X
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
১০ ফাল্গুন ১৪৩০

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নব্য ফেরিওয়ালারা

আবদুল মান্নান
২৯ জুলাই ২০২৩, ১৬:০৪আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৩, ১৬:০৪

দুটি মতবাদ বাংলাদেশে এখন সহজে ফেরি করা যায়। একটি গণতন্ত্র আর অন্যটি মানবাধিকার। সঙ্গে আছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। একসময় মার্ক্সবাদের দর্শনও এই দেশে সহজে ফেরি করা যেতো। বলা হতো যে ব্যক্তি যৌবনে মার্ক্সবাদে দীক্ষা নেয়নি তার জন্মই হয়নি।

বিশ্বায়নের এই যুগে মার্ক্সবাদের সূর্য এখন অস্তমিত। মার্ক্সবাদের তীর্থস্থান সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে অনেক আগে। বাংলাদেশের মার্ক্সবাদীরা এখন ধর্মীয় মৌলবাদীদের পরম মিত্র। কিছু দিন জঙ্গিবাদের বেশ রমরমা অবস্থান ছিল। এই জঙ্গিবাদ দমনের নামে যুক্তরাষ্ট্র আর তার মিত্ররা কত নগর, বন্দর, দেশ, সভ্যতা ধ্বংস করে দিলো, কত নিরীহ মানুষ হত্যা করলো, কত বৈধ সরকারে উৎখাত করলো, তার হিসাব করার কেউ নেই। জঙ্গিবাদ বাংলাদেশেও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। বিগত বিএনপি জামায়াতের জোট সরকারের সময় তাদের উত্থান রূপকথার গল্পের মতো। এদের একজন  হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানকে দিয়ে বিএনপির বর্তমান চেয়ারপারসন তারেক রহমান ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে সেদিন শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও দলের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছিলেন।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা সরকারের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গিবাদ দমন করা, যা তিনি সফলভাবে করতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাব। আর এই র‌্যাবের সাত জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর আরোপ করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা। অজুহাতে ছিল– তারা নাকি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত।

বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গিবাদের বিনাশ চায় কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আধুনিক জঙ্গিবাদের জনক যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান বা আইসিস অথবা আল কায়েদা  বা অন্য যেকোনও ধরনের জঙ্গিবাদ সৃষ্টির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত সবসময় স্পষ্ট থাকে। আর এই জঙ্গিবাদের নির্মূলের নামে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে ধ্বংস করেছে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া আর সিরিয়ার মতো দেশ। ধ্বংস অভিযানে যাওয়ার আগে বিশ্বকে বুঝিয়েছে তারা এসব দেশে গণতন্ত্র রফতানি করছে। বাংলাদেশের বেলায়ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন স্বপ্ন বিলাস থাকা অসম্ভব নয়।

বর্তমান সময়ে বিশ্বে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ধারে-কাছেও কেউ নেই। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা ‘পলিটিকা’ গত ২২ জুলাই এক সংবাদে জানিয়েছে, গত ছয় মাসে সে দেশে ৬০২ জন মানুষ পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে, যার মধ্যে আততায়ীর হাতে নিহত হওয়া একজন বাংলাদেশি যুবকও ছিল। খুনিকে পুলিশ আটক করেছিল তবে সে নাকি হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছে, যা তেমন একটা শোনা যায় না। এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গত ২৫ জুলাই আরিজোনা অঙ্গরাজ্যে আরও একজন বাংলাদেশি খুন হয়েছে। সেই দেশে গত তিন বছরে পুলিশের হাতে সর্বমোট খুন হয়েছে তিন হাজার ৭৬ জন আর নিখোঁজ হয়েছেন ১৫ লাখ।

