২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ঝাঁকড়া চুলের এক ফুটবলারের অভিষেক হয়েছিল। সেই বিস্ময়কর ফুটবলার এরপর থেকে যেভাবে বিস্ময় উপহার দিয়ে আসছেন তা অকল্পনীয়-অবর্ণনীয়। যদিও শুরুর ম্যাচে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি সেই বিস্ময়কর ফুটবলার। বলা হচ্ছে লিওনেল মেসির কথা। তবে ঠিক এক বছরের মাথায় নিজের ষষ্ঠ ম্যাচে এসে গোল করে সবাইকে নিজের উপস্থিতি ঠিকই জানান দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে প্রীতি ম্যাচে প্রথম গোলটি কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেই পেয়েছিলেন সাতবারের ব্যালন ডিঅর জয়ী। আজ কয়েক ঘণ্টা পর সেই ক্রোটদের বিপক্ষেই বাঁচা-মরার লড়াই। তাই অবধারিতভাবে প্রশ্নটা এসেই যায় আজ কী গোল পাবেন মেসি?
মেসির পায়ে গোল মানে আর্জেন্টিনার দ্বিগুণ গতিতে ছুটে চলা। সতীর্থরা পায় বাড়তি শক্তি। লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে আজও আকাশী-সাদা সমর্থকদের ভিড় থাকবে। প্রিয় দলের খেলা দেখতে মাঠে যাবেন অনেকেই। এই ম্যাচে অন্যদের মতো সাতবারের ব্যালন ডিঅর জয়ীর পারফরম্যান্সের দিকে আলাদা দৃষ্টি থাকবে সবার।
২০০৬ সালে মেসি গোল পেলেও আর্জেন্টিনা কিন্তু ম্যাচ জিততে পারেনি। ক্রোয়েশিয়া ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতেছিল। ঠিক ২০১৪ সালে ক্রোটদের বিপক্ষে খেলে আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচে মেসি গোল করে দলের জয় তরান্বিত করেছিলেন।
ক্রোটদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা সবমিলিয়ে খেলেছে পাঁচ ম্যাচ। এর মধ্যে দুটিতে মেসির গোল রয়েছে। তাই আজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে কঠিন লড়াইয়ে মেসির ওপর যে স্পটলাইট থাকবে তা বলেই দেওয়া যায়। যদিও ক্রোয়েশিয়ার কোচ দালিচ মেসিকে আটকাতে পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। ক্রোটরা চাইছে মেসিকে খেলতে না দিতে। আটকে রাখতে। যেন তার পায়ে বল না আসে।
কেননা মেসি বল পায়ে কতটুকু ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে বা বাইরে থেকে লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করে থাকেন তা সবারই জানা। কিংবা সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতে সাহায্য করেন তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আগের ম্যাচে ব্রাজিলের নেইমার কিন্তু একাধিক সুযোগ থেকে মাত্র একটি গোল পেয়েছিলেন। ক্রোটদের রক্ষণ থেকে শুরু করে তেকাঠির নিচে থাকা লিভাকোভিচ ছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো। সেলেসাওদের অনেক সুযোগ থেকেই গোল হতে দেননি।
আজও মেসিদের আটকে রাখার সর্বোচ্চ প্রয়াস চালাবে ক্রোয়েশিয়া। গতবার তারা রানার্সআপ হয়ে ঘরে ফিরেছিল। আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই আবার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। মেসির ওপর তাই নতুন করে চাপ থাকছেই। প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দলকে ২০১৪ সালের পর আবারও ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার।
লুসাইলে সমর্থকরা যেভাবে ম্যাচের শুরু থেকে কোরাসে গান গেয়ে আলবিসেলেস্তেদের অনুপ্রাণিত করে থাকেন তাতে করে আর্জেন্টিনা তথা মেসিদের জ্বলে উঠতেই হবে। আর সেজন্য মাঠে শৈল্পিক রূপটাই যে প্রদর্শনের কোনও বিকল্প নেই। সেই দায়িত্বটা নিতে হবে মেসিকেই!









