ড. কামাল সারা জীবনই সন্ত্রাসীদের পক্ষে

Send
স্বদেশ রায়
প্রকাশিত : ১৪:০০, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৫, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

স্বদেশ রায়ড. কামাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ভাগ্যের বরপুত্র। কোনও রাজনৈতিক সংগ্রাম না করে প্রগতিশীল রাজনীতির প্ল্যাটফর্ম থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করেছেন। গণতান্ত্রিক রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রচার করার যাবতীয় সুযোগ পেয়েছেন। আবার সারা জীবনই সন্ত্রাসী, হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তাদের রক্ষা করেছেন।
জামায়াত- বিএনপির নেতারা লাদেন স্টাইলে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে, খালেদা জিয়া মাসের পর মাস অফিসে বসে যেভাবে সারা দেশে পেট্রোলবোমার মাধ্যমে মানুষ পুড়িয়েছেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম সন্ত্রাস। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেভাবে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিলো, এরকম সন্ত্রাসের উদাহরণ পৃথিবীতে কম আছে। আগুনে পোড়া মানুষ ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটসহ সারাদেশে  হাসপাতালে যেভাবে যন্ত্রণা নিয়ে মারা গেছে, এর সঙ্গে একমাত্র তুলনা চলে হিটলারের গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে মানুষ হত্যার। এছাড়া খালেদা ও জামায়াতের নেতৃত্বে ২০১২, ১৩, ও ১৫-তে সারাদেশে যেভাবে এই নরহত্যার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি, হিন্দু মন্দির ভাঙা হয় তার তুলনা চলে একমাত্র ১৯৭১ সালের ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে। শুধু ২০১২ সালেই জামায়াত ও বিএনপি সারাদেশে ৯৬০টি মন্দিরে হামলা করে। আর শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়াতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি সরকারি সম্পত্তি আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে। এছাড়া দেশের গোয়েন্দা বিভাগের খাতায় এ মুহূর্তে যত জঙ্গি সংগঠনের নাম পাওয়া যায় সবক’টিরই পৃষ্ঠপোষক বিএনপি ও জামায়াত।

এই বিএনপি ও জামায়াতকে রক্ষায় এখন নেমেছেন ড. কামাল হোসেন। তাদের সঙ্গে ঐক্য করে তিনি দেশে তার কথিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন। যারা পেট্রোলবোমা মেরে শত শত মানুষ হত্যা করলো, যারা সারা দেশে জঙ্গি লালন করে, তাদের সঙ্গে ঐক্য গড়ে গণতন্ত্রের জন্য! এটা কি ড. কামাল হোসেন যেমন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন তেমনি গণতন্ত্রের  সংগ্রাম নয়? ড. কামাল হোসেন পার্সোনাল স্টাফ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর কাছে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। ড. কামাল হোসেনকে আওয়ামী লীগ অফিসে প্রথম দিন দেখা নিয়ে এভাবেই বর্ণনা করেছিলেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংবাদিক শফিকুল আজিজ মুকুল। তাঁর বর্ণনায়, ‘কামাল হোসেনকে প্রথম আওয়ামী লীগ অফিসে দেখি একদিন বিকেলে হাতে কিছু কাগজ নিয়ে বসে আছেন। অনেক আওয়ামী লীগ নেতা এই আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন তিনি কেন অপেক্ষা করছেন? তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু তাকে আসতে বলেছেন। তাজউদ্দীন আহমদ তখন অফিসে ছিলেন। এর ভেতর বঙ্গবন্ধু অফিসে ঢুকে ড. কামালকে দেখে বলেন, কামাল তুমি এসেছো। দেখি কেমন লিখেছো। কামাল হোসেন ড্রাফটি বঙ্গবন্ধুর হাতে দেন। বঙ্গবন্ধু খুব দ্রুত চোখ বুলিয়ে বলেন, এই কয়টা  জায়গা তাজউদ্দীনকে ঠিক করে দিতে বলো। তুমি তাজউদ্দীনের ওখানে যাও।’ বঙ্গবন্ধু এই বিশ্বাসের স্থানে তাকে নিলেও তিনি ১৯৭১ এ বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে যাননি। বরং নিজেকে নিরাপদ মনে করেছিলেন লাখো লাখো মানুষ হত্যাকারী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে। এখানে অবশ্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে ড. কামালের একটা মিল আছে। বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ তাজউদ্দীন আহমদ, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ও ড. কামালকে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার কিছু নির্দেশ দিয়ে দ্রুত তাঁর বাড়ি ত্যাগ করতে বললে তাজউদ্দীন আহমদ ও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে গেলেও ড. কামাল মুক্তিযদ্ধে যাননি। খালেদা জিয়াকে মুজিবনগরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে বারবার জিয়াউর রহমান লোক পাঠালেও তিনি যাননি। তিনি গিয়েছিলেন পাকিস্তানি জেনারেল জানজুয়ার নিরাপদ আশ্রয়ে। সেটাকেই তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে জিয়ার পাশে থাকার চেয়ে বেশি নিরাপদ জায়গা মনে করেছিলেন। ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের স্মৃতিকথায় আছে, তিনি, তাজউদ্দীন আহমদ ও ড. কামাল একসঙ্গে একই গাড়িতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে রওনা দেওয়ার পরে রায়েরবাজার এসে কোনও কিছু না বলে ড. কামাল ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বলে নেমে যান। ব্যারস্টার আমিরুল ইসলাম তার স্মৃতিকথায় এও লিখেছেন, ড. কামাল হোসেনের এই নেমে যাওয়া তার ভালো লাগেনি। এরপরে পাকিস্তানি জেনারেলদের বই থেকে জানা যায়, এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানি জেনারেলকে ফোন করে ড. কামাল তাদের সপরিবারে নিয়ে যাওয়ার জন্যে বলেন। তারা তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানে নয় মাস ড.কামাল কোথায় ছিলেন, কী করেন সে রহস্য আজও  উন্মোচিত হয়নি।

