিলাকে বসালেন নিজের দুইপাশে। দু’হাত দুদিকে প্রসারিত করে দুজনের গলা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। এবং বললেন, ‘হুডটা খুলে দাও, সবাই ভালো করে দেখুক।’

গাড়ি চলছে আর আশেপাশের লোকজন, বাস, মোটর থেকে সবাই অবাক হয়ে দেখছেন। গৈরিকধারী সুদর্শন এ কেমন সাধু যে, দুটি রমনীকে বাহুবেষ্টনে বেঁধে সবাইকে দেখিয়ে রাস্তায় বেড়াতে বেরিয়েছেন।

আরেকবার, দিলীপকুমার রায় গান গাইছেন। শ্রোতা লীলা দেশাই। এমন সময়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র এলেন। তাকে দেখে সসম্ভ্রমে দূরে সরে বসলেন। এরপর, লীলা দেশাইর বয়ানে, ‘মন্টুদা বললেন তুমি ওর পাশে বসো। মন্টুদা ভালো করেই জানতেন বন্ধুটি তার রাশভারী লোক এবং চিরকুমার দেশব্রতী, তিনি নারীসঙ্গ থেকে দূরে থাকাই পছন্দ করেন। বন্ধুকে বিব্রত করার জন্যই জোর করে আমাকে তার পাশে বসিয়ে ছাড়লেন, যে-কিনা তখন সিনেমার এক নামজাদা নায়িকা। তারও যেমন অস্বস্তি, আমারও তেমনি অস্বস্তি বোধ হচ্ছে ঐভাবে তার পাশে বসে থাকতে। কিন্তু মন্টুদার সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই, বসে কেবল মজা দেখছেন।’

একসময়, অধ্যাত্মিক জগত নিয়ে দিলীপকুমারের আগ্রহের সৃষ্টি হয়। শ্রীঅরবিন্দ তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। ১৯২৮ সালে তিনি পন্ডিচেরিতে শ্রী অরবিন্দের আশ্রমে ঠাঁই নেন। যদিও আশ্রমেও তিনি তার সৃষ্টিশীল কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন তবুও তা বাংলাদেশে থাকাকালীন কাজের তুলনায় নিশ্চিতভাবেই বেশ কম ছিল। অন্নদাশঙ্কর লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বহুদূরে থাকার দরুণ সমসাময়িক সাহিত্যিক ও সংগীত সাধকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্ষীণ হয়ে যায়। বলতে গেলে বাংলাদেশ তাকে হারায়।’ 

আগে নিয়মিত প্রকাশ হতো এমন দুই-একটি প্রকাশনায় দিলীপকুমারের নতুন লেখা প্রকাশ না হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

গুণীজনদের সম্মান করতেন, তাদের গুণের প্রাণভরে সুনাম করতেন। মানুষের সামনে তুলে ধরতেন। পরিচয় করিয়ে দিতেন। দিলীপকুমারের বাংলায় লেখা ‘তীর্থঙ্কর’ ও ইংরেজিতে লেখা ‘Among the great’-এ এই ধরনের প্রচুর উদাহরণ আছে।

১৯৩৭ সালে যখন তিনি পন্ডিচেরি থেকে কলকাতায় এলেন। রেকর্ড কোম্পানি গান গাওয়ার জন্য ডাকলেন। তিনি রাজি হলেন। ইচ্ছে করলে নিজের পিতা দ্বিজেন্দ্রলালের গান গাইতে পারতেন, অতুলপ্রসাদের গান গাইতে পারতেন, এমন কী নিজের লেখা গান গাইতে পারতেন, কিন্তু গাইলেন না। গাইলেন নিশিকান্তের লেখা গান। কারণ নিশিকান্তের প্রতিভায় তখন তিনি মুগ্ধ ছিলেন। এবং গীতিকার হিসাবে নিশিকান্তের প্রতিভাকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার তাগিদ থেকেই তিনি ‘এই পৃথিবীর পথের পারে’ এবং ‘জ্বলবার মন্ত্র দিলে মোরে’ গান দুটি গাওয়ার জন্য বাছাই করেছিলেন।

