ভয় দেখিয়ে জয় করা যায় না

Send
প্রভাষ আমিন
প্রকাশিত : ১৫:৩২, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৩, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮

প্রভাষ আমিনপাক্কা ১০ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন রাজনীতিতে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই চাঞ্চল্যের কৃতিত্ব অনেকটাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তথা ড. কামাল হোসেনের। ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে এবং নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাস আর পেট্রোল বোমার সহিংসতা বিএনপিকে রাজনীতির মূলধারা থেকে ছিটকে দিয়েছিল। সে আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে সরকারের দমন-পীড়ন-নির্যাতন, গুম-খুন, হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত বিএনপির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। দলের অস্তিত্বের স্বার্থে তাদের নির্বাচনে যাওয়া দরকার ছিল, কিন্তু মুখ ছিল না। আগুন সন্ত্রাসের পাশাপাশি বিএনপির গায়ে ছিল জামায়াত সংশ্লিষ্টতা আর যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে থাকার কালিমা। এই রকম বিপদে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন ড. কামাল হোসেন। সরকারবিরোধী বৃহত্তর জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ঠাঁই দিয়ে বিএনপিকে রাজনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনেন। বিএনপিও ড. কামালের ভাবমূর্তি ব্যবহার করে সব কালিমা ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করতে গাঝাড়া দিয়ে মাঠে নামে। ড. কামালের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের পথ ধরে খুলে যায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দরজা।

তবে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের একটি উপাদান মাত্র। সার্বিকভাবে ভালো হতে হলে শুধু অংশগ্রহণমূলক হলেই হয় না; নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোপরি গ্রহণযোগ্য হতে হবে। অংশগ্রহণমূলক করাটা সহজ। তবে গ্রহণযোগ্য করাটা কঠিন, আসলে প্রায় অসম্ভব। যে দল হারবে, তার কাছে কখনোই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। ভালো নির্বাচনের অনেক ধাপ, অনেক উপাদান থাকলেও আমার বুঝ খুব সহজ। যোগ্য সবাই চাইলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ে সবাই নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাবেন। প্রার্থীরা নিজেদের এবং দলের অতীত অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাবেন। ভোটের দিন ভোটাররা নিশ্চিন্ত মনে নির্ভাবনায় কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে এবং তার দেওয়া রায় ফলাফলে প্রতিফলিত হবে। দ্যাটস অল।

আপনি ভোটারদের বলতে পারেন, উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিন, স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিন, আগুন সন্ত্রাসীদের ভোট দেবেন না, যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দেবেন না। কিন্তু আপনি তো তাদের ওপর জোর খাটাতে পারেন না। প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করা বা ভোটকেন্দ্র দখল করা খুব সহজ। পুলিশ, প্রশাসন আর কয়েকটা মাস্তান থাকলেই করা যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয় দখল করা খুব কঠিন। ভয় দেখিয়ে কখনও জয় করা যায় না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচন, নির্বাচনি ব্যবস্থার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরুর পর এই প্রথম দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আরেকটু বড় করে বললে, বাংলাদেশেই এই প্রথম দলীয় সরকারের অধীনে সামগ্রিকভাবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কারণ, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে তখনকার বিরোধী দল জাসদ অংশ নিলেও তখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগই ছিল একচ্ছত্র। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও তখন সবকিছু ছিল জিয়াউর রহমানের দখলে। ৮৬ এবং ৮৮ সালের তৃতীয় ও চতুর্থ নির্বাচন ছিল এরশাদের ইচ্ছা পূরণের গল্প। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও তা অংশগ্রহণমূলক ছিল না। এবারই প্রথম ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে নিবন্ধিত প্রায় সব দল এবং জোটের সুযোগে অনিবন্ধিত অনেক দলও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এবারের নির্বাচনকে আমি টার্নিং পয়েন্ট বলছি। কারণ, এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনগুলো দলীয় সরকারের অধীনে হবে নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসবে, নাকি অন্য কোনও ব্যবস্থা খুঁজে নিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব আগ্রহ নিয়ে নির্বাচনটি পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ, ধারণাগতভাবে আমি বরাবরই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিপক্ষে। আমি বিশ্বাস করি, এই ব্যবস্থাটি রাজনীতিবিদদের প্রতি, রাজনীতির প্রতি এক ধরনের অনাস্থা। ৫ বছর একটি দলের কাছে দেশ ছেড়ে দিতে পারলে তার ওপর একটি নির্বাচন নিয়ে আস্থা রাখতে পারবো না কেন? আমি চাই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক এবং পৃথিবীর অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। যাতে কেউ আমাদের দিকে আঙুল তুলে বলতে না পারে, তোমাদের রাজনীতিবিদরা একটা নির্বাচনই ঠিকমত করতে পারে না, তারা আবার দেশ চালাবে কীভাবে? আমার চাওয়া পূরণ হবে কিনা, তা বোঝা যাবে ৩০ ডিসেম্বর। তবে এখন পর্যন্ত তৎপরতায় আমি সন্তুষ্ট নই, বরং শঙ্কিত।

