X
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪
১০ আষাঢ় ১৪৩১

বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল রাজনীতির ভবিষ্যৎ

স্বদেশ রায়
২৫ এপ্রিল ২০২৩, ১৭:২০আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৩, ১৮:২৩

বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল রাজনীতির ভালো ও মন্দোয় মিলিয়ে একটা দীর্ঘ অতীত আছে। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি স্তরে স্তরে তাদের অবদানকে অস্বীকার করলে ইতিহাসকে অস্বীকার করতে হবে। এমনকি যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি আর্মির পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধেও অস্ত্র ধরেছিলেন তাদেরও অবদান আছে এ দেশের মানুষের ভেতর একটি ‘দেশ’ চেতনা জাগানোর দীর্ঘ সংগ্রামে। এমনকি এদের অনেককে বাদ দিয়ে পূর্ব বাংলার বাঙালি মুসলিমের নবজাগরণের ইতিহাস লেখা ভবিষ্যতে সম্ভব হবে না।

তবে সেই দীর্ঘ অতীতে না গিয়ে এখন সত্যি অর্থে সময় এসেছে বাম প্রগতিশীল রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী সেটা খোঁজার। সম্প্রতি অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ‘Markets, Morals and Development- Rethinking Economics from a developing country perspective’ নামে একটি বই লিখেছেন।

সেখানে তিনি দেশের কারপেটের ওপরে ও নিচে থাকা যাবতীয় খেলাপি ঋণের একটি সুরাহা করার জন্যে– ঋণখেলাপিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর ওই বইটি বের হওয়ার আগে সেটা সংক্ষিপ্তকারে একটি প্রবন্ধ হিসেবে ডেইলি স্টারে ছাপা হয়। ওই লেখা পড়ে ফোনে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, যেখানে আমাদের শিল্পকলকারখানা জাতীয়করণের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়, তারপরেও কেন তিনি জাতীয়করণের কথা বলছেন? তিনি বলেছিলেন, তাঁর এ চিন্তা মূলত বাম রাজনৈতিক দলগুলো যাতে ভবিষ্যতে একটা কর্মসূচি পায় সেজন্য।

জাতীয়করণের বিষয় তাঁর মতের সঙ্গে একমত হওয়াটা এখানে বড় নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি দেশে বাম প্রগতিশীল রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা মনে করছেন। উদীচী, খেলাঘর প্রভৃতি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের এখন জরাগ্রস্ত অবস্থা দেখে যে কারও মনে হতে পারে, বাস্তবে বাংলাদেশে সিপিবি’র ( সোভিয়েত সমর্থক কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ) একটা বড় অবস্থান দরকার ছিল– অন্তত দেশে একটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলন টিকিয়ে রাখার জন্যে। এবং একসময়ে কথাটার অর্থ ভিন্ন মনে হলেও এখন অনেকের কাছে মনে হবে, বদরউদ্দিন ওমরই সঠিক কথা বলতেন, সিপিবি মূলত আওয়ামী লীগের ‘কালচারাল উইং’। বদরউদ্দিন ওমরের কথা যে সঠিক– তা অনেকখানি সত্য মনে হচ্ছে এখন। আওয়ামী লীগ ও সিপিবির দূরত্ব হওয়ায় এবং সিপিবির দুর্বল অবস্থা আজ আওয়ামী লীগের ভেতরে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক শক্তিকে দুর্বল করেছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগও ক্রমে বিএনপি বা জামায়াতের মতো ধর্মের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে।

আবার এর বিপরীতে এ প্রশ্নও আসে, বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতায় বাংলাদেশে কি সিপিবি বড় আকারে থাকতে পারতো? আর যদিও থাকতো, তারা কি আগের মতো উদীচী বা খেলাঘরকে ওইভাবে সচল রাখতে পারতো? এমনকি এর পাশাপাশি এ প্রশ্নও আসে, আসলে কি পৃথিবীর কোনও দেশে রাজনীতি সংস্কৃতিকে কোনও বাড়তি শক্তি দিতে পেরেছে? রাজনীতিকরা আসলে কি কখনও কোনও সাংস্কৃতিক আন্দোলন বা সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন? বাস্তবে রাজনীতিবিদদের ও রাজনীতির সে সক্ষমতা আছে কিনা সেটাও এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