ব্যাপক হিট গান দুটি বাংলা গানের জগতে নতুন মাত্রা যুক্ত করে। এবং গীতিকার হিসাবে নিশিকান্তের উত্থান ঘটে। এখানেই দিলীপকুমার থেমে থাকেননি। তার স্বরলিপির বই ‘গীতশ্রী’তে রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল, অতুলপ্রসাদের গানের পাশাপাশি একই ছন্দে বাঁধা নিশিকান্তের রচনাও তিনি প্রকাশ করেছেন। বইটি পণ্ডিত ভাতখন্ডকে উৎসর্গ করেছেন। পূর্ব ভারতে তখন ভাতখন্ড তেমন একটা পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু দিলীপকুমার ভাতখন্ডের পাণ্ডিত্য সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই জানতেন। এবং বই উৎসর্গের মাধ্যমে পূর্ব ভারতের সংগীত অনুরাগীদের কাছে তার নাম সম্মানের সঙ্গে পৌঁছে দেন।

তিনি শ্রী অরবিন্দের আশ্রমে বসবাস শুরু করলেও, সেখানকার সুশৃঙ্খল জীবনে অভ্যস্ত হতে পারেননি। তবে শ্রী অরবিন্দের প্রতি ছিল তার শর্তহীন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। শ্রী অরবিন্দ বছরে ৩ বার, পরে ৪ বার জনসমক্ষে আসতেন। দিলীপকুমার তার সাথে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তার যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর তিনি চিঠির মাধ্যমেই পেতেন। শ্রী অরবিন্দের কারণেই আশ্রমই দিলীপকুমারের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আশ্রমের উন্নয়নের জন্যও তিনি ছিলেন নিবেদিত। আশ্রমের জন্য সেই যুগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে টাকার বিনিময়ে কনসার্ট করতেন।

বারানসিতে এই ধরনের একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়। এই কনসার্টের প্রস্তুতি নিয়ে যখন দিলীপকুমার ব্যস্ত, তখন রেডিওতে খবর আসে শ্রী অরবিন্দ দেহত্যাগ করেছেন। দিলীপকুমারের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। শ্রী অরবিন্দ যে অসুস্থ ছিলেন এই কথাটিও তিনি জানতেন না। কেউ জানাননি। অথচ সেদিনই সন্ধ্যায় কাশীতে তার অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করে শ্রী অরবিন্দের পাঠানো টেলিগ্রাম পেয়েছেন। তিনি ভাবতেই পারছিলেন না অরবিন্দ আর নেই।

১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর শ্রী অরবিন্দের মৃত্যুর পর দিলীপকুমার রায়ের জীবনে হতাশা নেমে আসে। আশ্রমের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রীমা’র প্রতি ক্ষোভ জন্মায়। তার এই মনোভাব আশ্রমে থাকা অন্যদের ভালো লাগেনি। তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টি জন্মে। দিলীপকুমার আশ্রম ত্যাগ করেন। সেই সময় সরকারের হয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব এলে তিনি রাজি হয়ে যান। দুঃখ ভোলার জন্য দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেড়ালেন। এই ভ্রমণের ওপর ‘দেশে দেশে চলি উড়ে’ নামে তিনি বই লিখেছেন।

আধ্যাত্মিক বিষয়ে দিলীপকুমারের আগ্রহের শেষ ছিল না। সেই সুবাদে সাধু-সন্ন্যাসীর প্রতিও ছিল আগ্রহ একই সঙ্গে ভক্তি। কৃষ্ণপ্রেম ছিলেন, সাহেব সন্ন্যাসী। তার পূর্ব নাম ছিল রোনাল্ড নিকসন। তিনি লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতে আসেন। জ্ঞানেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর স্ত্রীকে ভক্তরা ‘যশোদা মাই’ বলে ডাকতেন। তিনি নিকসনকে আপন সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। একসময় নিক্সন যশোদা মাই-এর পুত্র হয়ে গেলেন। নিকসন সাহেব হয়ে গেলেন কৃষ্ণপ্রেম।
হিমালয়ের আলমোড়ার কাছে যশোদা মাই একটি আশ্রম স্থাপন করেন। কৃষ্ণপ্রেম চাকরি ছেড়ে আশ্রমে আশ্রয় নেন। দিলীপকুমার রায় তার সঙ্গে ভিড়ে যান। কৃষ্ণপ্রেমের সঙ্গে ছিল তার গভীর বন্ধুত্ব। দিলীপকুমার রায়ের মতে কৃষ্ণপ্রেম ছিলেন বিশাল পণ্ডিত।

যশোদা মাই’র আশ্রমে কৃষ্ণপ্রেম বৈষ্ণব মতে গোপালের পূজো করেন। দিলীপকুমার তখন বৈষ্ণব।

