X
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

কিছু কিছু ঘটনা পুলিশের নীতি-নৈতিকতার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ১৮:০৯

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের মর্যাদা ও সম্মান বাড়ানোর জন্য সদস্যদের তাগিদ দিয়ে আসছেন। তার মূল কথা, ‘ব্রুটালিটি বা নির্যাতনকে চিরতরে কবর দিতে হবে। জনগণের সঙ্গে মিশতে হবে, তাদের সমস্যা শুনতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। মানুষকে ভালোবাসলে তাদেরও ভালোবাসা পাওয়া যায়, করোনা আমাদের তা দেখিয়ে দিয়েছে।’

এই প্রচেষ্টা চলবে বলেই বিশ্বাস করি। কিন্তু এরমাঝেও কিছু ঘটনা ঘটে, যেগুলো বাহিনীর সদস্যদের নীতি-নৈতিকতার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেমনটা ঘটেছে সম্প্রতি কক্সবাজারে। সেখানে এক নারীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এবং সেই অভিযোগে এক এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার ও মামলা রেকর্ড করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার রাতে শহরের মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়ার ব্যবসায়ী রিয়াজ আহমদের স্ত্রী রোজিনা আকতার এই ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে ৯৯৯ ফোন করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তাদের ওই সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর আরও দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাটি পুরোটা বলা প্রয়োজন বলেই উল্লেখ করতে হচ্ছে। ছিনতাইয়ের শিকার রোজিনা আকতার জানান, দোকানের মালামাল কেনার জন্য তিনি এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন। বাসার কাছে আসার পর একটি অটোরিকশা নিয়ে এসে সাদা পোশাকধারী তিন পুলিশ সদস্য তার মাথায় পিস্তল ঠেকায়। এরপর টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে যেতে চাইলে তিনি একজনকে পেছন থেকে টেনে ধরেন। এ সময়ে পিস্তল দিয়ে তার শরীরে আঘাত করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে দু’জন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। জনতার হাতে আটক এক পুলিশ সদস্যকে পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ভালো দৃষ্টান্ত এই যে, পুলিশের হেল্প লাইন ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ সদস্য হলেও তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার পালা বিভাগের ভাবমূর্তির নামে এই নারী ও তার স্বামীকে যেন ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়ে ফেলা না হয়। পুলিশের অনেক সদস্য অনেক মানবিক, অনেক ভালো কাজ করেন, করছেন। কিন্তু মানুষের ধারণা ভিন্ন। কারণ, পুলিশ যে নিজেকে নানান ছাড়পত্রের অধিকারী ভাবে, তা দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ জানে। পথে-ঘাটে, রাস্তার মোড়ে, ট্রাফিক সিগন্যালে, হাটে-বাজারে পুলিশের অনিয়মের অসংখ্য উদাহরণের মুখোমুখি হতে হয় মানুষকে।

পুলিশ হলেই নিয়মের ঊর্ধ্বে নন– এ কথাটা পুলিশের মাথায় ভালো করে প্রবেশ করতে হবে। আইজিপি মহোদয় সেটাই চান। আইন রক্ষার ভার যাদের হাতে তুলে দিয়েছে রাষ্ট্র, তারাই যদি আইন নিজেদের হাতে তুলে নেন তাহলে মানুষ যাবে কার কাছে? পুলিশের একটা অংশের বিরুদ্ধে ঠিক এই অভিযোগই বারবার উচ্চারিত হয়। দায়িত্ব কাঁধে নিলে তা পালন করার শক্তি ও আন্তরিকতা থাকতে হয়, অন্যথায় এর অপব্যবহার হয়।

আগেও বলেছি, আবারও বলছি, পুলিশ অর্থেই অমানবিক বা অত্যাচারী নয়। অসংখ্য পুলিশ কর্মী আছেন, যারা এর উল্টো পথের পথিক, সমাজ তাদের মান্য করে। কিন্তু মানবিকতার চর্চা আরও পরিশ্রমসাধ্য। করোনাকালে পুলিশের মানবিক কাজ মানুষ দেখেছে। কিন্তু টেকনাফের ওসি প্রদীপ, কিংবা কক্সবাজারের এই ঘটনা, সিলেটের এসআই আকবরের কাণ্ড মানুষকে ভিন্ন চিত্রও উপহার দেয়, মানুষকে ভীত করে।