এসব সংবাদ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার। ঢাকা-১৭ নির্বাচনে একজন প্রার্থী নির্বাচনের শেষ সময়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল তরুণের হাতে লাঞ্ছিত হলে সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইট্স ওয়াচ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতরা একযোগে তার নিন্দা ও বিবৃতি দিতে দেরি করেনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনও প্রকারের উচ্চবাচ্য করতে কাউকে দেখা যায় না। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে যে রোহিঙ্গা নিধন কর্মসূচি চলছে তা নিয়ে কোনও দেশকে তেমন কোনও কার্যকর ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। নিয়মিত বিরতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যেসব পণ্ডিতজন বাংলাদেশে গণতন্ত্র আর মানবাধিকারের সবক দিতে আসেন তারা সবক দেওয়া শেষ হলে কক্সবাজার টেকনাফ বা উখিয়া শরণার্থী শিবির সফর করে বিদায় নেওয়ার সময় বলেন, তারা এই ভাগ্যাহতদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। বাস্তবে কোনও কিছুই হয় না। উল্টো মিয়ানমারে এসব দেশের বিনিয়োগ বাড়ে। সখ্য জোরদার হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো হয়ে উঠেছে এসব ফেরিওয়ালার জন্য পর্যটন কেন্দ্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হরিহর আত্মা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর। বাংলাদেশের মানবাধিকার আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তাদের রাতের ঘুম হারাম। এসব দেশে মানবাধিকারের সংজ্ঞার অর্থ পবিত্র কোরআন বা অন্য কোনও ধর্মগ্রন্থ পোড়ানোর স্বাধীনতা। আবার এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করে দেশের উচ্চ আদালত। ফ্রান্সে আইন আছে পুলিশ কোনও গাড়িকে থামতে হুকুম দিলে তা যদি না থেমে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে চালককে গুলি করতে পারবে। ক’দিন আগে এমন এক পরিস্থিতিতে পুলিশ এক যুবককে হত্যা করলো। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে আগুন লাগলো। শেষতক সেই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এখন তাকে বাঁচানোর জন্য সেই দেশের পুলিশ চাঁদা তুলছে। এমন একটি ঘটনা বাংলাদেশে ঘটলে বা আইন পাস করলে মানবাধিকারের ‘চৌদ্দগোষ্ঠী’ বাংলাদেশে চলে আসতো। হয়তো ডাকা হতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টের জরুরি সভা অথবা বাংলাদেশে বিশেষ বিমানে চলে আসতেন জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান।

ক’দিন আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আইন পাস হলো, যাতে বলা হয় দেশটির উচ্চ আদালত সেই দেশের সরকার কোনও বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়নে বাদ সাধতে পারবে না। এই আইন পাসে ইসরায়েলের পার্লামেন্টের সব সরকারি সদস্য  ও মিত্ররা পক্ষে ভোট দেয়। বিরোধীরা ওয়াকআউট করে কিন্তু বিপক্ষে ভোট দেয়নি। কোথায় এখন মার্কিন কংগ্রেসম্যান বা সিনেটের বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা বা জাতিসংঘ বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ? সব মাতব্বরি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে! বাংলাদেশ এখন অনেকটা ‘গরিবের বউ’।

শুধু যে বিদেশি ফেরিওয়ালারা বাংলাদেশে এসে মানবাধিকার বা গণতন্ত্র ফেরি করছে তা কিন্তু নয়। বিদেশি বিশেষ করে মার্কিন অর্থায়নে এই দেশে কিছু তাঁবেদার ও প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়েছে, যারা ওই দেশ বা অন্য কোনও দেশের পক্ষে বাংলাদেশে নিয়মিত মানবাধিকার বা গণতন্ত্র ফেরি করে। মাঝে মধ্যে তারা বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি পণ্ডিত সুশীলজনদের উড়িয়ে এনে এই দেশে এই দুটি বস্তু ফেরি করার কাজে নিয়োজিত করে।

ক’দিন আগে ঠিক এমনটাই ঘটলো। বিদেশি অর্থে খোলামেলা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে  বাংলাদেশ ছাড়া তেমন কোনও দেশ তেমন একটা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি পাশের দেশ ভারতেও তাদের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে শুধু পর্যবেক্ষণ করা হয় না, প্রয়োজনে তাদের কমর্কাণ্ডও বন্ধ করে  দেওয়া হয়।  বিবিসি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান তাতে কোনও সন্দেহ নেই। গত বছরের শেষের দিকে ভারতে বিবিসি’র একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। বিবিসি গুজরাটের দাঙ্গা নিয়ে এই প্রামাণ্যচিত্রটি প্রচার করছিল। সেই দেশের সরকার বললো যেসব বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে তা সব সত্য নয়। তল্লাশি চালায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা দফতর বিবিসি কার্যালয়ে। জব্দ করা হয় অনেক নথিপত্র। বিবিসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় বিপুল পরিমাণে কর ফাঁকির। চলে তদন্ত। সত্য উদঘাটন হলে বিবিসি এই কর ফাঁকির বিষয়টা স্বীকার করে। বিপুল পরিমাণের অর্থ জরিমানা গুনতে হয়। এমন ঘটনা বাংলাদেশে কখনও ঘটেছে বলে জানা যায় না। ঘটলে বাংলাদেশের মুরুব্বিরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গেলো গেলো বলে চিৎকার শুরু করে দিতেন। ভারতের বিরুদ্ধে বলতে পারে না, কারণ ভারতই অনেক ক্ষেত্রে তাদের মুরুব্বি।

