বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় মোখায় পরিণত হয়েছে। আগামী শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার ভোরে এটি আঘাত হানতে পারে সমুদ্র উপকূলে। তবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় এর কোনও প্রভাব পড়েনি। প্রখর রোদের তাপে অতিষ্ঠ উপকূলবাসী। বৃষ্টি কিংবা ঝড়ো বাতাস নেই কোথাও। সমুদ্র এখনও উত্তাল হয়নি।
উপকূলের জেলেরা জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র সংবাদ শুধু তারা জানছেন। বাস্তবে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। এখনও সমুদ্র শান্ত আছে। জোয়ারের পানি বাড়েনি। তবে তারা সর্তক রয়েছেন।
ট্রলারের মাঝি জহিরুল ইসলাম বুধবার শেষ বিকালে তিনি সমুদ্র থেকে ঘাটে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘কূলে এসে ঘূর্ণিঝড় মোখার নাম শুনলাম।’
আলীপুর-মহিপুর ঘুরে দেখা গেছে, কিছু ট্রলার মাছ শিকার করে ঘাটে ফিরে এসেছে। কিছু ট্রলার মাছ বিক্রি করে আবার সমুদ্রে ফিরে যাচ্ছে। অধিকাংশ ট্রলার এখনও সমুদ্রে অবস্থান করছে। জেলেরা আড়তে বসে ছেঁড়া জাল বুনছেন। যে জেলেরা সমুদ্রে গেছেন আবহাওয়ার গতিবিধি দেখে তীরে ফিরবে। আগামী ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। তাই জেলেরা শেষ সময় ঘাটে বসে অলস সময় কাটাতে চাচ্ছেন না।
ট্রলার মালিক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আজ থেকে যেসব ট্রলার ঘাটে ফিরে আসবে তা সমুদ্রে যাবে না। আজকেও কয়েকটি ট্রলার সাগরে গেছে। আবহাওয়া খারাপ না হলে অবরোধের আগে ঘাটে ফিরে আসবে। আর আবহাওয়া খারাপ হলে দ্রুত চলে আসবে।’
কলাপাড়া উপজেলা ফিশিং ট্রলার মাঝি সমবায় সমিতির সভাপতি মান্নান মাঝি বলেন, ‘অধিকাংশ ট্রলার এখনও সমুদ্রে আছে। ট্রলারগুলো উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে মাছ শিকার করছে। আবহাওয়া বৈরী হলেই খাপড়াভাঙ্গা নদীতে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসবে।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমরা উপজেলার মৎস্য ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছি। এখনও কিছু মাছ ধরা ট্রলার সমুদ্রে আছে। শুক্রবারের মধ্যে নিরাপদে ফিরে আসবে।’
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। গভীর সাগরে বিচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।









