তরুণের হাতেই হোক কৃষি শিল্পের বিকাশ

Send
ড. জেবউননেছা
প্রকাশিত : ১৮:৪১, এপ্রিল ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪২, এপ্রিল ২১, ২০২০

ড. জেবউননেছালেখার শুরুতে একটি ছোট গল্প দিয়ে শুরু করবো। কয়দিন আগে বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তিনি আলোচনার একপর্যায়ে বললেন, ’৯০ দশকের শেষের দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদীর ওপারে জলপাইগুড়িতে যদি চায়ের চাষ হয় তাহলে পঞ্চগড়ে কেন নয়।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই কথা শুনে তখনকার জেলা প্রশাসক জলপাইগুড়ি থেকে কয়েকটি চায়ের চারা এনে তার বাসভবনের টবে রোপণ করেন। কয়েকদিন পর দেখা গেলো চায়ের পাতা বড় হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে পঞ্চগড়ে চা চাষের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে এই জেলায় প্রায় ৯০ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয় এবং ১৭টি চা উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে ওই জেলায়। এই হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশের মাটি নিয়ে মমতার কথা।
তবে এর মধ্যেও হতাশার সংবাদ রয়েছে—চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম যুক্তরাজ্যের সুপারমাকের্টে বিক্রির সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রফতানি করা যায়নি। কারণ আমগাছগুলো মাটি থেকে যে পানি শুষে নিয়েছিল, সেই পানি দূষিত ছিল। বিষয়টি যুক্তরাজ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বের করেছে। আলু রফতানির ক্ষেত্রে একই এরকম সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এরকম হলে হয়তো ইউরোপ আমেরিকায় আমাদের কৃষিজ পণ্য রফতানি করা কঠিন হয়ে পড়বে। অপরদিকে, কৃষক যে ফসল ফলান সে ফসল তিনি খান না, কারণ তিনি বিক্রয়যোগ্য ফসলে কীটনাশক প্রয়োগ করেন। একসময় এ দেশে আঠারো হাজার প্রজাতির ধান ছিল, এখন মাত্র দেড় হাজার ধরনের ধানের সন্ধান পাওয়া যায়। হারিয়ে যাওয়া স্থানীয় জাতের তুলনায় এ ধান অতি নগণ্য। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটিই সুযোগ বর্তমানে উৎপাদন দ্বিগুণ করা। অথচ ৪৭৫টি প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের মধ্যে আমরা মাত্র ২৫-৩০টি মাছ ও চিংড়ি, কাঁকড়া বাণিজ্যিকভাবে আরোহণ করে থাকি। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৭টি। অপরদিকে পাশের দেশ ভারতে ৪২২টি কলেজে বিএসসিতে কৃষি বিষয়টি পাঠদান করা হয় এবং ৬৪টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। অপরদিকে পাকিস্তানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৩১টি।

কয়দিন পূর্বে সামাজিক মাধ্যমে দেখতে পেলাম এক কৃষক খুব দুঃখ নিয়ে বলছেন, তিনি ৪০ কেজি করলা বিক্রি করেছেন ১৫০ টাকায় এবং বাড়ি নিয়ে গিয়েছেন ১৫ টাকা। এই স্থানটিতে একজন সুশিক্ষিত মানুষ থাকলে কোনোভাবেই ঠকানো যেতো না। ওই কৃষকটি গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ, নিতান্তই সহজ সরল। অন্য আরেকজন কৃষকের বক্তব্য দেখতে পেলাম, তিনি সরকারকে অনুরোধ করেছেন, সরাসরি তাদের কাছ থেকে শস্য ক্রয়ের জন্য। নইলে এক ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী এবং দালাল নানারকম পাঁয়তারা করতে থাকে এবং দিনশেষে সেই কৃষক ঠকে যায়।

