X
সোমবার, ২০ মে ২০২৪
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ফারাজ, শনিবার বিকেল ও শিল্পীর স্বাধীনতা

আমীন আল রশীদ
২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:২১আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:২১

সুসংবাদটা এলো শনিবার বিকেলেই। ২১ জানুয়ারি (শনিবার) দুপুরের পরে জানা গেলো, প্রায় চার বছর সেন্সর বোর্ডের ঝুলিতে ‘নিষিদ্ধ’ হয়ে পড়ে থাকার পর অবশেষে মুক্তির সম্ভাবনা মিললো আলোচিত সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’-এর। ফিল্ম সেন্সর আপিল কমিটির অন্যতম সদস্য সাংবাদিক শ্যামল দত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শর্ত সাপেক্ষে ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তিতে আর বাধা নেই। শর্তটি হলো, ছবির শুরুতে একটি ডিসক্লেইমার দিতে হবে, যেখানে লেখা থাকবে- ‘এটি হোলি আর্টিজান সংশ্লিষ্ট কোনও ঘটনা অবলম্বনে নয়।’(বাংলা ট্রিবিউন, ২১ জানুয়ারি ২০২৩)।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা যে কোনও একটি সিনেমা সেন্সর বোর্ডে প্রায় চার বছর আটকে ছিল। সিদ্ধান্তটি এমন একটি সময়ে এলো যখন হোলি আর্টিজানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার আলোকে নির্মিত ভারতীয় সিনেমা ‘ফারাজ’ মুক্তির অপেক্ষায় আছে এবং ‘ফারাজ’ নিয়ে গণমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে—যার বড় অংশজুড়েই ফারাজ নামে নিহত একজন তরুণকে মহিমান্বিত করতে গিয়ে তার অন্য বন্ধুদের হেয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনও শোনা যাচ্ছে যে ফারাজকে হিরো বানানো বা তাকে মহিমান্বিত করার পেছনে একটি বড় শিল্প গ্রুপের স্বার্থ রয়েছে। সেরকম একটি পরিস্থিতিতে ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির খবরটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। আশা করা হচ্ছে, এটিও ফারাজ মুক্তির আগে কিংবা একই দিন অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে। এরকমই ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক ওয়ালে তিনি লিখেছিলেন: ‘আমার ছবিতে কোথাও হলি আর্টিজান মেনশন করা নাই, আমার ছবিতে হোলি আর্টিজানের কোনও রিয়াল ক্যারেক্টার পোর্ট্রে করা হয় নাই, তারপরও স্রেফ এই দেশের হতভাগা ফিল্মমেকার হওয়ার অপরাধে আমার ছবিটাকে সাড়ে তিন বছর আটকে রাখা হইলো।’

প্রশ্ন হলো, যে সিনেমায় হলি আর্টিজানের বিষয়টি উল্লেখ নেই বলে নির্মাতা দাবি করছেন, সেখানে এ বিষয়ে কেন ডিসক্লেইমার দিতে হবে? আবার উল্টো করে দেখলে, যেহেতু নির্মাতা বলছেন যে সিনেমায় হলি আর্টিজান মেনশন করা নেই, অতএব শুরুতে এই ডিসক্লেইমার দিতে তিনি হয়তো আপত্তি করবেন না। কারণ, তিনিও নিশ্চয়ই চান যে সিনেমাটা মুক্তি পাক। তবে এখানে প্রশ্নটা শিল্পীর স্বাধীনতার। অর্থাৎ যে সিনেমার কোথাও হলি আর্টিজান কথাটি উল্লেখ নেই, সেখানে শুরুতে কেন এরকম একটি ডিসক্লেইমার দিতে হবে এবং এটি একজন নির্মাতা বা একজন শিল্পীর জন্য অসম্মানজনক কিনা—সে প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

কথা হচ্ছে, ভারতীয় সিনেমা ফারাজের শুরুতে কি এরকম কোনও ডিসক্লেইমার দেওয়ার শর্ত দিয়েছে সে দেশের সেন্সর বোর্ড? নিশ্চয়ই না। কেননা, ফারাজের নির্মাতা এটি দাবি করেননি যে এটি হলি আর্টিজানের পটভূমিতে নির্মিত নয়। বরং এটি সবাই জানেন এবং প্রতিষ্ঠিত যে হলি আর্টিজানের পটভূমিতেই ফারাজ নির্মিত হয়েছে এবং ২০১৬ সালের ওই ঘটনায় নিহত তরুণ ফারাজই হচ্ছেন এই সিনেমার মূল চরিত্র—যিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে বেইমানি না করার জন্য সুযোগ পেয়েও জঙ্গিদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়েও বাইরে আসেননি। কিন্তু বিপত্তি বেঁধেই এই ন্যারেটিভেই—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই ঘটনায় নিহত তরুণী অবিন্তা কবীরের পরিবার।