তবে একাদশ নির্বাচন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শেখ হাসিনার জন্য। ৩৭ বছরের দলীয় নেতৃত্ব আর তিন দফায় দেশ পরিচালনার সুবাদে শেখ হাসিনা নিজেকে তুলে নিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন সত্যি সত্যি উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ এবং মানবিক রাষ্ট্র। শেখ হাসিনাও এখন আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত নেতা। কিন্তু শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে একটাই গ্লানি- ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বাধ্য হয়েই দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যর দল আওয়ামী লীগকে প্রার্থীবিহীন, ভোটারবিহীন সেই নির্বাচনের কলঙ্ক কাঁধে নিতে হয়েছিল। আইনগতভাবে বৈধ হলে সে নির্বাচনের নৈতিক মান উচ্চ ছিল না। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের জন্য একাদশ নির্বাচন একটি অসাধারণ সুযোগ। শেখ হাসিনার অধীনেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে, এটা প্রমাণ করতে পারলে তিনি নিজেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন, পৌঁছে যাবেন অনতিক্রম্য উচ্চতায়। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। পর পর দুই মেয়াদে দেশ পরিচালনা করেছে। জনগণ ভোট দিলে আবার ক্ষমতায় আসবে, নইলে বিরোধী দলে যাবে। সবরকম অভিজ্ঞতা তো আওয়ামী লীগের আছেই। জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার বদনাম আওয়ামী লীগের মতো দলের সঙ্গে যায় না।

বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচনে যেতে রাজি ছিল না। কিন্তু ড. কামালের মধ্যস্থতায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এখন ‘শেখ হাসিনার অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’- এটা প্রমাণের দায় সরকারের। দায়টা খুবই গুরু এবং গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি এবারও নির্বাচনে আসছে না, এমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই ফেলেছিল আওয়ামী লীগ। সেক্ষেত্রে আবারও জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছিল। বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচনের ট্রেন যাত্রাও শুরু করেছিল। শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনি ট্রেনে চড়ে বসে বিএনপি। প্রথম ধাক্কাটা তারা খেয়েছে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে। রিটার্নিং অফিসাররা ঢালাওভাবে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু আপিলে নির্বাচন কমিশন উদারভাবে তা ফিরিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের কাছ থেকে ধন্যবাদ পেয়েছিল। রিটার্নিং অফিসারদের ভুল এবং খামখেয়ালির কারণে নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দের পরও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারছে না। প্রায় প্রতিদিনই আদালত থেকে কারো না কারো প্রার্থিতা বাতিল হচ্ছে, কেউ না কেউ ফিরে পাচ্ছেন। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতার প্রায় মীমাংসিত বিষয়টিও ঝুলে আছে আদালতে।

তবে নির্বাচনি ট্রেন চূড়ান্ত গতি পায় ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর পর। এরপর থেকেই সব যেন ওলট-পালট। তিন সপ্তাহের প্রচারণার প্রথম এক সপ্তাহকে বিবেচনায় নিলে বলতেই হবে, পরিস্থিতি ভালো নয়। প্রথম সাত দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০০ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল থেকে শুরু করে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা হামলার শিকার হয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের অন্তত ১৪ জন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর-পাকড় চলছে প্রায় প্রতিদিনই। এটা ঠিক, প্রচারণার দ্বিতীয় দিনেই নির্বাচনি সহিংসতায় আওয়ামী লীগের দুজন মারা গেছেন। আওয়ামী লীগের অভিযোগ সত্য হলে কিছু সহিংসতা বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে। কিন্তু বেশিরভাগ হামলাই হয়েছে একতরফা, বিরোধী দলের ওপর সরকারি দলের হামলা। বিরোধী দলের প্রার্থীরা ভয়ে মিছিল করতে পারে না, পোস্টার লাগাতে পারে না। মাঠে নামলেই তারা হামলার শিকার হয়। দেখেশুনে মনে হচ্ছে, সরকারি দল দেশজুড়ে একটা ভয়ের আবহ তৈরি করতে চাচ্ছে, যাতে বিরোধী প্রার্থীরা মাঠে না নামে, ভোটাররা কেন্দ্রে না যায়। বেশ কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। তাতে তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সঙ্কট, নার্ভাসনেস দেখা যাচ্ছে। তারা কি ক্ষমতা হারানোর ভয় করছেন? সে ভয় তাড়াতেই কি তারা হামলা চালাচ্ছেন? নইলে ১০ বছরের উন্নয়ন কাজ নিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছাতেই তো তাদের সময় ফুরিয়ে যাওয়ার কথা, হামলা চালানোর সময় পান কখন?