তবে সমাজ পরিবর্তন ও প্রগতিশীল সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বাদ দিয়েও বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাম না হোক অন্তত উদার প্রগতিশীল রাজনীতির প্রয়োজনীয়তাকে শতভাগ অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। কারণ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্যে যারা ভোটের রাজনীতি করে বা ক্ষমতার রাজনীতি করে যে দলগুলো– যাকে সাধারণত ‘পাওয়ার পার্টি’ বলা হয়– এই রাজনৈতিক দলগুলো সব দেশেই একই ধরনের আপসের মধ্যে থাকে। তাদেরকে সব সময়ই সমাজে ধর্ম সহ নানানভাবে ছড়িয়ে থাকা কুসংস্কারের সঙ্গে, অসাধু ব্যবসার সঙ্গে এবং আন্তর্জাতিক অনেক খল চক্রের সঙ্গে আপস করতে হয়। অন্যদিকে এ মুহূর্তে দেশে দেশে ধর্মের নামে ছোট ছোট যে দলগুলোও হচ্ছে, এই সংগঠনগুলো ছোট হলেও এরা অনেক বেশি সর্বগ্রাসী। এরা সবসময়ই কিছু মানুষকে উগ্রপথে নিয়ে গিয়ে এক ধরনের জিঙ্গোইজম প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত থাকে। বাম রাজনীতিতে যে অতীতে হঠকারিতা ছিল না তা নয়। তাদেরও রাজনীতিতে যথেষ্ট হঠকারিতা ছিল, কিছুটা হলেও জিঙ্গোইজমও ছিল। তারপরেও বাস্তব পৃথিবীতে মানব কল্যাণের একটা আকাঙ্ক্ষা তাদের ছিল। এবং পৃথিবীর অনেক দেশে দেখা গেছে এই বাম চিন্তা ধীরে ধীরে উদার গণতান্ত্রিক চিন্তায় পরিবর্তিত হয়েছে। আর তারা সমাজে ছোট আকারে হলেও একটি শক্তি। বিশেষ করে উদার মধ্যবিত্তের ওপর এই শক্তি অনেক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল শক্তি বলা হোক আর উদার গণতান্ত্রিক শক্তি বলা হোক– যেভাবেই হোক এই শক্তিটি যদি দাঁড়াতে চায় বা রাজনীতিতে নিজেদেরকে শক্তিশালী করতে চায়– তাহলে তাদের প্রথমে খুঁজতে হবে, তারা এ মুহূর্তে কোথায় পা রাখার চেষ্টা করবে। অতীতে বাম রাজনৈতিক দলগুলো কৃষক ও মজুর বা শ্রমিকের মধ্যে তাদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেছে সব সময়। কিন্তু শেষ বিচারে এসে দেখা গেলো, তারা সেখানে তেমন কোনও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। তারা মার্কসের মতবাদ অনুযায়ী ওই দুই শ্রেণিতে তাদের পা রাখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই দুই শ্রেণিতে অন্ধত্ব বেশি। শিক্ষা কম। অন্যদিকে বাম রাজনীতিকদের চিন্তা ভুল হোক, সঠিক হোক– তা ছিল এক ধরনের সমাজবিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা। আর যাই হোক অন্ধত্বের ভেতর সমাজবিজ্ঞানের কোনও চিন্তাই গভীরভাবে ঢোকানো সম্ভব নয়। বরং সেখানে কূপমন্ডূক ধর্মীয় চেতনাই শক্ত আসন সহজে পেতে নেবে। আর সেটাই ঘটেছে সব দেশে। তাই উদার গণতান্ত্রিক একটি চেতনা যদি রাষ্ট্র, সমাজের সব দিক বিবেচনা করে আধুনিকতা ও সততার সঙ্গে কোনও রাষ্ট্রে ও সমাজে রোপণ করার প্রয়োজনীয়তা কেউ মনে করে, তাহলে তার জন্যে প্রথম ক্ষেত্র হিসেবে শিক্ষিত মধ্যবিত্তকে বেছে নিতে হবে। এমনকি বাংলাদেশের বাস্তবতায়ও সেটাই বেশি স্পষ্ট হয়, যদি উদার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে অতীতের ও বর্তমানে জন্ম নেওয়া বাম দলগুলো এগুতে চায় তাহলে তাদের প্রথম পা রাখার স্থান শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে নির্ধারণ করা সঠিক হতে পারে।

এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, গার্মেন্টস শ্রমিক বা কোনও কৃষি বিষয়ক দল বা গোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করলে যত দ্রুত যত বেশি মানুষের একটি সংগঠন দাঁড় করানো যাবে– শিক্ষিত মধ্যবিত্তকে নিয়ে সেটা সম্ভব নয়। এমনকি ভোটের রাজনীতিতেও দ্রুত কোনও অবস্থান তৈরি করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে দ্রুত কোনও কিছু করা যাবে, এ ধরনের কোনও পথে হাঁটাও মূলত অবাস্তব পথে হাঁটা। ভোটের রাজনীতিতে বা পার্লামেন্টে তাদের অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে কোনও তাড়াহুড়োও এ মুহূর্তের বাস্তবতার সঙ্গে যায় না।

বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো যদি সত্যি অর্থে কোনও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতে চায় তাহলে তাদের নির্ভর করতে হবে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের ওপর। এবং এ মুহূর্তে তাদের বিবেচনায় তারা নিজেরা চিন্তা করে অনেক কিছুই তাদের রাজনীতির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। তবে তাদের রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া প্রয়োজন, এ মুহূর্তে রাষ্ট্রে ধর্মের নামে যে কূপমন্ডূকতাকে সবাই মিলে উৎসাহ দিচ্ছে তাকে থামানো জন্যে একটি চিন্তার আন্দোলন। এবং এই কূপমন্ডূকতার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজে অনেক অনৈতিক যুথবদ্ধতা (আনহোলি নেক্সাস) সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো কীভাবে দূর করা যায়। এর পাশাপাশি উদার চিন্তা, একটি দক্ষ আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি ও প্রাকৃতিক নানান দিক রক্ষার জন্যে মানুষকে জাগ্রত করা। সর্বোপরি একটি সুচিন্তিত অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা সামনে আনা, যেখানে উৎপাদনভিত্তিক উন্নয়ন ও মানুষের আর্থিক বৈষম্য কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, যে বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমান আছে তাদের ভেতর থেকেই কি এই শক্তি সৃষ্টি হবে– না, কোনও তরুণ শক্তির ভেতর দিয়ে তারা আসবে? আসলে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর খোঁজা অনেকটা জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে ভবিষ্যৎ খোঁজার মতো। তবে বাস্তব অবস্থাকে কেবল বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।

বর্তমানে যে বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো আছে তার একটা অংশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন চৌদ্দ দলীয় জোটের সঙ্গে। আরেকটি অংশ তারা জামায়াত- বিএনপি জোটের সঙ্গে না হলেও সরকার বিরোধী ও ভোটের দাবিতে মূলত জামায়াত বিএনপির সঙ্গে। এর বাইরে পুরানো দল সিপিবি সহ মাত্র কয়েকটি দল। সিপিবি এক সময়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে ছিল। তারপরে গত প্রায় পনের বছর তারা ওই জোটের বাইরে কেন আছে তা অবশ্য খুব একটা পরিষ্কার নয়। তবে বিএনপির সঙ্গে জোট না গড়েও যারা একই ধরনের আন্দোলনে আছে আর অন্যদিকে যারা ক্ষমতাসীন জোটে আছে এই দুই বাম প্রগতিশীল শক্তির খুব বেশি পার্থক্য এখন নেই। তাদের সকলেরই উদ্দেশ্য এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হওয়া। আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ হতে গিয়ে পাওয়ার পার্টি’র যে চরিত্র তাদেরও সেই চরিত্র হয়ে গেছে। অন্যদিকে গত পনের বছরে জন্ম নেওয়া তরুণ নেতৃত্বের যে ছোট ছোট দল বা শক্তি বিএনপির সঙ্গে সমান্তরালে আন্দোলন করে যাচ্ছে, এদেরও ভবিষ্যৎ এর বাইরে নয়।

কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজে এখন সয়ম্ভূভাবে যে চাহিদাটির জন্ম নিচ্ছে তা একটি প্রগতিশীল শক্তির জন্ম হওয়া। যার কাজ এ মুহূর্তে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবার পিছে ছোটা নয়, যার প্রথম কাজ রাষ্ট্র ও সমাজের কিছু কিছু অন্ধকার টানেলে ক্ষুদ্র আকারে হলেও একটু আলো জ্বালা। যে আলোটা দেখে অন্তত কিছু তরুণ বলতে পারবে, আলোটা একটু উসকে দাও। আমরা দেখি সামনে কী আছে। কোন পথে আমাদের পথ তৈরি হতে পারে? টানেলে এই আলো জ্বালতে গেলে বেশিভাগ হয়তো তখন বলবে, টানেলের ও প্রান্ত পাথর দিয়ে বন্ধ। কাজ কি তাই এই আলো নিয়ে হাঁটা! এই বলাটা এবং ফিরে যাওয়ার সংখ্যাটাও কিন্তু পৃথিবীর সভ্যতার শুরু থেকে। তারপরেও আলো জ্বালা যেমন সভ্যতার রীতি তেমনি কোনও কোনও মানবগোষ্ঠীতে কখনও কখনও আলো জ্বালা অবশ্য প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। এই অবশ্যই প্রয়োজনীয়তার ভেতর থাকে প্রগতিশীলের পথ ও ভবিষ্যৎ। এ পথ সবসময়ই কঠিন হয়। বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতির জন্যে কঠিন হলেও এই ভবিষ্যৎ আছে। কারণ, সবার ওপরে মনে রাখা দরকার এই ভূমির মানুষ সহজিয়া। সহজিয়ার সঙ্গে প্রগতির একটা সহজাত সম্পর্ক জন্মগত।

লেখক: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
জাতীয় সংসদ ভবনে ‘মুজিব ও স্বাধীনতা’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদ ভবনে ‘মুজিব ও স্বাধীনতা’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণের ১০ স্থাপনাকে জরিমানা
এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণের ১০ স্থাপনাকে জরিমানা
যেভাবে ভারতকে বিদায় করতে পারে অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান!
যেভাবে ভারতকে বিদায় করতে পারে অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান!
পদ্মায় গোসলে নেমে দুই ভাইসহ ৩ শিশুর মৃত্যু
পদ্মায় গোসলে নেমে দুই ভাইসহ ৩ শিশুর মৃত্যু
সর্বশেষসর্বাধিক