অবিন্তার নামে গড়ে তোলা অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশে সিনেমাটি মুক্তি না দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে। অবিন্তার মা রুবা আহমেদ বলেছেন, ‘ফারাজ সিনেমাটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। সিনেমাটির নির্মাতা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এ ঘটনায় তারা সহমর্মিতাও প্রকাশ করেনি। আইনি নোটিশ পাঠিয়েও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।’ ফারাজ সিনেমাটি যাতে ওটিটিতে প্রকাশিত না হয়, সেই দাবিও জানিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘এটা দেখা কোনও মায়ের পক্ষে সম্ভব না। আমি মা, আমার মেয়েকে আমি হারিয়েছি। মেয়ের জীবন কীভাবে চলে গেছে সেটা বড় পর্দায় দেখাচ্ছে, অন্যরা উপভোগ করছে এবং অন্য মানুষ সেখান থেকে ব্যবসা করে পয়সা নিচ্ছে, এগুলো মা হিসেবে আমি কীভাবে চাইবো। এতে শুধু আমার মেয়ের নয়, দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে। আমি চাই না, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এই সিনেমা না আসুক।’(নিউজবাংলা, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩)।

আসা যাক ‘শনিবার বিকেল’ প্রসঙ্গে। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নির্মাতা ফারুকী ফেসবুকে লিখেছিলেন: ‘আপনারা দেখছেন আমি কতটা নিয়ন্ত্রণ করছি আমার আবেগ। এমনকি অ্যাবসোলিউট বুলশিটের উত্তরও না দিয়া কনফ্লিক্ট এড়াইয়া গেছি। কিন্তু আজকে সকালে একটা খবর পড়ে, যদিও খবরটা আগে থেকেই জানতাম, আমার রাগ, ক্ষোভ, অভিমান আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারলাম না! হলি আর্টিজানের ওপর নির্মিত ভারতীয় ছবি ‘ফারাজ’ দ্রুতই মুক্তি পাবে। আমার ভারতীয় ফেলো ফিল্মমেকার হানসাল মেহতার জন্য আমি আনন্দিত যে সে তার ছবিটা শেষ করে প্রিমিয়ার করতে পারছে। হয়তো দ্রুতই আপনারাও সেটা দেখতে পারবেন।’ কিন্তু এরপরেই ফারুকী তার শনিবার বিকেল আটকে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই স্ট্যাটাস দেওয়ার কয়েক দিন আগেও ফেসবুকে লেখেন: ‘এই দেশে ফিল্ম বানানোর মতো অপরাধ আর দ্বিতীয়টা নাই!’

প্রশ্ন হলো, ফারুকী যদিও দাবি করছেন যে ‘শনিবার বিকেল’-এ হলি আর্টিজান মেনশন করা নেই, কিন্তু তারপরও একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা কি এরকম একটি লোমহর্ষক ঘটনাকে নিজের মতো করে, নিজের স্টাইলে, এমনকি চলচ্চিত্রের নির্মাণ কৌশলের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা থেকে কিছু করার চেষ্টা করতে পারেন না? সেই স্বাধীনতা কি তার থাকা উচিত নয়?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ পৃথিবীর আরও অনেক বড় ঘটনা নিয়ে অসংখ্য সিনেমা হয়েছে। তার মধ্যে কয়টি সিনেমা সেন্সর বোর্ড আটকে দিয়েছে? একই বিষয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দেশে, ভিন্ন নির্মাতা, ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে সিনেমা বানিয়েছেন এবং এটিই স্বাভাবিক। কারণ, বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপ্তি বিশাল। শুধু হিটলারের শেষ কদিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও একাধিক সিনেমা হয়েছে। সুতরাং হলি আর্টিজানের ঘটনাটি কী ছিল, সেটি বের করে আনা গোয়েন্দা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের কাজ। তাদের বলা ও লেখার ভঙ্গি একরকম। কিন্তু সেই একই বিষয় নিয়ে যখন একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা গল্প বলবেন, তখন সেটির বয়ান অভিন্ন নাও হতে পারে। তিনি ওই বিরাট ঘটনার খুব সামান্য একটি অংশ নিয়ে দুই আড়াই ঘণ্টার একটা ভিজ্যুয়াল বানাতে পারেন। এমনকি ওই বিশাল ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষের মধ্য থেকে স্রেফ একজন মানুষকে নিয়েই সিনেমাটা বানাতে পারেন। এখানেই সাংবাদিকতা ও সিনেমার পার্থক্য।