এই বিষয়ে অন্নদাশঙ্কর জানাচ্ছেন-

পন্ডিচেরি ছেড়ে দেওয়ার পর দিলীপকুমার কলকাতায় এলে অন্নদাশঙ্করের সাথে দেখা হয়। অন্নদাশঙ্কর জানতে পারেন তিনি পন্ডিচেরি তো ছেড়েছেন, সঙ্গে শ্রীঅরবিন্দের যোগধর্মও ছেড়েছেন। তিনি অন্নদাশঙ্করকে বলেন, ‘এখন থেকে আমি ট্র্যাডিশনাল বৈষ্ণব। আমরা অদ্বৈত প্রভুর বংশধর।’

দেওয়ান কার্ত্তিকেয় চন্দ্র রায়ের নাতি, দ্বিজেন্দ্রলালের একমাত্র পুত্র অঢেল সম্পদের উত্তরাধিকারী দিলীপকুমার ততদিনে কপর্দকহীন। সবকিছু আশ্রমে দিয়ে দিয়েছেন। আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। শ্রী অরবিন্দের আশ্রম ছেড়ে এসেছেন। যখন যেখানেই ছিলেন, বর্ণাঢ্য জীবনযাপনে কোনও ছেদ পড়েনি। কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়ে কোথায় যাবেন? এখানেও আশ্রমই হলো তার শেষ গন্তব্যস্থল। অন্নদাশঙ্কর ‘দিলীপকুমার জন্মশতবর্ষ’ প্রবন্ধের শেষ অংশে অল্পকথায় সুন্দরভাবে এই প্রসঙ্গ চিত্রিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘দিলীপদা মানুষটির মূল্যায়ন করা আমার সাধ্য নয়। এই পর্যন্ত বলতে পারি, তিনি ছিলেন অনন্য। তার মতো দ্বিতীয়টি দেখিনি। তিনি সাংসারিক উন্নতি করতে চাইলে তার সামনে সমস্ত পথ খোলা ছিল। দ্বিজেন্দ্রলালের পুত্ররূপে তিনি যেখানেই যেতেন সেখানেই সুবিধা ভোগ করতেন। চাকরি করা তার ধাতে সইত না। উকিল-ব্যারিস্টার হয়ে অতুলপ্রসাদের মতো তিনি সফল হতেন না। আর সাহিত্যে যে পয়সা হয় না তা কে না জানে। বাজার চলতি উপন্যাস লেখার মতো মানুষ তিনি নন। গান গেয়ে ওস্তাদদের মতো জীবিকা অর্জন দেওয়ান কার্তিকেয়চন্দ্র রায়ের পৌত্র ও ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পুত্রের পক্ষে অশোভন। তবে কি তার বন্ধু সুভাষচন্দ্রের মতো রাজনীতি নিয়ে থাকা? না, তেমন মানুষও তিনি নন। কলকাতায় থাকলে সম্ভবত তিনি এখানে ওখানে গান গেয়ে বেড়াতেন। কিন্তু কতকাল? সেই সূত্রে অর্থ উপার্জন তার নীতি নয়। আমার মনে হয় তার সামনে দুটি মাত্র বিকল্প ছিল। একটি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে শান্তিনিকেতনে গিয়ে আশ্রমিক হওয়া, অপরটি শ্রী অরবিন্দের কাছে গিয়ে পন্ডিচেরিতে থাকা। গ্রেটদের প্রতি তার একটা আকর্ষণ ছিল। আর আশ্রম ছাড়া তাকে আশ্রয় দেবে কে। শেষ বয়সেও তাকে আশ্রয় নিতে হলো ইন্দিরা দেবীর হরিকৃষ্ণ মন্দির নামক আশ্রমে। ততদিনে তিনি নিজেই তার ভক্তদের কাছে গ্রেট হয়েছিলেন।’

১৮৯৭ সালের ২২ জানুয়ারি কলকাতায় জন্ম। ১৯৮০ সালের ৬ জানুয়ারি পুণেতে পরলোকগমন করেন দিলীপকুমার রায়।

চলবে...