বাংলাদেশে একজন জনপ্রিয় গণমাধ্যম ব্যক্তির নিজস্ব একটি বেসরকারি সুশাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র ফেরির দোকান আছে। এই দোকানের অর্থ আসে বিদেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে, যার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের। প্রথম সহায়তাদানকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

এই সংস্থাটি সম্পর্কে এই দেশের মানুষকে খুব বেশি পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। হেনরি কিসিঞ্জার এই দফতরের একসময় প্রধান ছিলেন। তাদের কাজ ছিল বিদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ তথা করপোরেট স্বার্থ রক্ষা করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান কিন্তু প্রয়োজনে এই সংস্থাকে সেই দেশের স্টেট ডিপার্টমেন্ট অন্য দেশে নিজেদের স্বার্থে সরকার পরিবর্তন করার জন্য বেশ খোলামেলাভাবে ব্যবহার করে। ইরান, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, কঙ্গো, ইরাক, লিবিয়া, পঁচাত্তরে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের জন্য সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যার সঙ্গে এই দফতর বা সিআইএ জড়িত থাকার প্রমাণ সহজলভ্য। এই নিয়ে অসংখ্য গবেষণালব্ধ বই বা গবেষণাপত্র খোদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়েছে। তবে বর্তমানে সিআইএ তাদের এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে, যাদের কাজ হচ্ছে কোনও একটি বাছাই করা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে সেই দেশের পরিস্থিতি অস্থির করে তোলা।

তাদের এসব কাজে বেশ মুন্সিয়ানা আছে। তারা গবেষণার নাম করে কিছু বাছাই করা প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করে। আবার এই বাছাই করা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের বিরুদ্ধ শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে নানাভাবে অর্থায়ন করে। তেমন একটি প্রতিষ্ঠান এনইডি বা ন্যাশনাল এন্ডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি। নামেই বোঝা যায় এই সংস্থার দোকানে কী ফেরি করা হয়। এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচারিত নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ১৯৯৭ সালের ১১ মার্চ জন এম ব্রডার ‘Political Meddling by Outsiders: Not New for US’ শিরোনামে এক দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশ করে। সেই প্রবন্ধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অনেক অবমুক্ত করা গোপন দলিল হতে উদ্ধৃতি দিয়ে অন্য দেশে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সেসব দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে, সরকার উৎখাতে ভূমিকা রাখে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। ব্রডার লিখেছেন, যেসব কাজ অন্য দেশে দীর্ঘদিন ধরে সিআইএ করতো বর্তমানে তা ‘এনইডি’ করে। তার জন্য তারা বছরে ত্রিশ মিলিয়ন ডলার (১৯৯৭ সালে) বরাদ্দ পায়। সেই ‘এনইডি’ বাংলাদেশের এই গণতন্ত্র ও সুশাসন ফেরি করার সংগঠনটির অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এমন সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরও কয়েকটি আছে, তা আর উল্লেখ করলাম না। আর এই সংগঠনটির যিনি কর্ণধার তার মূল কর্মক্ষেত্রের অন্যতম স্বত্বাধিকারী সরকারের খুবই প্রিয় পাত্র। রাষ্ট্রের বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার তার ঝুলিতে। যখন তখন গণভবনে প্রবেশ করতে পারেন। সাক্ষাৎ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

অন্য আর এক ফেরিওয়ালাকে তো প্রায় দ্বিগুণ বিদেশি সংস্থা অর্থ সহায়তা দেয়। সরকারের এসব দিকে তেমন কোনও নজর আছে বলে মনে হয় না। প্রধানমন্ত্রী প্রায় বলে থাকেন তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত তো সরাসরি বলেই ফেলেছেন ‘প্রয়োজনে নিজেদের সরকার পরিবর্তনের সক্ষমতা স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ’। কোন রাখঢাক নেই।

এই ভদ্রলোকের সঙ্গে সকাল বিকাল বিএনপি নামক দলটির নেতারা সভা করছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইউজন বোস্টারের সঙ্গে ঘাতকরা নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করতেন। ১৫ আগস্টের কয়েক সপ্তাহ আগে জিয়াউর রহমান সস্ত্রীক ঢাকায় সিআইএ’র স্টেশন চিফ ফিলিপ চেরির সঙ্গে ডিনারে অংশ নিয়েছিলেন। তার আগে তারা ঘণ্টা দুয়েক একান্তে শলাপরামর্শ করেছেন। এসব তথ্য এখন প্রকাশিত। 

ওপরে বর্ণিত বাংলাদেশ সংগঠনটি গত ২২ জুলাই তাদের একটি ফরমায়েশি ও মতলবি ‘গবেষণা’র ফল প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে ৬৫ ভাগ মানবাধিকার সংগঠন তাদের কাজে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে বাধার সম্মুখীন হয়। যিনি এই গবেষণা কাজে জড়িত ছিলেন তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী একজন পণ্ডিত সুশীল অধ্যাপক। সুশীল এই কারণেই, কারণ সুশীল হিসেবে গণ্য হওয়ার সব বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে আছে। তিনি  শিক্ষিত। গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। কথাবার্তায় বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি নিরপেক্ষ। তবে তার বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি একজন আওয়ামী লীগবিরোধী। এই দেশে আওয়ামী লীগবিরোধী না হলে আবার সুশীল হওয়া যায় না। ছাত্রজীবনে এই ব্যক্তি জাসদ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি তার এই ফরমায়েশি আর মতলবি গবেষণাপত্রে আরও বলেছেন, ‘দিনে দিনে খারাপের দিকে  যাচ্ছে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি’। উপস্থিত সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান কোন দেশের তুলনায় খারাপের দিকে যাচ্ছে? তিনি তার কোন জবাব দিতে রাজি হননি। জানতে চাওয়া হয় তিনি যে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেন, যে দেশে তার কর্মক্ষেত্র, সেখানে মানবাধিকার বা গণতন্ত্রের কী অবস্থা? তিনি কোনও রাখঢাক না করেই বললেন এটি তার গবেষণার বিষয় ছিল না। তিনি হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে। তিনি হয়তো বুঝতে পারছেন না যে দেশে বসবাস করেন সেই দেশের কর্তাব্যক্তিরা নিয়মিত এই দেশে আসেন, আর এসব বিষয়ে সরকারকে ছবক দিয়ে যান। তিনি না আসলে বাংলাদেশের কোনও ক্ষতি হতো না।

এই সুশীল গবেষক তাঁর ‘গবেষণা’ কর্ম প্রকাশ করার ঠিক এক সপ্তাহ আগে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসোসিয়েট প্রেস ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ তাদের এক গবেষণার ফলাফল  সে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দশজনের একজন মাত্র মনে করেন সেই দেশে গণতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করছে। ৪৯ ভাগ মনে করেন তাদের দেশে গণতন্ত্র একেবারেই কাজ করছে না। এই রিপোর্টটি বেশ দীর্ঘ ও বিস্তারিত। অন্য কোনও সময় সেটি নিয়ে আলাপ করার ইচ্ছা রইলো।

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে ততই গণতন্ত্রের এই ফেরিওয়ালারা তাদের অপকর্মের গতি বাড়িয়ে দেবে। সরকারের সতর্ক হওয়ার এখনই সময়। প্রধানমন্ত্রী যে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের কথা বলেন, তা হালকাভাবে না নেওয়াই মঙ্গল।

 

লেখক: বিশ্লেষক ও গবেষক

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ভারত সফর শেষ না করে দেশে ফিরলেন ইংল্যান্ড স্পিনার
ভারত সফর শেষ না করে দেশে ফিরলেন ইংল্যান্ড স্পিনার
বইমেলায় সিসিমপুরের আনন্দে মেতেছিল শিশুরা
বইমেলায় সিসিমপুরের আনন্দে মেতেছিল শিশুরা
মাতৃভাষা জানেন না জাহ্নবী!
মাতৃভাষা জানেন না জাহ্নবী!
জাম্পার স্পিনে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার
জাম্পার স্পিনে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