X
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২
১১ আষাঢ় ১৪২৯

সোনার বাংলাকে আমি ভালোবাসি

আপডেট : ১৯ মে ২০২২, ১৭:৩১

শকুন সবসময় অশুভ চিন্তা করে। গরু মরলেই তাদের খাদ্য জোটে। তাই তারা সবসময় গরুর মৃত্যুর দোয়া করে। বাংলাদেশেও শকুন মানসিকতার কিছু মানুষ আছে। দেশের খারাপ কিছু হবে, এমন কিছু ঘটলেই তারা খুশি হয়, অপেক্ষা করে। আওয়ামী লীগ একযুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে দুটি সমালোচিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা চালিয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগকে হটানোর দুটি রাস্তা। এক হলো, নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায় নিয়ে সরকার হটানো। কিন্তু বিরোধীদের ধারণা আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগকে হটানো যাবে না। ২০১৪, ২০১৮ সালের মতো আগামী নির্বাচনও নতুন কোনও কৌশলে জিতে নেবে আওয়ামী লীগ। আর দ্বিতীয় উপায় হলো, মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তীব্র গণ-আন্দোলনে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা। কিন্তু আমাদের বর্তমান বিরোধী শক্তি তার কোনোটাই করতে পারছে না। তাই চাই আর না চাই, আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আছে।

নিজেরা কিছু করতে না পেরে আমাদের অনেকেই আওয়ামী লীগকে হটাতে দৈব কিছুর অপেক্ষা করছেন। কারও কারও ধারণা বিদেশি কোনও শক্তি এসে আওয়ামী লীগকে হটিয়ে দেবে। তাই তারা ভারতে কংগ্রেস সরকারের অবসানে উৎফুল্ল হন, ভাবেন বিজেপি সরকার আওয়ামী লীগকে হটিয়ে দেবে। তালেবানরা আফগানিস্তান দখলের পর সে দেশের বিমানবন্দরে দেশ ছাড়তে চাওয়া মানুষের ঢল নেমেছিল। তখন বাংলাদেশের অনেকে বলেছিলেন, একদিন বাংলাদেশের বিমানবন্দরেও এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। পাকিস্তানে ইমরান খানের পতনের পরও অনেকে উৎফুল্ল হয়েছিলেন, এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশেও ক্যু করার সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর অনেকে বলেছিলেন, এরপর সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসছে। এরপর শ্রীলঙ্কার দেউলিয়া দশা দেখে উল্লাসের বান ডাকে বাংলাদেশের একটি মহলে। তারা অঙ্ক করে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, বাংলাদেশও শিগগিরই দেউলিয়া হয়ে যাবে। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হয়ে যাওয়াটা বুঝি আনন্দের ব্যাপার। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার গল্প অনেক শুনেছি। কিন্তু দেশকে দেউলিয়া বানিয়ে সরকার পতনের স্বপ্ন দেখা মানুষগুলোর ভাবনা দেখে অবাক না হয়ে পারছি না। দেশটা তো মায়ের মতো।

আওয়ামী লীগের অনেক কাজের প্রবল সমালোচক আমি। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। উন্নয়ন যেমন হয়েছে, পাল্লা দিয়ে দুর্নীতিও কম হয়নি। স্রোতের মতো টাকা পাচার হয়েছে। গণতান্ত্রিক অনেক প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে, মত প্রকাশের অধিকার সংকুচিত হয়ে গেছে, মানবাধিকার প্রশ্নে অনেক অবনতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স্বার্থেই দলটির কিছু দিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দরকার। টানা ক্ষমতায় থাকা দল হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্যই ক্ষতিকর। ক্ষমতায় থাকতে থাকতে নেতাকর্মীরা জনগণ থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন। তারা ভাবছেন, শেখ হাসিনা আবারও কোনও কৌশলে তাদের ক্ষমতায় এনে দেবেন। জনগণের কাছে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু আমি কোনোভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগের শাসনের অবসান চাই না। সামনের নির্বাচনটি যাতে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়; সেই চেষ্টা আমরা সবাই মিলে করবো। না হলে বিরোধী দল যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুললে, আমরা তাদের পাশে থাকবো। কিন্তু বাংলাদেশের বিনিময়ে আমি কিছুই চাই না। বাংলাদেশ আর আওয়ামী লীগ এক নয়। তদবির করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা এনে বা বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া বানিয়ে আমি সরকার পতন চাই না।

আমার কাছে সবার আগে বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি। আওয়ামী লীগের অনেক সমালোচনা যেমন আছে, তেমনি বাংলাদেশকে একটি শক্ত অর্থনৈতিক ভিতের ওপর দাঁড় করানোর কৃতিত্ব অবশ্যই আওয়ামী লীগের। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। মাথাপিছু আয়, রিজার্ভ সবকিছুই স্বস্তিদায়ক। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার উত্তাপ বাংলাদেশের গায়েও লাগছে। কিন্তু সবাই মিলে সতর্ক থাকলে এই দুঃসময়ও পার করা সম্ভব। বাংলাদেশ আমেরিকা বা সিঙ্গাপুর হয়ে যায়নি বটে, তবে বাংলাদেশ কখনও শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানও হবে না। শকুনের দোয়ায় গরু মরে না, মরবেও না।


লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ডিএমপির র‌্যালি
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ডিএমপির র‌্যালি
যেখানেই সেতু উদ্বোধন, সেখানেই দিলু ভান্ডারী
যেখানেই সেতু উদ্বোধন, সেখানেই দিলু ভান্ডারী
তিনগুণ বাড়তে পারে জার্মানিতে গ্যাসের দাম
তিনগুণ বাড়তে পারে জার্মানিতে গ্যাসের দাম
পুরান ঢাকায় বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪
পুরান ঢাকায় বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