লেখক: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও গীতিকবি

তথ্য সহায়তা
“সঙ্গীতে দিলীপকুমার রায়” নারায়ণ চৌধুরী
“স্মৃতির খেয়া” সাহানা দেবী”
“Dilip Kumar Roy, the Cambridge- educated elite added melody to India’s freedom movement” by Sharanya Munshi,
The print.
“দিলীপকুমার গানে, প্রাণে ও প্রেমে” গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়
“উদাসী দ্বিজেন্দ্রলাল” দিলীপকুমার রায়
“দিলীপকুমার জন্মশতবর্ষ” অন্নদাশঙ্কর রায়
“নীলাম্বরি শাড়ি পরে” শহীদ মাহমুদ জঙ্গী

আরও:

পর্ব ১: অ্যাঞ্জেলিনা ইয়ার্ড থেকে সুপার স্টার গওহর জান হয়ে ওঠার ইতিহাস

পর্ব ২: শিল্পীদের আয়ের বিজ্ঞানসম্মত পথ খুলে দেয় গ্রামোফোন

পর্ব ৩: গান-বাণিজ্যে গওহর জান নায়িকা হলে, লালচাঁদ বড়াল নায়ক

পর্ব ৪: ‘সেকালের কলকাতার লোকেরা ছিলেন সংগীত-ছুট’

পর্ব ৫: রেকর্ডিং কোম্পানিগুলোর কাছে যোগ্য সম্মানি পাননি কে. মল্লিক

পর্ব ৬: অমলা দাশের কারণেই অনেক প্রতিভাবান শিল্পী এসেছিলেন

পর্ব ৭: প্রথম রেকর্ড হাতে পেয়ে ইন্দুবালা নিজেই ভেঙে ফেলেন!

পর্ব ৮: টাইটানিক থেকে ঢাকা, রেডিওর গপ্পো

পর্ব ৯: দৃষ্টি হারিয়েও সেই যুগের শ্রেষ্ঠ গায়ক কৃষ্ণচন্দ্র দে

পর্ব ১০: আঙ্গুরবালা দেবীর গান গাইতে প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পী ভয় পেতেন

পর্ব ১১: ভারতে গীতিকার হিসেবে প্রথম সম্মানী পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ 

পর্ব ১২: সাহানাকে রবীন্দ্রনাথ: আমি যদি সম্রাট হতুম, তোমাকে বন্দিনী করতুম

/এমএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
পংকজ-রাইচাঁদ জুটি: বাংলা ও হিন্দি সিনেমায় প্লে-ব্যাক শুরুর ইতিহাস
গানের শিল্পী, গ্রামোফোন, ক্যাসেট ও অন্যান্য: পর্ব ১৪ (খ)পংকজ-রাইচাঁদ জুটি: বাংলা ও হিন্দি সিনেমায় প্লে-ব্যাক শুরুর ইতিহাস
পংকজ মল্লিক: বাড়ি বাড়ি টিউশনি থেকে বেতার-সিনেমা ও রেকর্ডিংয়ে অবদান
গানের শিল্পী, গ্রামোফোন, ক্যাসেট ও অন্যান্য: পর্ব ১৪ (ক)পংকজ মল্লিক: বাড়ি বাড়ি টিউশনি থেকে বেতার-সিনেমা ও রেকর্ডিংয়ে অবদান
সাহানাকে রবীন্দ্রনাথ: আমি যদি সম্রাট হতুম, তোমাকে বন্দিনী করতুম
গানের শিল্পী, গ্রামোফোন, ক্যাসেট ও অন্যান্য: পর্ব ১২সাহানাকে রবীন্দ্রনাথ: আমি যদি সম্রাট হতুম, তোমাকে বন্দিনী করতুম
ভারতে গীতিকার হিসেবে প্রথম সম্মানী পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ
গানের শিল্পী, গ্রামোফোন, ক্যাসেট ও অন্যান্য: পর্ব ১১ভারতে গীতিকার হিসেবে প্রথম সম্মানী পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
মেসিকে পরীর চুমু, চঞ্চলের সংলাপ ‘বোঝনাই ব্যাপারটা’!
আর্জেন্টিনার জয়ে ফেরামেসিকে পরীর চুমু, চঞ্চলের সংলাপ ‘বোঝনাই ব্যাপারটা’!
প্রস্থানের দুই বছর: শিল্পকলায় অবিনশ্বর আলী যাকের
মৃত্যুদিনে স্মরণপ্রস্থানের দুই বছর: শিল্পকলায় অবিনশ্বর আলী যাকের
দিল্লি থেকে দোয়া চেয়েছেন শবনম ফারিয়া
দিল্লি থেকে দোয়া চেয়েছেন শবনম ফারিয়া
আবার মঞ্চে ‘ঊর্ণাজাল’
আবার মঞ্চে ‘ঊর্ণাজাল’
দেশের নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘দীপ্ত প্লে’
দেশের নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘দীপ্ত প্লে’