X
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪
১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

জনগণের একাগ্রতা উপেক্ষা করা অসম্ভব

হায়দার মোহাম্মদ জিতু
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:২২আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:২২

দুর্নীতিগ্রস্ত ও সুদখোর মানুষের জন্য সমাজে গুমোট ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে যখন চুরি, এতিমের টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতিসহ নানা অসঙ্গতিকে সামাজিক মর্যাদা দেওয়ার দেশি-বিদেশি পাঁয়তারা চলে। এই আত্মকেন্দ্রিক সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভয়াবহ বিষয় হলো, নিজেদের অনৈতিক হিস্যা দাবি করতে গিয়ে এরা দেশের বাণিজ্যিক, ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিক স্বার্থকেও ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার একটা ছোট্ট উদাহরণ।

নিয়ম-নীতির বাইরে গিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, ব্যাংকের অর্থ নিজের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে সরানো, লেবার ‘ল’ না মানাসহ নানা ঘটনার জনক তিনি। সরকার সেই অনিয়ম ও কর্তৃত্বের অচলাবস্থা ভেঙে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। আঁতে ঘা লাগা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাই প্রতিশোধ নিতে সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন।

এদের এই নির্লজ্জ সাহসের কারণ, এখানে এখনও অশ্লীলতা, দুর্নীতি বলতে শুধুই অর্থ আত্মসাৎকে বোঝানো হয়। কিন্তু কারও অধিকার হরণ করা, অন্যের অভাব-অসহায়ত্বকে ঢাল হিসেবে নিয়ে নিজের ভোগ-বিলাসিতা নিশ্চিত করা, কথা দিয়ে কথা না রাখা, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা, বাহুল্য বাক্য ব্যয় করা, অর্পিত দায়িত্ব পালন না করা, এসবও যে চরম অশ্লীলতা, দুর্নীতির শামিল সেটা চর্চা হয় না। এসব হলে সমাজে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো মানুষেরা তৈরি হতো না। বিচরণ করতে পারতো না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের ক্ষমতায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে চরম শত্রুও দ্বিমত করতে পারবেন না। সেই ধারাবাহিকতাকে সমুন্নত ও সুরক্ষিত করতে সমাজ বিনির্মাণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষায়ও তিনি লড়াই করেছেন। এখানেই বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। বাঙালির শান্ত সাহস শেখ হাসিনার উন্নয়ন বাস্তবতার মাধ্যমে ‘ন্যাশন বিল্ডিং’-এর ভিশনারি পরিকল্পনায় ঘরে-বাইরে অস্বস্তি তৈরি করেছে। কারণ এখানের কিছু অংশ আছে, যারা উচ্ছিষ্ট খেয়ে খুশি হয়। অন্যদিকে বাইরের অংশ অস্থিরতা রচনা করে বাঁচে। কিন্তু অনবদ্য শেখ হাসিনা চান আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন করতে। এখানেই পার্থক্য।

জাতি গঠনের এই পরিকল্পনাগুলো আমলে নিয়ে শত্রুপক্ষ কৌশল হিসেবে জাতীয়তাবোধ এবং ঐক্যকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এরা সব কিছুতেই বিভক্তি নিয়ে এসেছিল। বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা দিয়ে সেই বিভক্তিকে মিটিয়ে ফেলার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সামাজিক শক্তি হিসেবে সিভিল সোসাইটিকে এগিয়ে আসা জরুরি। বরেণ্য মানুষ, বুদ্ধিজীবী, বিবেকবান অংশকে সরকারের পাশে থেকে জাতীয় ঐক্যকে আরও পোক্ত করে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে ভীষণ শক্তিশালী অবস্থায় আছে। বিগত ১৫ বছরে মানব উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সূচকে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে তাতে এর অগ্রযাত্রা বিশ্বের কাছে বিস্ময়কর ও অনুসরণীয়। এই ব্যবস্থাকে আরও জোরদার এবং স্থায়িত্বসম্পন্ন করতে পারিবারিক শিক্ষার মাধ্যমে ঐক্য বিনির্মাণ করা প্রয়োজন। টয়লেট থেকে ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হয়, এটাকে অভ্যাসে পরিণত করতে ‘মীনা’ কার্টুন সিরিজকে প্রায় একযুগের মতো যাত্রা করতে হয়েছিল। তবে পারিবারিকভাবে শিক্ষার মাধ্যমে চেষ্টা করলে গণপরিবহন-লিফটমুখী আচরণ, ময়লা ঝুড়িতে ফেলাসহ নাগরিক দায়িত্বগুলো দ্রুত অভ্যাসে পরিণত করা সম্ভব। যার সাম্প্রতিক প্রমাণ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রয়াস। কাজেই জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে ঐক্যের বিষয়টিও সম্ভব।

আগামীর বাংলাদেশ বিশ্বব্যবস্থার অংশীদার। কাজেই এর নাগরিকদের মৌলিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা আবশ্যক। এটা করতে পারলে সুদখোর কিংবা এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীদের যারা সামাজিক মর্যাদা দিতে চায় তাদের মুখোশও উন্মোচিত হবে।

বাঙালির জাত্যভিমান এবং জয়যাত্রা বহুকালের। কিন্তু অন্তর্দ্বন্দ্ব, আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ঘটিয়ে বহিঃঅংশের সমুদ্রস্নানের কারণে এই গোটা অঞ্চলের এগিয়ে চলা বারবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে এই অঞ্চলের একটা ‘মানসিক জোট’ গঠন জরুরি। কারণ অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে এশিয়ার রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ভীষণ অগ্রগামী। যা দূরদেশিদের জন্য ভীষণ গাত্রদাহের। কারণ অস্থিরতা, পিছিয়ে থাকাই এদের মূল ব্যবসা। এ জন্য এরা কাজও করছে।

এরই অংশ হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, দূরদেশিরা মূলত এই পুরস্কারের মাধ্যমে দেশে দেশে নিজেদের একজন মুখপাত্র বসান। যাকে দিয়ে সেই দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিনষ্ট করে নিজেদের স্বার্থ কায়েম করেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ঠিক একই কায়দা প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। কিন্তু আত্মপ্রত্যয়ী শেখ হাসিনার কারণে সেই চেষ্টা এখনও সফল হতে পারেনি। কিন্তু তারা যে থেমে থাকবে না সেটাও পরিষ্কার।

তবে এটাও সত্য,  ১৮ কোটি জনগণের একাগ্রতা দিয়ে সব অপশক্তিকে পরাজিত করা সম্ভব। বিশ্ববাঙালি সেই স্বপ্নই দেখে।

লেখক: মহামান্য রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব

[email protected]

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন পেলেন ড. ইউনূস
অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন পেলেন ড. ইউনূস
হলো না ঘুরতে যাওয়া, মা-বাবার সঙ্গে পাশাপাশি কবরে শায়িত ছোট্ট জামিলা
হলো না ঘুরতে যাওয়া, মা-বাবার সঙ্গে পাশাপাশি কবরে শায়িত ছোট্ট জামিলা
আদালতে ড. ইউনূস
আদালতে ড. ইউনূস
গাজায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে ক্ষুধার্ত শিশুরা
গাজায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে ক্ষুধার্ত শিশুরা
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