কিন্তু ‘শনিবার বিকেল’ কীভাবে মুক্তি পেতে পারে তার উপায় বাতলে দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, হলি আর্টিজান হামলায় দুজন পুলিশ অফিসার মারা গেছেন এবং পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে জঙ্গিদের দমন করেছিল। কিন্তু সেই বিষয়গুলো সিনেমাটিতে আসেনি। সেজন্য এই দৃশ্যগুলো সংযোজন করতে বলা হয়েছে (আজকের পত্রিকা, ২৯ আগস্ট ২০২২)। অথচ নির্মাতা দাবি করছেন, এটি হেলি আর্টিজানের ঘটনানির্ভর সিনেমা নয়। অথবা যদি এটা ধরেও নেওয়া হয় যে এর পটভূমি হলি আর্টিজান—তারপরও সরকার কোনও একটি বা দুটি দৃশ্য যুক্ত করার পরামর্শ দিতে পারে? পিকাসোর কোনও একটি ছবি দেখে তৎকালীন কোনও সরকার কি তাকে কোনও একটি পাখির পালকের রঙ বদলে দেওয়া বা  কোনও একজন নারীর মুখাবয়ব বদলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল? সিনেমায় কোন দৃশ্য থাকবে আর থাকবে না, সেটি কি রাষ্ট্র নির্ধারণ করবে? তাহলে চিত্রনাট্য নির্মাতা ও পরিচালকের কাজ কী? তাহলে শিল্পীর স্বাধীনতা বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে কিনা?

সিনেমা একটি স্বাধীন শিল্প। এখানে কোন দৃশ্য সংযোজন করতে হবে আর কোনটি বাদ দিতে হবে, সেই এখতিয়ার সেন্সর বোর্ডের থাকলেও একুশ শতকের এই সময়ে এসে সেন্সর বোর্ডের মতো একটি পশ্চাৎপদ ধারণা চলচ্চিত্রশিল্পে থাকা উচিত কিনা- সেটিও বিরাট প্রশ্ন।

কিন্তু তারপরও ‘ফারাজ’ ও ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে তর্কটা ঘুরপাক অন্য জায়গায়। সেটি হলো ইতিহাস বা সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা বানানোর চ্যালেঞ্জ অনেক। যেমন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অনেক সিনেমা হয়েছে। কিন্তু কোনও একটি সিনেমার গল্পে যদি এমন কোনও দৃশ্য থাকতো যেটি বঙ্গবন্ধুর জীবনে ঘটেনি বা সেখানে তথ্যের বিকৃতি করা হয়েছে—সেই সিনেমা কি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেতো? সেখানে নির্মাতা এই কথা বলে কি পার পেতেন যে এটা ফিকশন? কারণ, বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মানুষকে নিয়ে ফিকশন বানানোর মতো উদার ও সহনশীল সমাজ এখনও যেমন গড়ে তোলা যায়নি, তেমনি এই ধরনের ফিকশন অনেক সময় বিভ্রান্তিরও জন্ম দেয়।

সম্প্রতি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনীনির্ভর সিনেমা ঝরা পালক দেখানো হয়েছে। এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন ভারতীয় নির্মাতা সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়; যেখানে জীবনানন্দ দাশের স্ত্রী লাবণ্যর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী জয়া আহসান আর জীবনানন্দের দুই বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টালিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা ব্রাত্য বসু ও রাহুল। কিন্তু যারা জীবনানন্দের জীবনীটা ভালোমতো পড়েছেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে যাদের পরিষ্কার ধারণা আছে, তাদের কাছে মনে হবে এই সিনেমায় জীবনানন্দকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। বরং এই সিনেমাটিকে একটা বিমূর্ত বিষয়ের বিমূর্ত চিত্রায়ণ ছাড়া কিছু মনে হবে না। যদিও সিনেমায় অভিনয় করেছেন সব জাঁদরেল অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এবং তাদের প্রত্যেকের অভিনয় অসাধারণ। কিন্তু পুরো সিনেমার মধ্যে কোনও গল্প নেই। বরং কোথাও কোথাও ইতিহাসের বিকৃতি আছে বলেই মনে হবে। মনে হবে বলেই সিনেমার শুরুতেই একটি ডিসক্লেইমার বা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে এটি জীবনানন্দের জীবনী নয়। কিন্তু মুশকিল হলো জীবনানন্দের জীবনী নিয়ে সিনেমা বানিয়ে সেখানে ফিকশন চরিত্র দেওয়া হলেও তার যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব—অন্য কোনও রাজনৈতিক চরিত্র, ঐতিহাসিক ঘটনা কিংবা হোলি আর্টিজানের মতো একটি অতি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সিনেমা বানিয়ে সেখানে ফিকশন ও ননফিকশনের ব্লেডিং করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং সম্ভবত সে কারণেই ‘ফারাজ’ ও ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে এত কথা।

লেখক: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, নেক্সাস টেলিভিশন।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ইরানের প্রেসিডেন্ট-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শোক
ইরানের প্রেসিডেন্ট-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শোক
‘লক্ষাধিক টাকার ঘড়ি-সানগ্লাস পরে রিকশাচালকদের কষ্ট কী করে বুঝবেন’
‘লক্ষাধিক টাকার ঘড়ি-সানগ্লাস পরে রিকশাচালকদের কষ্ট কী করে বুঝবেন’
নিয়মিত অধিনায়ককে বিশ্রামে রেখে প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ 
নিয়মিত অধিনায়ককে বিশ্রামে রেখে প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ 
রিকশা ও অটোরিকশার সমাধান হতে হবে বাংলাদেশি মডেলেই
রিকশা ও অটোরিকশার সমাধান হতে হবে বাংলাদেশি মডেলেই
সর্বশেষসর্বাধিক