বঙ্গবন্ধু অনেককে ক্ষমা করেছেন। তাদের বড় বড় পদে বসিয়েছেন। ড. কামাল হোসেনও সেই ক্ষমা পাওয়াদের একজন। আর বঙ্গবন্ধু যে তাকে ক্ষমা করেছিলেন তার প্রমাণ দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে যখন সরকারের পদ্ধতি বদল করেন ওই সময়ে ড. কামালকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। কিন্তু ততদিনে ড. কামাল হয়তো অন্য কোনও গন্ধ পেয়ে গেছেন। যে কারণে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ না নিয়ে দিনের পর দিন অক্সফোর্ডে কাটাতে থাকেন। এ সময়ে বঙ্গবন্ধু মো. হানিফকে একদিন রাগত স্বরে বলেন, কামালকে ফোন করে জানিয়ে দাও, সে যদি দুই দিনের ভেতর দেশে না ফেরে তাহলে এবার আর আমি তাকে ক্ষমা করবো না। বঙ্গবন্ধুর এই ‘এবার আর আমি তাকে ক্ষমা করবো না’ এ কথা থেকে বোঝা যায় বঙ্গবন্ধু আগে একবার তাকে ক্ষমা করেছেন। আর সে ক্ষমা যে ১৯৭১-এ নয় মাসে পাকিস্তানে বসে ড. কামাল যা করেছেন সেই অপকর্মের জন্যে তাতে কোনও সন্দেহ থাকে না। বঙ্গবন্ধু যে শুধু মো. হানিফকে (সাবেক মেয়র, ঢাকা)  একথা বলেননি, তার অন্য সহকারীদেরও বলেছিলেন তার প্রমাণ মেলে বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব তোয়াব খানের কথায়। তোয়াব ভাইও বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধু ও কামাল হোসেন প্রসঙ্গ এলে এ কথা বলেন। এবং বঙ্গবন্ধু কতটা রাগত স্বরে বলেছিলেন তাও তোয়াব ভাইয়ের কথা থেকে বোঝা যায়।

যাহোক, ড. কামাল যে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসেই ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের গন্ধ পেয়েছিলেন তা বোঝা যায় শেখ হাসিনার স্মৃতিচারণে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সংবাদ পাওয়ার পর পরই শেখ হাসিনা ড. কামালকে বলেছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি যেন বহির্বিশ্বের কাছে আবেদন জানান ৭৫-এর খুনি সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্যে। ড. কামাল সেদিন শেখ হাসিনার এই অনুরোধ রাখেননি। কেন রাখেননি তার প্রমাণ এই ২০১৮ সালে এসে আরও বেশি পরিষ্কার হয়ে গেলো। ড. কামালের মঞ্চে এখন মইনুল হোসেন। যিনি, ১৯৭৫-এর খুনি মোশতাকের পার্টিতে ছিলেন। আরেকজনও তার মঞ্চে  যিনি ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন, যিনি তেল গ্যাস আন্দোলনের নেতা ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল্লাহ। তার এই মিষ্টি বিতরণের ঘটনা জেনেছি তাজউদ্দীন আহমদ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপির নিকট থেকে। তিনি এ ঘটনার আদ্যোপান্ত জানেন। তাই আজ  ১৯৭১’র পাকিস্তানপন্থীরা ও ১৯৭৫’র বঙ্গবন্ধু হত্যার পক্ষের ব্যক্তিরা সকলে একই মঞ্চে এসেছেন। আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন, এখন ৭১ ও ৭৫’র খুনিদের মুখোশ খুলে দাঁড়িয়ে শেষ চেষ্টা করতে হচ্ছে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে।