এবার আসি ব্যক্তিগত জবাবদিহিতায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি সব সময়ই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ প্রদান করে থাকি লেখাপড়া শেষ করে কৃষিতে মন দিতে। কারণ কৃষিপ্রধান দেশে কৃষিই শিল্প। যেখানে বাংলাদেশের জিডিপির শতকরা ১১ ভাগ আসে ধান থেকে। কৃষিতে মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে থাকে ৬৭ ভাগ। এজন্যই শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি বলে থাকি, কৃষির দিকে নজর দাও। তুমি কেন চাকরির পেছনে ঘুরবে। চাকরি তোমার পেছনে ঘুরবে। তুমি উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের চাকরির ব্যবস্থা করো। সবার মধ্যে প্রবণতা কাজ করে চাকরি করবে, আর একটি চাকরির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে এক সময় স্বপ্নগুলো ফিকে হয়ে যায়। তবে এজন্য প্রয়োজন আমাদের সমাজের মানুষের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় কারিগরি শিক্ষায় জোর প্রদান করা উচিত। অন্ততপক্ষে আটটি বিভাগে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র আরও স্থাপন করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের কৃষিতে পড়ার জন্য আগ্রহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে দেশের সড়ক অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাদের কৃষিপণ্য উৎপাদন অঞ্চল তৈরি করা প্রয়োজন। করোনার এই সময়ে রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটি মোবাইল গ্রাহক এখন তাদের নিজ গ্রামে রয়েছেন। সঠিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা যদি প্রতিটি জেলায় করা যেতো, তাহলে কেউ নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে রাজধানীতে এসে ভিড় জমাতো না। জনমানবশূন্য রাজধানী ঢাকা বিশ্বে বায়ুদূষণের দিক থেকে এখন অষ্টম। কয়দিন পূর্বে ও আমরা এক নম্বরে ছিলাম।

লকডাউনে বিভিন্ন জেলায় শিক্ষিত ছেলেরা ধান কাটতে নেমে পড়েছে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। বিষয়টি খুব আশার সৃষ্টি করেছে। পরিবেশ, সুস্বাস্থ্য এবং জীবনধারণ এ বিষয়গুলোই এখন বিবেচ্য বিষয়। তবে কৃষিক্ষেত্রে উদ্যোক্তা বৃদ্ধির জন্য এবং বেকারত্বের চাপ সামাল দিতে আগামী দিনগুলোতে গবাদি পশু পালন ও মাছ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তরুণদের স্বল্প সুদে ঋণ বাড়াতে হবে। কৃষিখাতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি বাড়াতে হবে। উন্নত দেশে কৃষকদের নানাভাবে সুরক্ষা প্রদান করে রাষ্ট্র। সেসকল দেশে কৃষি বিমা রয়েছে। সেই বিমার প্রিমিয়াম সরকার প্রদান করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে স্বল্প মূল্যে পণ্য বিক্রি হলে তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়। ভারতে কৃষিপণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন রয়েছে। কেরালায় ৬০ বছরের বেশি বয়স্কদের পেনশন প্রদান করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান প্রথমে কৃষিতে নজর দিয়েছিল, এরপরে শিল্পের দিকে ঝুঁকেছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষি শিল্প দাঁড়ানো ভীষণ কঠিন।

আমাদের প্রত্যেকের মনে একজন করে কৃষক বাস করে। আমার বাসার আশেপাশে সব ভবনে ছাদ বাগান ভীষণ চোখে পড়ে। আমার মায়ের বাড়িতে নারায়ণগঞ্জের ছাদ বাগানে পঞ্চাশের অধিক গাছ রয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনি মা মাটি মানুষের। করোনা পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সেটাই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি গরুর দুধ যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য ঘি তৈরি করতে বলেছেন। শিশু খাদ্য তৈরি করতে বলেছেন। গত শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২০ মহান জাতীয় সংসদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেছেন, ‘যে সকল এলাকায় ধানকাটার শ্রমিকের সংকট রয়েছে সেসকল এলাকার ছাত্র-শিক্ষককে কাজে নেমে পড়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ছাত্র-শিক্ষক বিশেষ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের বলব, তারা যেন একটু এগিয়ে আসে। সকলে মিলে ধানটা যদি কাটতে পারি, আমরা ভালোভাবে চলতে পারব, আমাদের খাবারের কোনও অভাব হবে না। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যারা সেখানে ধান কাটতে যেতে চায়, সেখানে পৌঁছে দেওয়া হবে।’ এর পূর্বে অন্য আরেক বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এক ইঞ্চিও জমিও যেন অনাবাদি না থাকে, জলাশয় যেন খালি না থাকে, সেখানে যেন মাছ চাষ হয়।’