তবে আমি এখনও বিশ্বাস করতে চাই, এই হুমকি, এই হামলা অতি উৎসাহী স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাজ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এতে অনুমোদন আছে বলেও মনে হয় না। কারণ, গত তিন বছর ধরে শেখ হাসিনার মুখে একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা শুনে আসছি। আওয়ামী লীগের সম্মেলন থেকে শুরু করে নানান আয়োজনে তিনি আগামী নির্বাচন কঠিন হবে বলে নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। এটা যে তাঁর লোক দেখানো নয়, সেটি বোঝা গেছে, শুধু প্রকাশ্য মিটিং নয়, দলের গোপন বৈঠকেও তিনি কঠিন নির্বাচনের কথা বলে এসেছেন। দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, এই কৃতিত্বটা শেখ হাসিনা হাতছাড়া করতে চাইবেন না।

এটা ঠিক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের জন্মের ৫০ বছর পূর্তিটা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেই জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করতে চায়। কিন্তু সে জন্য তো তাদের জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে। ভোট চাইতে জনগণের কাছে যাওয়ার মতো অনেক যুক্তি আওয়ামী লীগের আছে। সেটা না করে তারা কেন হামলায় সময় নষ্ট করছে, আমার মাথায় ঢুকছে না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার দাবি করেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়েছে। সবাই প্রচারণার সমান সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে একমত নই। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারও বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অর্থহীন কথামাত্র। পুলিশ প্রশাসন এখনও সরকারি দলের পক্ষে। বিরোধী দল হামলারও শিকার হয়, আবার গ্রেফতারও হয় তারাই। সিইসি দাবি করেছেন, পুলিশ তার কথায় চলে। এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে সেটা আরও ভয়াবহ। আমি দাবি করছি না পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে বিএনপিকেও হামলার সুযোগ করে দেওয়া হোক। আমি চাই পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করুক। যাতে কেউই হামলা চালানোর সাহস না পায়।

সিইসি সুশীলীয় ভাষায় কথা বলেন। বলেন, একটি মানুষের জীবন নির্বাচনের চেয়ে মূল্যবান। তিনি হামলার ঘটনায় বিব্রত হন, মর্মাহত হন। কিন্তু এই ভাষায় কাজ হবে না। কঠোর ভাষায় কথা বলতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের যে আমলাতান্ত্রিক তদন্ত প্রক্রিয়া, তাতে নির্বাচনের আগে তা শেষ হবে বলে মনে হয় না।

হামলার ঘটনা যেমন সত্যি। আবার বিএনপি প্রার্থীদের একটি নিষ্পৃহ দেখা যাচ্ছে। তারা মাঠে নামতেই চাচ্ছে না যেন। ঢাকায় এক মির্জা আব্বাস দম্পতি ছাড়া আর কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি প্রতিদিনই অভিযোগ করে যাচ্ছে। আর বলছে, নির্বাচনের মাঠ ছাড়বো না। কিন্তু মাঠে তো তারা নামেইনি পুরোপুরি। শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এটা প্রমাণ করার জন্যই যদি বিএনপি নির্বাচনে এসে থাকে তাহলে আলাদা কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি বিএনপির সেই অভিযোগ সত্যি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

আওয়ামী লীগের শক্তি তাদের তৃণমূল। কিন্তু এবার সেই তৃণমূলেরই নানান কর্মকাণ্ডে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের অনেক অর্জন ম্লান হতে বসেছে। এখনই কেন্দ্রীয়ভাবে মাঠের নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে নিবৃত করতে হবে। পুলিশকে কঠোর হতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে। সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি। বাকি কয়েকটা দিন যদি খেলার মাঠ সমতল থাকে, তাহলেই কেবল ৩০ ডিসেম্বর একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব। আর গণতন্ত্র বা নির্বাচন মানে কিন্তু একদিনের ভোট নয়। পুরো প্রক্রিয়াটাই সুষ্ঠু হতে হবে।

শঙ্কা এখনও আছে। তবু আশা ছাড়ছি না। আশায় বসতি গণতন্ত্র। ৩০ ডিসেম্বর সবাই যেন নির্ভাবনায় তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