একটা ধারণা স্পষ্ট যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দফতর অভিযুক্ত সদস্যদের গুরুদণ্ড না দিয়ে লঘুদণ্ড দেয়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ফৌজদারি মামলার অপরাধ করলেও বেশিরভাগ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দিয়েই ইতি টানা হয়। কক্সবাজারের ঘটনায়ও দেখার পালা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়, নাকি বিভাগীয় সাজার নামে সবকিছু মানুষের নজরের আড়ালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারপর কৌশলী তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে রক্ষা করা হয়। এই চর্চা অব্যাহত থাকলে বাহিনীর সদস্যদের অনেককেই অপরাধের চর্চা থেকে বের করে আনা কঠিন হবে।

সরকারের যত সংস্থা আছে তাদের মধ্যে পুলিশের কাজ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। তাই তাদের সতর্কতা বেশি প্রয়োজন। যদি সদস্যদের একজনের মাথায়ও এমন ধারণা পাকাপোক্ত হয় যে, নাগরিকের প্রাণের আবার মূল্য কী তাহলে বুঝতে হবে সদস্যদের ওরিয়েন্টশনে বড় ঘাটতি আছে। পুলিশ সদস্যদের অনেকে হৃদয়হীন বা অপরাধপ্রবণ– সমাজের নানা স্তরে তা নিয়ে প্রতিক্রিয়াও অনেক। এসব কিন্তু আজকের বিষয় নয়। ঐতিহাসিক কাল থেকে হয়ে আসছে। আচমকাই পুলিশের একাংশ এমন হয়ে পড়েনি। অবশ্যই এর পরিবর্তন প্রয়োজন। এখানে রাজনীতিরও যোগ আছে। সুবিধা অনুযায়ী পুলিশকে ব্যবহার করার রাজনৈতিক প্রবণতা থাকলে বাহিনীর ভেতরের কেউ কেউ অভব্যতা করবেই।

আমাদের মতো দেশে পুলিশের ক্ষমতা অনেক, বলতে গেলে সীমাহীন। কিন্তু ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া প্রতিটি পেশার মানুষকে আরও বেশি সচেতনতার চর্চার মধ্যে থাকা প্রয়োজন। উন্নয়নশীল বাংলাদেশে পুলিশ সদস্যরা সেটাই ভাববেন আশা করি।

লেখক: সাংবাদিক

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

রোগের নাম গণপরিবহন

রোগের নাম গণপরিবহন

রাজনীতির নতুন সংস্কৃতি

রাজনীতির নতুন সংস্কৃতি

রাজনৈতিক চর্চা বাদ দিয়ে ক্ষমতার চর্চা সংঘাত বাড়ায়

রাজনৈতিক চর্চা বাদ দিয়ে ক্ষমতার চর্চা সংঘাত বাড়ায়

জ্বালানির জ্বালা, দ্রব্যমূল্য ও পকেটে টান

জ্বালানির জ্বালা, দ্রব্যমূল্য ও পকেটে টান

অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৩০

মো. আখতার হোসেন জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতি বছর বিশ্বের অগণিত মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিভিন্ন দেশে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অভিবাসন তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেও অভিবাসনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আশির দশকের শুরু থেকেই দেশের কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় ও দারিদ্র্য বিমোচনে অভিবাসন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কোভিড-১৯ ও লকডাউনের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা ভর করেছে দেশের অভিবাসন খাতেও।  

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১,৭৫২.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্চ-মে মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও জুন থেকে এর ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা করোনাভাইরাসের অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ প্রায় মোট ১৬৮টি দেশে বসবাস করছেন। তারা মূলত বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং চুক্তি শেষে দেশে ফিরে আসেন।

প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের কোনও যথাযথ প্রক্রিয়া নেই বলে প্রতি বছর কতজন দেশে ফিরছেন এর সঠিক সংখ্যা বের করা বেশ কঠিন।