যে দেশের প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের মাটির প্রতি এত টান, সেই দেশে একদিন কৃষি শিল্পের অভূতপূর্ব উন্নতি হবেই। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। সেই কৃতিত্ব তো বর্তমান সরকারেরই। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে চাল উৎপাদনে ৪র্থ, স্বাদু পানির মাছে ৩য়, সবজি উৎপাদনে ৩য়, বিশ্বে মোট ইলিশের উৎপাদন ৮৬%, ছাগল উৎপাদনে ৪র্থ, আলু উৎপাদনে বিশ্বে ৮ম, ফল উৎপাদনে বিশ্বে ১০ম। এই কৃষকরা যদি সুশিক্ষিত হতেন তাহলে কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে আমাদের অবস্থান কোথায় পৌঁছাবে তা সহজেই অনুমেয়। তাছাড়া গত ১৮ বছর ধরে বাংলাদেশে প্রতিবছর ফলের উৎপাদন গড়ে ১১ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা বিশ্বের আর কোনও দেশে সে হারে বাড়েনি। বাংলাদেশে এখন বিশ্বে কাঁঠাল উৎপাদনে ২য়, আমে ৭ম, পেয়ারায় ৮ম, পেঁপেতে ১৪তম। গত বছর ৪২ লাখ ৭৬ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে এবং চাষ থেকে ২৪ লাখ টন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৫৬ শতাংশ। পোল্ট্রি শিল্প এখন ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের বাজার, দেশে এখন ৯৫% জমি পাওয়ার টিলার এবং ট্রাক্টর দিয়ে চাষ হচ্ছে। ৭৬% জমিতে সেচ দেওয়া হয় পাম্পের মাধ্যমে। দুধ উৎপাদন হয় শুধুমাত্র সাতক্ষীরা জেলাতেই প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে সবজি বীজের বাজার প্রায় ৮০০ কোটি টাকার। বাংলাদেশে গরুর ঘনত্ব প্রতি বর্গমাইলে ৪৩৬টি, যা এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ভারতের তুলনায় প্রায় পৌনে তিন গুণ বেশি। শুধু কি তাই, প্রাণিসম্পদ ছাগলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান ১.৫৪ শতাংশ, প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পরিমাণ ২০ শতাংশ। দেশে প্রতিদিন ২১৬ মিলিয়ন লিটার গোমূত্র উৎপাদিত হয়, তা গাজন করে বছরে প্রায় দুই মিলিয়ন টন ইউরিয়া সার উৎপাদন সম্ভব। আর এ সমস্ত বিষয়ে সফলতার কারণ রয়েছে, ২০১৮ সালে সরকারের সহযোগিতায় ১২৫০টি সৌরচালিত সেচপাম্প স্থাপিত হয়। ৪১,৫০০ জন কৃষক, ২,৮৮৬ জন উদ্যোক্তা, ৭০০ এনজিও কর্মী, ৩৮০ ব্যাংকার, ২৮৪ জন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। গত আট বছরে সরকার ৫৭৭৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ৩৩ হাজার ৪৩২ জন কৃষি উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছেন ২৫৬০ কোটি টাকা। ২ কোটি ১০ লাখ কৃষক কৃষি সহায়ক কার্ড পেয়েছেন। ২০০৭ সালে সেচ এলাকা ছিল ৫০ লাখ হেক্টর ২০১৭ সালে ৭০ লাখ হেক্টর। (সূত্র: সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন)

১৯৭২ সালে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন। ৪১ বছর পর ২০১৩ সালে ২৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধান গবেষণা নিয়ে এক সেমিনারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আর এখন তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, ধানে উপচেপড়া দেশ।’ নব্বইয়ের দশকের তুলনায় বর্তমানের কৃষিখাত ফসল, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে। আর এ সকল উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত সরাসরি প্রান্তিক কৃষক। এই কৃষকেরা যদি শিক্ষিত হতেন, তাহলে কতইনা উন্নত হতো আমার এই দেশ। এই দেশে এখন প্রয়োজন মাহবুব হোসেনের মতো মানুষ, যিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, গ্রামের আলপথ ধরে হাঁটবেন। প্রয়োজনে সেচ দেবেন, কৃষকের ক্ষেতে পা নামাবেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কৃষক পরিবারগুলোর অর্থনীতির কথা, কৃষি অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেছেন। অপর আরেকজন চৌধুরী সাজ্জাদুল করিম, যিনি মৎস্য উৎপাদন ও গবাদি পশু পালনে উদ্ভাবনী নীতির সমর্থন করেছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়নের ১৭টি ক্ষেত্রের দ্বিতীয়টি হলো ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টিমান অর্জন এবং টেকসই কৃষির প্রসার। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

শেষ করব জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্ধৃতি দিয়ে, তিনি ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির ভাষণের একপর্যায়ে বলেছিলেন, ‘একটি সুষ্ঠু জাতি গঠনে শিল্প, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা অন্যান্য সংস্কৃতির যেমন উন্নয়ন, তেমনি প্রয়োজন চিন্তা ও চেতনার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করা।’ কৃষিকে ‘শিল্প’ ভেবে যেদিন এ দেশের শত শত সুশিক্ষিত তরুণেরা জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করবে, সেদিনই আসবে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