ড. কামাল শুধু ৭১-এর পাকিস্তানি হানাদারদের, ৭৫-এর বঙ্গবন্ধু খুনিদের এবং আজ  জামায়াত ও বিএনপির মতো পেট্রোল সন্ত্রাসীদেরও পক্ষে এটাই শেষ নয়। তিনি যখন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে ছিলেন তখনও ছিলেন সন্ত্রাসীদের পক্ষে। ৯০-এর দশকে ছাত্রলীগের প্রতিশ্রুতিশীল নেতা ছিল বাগেরহাটের মনিরুজ্জামান বাদল। সৎ, ত্যাগী ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা বলতে যা বোঝায় বাদল ছিল তা-ই। এই বাদলকে ৯১ সালে টিএসসিতে শেখ হাসিনার মিটিং চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গুলি করে হত্যা করা হয়। বাদল হত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রলীগে প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীদের বদলে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বাড়ানোর জন্যে। তাছাড়া সরকারি মদত ছিল ওই সব হত্যাকারীদের পেছনে। সেদিন আওয়ামী লীগের দলীয় তদন্তে তৎকালীন যুবলীগ নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু চিহ্নিত হন বাদল হত্যার মূল হোতা হিসেবে। শেখ হাসিনা সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন বাদল হত্যাকারীকে তিনি তার দলে রাখবেন না। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র এতই গণতান্ত্রিক যে এখানে এককভাবে কেউ কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করতে পারেন না। দলের সর্বোচ্চ বডি অর্থাৎ ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডাকতে হয়। সেদিন শেখ হাসিনার বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অর্থাৎ ২৯ মিন্টো রোডে এই ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডাকা হয়। নিয়মানুযায়ী ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে বাইরের কেউ থাকতে পারে না। তবে সেদিন ২৯ মিন্টো রোডের বাগানে এই মিটিং হওয়ায়, তৎকালীন ইত্তেফাকের ডাকসাইটে রিপোর্টার, বর্তমান প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান ভাই ও আমি সাংবাদিক হয়েও দলের অনেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণে পেছন দিকে দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ পাই (সাংবাদিকদের তথ্য জানার জন্যে এমন অন্যায় অনেক সময় করতে হয়)। তাই আমরা সেদিন নিজ চোখে দেখি ও নিজ কানে শুনি, কীভাবে বাদল হত্যাকারীর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের মেম্বার এই ড. কামাল হোসেন। ড. কামালের সে বক্তব্য খণ্ডন করে মতিয়া চৌধুরী সন্ত্রাসের বিপক্ষে এবং শেখ হাসিনার অবস্থানের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে- ড. কামাল শুধু উত্তেজিত হননি, ইংরেজি স্লাংও ব্যবহার করেন (ড. কামাল কী পরিমাণে স্লাং বলতে অভ্যস্ত তার উদাহরণ সম্প্রতি তিনি সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘বাস্টার্ড’ বলেন)। তার স্লাং ব্যবহার শুনে অতিমাত্রায় ভদ্রলোক প্রয়াত আব্দুল জলিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক (পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক) যে বক্তব্য রাখেন তা ভদ্রতার একটি ইতিহাস। তিনি কামাল হোসেনকে ইংরেজি স্লাং বলতে নিষেধ করেন। তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি আওয়ামী লীগের মতো দলের ওয়ার্কিং কমিটিতে বক্তব্য রাখছেন। সেদিন ড. কামাল হোসেন ছাড়া বাদবাকি সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে বাদল হত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মোস্তফা মহসিন মন্টুকে আওয়ামী লীগে থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই মোস্তফা মহসিন মন্টু এখনও ড. কামালের সঙ্গে। তিনি এখনও তার দল গণফোরামের নেতা।

বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, এই ড. কামাল হোসেন, মইনুল হোসেনরা গণতন্ত্রের কথা বলেন। তবে এ দেশের মানুষ ভুল করে না। তথাকথিত সুশীল সমাজ তাদের মূল্য দিলেও সাধারণ মানুষের কাছে এসব ব্যক্তির কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। ভোটে দাঁড়ালে ৫শ’ ভোটও তারা পান না। কারণ, মানুষ সন্ত্রাসের বিপক্ষেই সব সময়।

লেখক: সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত। 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