তবে, করোনা বৈশ্বিক মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অন্য যেকোনও বছরের তুলনায় গত বছর দেশে ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আইওএম’র হিসাব অনুসারে, গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে প্রায় চার লাখ প্রবাসী শ্রমিক কোভিড-১৯ এর কারণে দেশে ফেরত আসেন। কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে বেশিরভাগ দেশে লকডাউন ঘোষণা করায় এবং জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ অভিবাসী শ্রমিকদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ঋণদায়গ্রস্ত এবং দেশে তারা বেকার অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাই, বিদেশে যেমন তারা কষ্টে দিনযাপন করছিলেন, দেশে এসেও তারা পড়েছেন এক দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। আইওএম’র গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ফেরত আসা ৭৫ শতাংশ প্রবাস শ্রমিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বিদেশে ফেরত যেতে আগ্রহী।

সেক্ষেত্রে আমাদের দরকার প্রবাস ফেরত এই শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি কাঠামোভিত্তিক রি-স্কিলিং ও আপস্কিলিং প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা, যেটি পরবর্তীতে দক্ষতার বিচারের মাপকাঠিতে প্রবাসে চাকরি নিশ্চিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।

দক্ষতার বিচারে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত তিন রকমের অভিবাসন হয়– দক্ষ, স্বল্প দক্ষ এবং অদক্ষ। সাধারণত আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, পরিবহন, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাজ, স্বাস্থ্য সেবা, ঘরের কাজসহ স্বল্প দক্ষ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত থাকায় যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক অভিঘাতে তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। করোনায় বেশিরভাগ দেশে এসব কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী শ্রমিকই চাকরি হারিয়েছেন।

বিদেশ গমন করা অধিকাংশ শ্রমিকই কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে যান। অথচ ছয় মাস কিংবা এক বছরের একটি প্রশিক্ষণ বিদেশে তাদের পারিশ্রমিক দুই থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। তাই দেশে ফেরত আসা শ্রমিকরা যাতে ফের বিদেশ গমনের পর অধিক উপার্জন করতে পারেন, সেজন্য বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যেসব খাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন, সেসব খাতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, করোনা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের রূপ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভরতা ও উদ্ভাবন এবং নতুন দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কোভিড-১৯ যেমন কাজের ক্ষেত্রকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করেছে, একইসাথে অনেক নতুন সুযোগও সৃষ্টি করেছে। দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই ভাষাগত দক্ষতা ও প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় তারা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হন।

এসব ক্ষেত্রে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রম পরিস্থিতি আরও সুসংহত করা যেতে পারে। এছাড়া, অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, অটোমোবাইল ও ডিজিটাল খাতের কাজে বিদেশে অধিক চাহিদা থাকায়, তাদের এসব কাজ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করার ব্যাপারে নজর দেওয়া যেতে পারে। আমাদের নারী প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই বিদেশে ঘরের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের যদি ভারতের কেরালা, ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের মতো নার্সিং কোর্স করানো হয়, অথবা দক্ষভাবে গৃহপরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তা তাদের জন্য যেমন মঙ্গলজনক হবে, তেমনি আমাদের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোও সুনিশ্চিত হবে।

অভিবাসীদের জন্য বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার কয়েক ধাপে নগদ সহায়তাসহ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এর মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রবাস ফেরত শ্রমিকরা কাজে লাগিয়েছেন। প্রবাসীদের সহায়তার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনায় সুফল পেতে তাই নীতিনির্ধারকদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করা জরুরি।  আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কাকে উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব দেশ, বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ তাদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে এগিয়ে আসতে পারে।

করোনাকালীন ও পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। তাই, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি ও নতুন সম্ভাবনাময় বাজার অনুসন্ধান একসঙ্গে দুটোই চালিয়ে যেতে হবে। আর এটা করা সম্ভব হবে বহুমুখী অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই।

লেখক: সিনিয়র সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ‎গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক হবে

২৩ নাগরিকের বিবৃতিখালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক হবে

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune